গরবিনী মা জননী কবিতা: মূল বিষয়বস্তু, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

গরবিনী মা জননী কবিতার মূল বিষয়বস্তু

মূলভাবঃ ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতায় সিকান্দার আবু জাফর জন্মভূমি বাংলাকে মা রূপে কল্পনা করে তাঁর গর্ব ও শ্রদ্ধার কথা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন, বাংলার মতো পুণ্যবতী ও ভাগ্যবতী মা আর কে আছে? বাংলার নদীগুলো যেন মায়ের চোখের কাজল, সবুজ তৃণ যেন বুকের আঁচল, আর ধুলো যেন পায়ের নূপুর। সকালে শিশির মায়ের খোঁপায় বকুল ও যুঁথীর গন্ধ মাখিয়ে দেয়। ক্লান্ত ঘুঘুর বিলাপে মায়ের দুপুরের তন্দ্রা ভিজে যায়। কামার, কুমোর, জেলে, চাষী, বাউল, মাঝিরা সবাই এই মায়ের ছেলে। তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দণ্ড ও আঘাত সহ্য করে, আর ছেলের বুকের রক্তে মায়ের আঁচল রাঙানো থাকে। দুর্ভাগিনী মেয়েরা কান্নার নকশা বোনে। সেই মায়ের হাজার হাজার পাগল ছেলে মায়ের নামে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বিপাকে। কেউ মা উপড়ে ফেলতে চাইলে ছেলেরা বুলেট, ফাঁসি ও শাসন-কারা সহ্য করে; তারা দুখের ধূপে সুখ পুড়িয়ে মুখ উজ্জ্বল রাখে। কবি সেই মাকেই গরবিনী বলে সম্বোধন করেছেন এবং বাংলাকে রক্তে ধোওয়া সরোজিনী ও যুগ-চেতনার চিত্তভূমি বলেছেন। এভাবেই তিনি দেশমাতৃকার গৌরব ও তার সন্তানদের আত্মত্যাগের মহিমা ফুটিয়ে তুলেছেন।

গরবিনী মা জননী কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

গরবিনী → গর্বিত / যার গর্ব আছে / আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন

পুণ্যবতী → পুণ্য বা সৎকর্ম করে এমন নারী / পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী

ভাগ্যবতী → সৌভাগ্যশালিনী / সুভাগ্যবতী

কাজল → চোখের কালি / চোখের কাজল (সৌন্দর্য ও গভীরতার প্রতীক)

নূপুর → পায়ের অলংকার / পায়ের আংটি বা মঞ্জিরা

যুঁথী → এক প্রকার সুগন্ধি ফুল

তন্দ্রা → ঘুম / নিদ্রা / অলসতা

বিলাপ → কান্না / হাহাকার / দুঃখের আওয়াজ

বাউল → এক প্রকার ভাববাদী ও মরমি গায়ক সম্প্রদায়

ঘর-উদাসী → যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে / গৃহত্যাগী

মরণ-মারের দণ্ড → মৃত্যুর আঘাত ও শাস্তি

ছোপানো → রাঙানো / রঙে ভেজানো

নকশা বোনে → সূচিকর্ম করা / নকশা তৈরি করা

ঝাঁপিয়ে পড়ে → লাফিয়ে পড়ে / ঝাঁপিয়ে হানা দেয় / তৎপর হয়ে যায়

দুর্বিপাক → বিপদ-আপদ / দুর্দিন / প্রতিকূলতা

উপড়ে ফেলে → তুলে ফেলে / উৎখাত করে

ফাঁসির শাসন → মৃত্যুদণ্ডের শাসন / ফাঁসি দেওয়ার হুমকি

শাসন-কারা → শাসন ও কারাগার / জেল-জুলুম

দুখের ধূপে → দুঃখের আগুনে / কষ্টের তাপে

উজ্জ্বল রাখে → দীপ্ত রাখে / উজ্জ্বল রাখে / মলিন হতে দেয় না

সরোজিনী → পদ্মের ন্যায় / কমনীয় ও সুন্দরী নারী

যুগ-চেতনার চিত্তভূমি → যুগের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষার মানসভূমি

নিত্যভূমি → চিরন্তন ভূমি / সনাতন দেশভূমি

দুঃশাসন → দুর্নীতিগ্রস্ত ও নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থা

আলস্য → অলসতা / কুঁড়ে ভাব

গরবিনী মা জননী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: সিকান্দার আবু জাফর।

প্রশ্ন ২: কবি কাকে মা-জননী বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: জন্মভূমি বাঙলাকে।

প্রশ্ন ৩: নদীকে মায়ের কী বলা হয়েছে?
উত্তর: চোখের কাজল।

প্রশ্ন ৪: মায়ের বুকে কী দেখা যায়?
উত্তর: সবুজ তৃণের আঁচল।

প্রশ্ন ৫: মায়ের পায়ের নূপুর বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ধুলো।

