Table of Contents
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার ব্যাখ্যা
| কবিতার লাইন | লাইনের ব্যাখ্যা |
| “এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে- “জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে।” | মেঘনাদ (যিনি ‘অরিন্দম’ বা শত্রুদমনকারী নামে পরিচিত) গভীর দুঃখের সুরে বলতে শুরু করেন। এই মুহূর্তে তিনি উপলব্ধি করছেন কীভাবে লক্ষ্মণ তাদের দুর্গে প্রবেশ করতে পেরেছে। তার কণ্ঠে বেদনার ছাপ স্পষ্ট, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন এই প্রবেশ সম্ভব হয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে। |
| “হায়, তাত, উচিত কি তব এ কাজ,” | তিনি বিভীষণকে ‘তাত’ (চাচা/পিতৃব্য) সম্বোধন করে বলছেন, “হায়, চাচা, তোমার এই কাজ কি উচিত হয়েছে?” মেঘনাদ যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তারই পরিবারের সদস্য এমন কাজ করেছেন। |
| “নিকষা সতী তোমার জননী,” | মেঘনাদ বিভীষণকে তার মা নিকষার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যিনি ছিলেন পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। এই উক্তি দিয়ে তিনি বোঝাতে চাইছেন যে এমন সতী মায়ের সন্তান হয়ে বিভীষণ কীভাবে এই কাজ করতে পারলেন। |
| “সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলীশম্ভুনিভ কুম্ভকর্ণ?” | তিনি প্রশ্ন করছেন, “তোমার ভাই রাবণ (রাক্ষসকুলের শ্রেষ্ঠ) এবং মহাদেবের মতো পরাক্রমশালী কুম্ভকর্ণের কথা কি ভুলে গেলে?” এখানে পূর্বপুরুষদের বীরত্ব ও সম্মানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেঘনাদ বোঝাতে চাইছেন যে তাদের বংশ এমন গৌরবময় যে এর মর্যাদা রক্ষা করা উচিত ছিল। |
| “ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী।” | মেঘনাদ নিজেকে ‘ইন্দ্রবিজয়ী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তার বীরত্বের প্রমাণ দিচ্ছেন। তিনি বলতে চাইছেন, “আমি তোমারই ভাইপো, যে দেবরাজ ইন্দ্রকে পরাজিত করেছে।” |
| “নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?” | তিনি ক্রোধভরে প্রশ্ন করছেন, “চাচা, নিজের ঘরের গোপন পথ তুমি চোর-ডাকাতদের দেখিয়ে দিলে?” এখানে ‘তস্কর’ বলতে রাম-লক্ষ্মণকে বোঝানো হয়েছে। |
| “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?” | তিনি তীব্র অভিযোগ করছেন, “চণ্ডালদের (অপদার্থদের) তুমি রাজপ্রাসাদে এনে বসালে?” এখানে রাম-লক্ষ্মণকে চণ্ডাল বলা হয়েছে গভীর অবজ্ঞা প্রকাশের জন্য। মেঘনাদ বোঝাতে চাইছেন যে বিভীষণ অযোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান দিয়েছেন। |
| “কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরুজন তুমি পিতৃতুল্য।” | মেঘনাদ বলছেন, “তবে আমি তোমাকে গালি দিচ্ছি না, কারণ তুমি আমার গুরুজন, পিতার সমান।” |
| “ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,” | তিনি বিভীষণকে বলছেন, “পথ ছেড়ে দাও, আমি অস্ত্রাগারে যাব।” মেঘনাদ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে চান। |
| “পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,” “লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।” | তিনি তার সংকল্প প্রকাশ করছেন, “লক্ষ্মণকে (রামের ছোট ভাইকে) যমালয়ে পাঠাব।” মেঘনাদ বলছেন, “আজ যুদ্ধে লঙ্কার কলঙ্ক মোচন করব।” তিনি লঙ্কার সম্মান রক্ষার শপথ নিচ্ছেন। |
