Table of Contents
শ্রাবণে কবিতার মূল বিষয়
মূলভাবঃ ‘শ্রাবণে’ কবিতায় সুকুমার রায় বর্ষার অবিরাম ঝরার অপূর্ব ছবি এঁকেছেন। সারাদিন-সারারাত জল ঝরে, আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে এবং পৃথিবীর ছাদে থুপথুপিয়ে পানি পড়তে থাকে। গাছপালা প্রাণখুলে স্নান করে সজীব হয়ে ওঠে, আর নদী-নালা ঘোলা পানি ভরে ফুলে-ফেঁপে ওঠে। শ্রাবণের বর্ষণ একপ্রকার উন্মাদনার সৃষ্টি করে; দশদিক জলময় হয়ে টলমল করে, আর একটানা একই ধ্বনি ভেসে আসে ঢালো জল, ঢালো জল। গ্রীষ্মের দাবদাহ ও রোদের স্মৃতি ধুয়ে মুছে যায়। কোথাও শুধু ধরণীর ধুকধুক শব্দ ভেসে আসে। কবি প্রকৃতির সজীবতা ও ঋতুর পালাবদলের ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে বর্ষার জলের স্রোতে প্রকৃতি যেমন বদলে যায়, তেমনি মনের সুখ-দুঃখেরও পালাবদল ঘটে বলে তিনি মনে করেন।
শ্রাবণে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
অফুরান → শেষ নেই এমন / অফুরন্ত / অক্ষয়
নামতা → গুণ করার তালিকা / নামতা (যেমন ১×১=১, ১×২=২)
ধারাপাত → অঙ্ক শেখার বই / যে বইয়ে ধারাপাত দেওয়া থাকে
ধোঁয়ামাখা → কুয়াশায় ঢাকা / ঝাপসা / অস্পষ্ট
ছাত → ছাদ
বারিধার → জলের ধারা / বৃষ্টির ধারা
প্রাণখোলা → পুরো প্রাণ দিয়ে / সম্পূর্ণ উন্মুক্তভাবে
ঘোলাজল → কর্দমাক্ত পানি / কাদামাখা পানি
উন্মাদ → উন্মত্ত / পাগলপ্রায় / বেপরোয়া
প্লাবন → বন্যা / জলমগ্ন অবস্থা
জলেজলে → জলের ভেতরে জলে / জলে জলে ভরা
দশদিক → চারদিক / সবদিক
টলমল → ঢলঢল / টলটল করছে এমন
অবিরাম → বিরামহীন / একটানা
ঢালো জল, ঢালো জল → ঢেলে দাও জল, ঢেলে দাও জল (একটি ছন্দময় বাক্য)
তাপ → গরম / উত্তাপ
জর্জর → কাতর / নিঃস্ব / জীর্ণ
গ্রীষ্মের → গরমকালের
স্মৃতিটুকু → কিছুটা স্মৃতি / চিহ্নমাত্র
নিঃঝুম → নীরব / নিঃশব্দ
ধুকধুক → ধুকধুক শব্দ (বুকের কষ্ট বা ভারী হওয়ার অনুভূতি)
ধরণী → পৃথিবী
আশাভয় → আশা ও ভয় / ইতস্তত
সুখদুঃখ → সুখ ও দুঃখ
পালাবদল → পরিবর্তন / রদবদল
কাতর → নিঃস্ব / ক্লান্ত / দুর্বল
শ্রাবণে কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘শ্রাবণে’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: সুকুমার রায়।
প্রশ্ন ২: সারাদিন-সারারাত কী ঝরে?
উত্তর: জল ঝরে।
প্রশ্ন ৩: ‘শ্রাবণে’ কবিতায় আকাশের মুখ কেমন?
উত্তর: ঢাকা।
প্রশ্ন ৪: চারিধার কীরকম?
উত্তর: ধোঁয়ামাখা।
প্রশ্ন ৫: পৃথিবীর ছাদে কী পিটছে?
উত্তর: ঝমাঝম বারিধার (বৃষ্টির ধারা)।
প্রশ্ন ৬: গাছপালা কীভাবে স্নান করে?
উত্তর: প্রাণখোলা বরষায়।
প্রশ্ন ৭: নদীনালা কীসে ভরে ওঠে?
উত্তর: ঘোলাজলে ভরে ওঠে।
প্রশ্ন ৮: শ্রাবণের বর্ষণ কেমন?
উত্তর: উৎসব ঘনঘোর উন্মাদ।
প্রশ্ন ৯: ‘শ্রাবণে’ কবিতায় দশদিক কেমন?
উত্তর: জলময় ও টলমল।
প্রশ্ন ১০: অবিরাম কী গান বাজে?
