Table of Contents
আঠারো বছর বয়স কবিতার ব্যাখ্যা
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| “আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ” | আঠারো বছর বয়সটি খুব কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং একটি সময়। এই বয়সে তরুণ-তরুণীরা কৈশোর থেকে যৌবনে প্রবেশ করে। |
| “স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি” | এই বয়সে তরুণরা খুব সাহসী হয়। তারা সমাজের নিয়ম, বাধা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেয়। |
| “আঠারো বছর বয়সেই অহরহ বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি” | এই বয়সে তরুণদের মনে নানা রকম সাহসী এবং দুঃসাহসী স্বপ্ন জাগে। তারা বড় বড় লক্ষ্য এবং স্বপ্ন দেখে, যা তাদেরকে নতুন কিছু করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। |
| “আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়” | এই বয়সে তরুণরা কোনো ভয় পায় না। তারা জীবনের সব বাধা-বিপত্তিকে সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে চায়। তাদের মনে কোনো সংশয় বা ভীতি থাকে না। |
| “পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা” | তরুণরা জীবনের সব বাধাকে পদদলিত করে এগিয়ে যেতে চায়। তারা কোনো সমস্যাকে ভয় পায় না, বরং তা অতিক্রম করার জন্য সংগ্রাম করে। |
| “এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়” | এই বয়সে তরুণরা কারো কাছে মাথা নোয়ায় না। তারা অন্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং স্বাধীনভাবে চলতে চায়। |
| “আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা” | এই বয়সে তরুণরা খুব আত্মবিশ্বাসী হয়। তারা শৈশবের কান্না এবং ভয়কে পেছনে ফেলে দেয়। তারা জীবনের সমস্যাগুলোকে সাহসের সাথে মোকাবিলা করে। |
| “এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য” | এই বয়সে তরুণরা দেশ, সমাজ এবং মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকে। তারা রক্তদান করে, সংগ্রাম করে এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করতে চায়। |
| “বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে” | তরুণরা খুব দ্রুত এবং উদ্যমের সাথে এগিয়ে যায়, ঠিক যেমন একটি স্টিমার জলের উপর দ্রুতগতিতে চলে। তাদের মধ্যে প্রচুর শক্তি এবং উদ্দীপনা থাকে। |
| “প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য” | তরুণরা তাদের জীবনকে নতুন লক্ষ্য এবং শপথের জন্য উৎসর্গ করে। তারা সমাজের জন্য কিছু করার প্রতিজ্ঞা করে এবং সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। |
| “সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে” | তরুণরা তাদের জীবনকে নতুন লক্ষ্য এবং শপথের জন্য উৎসর্গ করে। তারা সমাজের জন্য কিছু করার প্রতিজ্ঞা করে এবং সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। |
| “আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর” | এই বয়সটি খুব শক্তিশালী এবং ভয়ংকর। তরুণরা তাদের শক্তি এবং সাহস দিয়ে সমাজের পরিবর্তন আনতে পারে। |
| “তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা” | এই বয়সে তরুণরা সমাজের অন্যায়, অবিচার এবং বৈষম্য দেখে খুব কষ্ট পায়। তাদের মনে অনেক যন্ত্রণা এবং বেদনা থাকে। |
| “এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর” | এই বয়সে তরুণদের আবেগ এবং অনুভূতি খুব তীব্র হয়। তারা সবকিছুকে খুব গভীরভাবে অনুভব করে। |
| “এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা” | এই বয়সে তরুণরা নানা রকম মতবাদ, তত্ত্ব এবং পরামর্শ শোনে। তারা ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখে। |
| “আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার” “পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান” | আঠারো বছর বয়সটি খুব শক্তিশালী এবং অদম্য। এই বয়সে তরুণরা জীবনের পথে অনেক ঝড় এবং ঝঞ্ঝাটের সম্মুখীন হয়। তারা নানা রকম সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। |
| “দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার” | এই বয়সে তরুণদের জন্য জীবনের সব সমস্যা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা করা খুব কঠিন। কিন্তু তারা সাহসের সাথে সবকিছু অতিক্রম করে। |