প্রশ্ন ৬: সন্ধ্যা ও দুপুরে কী বেজে চলে?
উত্তর: নূপুর (ধুলো)।

প্রশ্ন ৭: রোজ ভোরে মায়ের খোঁপায় কী গন্ধ মাখে?
উত্তর: বকুল ও যুঁথীর গন্ধ।

প্রশ্ন ৮: ক্লান্ত ঘুঘুর কী দিয়ে মায়ের তন্দ্রা ভেজে?
উত্তর: বিলাপ-জলে।

প্রশ্ন ৯: কামার, কুমোর, জেলে, চাষী, বাউল, মাঝিরা কার ছেলে?
উত্তর: এই মায়ের ছেলে।

প্রশ্ন ১০: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতায় মায়ের ছেলেরা নিত্য কী গোনে?
উত্তর: মরণ-মারের দণ্ড গোনে।

প্রশ্ন ১১: ছেলের বুকের খুন কীসে ছোপানো থাকে?
উত্তর: মায়ের আঁচল-কোণে।

প্রশ্ন ১২: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতায় দুর্ভাগিনী মেয়েরা কী বোনে?
উত্তর: কান্নাফুলের নকশা বোনে।

প্রশ্ন ১৩: ‘মা-নাম-ডাকা পাগল ছেলে’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাংলার মুক্তিকামী বিদ্রোহী তরুণদের।

প্রশ্ন ১৪: সেই পাগল ছেলেরা কোথায় ঝাঁপিয়ে পড়ে?
উত্তর: ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে।

প্রশ্ন ১৫: তারা কী পুড়িয়ে মুখ উজ্জ্বল রাখে?
উত্তর: দুখের ধূপে সুখ পুড়িয়ে।

প্রশ্ন ১৬: কবি মাকে কী বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: গরবিনী বলে।

প্রশ্ন ১৭: ‘রক্তে-ধোওয়া সরোজিনী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: রক্তে রাঙানো লাল পদ্মের মতো সুন্দরী মাতৃভূমি।

প্রশ্ন ১৮: বাংলাকে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: যুগ-চেতনার চিত্তভূমি ও নিত্যভূমি।

প্রশ্ন ১৯: শ্রমজীবী মানুষদের কোন গুণ এই কবিতায় ফুটে উঠেছে?
উত্তর: তারা মায়ের জন্য আত্মত্যাগ করতে দ্বিধা করে না।

প্রশ্ন ২০: মা তার সন্তানদের কী জোগান?
উত্তর: সাহস ও শক্তি জোগান।

প্রশ্ন ২১: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতার মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: দেশমাতৃকার গৌরব ও তার সাহসী সন্তানদের আত্মত্যাগের মহিমা।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২২: ‘পুণ্যবতী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পুণ্য বা ভালো কাজ করেন এমন নারী।

প্রশ্ন ২৩: ‘সরোজিনী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সরোজ মানে পদ্ম, সরোজিনী অর্থ পদ্মের ন্যায় কমনীয় নারী।

প্রশ্ন ২৪: ‘মরণ-মারের দণ্ড’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মরণের আঘাত থেকে প্রাপ্ত শাস্তি।

প্রশ্ন ২৫: ‘ছোপানো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রাঙানো (ছোপ মানে ছাপ বা রঙ)।

প্রশ্ন ২৬: ‘পাগল ছেলে’ বলতে এ কবিতায় কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাংলার মুক্তিকামী বিদ্রোহী ও তরুণ-যুবকদের।

প্রশ্ন ২৭: ‘ভয়ঙ্করের দুর্বিপাকে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

প্রশ্ন ২৮: ‘শাসন-কারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পাকিস্তানি দুঃশাসন, যা ছিল কারাগারের সমান।

প্রশ্ন ২৯: ‘উজ্জ্বল’ শব্দের কোমল রূপ কী?
উত্তর: উজল।

প্রশ্ন ৩০: ‘যুগ-চেতনার চিত্তভূমি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যুগের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা মানসভূমি।

প্রশ্ন ৩১: ‘নিত্যভূমি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চিরন্তন দেশমাতৃকা বাংলাদেশ।

প্রশ্ন ৩২: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থের।

প্রশ্ন ৩৩: ‘গরবিনী মা-জননী’ কবিতায় কবিতায় কী অন্বেষণ করা হয়েছে?
উত্তর: দেশমাতার গর্বিত হয়ে ওঠার কারণ।

প্রশ্ন ৩৪: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে কীসের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য?
উত্তর: পরিবেশ-প্রকৃতির সঙ্গে।

প্রশ্ন ৩৫: মাকে রক্ষা করার জন্য সন্তানরা কী করতে দ্বিধা করে না?
উত্তর: বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধা করে না।

প্রশ্ন ৩৬: বাংলার মাটি কাদের ভিত্তিভূমি?
উত্তর: এই সাহসী ও সংগ্রামী জনতার।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩৭: সিকান্দার আবু জাফর কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: সাতক্ষীরা জেলায়।

প্রশ্ন ৩৮: তাঁর জন্মসাল কত?
উত্তর: ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ।

প্রশ্ন ৩৯: তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখ।
উত্তর: ‘প্রসন্ন প্রহর’।

প্রশ্ন ৪০: তাঁর বিখ্যাত নাটকের নাম কী?
উত্তর: ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা’।

প্রশ্ন ৪১: সিকান্দার আবু জাফর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৯৭৫ সালে।

Leave a Comment