Table of Contents
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার মূলভাব
মূলভাবঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ অংশে মেঘনাদ তাঁর চাচা বিভীষণের কাজের জন্য খুব ক্ষুব্ধ হন। কারণ বিভীষণই লক্ষ্মণকে রাক্ষসদের গোপন যজ্ঞের জায়গায় যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। মেঘনাদ প্রশ্ন করেন, তাঁর মা নিকষা এবং বড় ভাই রাবণ এত সম্মানিত ও শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও বিভীষণ কীভাবে এমন কাজ করতে পারলেন। তিনি বলেন, বিভীষণ নিজের ঘরে ঢোকার রাস্তা যেমন চোরকে দেখিয়েছেন, তেমনি একজন চণ্ডালকে রাজার ঘরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন। তবুও মেঘনাদ তাঁকে খুব বেশি কথা শোনান না, কারণ তিনি তাঁর বড় এবং বাবার মতো সম্মানের মানুষ। মেঘনাদ চাচাকে দরজা খুলে দিতে বলেন, যাতে তিনি অস্ত্রাগারে গিয়ে লক্ষ্মণকে হত্যা করতে পারেন। কিন্তু বিভীষণ জানান, তিনি রামের আশ্রিত এবং তাই রামের শত্রুর হয়ে কোনো কাজ করতে পারবেন না। এ কথা শুনে মেঘনাদ বিস্মিত হয়ে বলেন, বিভীষণ কীভাবে নিজেকে রামের দাস বলে পরিচয় দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, রাম একজন বনবাসী হয়েও তাদের জন্মভূমি লঙ্কায় এসে পা রেখেছে, এই অপমান তিনি কীভাবে মেনে নেবেন। বিভীষণ বলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি; রাবণ নিজের ভুলের কারণেই লঙ্কা ও নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন। তাই তিনি বাঁচার জন্য রামের আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ কেউ অন্যের অপরাধের কারণে নিজের জীবন নষ্ট করতে চায় না। এতে মেঘনাদ আরও রেগে গিয়ে প্রশ্ন করেন, বিভীষণ যদি সত্যিই ধর্মের পথে থাকেন, তাহলে কীভাবে নিজের ভাই, বন্ধু ও জাতিকে ছেড়ে দিতে পারেন। তিনি শাস্ত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, আত্মীয়ের মধ্যে গুণ না থাকলেও সে আপনজন, কিন্তু বাইরের মানুষ যত গুণীই হোক, সে কখনো নিজের হয় না। শেষে মেঘনাদ বলেন, বিভীষণের সঙ্গে থাকলে তাঁরও যেন সেই বর্বরতার শিক্ষা পাওয়ার ভয় আছে। এই অংশে মেঘনাদের কথার মাধ্যমে দেশপ্রেম এবং নিজের দেশ ও জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রকাশ ঘটেছে।
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
অরিন্দম – শত্রুকে বিনাশকারী / শক্তিশালী যোদ্ধা (এখানে মেঘনাদ)
বিষাদে – দুঃখে / কষ্টে
কেমনে – কীভাবে
পশিল – ঢুকেছিল / প্রবেশ করেছিল
রক্ষঃপুরে – রাক্ষসদের নগরে / লঙ্কায়
তাত – বাবা / চাচা (এখানে পিতৃতুল্য)
নিকষা – রাবণের মা
সতী – পতিব্রতা / সতী নারী
সহোদর – এক মায়ের ভাই / রক্তের ভাই
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ – রাক্ষসদের মধ্যে সেরা (রাবণ)
শূলীশম্ভুনিভ – শূল হাতে শিবের মতো
কুম্ভকর্ণ – রাবণের আরেক ভাই
বাসববিজয়ী → দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করেছে যে (মেঘনাদ / ইন্দ্রজিৎ)
তস্কর – চোর / ডাকাত
চণ্ডাল – নিচু জাতের লোক / হীন ব্যক্তি
