আমার বাড়ি কবিতা: মূল বিষয়বস্তু, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

আমার বাড়ি কবিতার মূল বিষয়বস্তু

মূলভাবঃ ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন তাঁর প্রিয়জন ‘ভোমর’কে নিজের গ্রামের বাড়িতে আসার আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি তাকে বসার জন্য পিঁড়ি দেবেন এবং আপ্যায়ন করবেন শালি ধানের চিঁড়ে, বিন্নি ধানের খই, কবরী কলা ও গামছা-বাঁধা দই দিয়ে। আম-কাঁঠালের বনের ধারে আঁচল পাতা দিয়ে শুতে বলে তিনি প্রকৃতির কোলে বিশ্রামের ব্যবস্থা করবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে বাতাস সারা রাতি বয়ে যাবে। তিনি ভোমরের চাঁদমুখে চাঁদের চুমো মাখিয়ে দেবেন সুখে এবং তারা ফুলের মালা গেঁথে জড়িয়ে দেবেন বুকে। সকালে গাই দোহনের শব্দে জেগে উঠে সারাটা দিন তাঁরা খেলায় কাটাবে। কবির বাড়িতে ডালিম গাছে ফুলের হাসি আর কাজলা দিঘির কাজল জলে হাঁসেরা ভেসে বেড়ায়। কবি তাকে সোজা পথ ধরে আসতে বলেছেন এবং মৌরি ফুলের গন্ধ শুঁকে যেন রথ থামায়। এভাবেই কবি অতিথি আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সৌজন্য ও মানবপ্রেমের চমৎকার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

আমার বাড়ি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

ভোমর → ভ্রমর / মৌমাছি (এখানে প্রিয় বন্ধু বা অতিথিকে সম্বোধন)

পিঁড়ে → বসার জন্য ছোটো আসন / পিড়ি

শালি ধান → এক প্রকার আমন ধান

চিঁড়ে → চিড়া / ধান ভেজে তৈরি খাদ্য

বিন্নি ধান → দেশি এক প্রকার ধান

খই → ধান ভাজা হলে যা হয় / মুড়ি

কবরী কলা → এক প্রকার সুস্বাদু কলা

গামছা-বাঁধা দই → এত ঘন দই যে গামছায় বাঁধলেও পড়ে না

শুয়ো আঁচল পাতি → আঁচল বিছিয়ে শুয়ে থাকো

দুলিয়ে → দোলা দিয়ে / নেড়ে

সারা রাতি → পুরো রাত

চাঁদমুখে → চাঁদের মতো উজ্জ্বল মুখে

মাখিয়ে দেব → মেখে দেব / লাগিয়ে দেব

জড়িয়ে দেব বুকে → বুকে জড়িয়ে দেব / বেষ্টন করে দেব

গাই দোহন → গাভি দোহন / গরুর দুধ বাছা

কাজলা দিঘি → নামকরা এক দিঘি (যার পানি কাজলের মতো কালো)

কাজল জলে → কালো পানিতে

মৌরি ফুল → এক ধরনের সুগন্ধি ফুল

রথ → যানবাহন / এখানে বাহন

শুঁকে → গন্ধ নেওয়া / গ্রাহ করা

আপ্যায়ন → আতিথেয়তা / খাওয়ানো-দাওয়ানো

নিবিড় পরিচয় → ঘনিষ্ঠ বর্ণনা / বিশদ বিবরণ

আন্তরিক প্রয়াস → মনের ইচ্ছায় আয়োজন / চেষ্টা

সৌজন্য → ভদ্রতা / শিষ্টাচার

শিষ্টাচার → ভদ্র ব্যবহার / সভ্যতা

বহিঃপ্রকাশ → বাইরের প্রকাশ / ফুটিয়ে তোলা

আমার বাড়ি কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: জসীমউদ্দীন।

প্রশ্ন ২: সারাটা দিন বন্ধুর সাথে কী করবেন কবি?
উত্তর: খেলা করতে।

প্রশ্ন ৩: কবি কাকে বাড়ি আসতে বলেছেন?
উত্তর: ভোমরকে।

প্রশ্ন ৪: ‘ভোমর’ বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: প্রিয় বন্ধু বা অতিথিকে।

প্রশ্ন ৫: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় বন্ধুকে বসার জন্য কী দেবেন?
উত্তর: পিঁড়ে দেবেন।

প্রশ্ন ৬: জলপান হিসেবে কী দেবেন?
উত্তর: শালি ধানের চিঁড়ে।

প্রশ্ন ৭: শালি ধানের চিঁড়ে ছাড়া আর কী কী দেবেন?
উত্তর: বিন্নি ধানের খই, কবরী কলা ও গামছা-বাঁধা দই।

প্রশ্ন ৮: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় বাড়ি যাওয়ার পথ কীরকম?
উত্তর: এই বরাবর পথ।।

প্রশ্ন ৯: ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কোথায় শুয়ে থাকতে বলা হয়েছে?
উত্তর: আম-কাঁঠালের বনের ধারে।