| “উত্তরিলা বিভীষণ, ‘বৃথা এ সাধনা'” | বিভীষণ মেঘনাদের যুদ্ধের প্রস্তুতিকে “নিষ্ফল প্রচেষ্টা” বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে, রামের বিরুদ্ধে লড়াই করা অর্থহীন। |
| “ধীমান। রাঘবদাস আমি” | বিভীষণ মেঘনাদকে “বুদ্ধিমান” (ধীমান) সম্বোধন করে স্বীকার করেন, “আমি রামের দাস”। এখানে তিনি নিজের আনুগত্যের স্পষ্ট ঘোষণা দেন এবং রামকে “রাঘব” (রঘুবংশীয়) বলে সম্মান দেখান। |
| “কী প্রকারে তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে অনুরোধ?” | তিনি যুক্তি দেন, “কীভাবে আমি রামের বিপক্ষে গিয়ে তোমার অনুরোধ রক্ষা করব?” |
| “উত্তরিলা কাতরে রাবণি” “‘হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!'” | রাবণের পুত্র (মেঘনাদ) বেদনাভরা কণ্ঠে জবাব দেন। মেঘনাদ বলেন, “হে চাচা, তোমার কথা শুনে আমি মরতে ইচ্ছুক!” |
| “‘রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে আনিলে এ কথা'” “‘তাত, কহ তা দাসেরে'” | মেঘনাদ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন করেন, “তুমি রামের দাস? এ কথা কীভাবে তোমার মুখে এল?” ব্যঙ্গাত্মকভাবে মেঘনাদ বলেন, “চাচা, এ দাসকে (আমাকে) বলো।” “দাসেরে” বলতে মেঘনাদ নিজেকে বোঝান। |
| “‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে'” | মেঘনাদ এক চমৎকার রূপক ব্যবহার করেন: “বিধাতা চাঁদকে স্থির আকাশে স্থাপন করেছেন।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চাঁদ যেমন আকাশে স্থির, তেমনি রাক্ষসকুলের মর্যাদাও অবিচল থাকার কথা কিন্তু বিভীষণ তা ভেঙে দিয়েছেন। |
| “‘পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি ধূলায়?'” | মেঘনাদ প্রশ্ন করেন, “চাঁদ কি কখনো ধুলায় গড়াগড়ি খায়?” অর্থাৎ, “আমাদের মতো মহান বংশের লোকেরা কি এভাবে অপমানিত হবে?” |
| “‘হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে'” | মেঘনাদ বিভীষণকে “রাক্ষসকুলের রথী” (যোদ্ধা) বলে সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কীভাবে ভুলে গেলে?” অর্থাৎ, তোমার নিজের বংশের গৌরব ও কর্তব্যভুলে গেলে কীভাবে? |
| “কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?” | মেঘনাদ বিভীষণকে তীব্রভাবে জিজ্ঞাসা করছেন, “তুমি কে? কোন মহান বংশে তোমার জন্ম?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি বিভীষণের বংশগত মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যেন বলতে চান-এত মহান বংশে জন্মেও তুমি কীভাবে এই কাজ করলে? |
| “কে বা সে অধম রাম?” | তিনি রামকে “অধম” (নিকৃষ্ট) বলে আখ্যায়িত করে প্রশ্ন করেন, “সেই নীচ রাম কে?” এখানে মেঘনাদের অহংকার ও রামের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। |
| “স্বচ্ছ সরোবরে করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে;” | মেঘনাদ একটি রূপক ব্যবহার করেন: “রাজহংস (মরাল) যেমন পরিষ্কার জলেই খেলা করে, পদ্মবনে বিচরণ করে।” তিনি বোঝাতে চান, উচ্চবংশীয়রা (তাদের মতো) কখনো নীচের সাথে মেলামেশা করে না। |
| “যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে, শৈবালদলের ধাম?” | তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “সে (রাজহংস) কি কখনো পঙ্কিল জলে যায়, শেওলায় ভরা ডোবায়?” অর্থাৎ, “আমরা (রাক্ষসবংশ) কি কখনো রামের মতো নীচের সাথে যুক্ত হব?” |
| “মৃগেন্দ্র কেশরী, কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে মিত্রভাবে?” | আরেকটি রূপক: “সিংহ (মৃগেন্দ্র) কি কখনো শৃগালের (শিয়াল) সাথে বন্ধুত্ব করে?” মেঘনাদ বিভীষণকে “বীরকেশরী” (যোদ্ধাসিংহ) সম্বোধন করে বলছেন, “তুমি সিংহ, রাম শৃগাল-তোমাদের মিত্রতা কীভাবে সম্ভব?” |
| “অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি, অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।” | ব্যঙ্গাত্মকভাবে মেঘনাদ বলেন, “আমি অজ্ঞ (মূর্খ), তুমি মহাজ্ঞানী-তোমার অজানা কিছু নেই।” এখানে তিনি বিভীষণের বিচারবুদ্ধিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, যেন বলতে চান-এত জ্ঞানী হয়েও তুমি ভুল সিদ্ধান্ত নিলে! |
| “ক্ষুদ্রমতি নর, শুর, লক্ষ্মণ; নহিলে অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে?” | তিনি লক্ষ্মণকে “ক্ষুদ্রমতি” (সংকীর্ণচেতা) ও “অস্ত্রহীন যোদ্ধা” বলে আক্রমণ করেন, প্রশ্ন রাখেন-“লক্ষ্মণ কি সাধারণ যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করে? না, সে শুধু নিরস্ত্রদের (আমার মতো) উপরই আক্রমণ করে!” |
| “কহ, মহারথী, এ কি মহারথী-প্রথা?” | মেঘনাদ বিভীষণকে “মহারথী” (মহাযোদ্ধা) সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করেন, “এটা কি মহাযোদ্ধাদের আচরণ? (নিরস্ত্রের উপর আক্রমণ?)” |
| “নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে এ কথা!” | তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, “লঙ্কায় শিশু নেই যে এ কথা শুনে হাসবে!” অর্থাৎ, “এই যুক্তি এতই হাস্যকর যে শুধু শিশুরাই এতে হাসতে পারে!” |
| “ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া এখনি!” “দেখিব আজি, কোন্ দেববলে, বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি!” | মেঘনাদ বিভীষণকে পথ ছাড়তে বলেন, “আমি এখনই ফিরে আসব!” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আজ দেখব, কোন দেবশক্তিতে লক্ষ্মণ (সৌমিত্রি) আমাকে যুদ্ধে পরাজিত করে!” মেঘনাদের আত্মবিশ্বাস এখানে প্রজ্বলিত। তিনি বিশ্বাস করেন, ন্যায্য যুদ্ধে তাকে হারানো অসম্ভব। |
| “বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি!” | মেঘনাদ বিদ্রূপ করে বলেন, “লক্ষ্মণ (সৌমিত্রি) কি সত্যিই আমাকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে পারবে?” এখানে “কুমতি” শব্দে লক্ষ্মণের বুদ্ধিকে তুচ্ছ করা হয়েছে। মেঘনাদের আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে – তিনি বিশ্বাস করেন, ন্যায্য যুদ্ধে লক্ষ্মণ তার সামনে টিকতে পারবে না। |
| “দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ, রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের!” | মেঘনাদ বিভীষণকে স্মরণ করিয়ে দেন: “দেবতা, দৈত্য ও মানুষের যুদ্ধে তুমি নিজ চোখে দেখেছ এই ‘দাসের’ (আমার) পরাক্রম!” “দাস” শব্দ ব্যবহার করে মেঘনাদ বোঝান, যদিও তিনি নিজেকে বিভীষণের সামনে বিনয়ী করছেন,কিন্তু আসলে তিনি একজন অপরাজেয় যোদ্ধা। |
| “কী দেখি ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?” | তিনি প্রশ্ন করেন, “কী দেখে এই দাস (আমি) এমন দুর্বল মানুষকে (লক্ষ্মণকে) ভয় পাবে?” |
| “নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগলভে পশিল দন্তী;” | মেঘনাদ অভিযোগ করেন, “লক্ষ্মণ (দন্তী/দাম্ভিক) ঔদ্ধত্য দেখিয়ে আমাদের নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ঢুকেছে।” |
| “আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে।” | তিনি বিভীষণকে বলেন, “আমাকে আদেশ দাও, আমি এই নীচ মানুষটিকে (লক্ষ্মণকে) শাস্তি দেব।” |
| “তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে বনবাসী!” | মেঘনাদের ক্ষোভ ফেটে পড়ে: “হে চাচা, তোমার জন্মভূমিতে সেই বনবাসী (রাম) পদার্পণ করছে!” |
| “হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে ভ্রমে দুরাচার দৈত্য?” | তিনি বিধাতাকে জিজ্ঞাসা করেন, “হে ভাগ্যনির্মাতা, স্বর্গের বাগানে কি দুষ্ট দৈত্য ঘুরে বেড়ায়?” অর্থাৎ, “আমাদের পবিত্র লঙ্কায় কি রামের মতো অধর্মীর স্থান আছে?” |
| “প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?” | রূপক: “ফুটন্ত পদ্মে কি কীট বাস করতে পারে?” অর্থাৎ মেঘনাদ বোঝাতে চান, রামের মতো নীচ ব্যক্তি লঙ্কার মতো মহান স্থানে থাকার অযোগ্য। |
| “কহ তাত, সহিব কেমনে হেন অপমান আমি, ভ্রাতৃ-পুত্র তব?” | মেঘনাদ বিভীষণকে আবেগাপ্লুতভাবে জিজ্ঞাসা করেন, “বলো চাচা, আমি কীভাবে এই অপমান সহ্য করব? আমি তোমার ভাইয়ের ছেলে!” |
| “তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?” | শেষে তিনি বিভীষণকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “হে রাক্ষসকুলের রত্ন (রক্ষোমণি), তুমিও কীভাবে এই অপমান সহ্য করছ?” |
| “মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী” | রূপক: “যেমন মন্ত্রবলে সাপ মাথা নত করে”, তেমনি বিভীষণও লজ্জায় ও অনুতাপে মাথা হেঁট করেছেন। |
| “মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী” | বিভীষণের মুখ লজ্জায় মলিন হয়েছে। “রথী” (যোদ্ধা) শব্দটি ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে যে, যদিও তিনি একজন বীর, কিন্তু এখন তিনি নৈতিক পরাজয়বোধে আক্রান্ত। |
| “রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে” | এখানে চরিত্রদের সম্পর্ক স্পষ্ট করা হয়েছে: বিভীষণ রাবণের ছোট ভাই, আর মেঘনাদ রাবণের পুত্র (মেঘনাদের) দিকে তাকিয়ে আছেন। |
| “‘নহি দোষী আমি, বৎস। বৃথা ভর্ৎস মোরে'” | বিভীষণ স্নেহের সাথে মেঘনাদকে “বৎস” (পুত্র) সম্বোধন করে বলছেন, “আমি নির্দোষ। আমাকে বৃথা তিরস্কার করো না।” |
| “‘নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি!'” | বিভীষণ মর্মান্তিক সত্য উচ্চারণ করেন: “রাবণ নিজের কুকর্মের ফলেই সোনার লঙ্কা ও নিজেকে ধ্বংস করেছেন।” “কনক-লঙ্কা” শব্দটি লঙ্কার সমৃদ্ধি ও বিলাসিতার প্রতীক, যা এখন ধ্বংসের মুখে। |
| “‘বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী'” | দেবতারা পাপ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু এখন লঙ্কা পাপে পূর্ণ। |
| “‘প্রলয়ে যেমতি বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে!'” | রূপক: “যেমন প্রলয়কালে পৃথিবী জলে ডুবে, তেমনি লঙ্কা পাপের কালো জলে ডুবে যাচ্ছে।” |
| “‘রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী তেই আমি'” | বিভীষণ তার অবস্থান স্পষ্ট করেন: “আমি রামের শরণ নিয়েছি নিজেকে রক্ষা করার জন্য।” |
| “‘পরদোষে কে চাহে মজিতে?'” | তিনি যুক্তি দেন: “অন্যরের দোষে কে ডুবে মরতে চায়?” |
| “রুষিলা বাসবত্রাস” | মেঘনাদ (যিনি ইন্দ্রকেও ভয় দেখিয়েছেন, তাই “বাসবত্রাস”) ক্রোধে ফেটে পড়লেন। |
| “গম্ভীরে যেমতি নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমুতেন্দ্র কোপি” | এখানে মেঘনাদের কণ্ঠস্বরকে গভীর রাতের মেঘের গর্জনের সাথে তুলনা করা হয়েছে: “জীমুতেন্দ্র” = মেঘরাজ “কোপি” = ক্রোধী |
| “কহিলা বীরেন্দ্র বলী” | মেঘনাদকে “বীরদের রাজা” বলা হয়েছে, যা তার যোদ্ধাসুলভ গুণাবলীকে নির্দেশ করে। |
| “‘ধর্মপথগামী'” | মেঘনাদ বিভীষণকে বিদ্রূপ করে “ধর্মের পথচারী” বলেন। কারণ মেঘনাদের মতে, বিভীষণের এই ধর্মানুসরণ আসলে বিশ্বাসঘাতকতা। |
| “হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে তুমি;” | মেঘনাদ বিদ্রূপের সুরে বিভীষণকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন-“হে রাক্ষসরাজের ভাই, তুমি তো বিশ্ববিখ্যাত!” বিভীষণ এখন রামভক্ত হিসেবে পরিচিত, যা মেঘনাদের মতে বংশের জন্য কলঙ্ক। |
| “কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি, জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি, এ সকলে দিলা জলাঞ্জলি?” | তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন: “কোন ধর্মে ভ্রাতৃত্ব, জাতি-জ্ঞাতির বন্ধন ত্যাগ করা যায়? বলো তো!” মেঘনাদের যুক্তি, ধর্ম যাই হোক। রক্তের বন্ধন ও স্বদেশপ্রেম তার ঊর্ধ্বে। |
| “শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!” | মেঘনাদ শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: “গুণবান শত্রু থাকলেও গুণহীন আত্মীয়ই শ্রেয়; পর সর্বদা পর (শত্রু সর্বদা শত্রু)!” |
| “এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে?” | তিনি বিভীষণকে “রক্ষোবর” (রাক্ষসশ্রেষ্ঠ) সম্বোধন করে বিদ্রূপ করেন: “এ শিক্ষা (বিশ্বাসঘাতকতা) তুমি কোথায় পেলে?” |
| “কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে, হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?” | মেঘনাদ হতাশাভরে বলেন: “তোমাকে গালি দেওয়া বৃথা! তুমি যাদের সাথে থাকো (রামের দল), তাদের কাছ থেকে বর্বরতা ছাড়া আর কী শিখবে?” |
| “গতি যার নীচসহ, নীচ সে দুর্মতি।” | তিনি একটি প্রবাদবাক্য ব্যবহার করেন: “যে নীচের সাথে চলবে, তার বুদ্ধিও নীচ হবে।” এটি রাম-লক্ষ্মণকে “নীচ” এবং বিভীষণের সিদ্ধান্তকে “দুর্মতি” (মন্দ বুদ্ধি) বলে চিহ্নিত করে। |
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার MCQ
প্রশ্ন ১: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
ক) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
খ) মেঘনাদবধ কাব্য
গ) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ঘ) বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মোট কতটি সর্গে বিন্যস্ত?
ক) পাঁচটি
খ) সাতটি
গ) নয়টি
ঘ) এগারোটি
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৩: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর ষষ্ঠ সর্গের নাম কী?
ক) বধো
খ) যুদ্ধ
গ) মরণ
ঘ) নিধন
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৪: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে বিভীষণ কে?
ক) রাবণের পুত্র
খ) রাবণের কনিষ্ঠ সহোদর
গ) রামের ভাই
ঘ) লক্ষ্মণের পুত্র
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫: মেঘনাদ কে?
ক) রাবণের ভাই
খ) রাবণের পুত্র
গ) কুম্ভকর্ণের পুত্র
ঘ) বিভীষণের পুত্র
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৬: ‘অরিন্দম’ কাকে বোঝানো হয়েছে?
ক) বিভীষণ
খ) রাবণ
গ) মেঘনাদ
ঘ) লক্ষ্মণ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৭: মেঘনাদ কোন স্থানে লক্ষ্মণকে প্রবেশ করতে দেখে বিস্মিত হন?
ক) রামের সেনানিবাস
খ) নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার
গ) লঙ্কার রাজপ্রাসাদ
ঘ) অশোক বন
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৮: ‘তাত’ শব্দটি বিভীষণকে সম্বোধনে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক) পিতা
খ) পিতৃব্য বা চাচা
গ) ভাই
ঘ) পুত্র
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৯: ‘নিকষা’ কে?
ক) মেঘনাদের মা
খ) রাবণের মা
গ) সীতা
ঘ) মন্দোদরী
উত্তর: খ
প্রশ্ন ১০: ‘শূলীশম্ভুনিভ’ কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
ক) লক্ষ্মণের
খ) বিভীষণের
গ) কুম্ভকর্ণের
ঘ) রাবণের
উত্তর: গ
প্রশ্ন ১১: ‘বাসববিজয়ী’ কে?
ক) রাবণ
খ) বিভীষণ
গ) মেঘনাদ
ঘ) কুম্ভকর্ণ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ১২: ‘রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’ কে?
ক) বিভীষণ
খ) মেঘনাদ
গ) রাবণ
ঘ) কুম্ভকর্ণ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ১৩: ‘তস্কর’ শব্দের অর্থ কী?
ক) যোদ্ধা
খ) চোর
গ) মন্ত্রী
ঘ) রাজা
উত্তর: খ
প্রশ্ন ১৪: ‘রামানুজ’ কে?
ক) রাম
খ) লক্ষ্মণ
গ) ভরত
ঘ) শত্রুঘ্ন
উত্তর: খ
প্রশ্ন ১৫: ‘শমন-ভবন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) স্বর্গ
খ) যমালয়
গ) পাতাল
ঘ) বৈকুণ্ঠ
উত্তর: খ
প্রশ্ন ১৬: ‘ভঞ্জিব আহবে’- এর অর্থ কী?
ক) যুদ্ধে জয় করা
খ) যুদ্ধদ্বারা বিনষ্ট করা
গ) শান্তি স্থাপন করা
ঘ) আশ্রয় দেওয়া
উত্তর: খ
প্রশ্ন ১৭: ‘রাঘব’ কে?
ক) লক্ষ্মণ
খ) বিভীষণ
গ) রামচন্দ্র
ঘ) ভরত
উত্তর: গ
প্রশ্ন ১৮: ‘রাবণি’ কে?
ক) বিভীষণ
খ) কুম্ভকর্ণ
গ) মেঘনাদ
ঘ) রাবণ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ১৯: ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে’- এ পঙ্ক্তির অর্থ কী?
ক) চাঁদকে আকাশে স্থাপন করেছেন
খ) সূর্যকে উদিত করেছেন
গ) তারা জ্বালিয়েছেন
ঘ) মেঘ সৃষ্টি করেছেন
উত্তর: ক
প্রশ্ন ২০: ‘রক্ষোরথি’ ও ‘রথী’ শব্দদ্বয়ের অর্থ কী?
ক) পথিক
খ) রথচালক বীর
গ) মন্ত্রী
ঘ) নর্তক
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২১: ‘অধম রাম’ বলতে মেঘনাদ কী বোঝাতে চেয়েছেন?
ক) রাম শ্রেষ্ঠ
খ) রাম নিকৃষ্ট
গ) রাম দেবতা
ঘ) রাম বীর
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২২: ‘মৃগেন্দ্র কেশরী’ কাকে বোঝায়?
ক) হাতি
খ) সিংহ
গ) বাঘ
ঘ) শৃগাল
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২৩: মেঘনাদ অনুসারে, লক্ষ্মণ কীভাবে যুদ্ধ করেন?
ক) অস্ত্রহীন যোদ্ধার সঙ্গে
খ) সাজসজ্জিত হয়ে
গ) পূর্ণ সেনা নিয়ে
ঘ) মায়াযুদ্ধ করে
উত্তর: ক
প্রশ্ন ২৪: ‘সৌমিত্রি’ কে?
ক) রাম
খ) বিভীষণ
গ) লক্ষ্মণ
ঘ) ভরত
উত্তর: গ
প্রশ্ন ২৫: ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার’ কোথায় অবস্থিত?
ক) অযোধ্যায়
খ) লঙ্কাপুরীতে
গ) কিষ্কিন্ধ্যায়
ঘ) বরুণায়
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২৬: ‘প্রগলভে’ শব্দের অর্থ কী?
ক) ভয়ে
খ) দাম্ভিক চিত্তে
গ) আনন্দে
ঘ) দুঃখে
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২৭: ‘দন্তী’ শব্দের অর্থ কী?
ক) দন্তহীন
খ) দাম্ভিক
গ) দরিদ্র
ঘ) দয়ালু
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২৮: ‘নন্দন-কানন’ কী?
ক) পৃথিবীর বন
খ) স্বর্গের উদ্যান
গ) পাতালের বাগান
ঘ) লঙ্কার উদ্যান
উত্তর: খ
প্রশ্ন ২৯: ‘মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী’- এ পঙ্ক্তিতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সাপ মন্ত্রবলে নত হয়
খ) সিংহ গর্জন করে
গ) পাখি উড়ে
ঘ) মাছ সাঁতার কাটে
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৩০: বিভীষণ নিজেকে কার ‘আশ্রয়ী’ বলে ঘোষণা করেছেন?
ক) রাবণের
খ) রাঘবের পদাশ্রয়
গ) মেঘনাদের
ঘ) কুম্ভকর্ণের
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩১: বিভীষণ অনুসারে, লঙ্কা কী কারণে ধ্বংস হচ্ছে?
ক) রামের শক্তিতে
খ) নিজ কর্মদোষে
গ) দেবতার অভিশাপে
ঘ) লক্ষ্মণের মায়ায়
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩২: বিভীষণ লঙ্কার বর্তমান অবস্থাকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
ক) প্রলয়ে বসুধার
খ) বন্যার সাথে
গ) অগ্নিকাণ্ডের সাথে
ঘ) খরার সাথে
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৩৩: ‘বাসবত্রাস’ কে?
ক) বিভীষণ
খ) রাবণ
গ) মেঘনাদ
ঘ) লক্ষ্মণ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৩৪: মেঘনাদের মতে শাস্ত্র কোন পথকে শ্রেয় বলে?
ক) গুণবান পরজন
খ) নির্গুণ স্বজন
গ) ধনী ব্যক্তি
ঘ) বিদ্বান পর
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩৫: মেঘনাদ বিভীষণের সঙ্গে বসবাসকে কী বলে আখ্যা দিয়েছেন?
ক) ধর্মীয়
খ) বর্বরতা
গ) সাহসিকতা
ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩৬: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৩৭: মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম কোথায়?
ক) কলকাতায়
খ) যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি
গ) বরিশালে
ঘ) ঢাকায়
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩৮: মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম সাল কত?
ক) ১৮১৪
খ) ১৮২৪
গ) ১৮৩৪
ঘ) ১৮৪৪
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৩৯: মধুসূদন দত্তের পিতার নাম কী?
ক) রাজনারায়ণ দত্ত
খ) নিবারণচন্দ্র দত্ত
গ) সত্যানন্দ দত্ত
ঘ) হরিচরণ দত্ত
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৪০: মধুসূদন দত্তের মাতার নাম কী?
ক) সুনীতি দেবী
খ) কুসুমকুমারী দাশ
গ) জাহ্নবী দেবী
ঘ) প্রমীলা দেবী
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৪১: মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হন?
ক) ১৮৩০
খ) ১৮৩৩
গ) ১৮৩৫
ঘ) ১৮৪০
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৪২: মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন?
ক) ১৮৪০
খ) ১৮৪৩
গ) ১৮৪৫
ঘ) ১৮৫০
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৪৩: ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে মধুসূদন দত্তকে কোন কলেজে ভর্তি হতে হয়?
ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
খ) স্কটিশ চার্চ কলেজ
গ) শিবপুরের বিশপস কলেজ
ঘ) ঢাকা কলেজ
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৪৪: মধুসূদন দত্ত কোন ছন্দের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত?
ক) পয়ার
খ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
গ) ত্রিপদী
ঘ) মাত্রাবৃত্ত
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৪৫: বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) জীবনানন্দ দাশ
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৪৬: মধুসূদন দত্ত রচিত আধুনিক নাটক কোনটি?
ক) একেই কি বলে সভ্যতা
খ) শর্মিষ্ঠা
গ) বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ঘ) চতুর্দশপদী কবিতাবলি
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৪৭: মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
ক) পদ্মাবতী
খ) কৃষ্ণকুমারী
গ) একেই কি বলে সভ্যতা
ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৪৮: মধুসূদন দত্তের কাব্যগ্রন্থ কোনটি নয়?
ক) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
খ) বীরাঙ্গনা কাব্য
গ) চতুর্দশপদী কবিতাবলি
ঘ) রূপসী বাংলা
উত্তর: ঘ
প্রশ্ন ৪৯: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি কী ছন্দে রচিত?
ক) পয়ার
খ) ত্রিপদী
গ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ঘ) মাত্রাবৃত্ত
উত্তর: গ
প্রশ্ন ৫০: ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দের’ প্রতি পঙ্ক্তিতে কত মাত্রা থাকে?
ক) ১২ মাত্রা
খ) ১৪ মাত্রা
গ) ১৬ মাত্রা
ঘ) ১৮ মাত্রা
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫১: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে কীসের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশিত হয়েছে?
ক) দারিদ্র্যের
খ) বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার
গ) অশিক্ষার
ঘ) রোগের
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫২: উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫৩: ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ রাম-লক্ষ্মণ কীরূপে উপস্থাপিত হয়েছেন?
ক) মহাবীর
খ) হীনরূপে
গ) দেবতা
ঘ) রাজা
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫৪: ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ রাবণ ও মেঘনাদ কীসের ধারকরূপে উপস্থাপিত?
ক) দৈত্য-গুণ
খ) মানবীয় গুণ
গ) পাপ-গুণ
ঘ) অসুর-গুণ
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫৫: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যু কবে?
ক) ১৮৭৩ সালের ২৯শে জুন
খ) ১৮৮৩ সালের ২৯শে জুন
গ) ১৮৯৩ সালের ২৯শে জুন
ঘ) ১৯০৩ সালের ২৯শে জুন
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৫৬: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে মেঘনাদ কীসের জন্য সময় প্রার্থনা করেছিলেন?
ক) বিশ্রামের
খ) যুদ্ধসাজ গ্রহণের
গ) মন্ত্র উচ্চারণের
ঘ) পূজা শেষ করার
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫৭: বিভীষণকে দেখে মেঘনাদের মনে কী প্রতিক্রিয়া হয়?
ক) আনন্দ
খ) সবকিছু স্পষ্ট হয়
গ) ভয়
ঘ) উদাসীনতা
উত্তর: খ
প্রশ্ন ৫৮: মেঘনাদ বিভীষণের আচরণকে কী বলে মনে করেন?
ক) নীচতা ও বর্বরতা
খ) বীরত্ব
গ) ন্যায়পরায়ণতা
ঘ) ধর্মীয় কর্তব্য
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৫৯: ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ রাম কার আনুকূল্য প্রাপ্ত হয়েছেন?
ক) দেবতাদের
খ) রাক্ষসদের
গ) ঋষিদের
ঘ) নাগদের
উত্তর: ক
প্রশ্ন ৬০: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে যতিপাত বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার কীরূপ?
ক) বাধ্যতামূলক
খ) স্বাধীন
গ) অনুপস্থিত
ঘ) কঠোর
উত্তর: খ