| “ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ” | এই বয়সে তরুণরা অনেক কষ্ট এবং যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়। তাদের প্রাণ অনেক আঘাত পায়, কিন্তু তারা হাল ছাড়ে না। |
| “আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে অবিশ্রান্ত” | এই বয়সে তরুণরা অবিরাম আঘাত এবং সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাদের জীবনে নানা রকম বাধা এবং বিপত্তি আসে। |
| “একে একে হয় জড়ো” | এই বয়সে তরুণরা একের পর এক সমস্যা এবং আঘাতের সম্মুখীন হয়। তাদের জীবনে অনেক কষ্ট এবং যন্ত্রণা জমা হয়। |
| “এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে” | এই বয়সে তরুণরা অনেক ব্যর্থতা এবং হতাশার সম্মুখীন হয়। তাদের মনে অনেক দীর্ঘশ্বাস এবং কষ্ট থাকে। |
| “এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো” | এই বয়সে তরুণরা অনেক বেদনা এবং যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়। |
| “তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি” | তরুণরা সব বাধা অতিক্রম করে জয়লাভ করে। তাদের সাহস এবং সংগ্রামের জন্য তারা বিজয়ী হয়। |
| “এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে” | তরুণরা জীবনের সব দুর্যোগ এবং ঝড়কে অতিক্রম করে বেঁচে থাকে। |
| “বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী” | এই বয়সে তরুণরা বিপদ এবং সমস্যার মুখে সামনে থেকে লড়াই করে। তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। |
| “এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে” | তরুণরা সব বাধা অতিক্রম করে নতুন কিছু সৃষ্টি করে। তারা সমাজের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করে। |
| “এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়” | এই বয়সে তরুণরা ভীরু বা কাপুরুষ নয়। তারা খুব সাহসী এবং সংগ্রামী। |
| “পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে” | তরুণরা জীবনের পথে চলতে চলতে কখনো থামে না। তারা সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। |
| “এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়” | এই বয়সে তরুণদের মনে কোনো সংশয় বা সন্দেহ থাকে না। তারা তাদের লক্ষ্যে অটল থাকে। |
| “এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে” | কবি চান যে, এই তরুণদের সাহস এবং শক্তি দেশের উন্নতি এবং প্রগতির জন্য কাজ করুক। তারা দেশের জন্য নতুন কিছু সৃষ্টি করুক। |
আঠারো বছর বয়স কবিতার গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
ক) ঘুম নেই
খ) পূর্বাভাস
গ) ছাড়পত্র
ঘ) মিঠেকড়া
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। ‘ছাড়পত্র’ তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ২: কবিতায় ‘আঠারো বছর বয়স’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) শৈশব
খ) যৌবনে পদার্পণ
গ) বার্ধক্য
ঘ) মধ্যবয়স
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘আঠারো বছর বয়স’ মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। এটি কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের সময়, যখন মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেয়।
প্রশ্ন ৩: ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ’—এ বয়সকে দুঃসহ বলা হয়েছে কেন?
ক) শারীরিক কষ্টের জন্য
খ) নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় বলে
গ) পড়ার চাপ বেশি বলে
ঘ) চাকরি না পাওয়ার জন্য
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, এ বয়সে অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয়। এ সময় থেকে তাকে এক কঠিন ও দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়।
প্রশ্ন ৪: আঠারো বছর বয়স ‘স্পর্ধায়’ কী নেয়?
ক) চাকরি
খ) মাথা তোলবার ঝুঁকি
গ) ধনসম্পদ
ঘ) শিক্ষা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ / স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি’। টীকা অনুযায়ী, অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি এ বয়সেই নেয়।
প্রশ্ন ৫: ‘বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি’—কাদের কথা বলা হয়েছে?
ক) বৃদ্ধদের
খ) শিশুদের
গ) আঠারো বছর বয়সীদের
ঘ) নারীর
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে। আঠারো বছর বয়সীদের মধ্যেই এসব দুঃসাহস দেখা দেয়।
প্রশ্ন ৬: আঠারো বছর বয়স কীসের নেই?
ক) আশা
খ) ভয়
গ) ভালোবাসা
ঘ) ক্ষোভ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়’। টীকা অনুযায়ী, এ বয়স আত্মপ্রত্যয়ী হয় এবং জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বাধীনভাবে।
প্রশ্ন ৭: আঠারো বছর বয়স ‘পদাঘাতে’ কী চায়?
ক) ভাঙতে পাথর বাধা
খ) বাড়ি তৈরি করতে
গ) নাচতে
ঘ) দৌড়াতে
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা’। আঠারো বছর বয়সী তরুণরা সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে চায় এবং পথের অন্তরায় দূর করতে সচেষ্ট হয়।
প্রশ্ন ৮: আঠারো বছর বয়স কী জানে না?
ক) হাসতে
খ) খেলতে
গ) কাঁদা
ঘ) ঘুমাতে
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা’। টীকা অনুযায়ী, শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলোর কান্নাকে এ বয়স সচেতনভাবে মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয়।
প্রশ্ন ৯: ‘এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য’—এ পঙ্ক্তিতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) চিকিৎসাবিজ্ঞান
খ) দেশ ও মানবতার জন্য প্রাণ দেওয়া
গ) রক্ত সঞ্চালন
ঘ) হাসপাতাল
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে গেছে। এ বয়স সুন্দর, শুভ ও কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে জানে।
প্রশ্ন ১০: ‘বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ধীর গতি
খ) দ্রুত ও শক্তিশালী গতি
গ) অসহায়তা
ঘ) থেমে যাওয়া
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় আঠারো বছর বয়সকে বাষ্পের বেগে চলা স্টিমারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি এ বয়সের দ্রুত, শক্তিশালী ও অদম্য অগ্রগতির প্রতীক।
প্রশ্ন ১১: ‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ব্যবসা
খ) আত্মত্যাগের শপথ
গ) খেলাধুলা
ঘ) শিকার
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। স্বপ্ন বাস্তবায়নে নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ-প্রাণ এগিয়ে যায়।
প্রশ্ন ১২: ‘সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে’—এখানে ‘শপথের কোলাহল’ কী?
ক) ঝগড়া
খ) নতুন করণীয়ের শপথ
গ) গান
ঘ) বক্তৃতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, নিত্য-নতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ-প্রাণ এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে। এই শপথগুলোর সম্মিলিত আওয়াজই ‘শপথের কোলাহল’।
প্রশ্ন ১৩: ‘আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর’—কেন ভয়ংকর?
ক) শত্রু থাকার জন্য
খ) অসহ্য যন্ত্রণা থাকে বলে
গ) অস্ত্র থাকার জন্য
ঘ) রোগ থাকার জন্য
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর / তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা’। টীকা অনুযায়ী, চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১৪: আঠারো বছর বয়সে প্রাণ কীরূপ হয়?
ক) দুর্বল
খ) তীব্র ও প্রখর
গ) নিষ্প্রাণ
ঘ) শীতল
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর’। টীকা অনুযায়ী, অনুভূতির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা এ বয়সেই মানুষের জীবনে বিশেষ তীব্র হয়ে দেখা দেয়।
প্রশ্ন ১৫: ‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’—‘মন্ত্রণা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) গান
খ) নানা মতবাদ
গ) প্রার্থনা
ঘ) অভিশাপ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা তত্ত্ব, মতবাদ, ভাবধারনার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে এই বয়সের তরুণেরা। এসবই ‘মন্ত্রণা’।
প্রশ্ন ১৬: ‘আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার’—‘দুর্বার’ শব্দের অর্থ কী?
ক) দুর্বল
খ) অপ্রতিরোধ্য
গ) ধীর
ঘ) ভীত
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় আঠারো বছর বয়সকে ‘দুর্বার’ বলা হয়েছে। টীকা অনুযায়ী, এ বয়স দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে চলে।
প্রশ্ন ১৭: আঠারো বছর বয়স ‘পথে প্রান্তরে’ কী ছোটায়?
ক) নৌকা
খ) বহু তুফান
গ) গাড়ি
ঘ) মানুষ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান’। আঠারো বছর বয়স জীবনপথে নানা ঝড়-তুফান সৃষ্টি করে এবং সেগুলো মোকাবিলা করে।
প্রশ্ন ১৮: ‘দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার’—কেন ভার?
ক) নদী পার হওয়া কঠিন বলে
খ) নানা জটিলতা অতিক্রম করতে হয় বলে
গ) গাড়ি চালানো কঠিন বলে
ঘ) পড়া কঠিন বলে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। এই সময় সচেতনভাবে নিজেকে পরিচালনা না করলে পদস্খলন হতে পারে।
প্রশ্ন ১৯: আঠারো বছর বয়সে আঘাত কীরূপ আসে?
ক) একবারে
খ) অবিশ্রান্ত
গ) কখনো না
ঘ) খুব কম
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে / অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো’। এ বয়সে নানা প্রতিকূলতা ও কষ্ট অবিরাম ভাবে আসতে থাকে।
প্রশ্ন ২০: ‘কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) আনন্দ
খ) ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস
গ) জয়ধ্বনি
ঘ) হাসি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, সচেতন ও সচেষ্ট হয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করতে না পারার অজস্র ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স নেতিবাচক কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন ২১: আঠারো বছর বয়স কীসে কাঁপে?
ক) আনন্দে
খ) বেদনায় থরোথরো
গ) ভয়ে
ঘ) উত্তেজনায়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো’। নানা আঘাত, যন্ত্রণা ও কষ্টের কারণে এ বয়সের তরুণদের মন কেঁপে ওঠে।
প্রশ্ন ২২: ‘তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি’—কেন জয়ধ্বনি শোনা যায়?
ক) সব কাজ শেষ করে বলে
খ) দুর্যোগ ও ঝড়ে বাঁচে বলে
গ) যুদ্ধ জিতে বলে
ঘ) ধনী হওয়ার জন্য
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, / এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে’। সকল বিপদের মধ্যেও আঠারো বছর বয়স টিকে থাকে এবং জয়লাভ করে।
প্রশ্ন ২৩: ‘বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী’—‘অগ্রণী’ শব্দের অর্থ কী?
ক) পশ্চাতে থাকে
খ) সবার আগে অগ্রসর হয়
গ) লুকায়
ঘ) ভয় পায়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, আঠারো বছর বয়স বিপদের মুখে সবার আগে এগিয়ে আসে। টীকা অনুযায়ী, এ বয়সের তরুণেরা সমস্ত বিপদ মোকাবেলায় দাঁড়ায়।
প্রশ্ন ২৪: ‘এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) পুরনো কাজ করে
খ) সৃজনশীল কাজ করে
গ) ধ্বংস করে
ঘ) ঘুমায়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকা অনুযায়ী, তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। আঠারো বছর বয়স সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন কিছু সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন ২৫: ‘এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) এ বয়স ভয় পায়
খ) এ বয়স সাহসী ও নির্ভীক
গ) এ বয়স লজ্জা পায়
ঘ) এ বয়স দুর্বল
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আঠারো বছর বয়স ভীরু বা কাপুরুষ নয়। এটি সাহসী, নির্ভীক এবং সকল বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম।
প্রশ্ন ২৬: ‘পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে’—কেন?
ক) বিশ্রাম না নিয়ে
খ) অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমান বলে
গ) দৌড়াতে ভালোবাসে বলে
ঘ) বাড়ি ফিরতে চায় না বলে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, এ বয়স দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে চলে। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন ২৭: ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’—কবি কেন এ প্রার্থনা করেছেন?
ক) দেশ ধ্বংস হোক
খ) তারুণ্যে চালিকাশক্তি হোক
গ) যুদ্ধ হোক
ঘ) দুর্ভিক্ষ হোক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, কবি প্রার্থনা করেন, আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, সাহসিকতা, দুর্বার গতি দেশের কাজে লাগুক।
প্রশ্ন ২৮: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
ক) অক্ষরবৃত্ত
খ) মাত্রাবৃত্ত
গ) পয়ার
ঘ) ত্রিপদী
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
প্রশ্ন ২৯: সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম কবে?