প্রশ্ন ১০: শুয়ে থাকার জন্য কী পাতা হবে?
উত্তর: আঁচল পাতা হবে।

প্রশ্ন ১১: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় গাছের শাখা দুলিয়ে কে বাতাস করবে?
উত্তর: কবি।

প্রশ্ন ১২: সারা রাতি কী করবে?
উত্তর: বাতাস করবে।

প্রশ্ন ১৩: চাঁদের চুমো কোথায় মাখিয়ে দেবেন?
উত্তর: চাঁদমুখে (অতিথির মুখে)।

প্রশ্ন ১৪: ‘আমার বাড়ি’ কবিতার তারা ফুলের মালা কোথায় জড়িয়ে দেবে?
উত্তর: বুকে জড়িয়ে দেবে।

প্রশ্ন ১৫: সকাল বেলা কী শব্দ শুনে জেগে উঠতে হবে?
উত্তর: গাই দোহনের শব্দ।

প্রশ্ন ১৬: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবির বাড়িতে ডালিম গাছে কী আছে?
উত্তর: ডালিম ফুলের হাসি।

প্রশ্ন ১৭: কাজলা দিঘির জল কীরকম?
উত্তর: কাজল জলের মতো কালো।

প্রশ্ন ১৮: কাজলা দিঘির জলে কী ভাসে?
উত্তর: হাঁসগুলি ভাসে।

প্রশ্ন ১৯: ভোমরকে কী ফুলের গন্ধ শুঁকতে বলা হয়েছে?
উত্তর: মৌরি ফুলের গন্ধ।

প্রশ্ন ২০: মৌরি ফুলের গন্ধ শুঁকে কী থামাতে বলা হয়েছে?
উত্তর: রথ থামাতে।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২১: ‘ভোমর’ কী ও কবিতায় কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: ভোমর হল ভ্রমর বা মৌমাছি; কবিতায় কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনকে সম্বোধন করা হয়েছে।

প্রশ্ন ২২: ‘শালি ধান’ ও ‘বিন্নি ধান’ কী?
উত্তর: শালি ধান এক প্রকার আমন ধান (হেমন্তকালে উৎপন্ন) ও বিন্নি ধান বাংলাদেশের আদি জাতের ধান।

প্রশ্ন ২৩: ‘কবরী কলা’ কীরকম কলা?
উত্তর: স্বাদের জন্য বিখ্যাত এক প্রকার কলা।

প্রশ্ন ২৪: ‘গামছা-বাঁধা দই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অধিক ঘনত্বের কারণে যে দই গামছায় বাঁধলেও রস গড়িয়ে পড়ে না।

প্রশ্ন ২৫: ‘শুয়ো আঁচল পাতি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আঁচল পেতে শুয়ে থাকো।

প্রশ্ন ২৬: ‘গাই দোহনের শব্দ’ কী?
উত্তর: গাভীর দুধ দোহনের শব্দ।

প্রশ্ন ২৭: ‘কাজল দিঘি’ কী?
উত্তর: কাজলের মতো কালো জলের দীঘি।

প্রশ্ন ২৮: ‘আমার বাড়ি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘হাসু’ কাব্যগ্রন্থের।

প্রশ্ন ২৯: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবি কাকে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছেন?
উত্তর: কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনকে।

প্রশ্ন ৩০: কবি অতিথিকে কী দিয়ে আপ্যায়ন করতে চান?
উত্তর: শালি ধানের চিঁড়ে, বিন্নি ধানের খই, কবরী কলা ও গামছা-বাঁধা দই দিয়ে।

প্রশ্ন ৩১: অতিথি আপ্যায়নে বাঙালির কী রয়েছে?
উত্তর: সুনাম।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩২: কবি জসীমউদ্দীনের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৩৩: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে।

প্রশ্ন ৩৪: জসীমউদ্দীনের কবিতায় আমরা কী দেখতে পাই?
উত্তর: পল্লির মানুষ ও প্রকৃতির সহজ-সুন্দর রূপ।

প্রশ্ন ৩৫: তাঁর উল্লেখযোগ্য কাহিনিকাব্যের নাম কী?
উত্তর: ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’।

প্রশ্ন ৩৬: তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখ।
উত্তর: ‘রাখালী’।

প্রশ্ন ৩৭: ‘বালুচর’ ও ‘মাটির কান্না’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৩৮: তাঁর রচিত নাটকের নাম কী?
উত্তর: ‘বেদের মেয়ে’।

প্রশ্ন ৩৯: তাঁর একটি শিশুতোষ গ্রন্থের নাম লেখ।
উত্তর: ‘হাসু’।

প্রশ্ন ৪০: ‘এক পয়সার বাঁশী’ ও ‘ডালিমকুমার’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: শিশুতোষ গ্রন্থ।

প্রশ্ন ৪১: জসীমউদ্দীনের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

Leave a Comment