উত্তর: ঢালো জল, ঢালো জল।
প্রশ্ন ১১: জর্জর গ্রীষ্মের কী ধুয়ে যায়?
উত্তর: যত তাপ ধুয়ে যায়।
প্রশ্ন ১২: ‘শ্রাবণে’ কবিতা কোথায় কী বাজে?
উত্তর: নিঃঝুম ধুকধুক বাজে।
প্রশ্ন ১৩: ‘নিঃঝুম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নীরব বা নিঃশব্দ।
প্রশ্ন ১৪: ‘ধরণী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পৃথিবী।
প্রশ্ন ১৫: বর্ষায় প্রকৃতি কেমন হয়?
উত্তর: সজীব ও প্রাণবন্ত।
প্রশ্ন ১৬: গ্রীষ্মের তাপ ধুয়ে গেলে কী হয়?
উত্তর: রৌদ্রের স্মৃতি মুছে যায়।
প্রশ্ন ১৭: ‘শ্রাবণে’ কবিতায় কীসের ছবি আঁকা হয়েছে?
উত্তর: বর্ষায় প্রকৃতির প্রাণবন্ত ছবি।
প্রশ্ন ১৮: কবি প্রকৃতির কীসের সঙ্গে মনুষ্য-মনের তুলনা করেছেন?
উত্তর: ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে মনের সুখ-দুঃখের পরিবর্তনের।
প্রশ্ন ১৯: কবিতার শেষ পঙ্ক্তিতে কী বাজছে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: পৃথিবীর আশাভয় ও সুখদুঃখ।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২০: ‘নামতা’ ও ‘ধারাপাত’ কী?
উত্তর: নামতা হলো গুণ করার ধারাবাহিক তালিকা ও ধারাপাত হলো অঙ্ক শেখার প্রাথমিক বই।
প্রশ্ন ২১: ‘অফুরান নামতায় বাদলের ধারাপাত’ বলতে এ কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বৃষ্টির অবিরাম রিমঝিম শব্দ শিশুদের নামতা পড়ার শব্দের মতো।
প্রশ্ন ২২: ‘ছাত’ ও ‘বারিধার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ছাত অর্থ ছাদ ও বারিধার অর্থ জলের ধারা।
প্রশ্ন ২৩: ‘উন্মাদ’ ও ‘জর্জর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উন্মাদ অর্থ উন্মত্ত বা ক্ষিপ্ত ও জর্জর অর্থ কাতর।
প্রশ্ন ২৪: ‘নিঃঝুম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নীরব বা নিঃশব্দ।
প্রশ্ন ২৫: ‘শ্রাবণে’ কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘খাই খাই’ ছড়াগ্রন্থের।
প্রশ্ন ২৬: গ্রীষ্মের দাবদাহে জর্জরিত প্রকৃতি কেমন রূপ ধারণ করে?
উত্তর: অবিরাম বর্ষায় স্নান করে সজীব ও প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে।
প্রশ্ন ২৭: বর্ষার জলে কী কী পরিপূর্ণ হয়?
উত্তর: গাছপালা, নদী-নালা ও রুক্ষ প্রকৃতি।
প্রশ্ন ২৮: প্রকৃতিতে কীসের সঞ্চার ঘটে?
উত্তর: প্রাণের সঞ্চার ঘটে।
প্রশ্ন ২৯: ‘শ্রাবণে’ কবিতায় কীসের পালাবদলের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ঋতুর পালাবদলের মতো মানব-মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সুখ-দুঃখের পালাবদলের কথা।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৩০: সুকুমার রায় কোন শ্রেণির পাঠকদের কাছে প্রিয় নাম?
উত্তর: শিশু-কিশোর পাঠকদের কাছে।
প্রশ্ন ৩১: সুকুমার রায়ের আদি পৈতৃক নিবাস কোথায়?
উত্তর: ময়মনসিংহ জেলায়।
প্রশ্ন ৩২: ‘আবোল তাবোল’ ও ‘হযবরল’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: শিশুতোষ রচনা।
প্রশ্ন ৩৩: ‘পাগলা দাশু’ কার রচনা?
উত্তর: সুকুমার রায়ের।
প্রশ্ন ৩৪: তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী কেমন ব্যক্তি ছিলেন?
উত্তর: একজন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক।
প্রশ্ন ৩৫: সুকুমার রায়ের পুত্র কে?
উত্তর: সত্যজিৎ রায়।
প্রশ্ন ৩৬: সত্যজিৎ রায় কী হিসেবে খ্যাতিমান?
উত্তর: কিংবদন্তি চলচ্চিত্র-নির্মাতা ও সাহিত্যিক হিসেবে।
প্রশ্ন ৩৭: সুকুমার রায়ের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৩৮: তাঁর মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে।