পদ্মা কবিতার ব্যাখ্যা ও গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর

পদ্মা কবিতার ব্যাখ্যা

কবিতার লাইনলাইনের ব্যাখ্যা
অনেক ঘূর্ণিতে ঘুরে, পেয়ে ঢের সমুদ্রের স্বাদ,পদ্মার প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণি এত শক্তিশালী যে তা বহু সমুদ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনীয়। এই উপমার মাধ্যমে নদীর ভয়ংকর রূপ বোঝানো হয়েছে।
জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর,পদ্মার দীর্ঘ যাত্রাপথে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও মানুষের জীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। এটি নদীর বহমানতা ও জীবনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা নির্দেশ করে।
কেঁপেছে তোমাকে দেখে জলদস্যু- দুরন্ত হার্মাদ,নদীর প্রমত্ত রূপ দেখে জলদস্যু ও হার্মাদদের মতো দুঃসাহসী ব্যক্তিরাও ভীত হয়েছে। এখানে পদ্মাকে ভয়ংকর প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর!পদ্মার প্রবল তরঙ্গের আঘাতে জলদস্যুদের বর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এটি নদীর তীব্র শক্তি ও ধ্বংসাত্মক রূপের চিত্রকল্প।
সংগ্রামী মানুষ তবু দুই তীরে চালায়ে লাঙল,পদ্মার দুই পাড়ের মানুষ সংগ্রামী; তারা নদীর উর্বর পলিমাটিতে কঠোর শ্রমের মাধ্যমে চাষাবাদ চালিয়ে যায়। এটি মানুষের অধ্যবসায় ও নদীর জীবনদায়িনী দিককে ইঙ্গিত করে।
কঠিন শ্রমের ফল – শস্য দানা পেয়েছে প্রচুর;পদ্মার পলিমাটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শস্য দান করে। নদীর এই রূপ তাকে কল্যাণময়ী করে তুলেছে।
উর্বর তোমার চরে ফলায়েছে পর্যাপ্ত ফসল!পদ্মার চরগুলো অত্যন্ত উর্বর, যেখানে মানুষ প্রচুর ফসল ফলিয়েছে। এটি নদীর সৃষ্টিশীল ও আশীর্বাদসূচক রূপ।
জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়, নির্ভীক জওয়ান,পদ্মাকে ঘিরে মানুষ জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে অবিচল ও সাহসী থাকে। এখানে মানুষের সাহসিকতা ও প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রামের ইঙ্গিত রয়েছে।
সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল।পদ্মার উর্বর পলিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়, যা মানুষের জীবনের পাথেয় ও সম্বল। এটি নদীর সৌন্দর্য ও জীবনীশক্তি প্রকাশ করে।
বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান,বর্ষাকালে পদ্মার জলস্রোত মানুষকে ধ্বংস করে; সাজানো বাগান, ঘরবাড়ি এমনকি জীবন পর্যন্ত ভেসে যায়। এটি নদীর ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক দিক।
অসংখ্য জীবন, আর জীবনের অজস্র সম্ভার,পদ্মার প্লাবনে শুধু বস্তু নয়, মানুষের জীবনও বিলীন হয়ে যায়। এটি নদীর সর্বগ্রাসী রূপের চিত্র।
হে নদী! জেগেছে তবু পরিপূর্ণ আহ্বান,ধ্বংসাত্মক রূপের পরেও পদ্মা নবজীবনের আহ্বান জানায়। এটি নদীর পুনর্জীবনী শক্তির পরিচায়ক।
মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার,পদ্মার প্রবল স্রোত মানুষের জীবনে নতুন প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি করে। নদী যেন স্থবিরতাকে সরিয়ে মুক্তির দ্বার উন্মোচন করে।
তোমার সুতীব্র গতি; তোমার প্রদীপ্ত স্রোতধারা।পদ্মার তীব্র গতি এবং উজ্জ্বল স্রোতধারা জীবনের উচ্ছলতা ও নবজাগরণের প্রতীক। এটি পদ্মাকে শক্তি ও প্রেরণার উৎস হিসেবে চিত্রিত করে।

পদ্মা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘পদ্মা’ কবিতাটি ফররুখ আহমদের কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
ক) সাত সাগরের মাঝি
খ) কাফেলা
গ) সিরাজাম মুনীরা
ঘ) মুহূর্তের কবিতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ফররুখ আহমদের “পদ্মা” কবিতাটি ‘কাফেলা’ (১৯৮০) নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। ‘কাফেলা’ কাব্য সাতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত। এই কবিতাটি সেই কাব্যের পঞ্চম সনেট।


প্রশ্ন ২: ‘কাফেলা’ কাব্যটি কতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত?
ক) পাঁচটি
খ) সাতটি
গ) দশটি
ঘ) চৌদ্দটি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘কাফেলা’ কাব্য সাতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত। ‘পদ্মা’ কবিতাটি এ কাব্যের পাঁচ সংখ্যক সনেট।


প্রশ্ন ৩: ‘পদ্মা’ কবিতাটি ‘কাফেলা’ কাব্যের কত নম্বর সনেট?
ক) তৃতীয়
খ) চতুর্থ
গ) পঞ্চম
ঘ) সপ্তম
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে সংকলনভুক্ত কবিতাটি পাঁচ সংখ্যক সনেট। অর্থাৎ এটি ‘কাফেলা’ কাব্যের পঞ্চম সনেট।


প্রশ্ন ৪: ‘পদ্মা’ কবিতাটি কী ধরনের কবিতা?
ক) পয়ার
খ) ত্রিপদী
গ) চতুর্দশপদী
ঘ) অমিত্রাক্ষর
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, “পদ্মা” চতুর্দশপদী (সনেট) কবিতা। এটি তিন পক্তিযুক্ত চারটি স্তবক এবং শেষে দুই পক্তিযুক্ত একটি স্তবকে বিন্যস্ত।


প্রশ্ন ৫: ‘পদ্মা’ কবিতার মিলবিন্যাস কীরূপ?
ক) কখক কখক
খ) কখক খগখ গখগ ঘঙঘ ঙঙ
গ) কক খখ গগ
ঘ) আবাব ববাব
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে কবিতাটির মিলবিন্যাস দেওয়া আছে: কখক খগখ গখগ ঘঙঘ ঙঙ। প্রতি পঙ্ক্তিতে রয়েছে ১৮ মাত্রা।


প্রশ্ন ৬: ‘পদ্মা’ কবিতার প্রতি পঙ্ক্তিতে কত মাত্রা আছে?
ক) ১২ মাত্রা
খ) ১৪ মাত্রা
গ) ১৬ মাত্রা
ঘ) ১৮ মাত্রা
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রতি পঙ্ক্তিতে রয়েছে ১৮ মাত্রা। এটি সনেট কবিতার ছন্দগত বৈশিষ্ট্য।


প্রশ্ন ৭: ‘পদ্মা’ কবিতাটি কয়টি স্তবকে বিন্যস্ত?
ক) ৩টি
খ) ৪টি
গ) ৫টি
ঘ) ৬টি
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, তিন পক্তিযুক্ত চারটি স্তবক এবং শেষে দুই পক্তিযুক্ত একটি স্তবকে কবিতাটি বিন্যস্ত। মোট স্তবক সংখ্যা ৫টি।


প্রশ্ন ৮: কবিতায় ‘ঘূর্ণি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) বৃষ্টি
খ) জল বা বায়ুর আবর্তন
গ) স্রোত
ঘ) ঢেউ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ঘূর্ণি অর্থ জল বা বায়ুর প্রচণ্ড আবর্তন। কবি পদ্মার প্রবল স্রোত ও আবর্তন বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন।


প্রশ্ন ৯: ‘সমুদ্রের স্বাদ’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
ক) লবণতা
খ) সমুদ্র-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
গ) বিপদ
ঘ) স্বাধীনতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘সমুদ্রের স্বাদ’ দ্বারা সমুদ্র-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে। জলদস্যুরা বহু সমুদ্র ঘুরলেও পদ্মাকে দেখে ভয় পায়।


প্রশ্ন ১০: ‘জলদস্যু’ কারা?
ক) নদীর মাঝি
খ) নদী বা সমুদ্রপথে ডাকাত
গ) জেলে
ঘ) নাবিক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, জলদস্যু হচ্ছে সেই দস্যু যে নদী বা সমুদ্রপথে ডাকাতি করে। কবিতায় তাদের দুরন্ত হার্মাদ বলা হয়েছে।


প্রশ্ন ১১: ‘হার্মাদ’ শব্দটির উৎস কী?
ক) আরবি
খ) ফারসি
গ) স্প্যানিশ
ঘ) তুর্কি
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘হার্মাদ’ একটি স্প্যানিশ শব্দ। এটি ‘Armada’ থেকে এসেছে এবং পর্তুগিজ জলদস্যুদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।


প্রশ্ন ১২: ‘হার্মাদ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
ক) ইংরেজ জলদস্যু
খ) পর্তুগিজ জলদস্যু
গ) ডাচ নাবিক
ঘ) ফরাসি ডাকাত
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, হার্মাদ অর্থ পর্তুগিজ জলদস্যু। এরা ছিল দুরন্ত ও নিষ্ঠুর ডাকাত।


প্রশ্ন ১৩: পদ্মার তরঙ্গভঙ্গে জলদস্যুর বর্ণ কেমন হয়?
ক) লাল
খ) পাণ্ডুর
গ) কৃষ্ণ
ঘ) নীল
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর!’ পদ্মার প্রচণ্ড ঢেউ দেখে জলদস্যুর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।


প্রশ্ন ১৪: ‘পাণ্ডুর’ শব্দের অর্থ কী?
ক) কালো
খ) লাল
গ) ফ্যাকাশে সাদাটে হলুদ
ঘ) সবুজ
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, পাণ্ডুর অর্থ ফ্যাকাশে, সাদাটে হলুদ বর্ণবিশিষ্ট। ভয়ে কারও মুখ পাণ্ডুর হয়ে যাওয়া বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।


প্রশ্ন ১৫: দুই তীরে মানুষ কী চালায়?
ক) নৌকা
খ) লাঙল
গ) গরু
ঘ) ব্যবসা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘সংগ্রামী মানুষ তবু দুই তীরে চালায়ে লাঙল’। অর্থাৎ পদ্মার দুই পাড়ের কৃষকরা চাষাবাদ করে।


প্রশ্ন ১৬: কঠিন শ্রমের ফল কী পাওয়া যায়?
ক) অর্থ
খ) শস্য দানা
গ) সোনা
ঘ) মুক্তি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘কঠিন শ্রমের ফল – শস্য দানা পেয়েছে প্রচুর’। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর শস্য উৎপাদন করে।


প্রশ্ন ১৭: পদ্মার চর কীরূপ?
ক) বালুময়
খ) উর্বর
গ) পঙ্কিল
ঘ) পাথুরে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘উর্বর তোমার চরে ফলায়েছে পর্যাপ্ত ফসল!’ পদ্মার পলিমাটি চরকে অত্যন্ত উর্বর করে তুলেছে।


প্রশ্ন ১৮: ‘উর্বর’ শব্দের অর্থ কী?
ক) অনুর্বর
খ) উৎপাদনশক্তি সম্পন্ন
গ) শুষ্ক
ঘ) কর্দমাক্ত
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, উর্বর অর্থ উৎপাদন শক্তিবিশিষ্ট। উর্বর জমিতে ফসল ভালো হয়।


প্রশ্ন ১৯: ‘ফলায়েছে’ শব্দের অর্থ কী?
ক) নষ্ট করেছে
খ) উৎপাদন করেছে
গ) ভাসিয়েছে
ঘ) কেটেছে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ফলায়েছে অর্থ উৎপাদন করেছে। এখানে চরে পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন করাকে বোঝানো হয়েছে।


প্রশ্ন ২০: ‘নিঃসংশয়’ শব্দের অর্থ কী?
ক) সন্দেহযুক্ত
খ) সন্দেহহীন
গ) ভীত
ঘ) উদ্বিগ্ন
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, নিঃসংশয় অর্থ সন্দেহহীন। পদ্মার তীরের মানুষ জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় ও নির্ভীক।


প্রশ্ন ২১: ‘জওয়ান’ শব্দের অর্থ কী?
ক) বৃদ্ধ
খ) শক্তিশালী ও বলবান ব্যক্তি
গ) দুর্বল
ঘ) কৃষক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, জওয়ান একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ শক্তিশালী ও বলবান ব্যক্তি। এখানে নির্ভীক মানুষকে বোঝানো হয়েছে।


প্রশ্ন ২২: ‘সবুজের সমারোহে’ কী পাওয়া যায়?
ক) ধন
খ) জীবনের সম্বল
গ) সৌন্দর্য
ঘ) শান্তি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল’। ফসলের সবুজ আভায় মানুষ জীবনধারণের উপায় পায়।


প্রশ্ন ২৩: ‘সমারোহে’ শব্দের অর্থ কী?
ক) শান্তিতে
খ) আড়ম্বর বা জাঁকজমকসহ
গ) দুঃখে
ঘ) গোপনে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, সমারোহে অর্থ আড়ম্বর বা জাঁকজমক। সবুজের সমারোহ বলতে ঘন সবুজের জাঁকজমক বোঝায়।


প্রশ্ন ২৪: ‘সম্বল’ শব্দের অর্থ কী?
ক) বিনাশ
খ) পাথেয় বা অবলম্বন
গ) যুদ্ধ
ঘ) ভ্রমণ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, সম্বল অর্থ পাথেয়, অবলম্বন বা জীবিকা অর্জনের উপায়। এখানে সবুজ ফসলই মানুষের জীবিকার সম্বল।


প্রশ্ন ২৫: বর্ষায় পদ্মার স্রোতে কী ভেসে যায়?
ক) নৌকা
খ) সাজানো বাগান
গ) মাছ
ঘ) কৃষক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান’। পদ্মার ভাঙনে মানুষের পরিশ্রমের সব কিছু নষ্ট হয়।


প্রশ্ন ২৬: বর্ষায় পদ্মা কী কী ভাসিয়ে নিয়ে যায়?
ক) শুধু গাছপালা
খ) অসংখ্য জীবন ও জীবনের সম্ভার
গ) কেবল মাটি
ঘ) শুধু ঘরবাড়ি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘অসংখ্য জীবন, আর জীবনের অজস্র সম্ভার’ পদ্মার স্রোতে ভেসে যায়। নদী মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাণ কেড়ে নেয়।


প্রশ্ন ২৭: ধ্বংসের পরেও কী জেগে ওঠে?
ক) ভয়
খ) পরিপূর্ণ আহ্বান
গ) ঘৃণা
ঘ) নীরবতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘হে নদী! জেগেছে তবু পরিপূর্ণ আহ্বান’। ধ্বংসের ভিতরেও পদ্মা আবার মানুষকে ডাক দেয়, নতুন করে বাঁচার আহ্বান জানায়।


প্রশ্ন ২৮: মৃত জড়তার বুকে কী খুলেছে?
ক) কবর
খ) মুক্তির স্বর্ণদ্বার
গ) অন্ধকার
ঘ) গুহা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার’। টীকা অনুযায়ী, পদ্মার তীব্র গতি মানুষের স্তব্ধতার বুকে মুক্তির স্পন্দন এনে দেয়।


প্রশ্ন ২৯: কার সুতীব্র গতিতে মুক্তির দ্বার খোলে?
ক) বাতাসের
খ) পদ্মার
গ) সমুদ্রের
ঘ) বর্ষার
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তোমার সুতীব্র গতি; তোমার প্রদীপ্ত স্রোতধারা’। এখানে ‘তোমার’ বলতে পদ্মা নদীকে বোঝানো হয়েছে। পদ্মার স্রোতধারাই মুক্তি এনে দেয়।


প্রশ্ন ৩০: ‘প্রদীপ্ত’ শব্দের অর্থ কী?
ক) মলিন
খ) উজ্জ্বল ও ভাস্বর
গ) অন্ধকার
ঘ) নিস্প্রভ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, প্রদীপ্ত অর্থ উজ্জ্বল, ভাস্বর। পদ্মার স্রোতধারা প্রদীপ্ত, অর্থাৎ আলোকিত ও শক্তিশালী।


প্রশ্ন ৩১: ফররুখ আহমদের জন্ম কোথায় হয়?
ক) ঢাকায়
খ) মাগুরার মাঝআইল গ্রামে
গ) ফরিদপুরে
ঘ) চট্টগ্রামে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে। এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক গ্রাম।


প্রশ্ন ৩২: ফররুখ আহমদের জন্ম সাল কত?
ক) ১৯১০
খ) ১৯১৮
গ) ১৯২০
ঘ) ১৯২৫
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুন। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।


প্রশ্ন ৩৩: ফররুখ আহমদের পিতার নাম কী?
ক) সৈয়দ হাতেম আলী
খ) সৈয়দ আবুল হোসেন
গ) মোহাম্মদ আলী
ঘ) আবদুল হামিদ
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী। তিনি মাগুরার মাঝআইল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।


প্রশ্ন ৩৪: ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) কাফেলা
খ) সিরাজাম মুনীরা
গ) সাত সাগরের মাঝি
ঘ) মুহূর্তের কবিতা
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এই গ্রন্থের মাধ্যমেই তিনি কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।


প্রশ্ন ৩৫: ফররুখ আহমদ কোন পেশায় দীর্ঘকাল চাকরি করেন?
ক) শিক্ষকতা
খ) ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার
গ) সাংবাদিকতা
ঘ) আইনজীবী
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি দীর্ঘকাল ধরে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন ঢাকা বেতারে ‘স্টাফ রাইটার’ হিসেবে। এই পেশায় তিনি সাহিত্যিক কাজ চালিয়ে যান।


প্রশ্ন ৩৬: ফররুখ আহমদের কাব্যনাট্য কোনটি?
ক) হাতেম তায়ী
খ) নৌফেল ও হাতেম
গ) সিরাজাম মুনীরা
ঘ) মুহূর্তের কবিতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের রচিত কাব্যনাট্যের নাম ‘নৌফেল ও হাতেম’। এটি তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাট্যকীর্তি।


প্রশ্ন ৩৭: ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন কোনটি?
ক) কাফেলা
খ) সাত সাগরের মাঝি
গ) মুহূর্তের কবিতা
ঘ) সিরাজাম মুনীরা
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন হলো ‘মুহূর্তের কবিতা’। এ গ্রন্থে তিনি সনেট আকারে কবিতা রচনা করেছেন।


প্রশ্ন ৩৮: ফররুখ আহমদের কাহিনিকাব্য কোনটি?
ক) হাতেম তায়ী
খ) নৌফেল ও হাতেম
গ) কাফেলা
ঘ) পদ্মা
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ফররুখ আহমদের কাহিনিকাব্য হলো ‘হাতেম তায়ী’। এটি একটি জনপ্রিয় আরবীয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত।


প্রশ্ন ৩৯: ফররুখ আহমদ কী কী পুরস্কার লাভ করেন?
ক) বাংলা একাডেমি ও ইউনেস্কো পুরস্কার
খ) সাহিত্য অকাদেমি
গ) স্বাধীনতা পুরস্কার
ঘ) রবীন্দ্র পুরস্কার
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছেন। এছাড়া মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।


প্রশ্ন ৪০: ফররুখ আহমদের মৃত্যু কবে?
ক) ১৯৭০
খ) ১৯৭৪
গ) ১৯৮০
ঘ) ১৯৮৪
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি পরিচিতিতে বলা আছে, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ শে অক্টোবর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য এক অমূল্য কবি হারায়।

Leave a Comment