ক) ১৯২০ সালের ১৫ই আগস্ট
খ) ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট
গ) ১৯৩০ সালের ১৫ই আগস্ট
ঘ) ১৯১৮ সালের ১৫ই আগস্ট
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট। তিনি অল্প বয়সেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
প্রশ্ন ৩০: সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
ক) গোপালগঞ্জ
খ) ফরিদপুর
গ) ঢাকা
ঘ) মাগুরা
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। তাঁর জন্মস্থান নয়, পৈতৃক নিবাস এখানে।
প্রশ্ন ৩১: সুকান্ত ভট্টাচার্যের পিতার নাম কী?
ক) নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য
খ) হরিচরণ ভট্টাচার্য
গ) সত্যেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
ঘ) বিধুভূষণ ভট্টাচার্য
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের পিতার নাম নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য এবং মায়ের নাম সুনীতি দেবী।
প্রশ্ন ৩২: ‘দৈনিক স্বাধীনতা’র কিশোরসভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
গ) জসীমউদ্দীন
ঘ) ফররুখ আহমদ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘দৈনিক স্বাধীনতা’র কিশোরসভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশ্ন ৩৩: সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যে কীসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশ পেয়েছে?
ক) ধর্মের
খ) অন্যায়-অবিচার
গ) শিক্ষার
ঘ) পরিবারের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সুকান্ত তাঁর কাব্যে অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। তিনি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন লালন করতেন।
প্রশ্ন ৩৪: সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) ঘুম নেই
খ) পূর্বাভাস
গ) ছাড়পত্র
ঘ) মিঠেকড়া
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘ছাড়পত্র’ সুকান্ত ভট্টাচার্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটিও এই গ্রন্থের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ৩৫: সুকান্ত ভট্টাচার্যের অন্য দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
ক) ছাড়পত্র ও মিঠেকড়া
খ) ঘুম নেই ও পূর্বাভাস
গ) অভিযান ও হরতাল
ঘ) সাত সাগরের মাঝি ও কাফেলা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘ছাড়পত্র’ ছাড়াও সুকান্ত ভট্টাচার্যের অন্য দুটি কাব্যগ্রন্থ হলো ‘ঘুম নেই’ ও ‘পূর্বাভাস’।
প্রশ্ন ৩৬: সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘আকাল’ কাব্যগ্রন্থটি কোন সংঘের পক্ষে প্রকাশিত হয়?
ক) বাংলা একাডেমি
খ) ফ্যাসিবিরোধী লেখক শিল্পী সংঘ
গ) যুব সংঘ
ঘ) সাংস্কৃতিক সংঘ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি ফ্যাসিবিরোধী লেখক শিল্পী সংঘের পক্ষে ‘আকাল’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। এটি তাঁর সামাজিক সচেতনতার প্রমাণ।
প্রশ্ন ৩৭: সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যু কবে?
ক) ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে
খ) ১৯৫০ সালের ১৩ই মে
গ) ১৯৪৫ সালের ১৩ই মে
ঘ) ১৯৪৮ সালের ১৩ই মে
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই মে মাত্র একুশ বছর বয়সে প্রতিভাবান এই কবির মৃত্যু হয়। তাঁর অকাল মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রশ্ন ৩৮: সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ও মৃত্যুর সময়কাল কী?
ক) ১৯২৬-১৯৪৭
খ) ১৯১৮-১৯৭৪
গ) ১৯২০-১৯৫০
ঘ) ১৯৩০-১৯৬০
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতি অনুযায়ী, সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি মাত্র ২১ বছর বেঁচে ছিলেন।
প্রশ্ন ৩৯: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি কীসের প্রত্যাশা করেছেন?
ক) যুদ্ধের
খ) তারুণ্য চালিকাশক্তি হোক
গ) বিপ্লবের
ঘ) ধনসম্পদের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত- এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য কবি প্রত্যাশা করেছেন তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়।
প্রশ্ন ৪০: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার ভূমিকা কী ছিল?
ক) নিরুৎসাহিত করা
খ) মুক্তিকামী বাঙালির মনে শক্তি ও সাহস জোগানো
গ) নিরপেক্ষ থাকা
ঘ) পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে থাকা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে সুকান্তর কবিতা মুক্তিকামী বাঙালির মনে বিশেষ শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। তাঁর কবিতা প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।