গঞ্জি – বকা / তিরস্কার করা
গুরুজন – বড় মানুষ / শ্রদ্ধার পাত্র
পিতৃতুল্য – বাবার মতো
অস্ত্রাগার – অস্ত্রের ঘর / অস্ত্র রাখার জায়গা
রামানুজ – রামের ছোট ভাই / লক্ষ্মণ
শমন-ভবনে – যমালয়ে / মৃত্যুর কাছে
ভঞ্জিব – ধ্বংস করব / বিনষ্ট করব
আহবে – যুদ্ধে
ধীমান – জ্ঞানী / বুদ্ধিমান
রাঘব – রঘুবংশের সন্তান / রামচন্দ্র
রাঘবদাস – রামের দাস / রামের ভক্ত
কাতরে – কাতর হয়ে / মিনতি করে
রাবণি – রাবণের পুত্র / মেঘনাদ
পিতৃব্য – চাচা / বাবার ভাই
বিধু – চাঁদ
বিধি – বিধাতা / Creator
স্থাণু – নিশ্চল / স্থির
শশী – চাঁদ
গড়াগড়ি – ঘূর্ণায়মান / লুটিয়ে পড়া
রক্ষোরথি – রাক্ষসদের রথচালক / রাক্ষস বীর
অধম – নীচ / হীন / খারাপ
স্বচ্ছ সরোবর – পরিষ্কার পুকুর / নির্মল জলাশয়
পঙ্কজ-কাননে – পদ্মের বাগানে
পঙ্কিল সলিলে – কর্দমাক্ত জলে / কাদা পানিতে
শৈবালদলের ধাম – শেওলার জায়গা / নোংরা পুকুর
মৃগেন্দ্র কেশরী – সিংহ / বীর
কেশরী – সিংহ
শৃগাল – শিয়াল
ক্ষুদ্রমতি – ছোট মনের / হীন বুদ্ধি
অস্ত্রহীন যোধে – যার কাছে কোনো অস্ত্র নেই এমন যোদ্ধা
মহারথী – বড় যোদ্ধা / মহাবীর
মহারথী-প্রথা – বড় বীরদের আচরণের ধারা
সৌমিত্রি – সুমিত্রার পুত্র / লক্ষ্মণ
কুমতি – মন্দ বুদ্ধি / খারাপ মত
দেব-দৈত্য-নর-রণে – দেবতা, দানব ও মানুষের মধ্যে যুদ্ধে
পরাক্রম – শক্তি / তেজ / ক্ষমতা
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার – মেঘনাদের যজ্ঞস্থল / পূজার ঘর
প্রগলভে – গর্বিত চিত্তে / দম্ভ করে
দন্তী – দাম্ভিক / অহংকারী
নরাধমে – নীচ মানুষকে / অধমকে
তব জন্মপুরে – তোমার জন্মনগরীতে / লঙ্কায়
পদার্পণ – পা রাখা / প্রবেশ করা
বনবাসী – বনে থাকে যে / বনচারী
বিধাতঃ – স্রষ্টা/ ঈশ্বর
নন্দন-কাননে – স্বর্গের বাগানে
দুরাচার দৈত্য – দুষ্ট রাক্ষস / পাপী দানব
প্রফুল্ল কমলে – ফুটে থাকা পদ্মে
কীটবাস – পোকার বাস
ভ্রাতৃ-পুত্র – ভাইয়ের ছেলে / ভাইপো
রক্ষোমণি – রাক্ষসদের রত্ন / শ্রেষ্ঠ রাক্ষস (বিভীষণ)
মহামন্ত্র-বলে – বড় মন্ত্রের জোরে
নম্রশিরঃ ফণী – মাথা নত করা সাপ
মলিনবদন – বিষণ্ণ মুখ / আপদুঃখিত চেহারা
লাজে – লজ্জায়
রথী – রথচালক / যোদ্ধা
রাবণ-অনুজ – রাবণের ছোট ভাই / বিভীষণ
লক্ষি – দেখে / লক্ষ্য করে
রাবণ-আত্মজে – রাবণের পুত্রকে / মেঘনাদকে
নহি দোষী – দোষী না
বৎস – বাছা / ছেলে / বৎস
ভর্ৎস – ভর্ৎসনা করা / বকা
কনক-লঙ্কা – সোনার লঙ্কা
বিরত – ক্ষান্ত / দূরে সরে
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী – পাপে ভরা লঙ্কানগরী
প্রলয়ে যেমতি বসুধা – প্রলয়ের সময় যেভাবে পৃথিবী
কালসলিলে – সময়ের পানিতে / মৃত্যুর জলে
পদাশ্রয়ে – পায়ের আশ্রয়ে / আশ্রয় নিয়ে
রক্ষার্থে – বাঁচার জন্য
আশ্রয়ী – আশ্রয় গ্রহণকারী
পরদোষে – অন্যের দোষে
রুষিলা – রেগে গেল / রাগান্বিত হলো
বাসবত্রাস – ইন্দ্রের কাছে ভয় / ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ)
গম্ভীরে – গম্ভীরভাবে
নিশীথে – গভীর রাতে
অম্বরে – আকাশে
মন্দ্রে – শব্দ করে / গর্জন করে
জীমুতেন্দ্র – মেঘরাজ / বড় মেঘ
কোপি – রেগে / ক্রুদ্ধ হয়ে
বীরেন্দ্র বলী – বীরশ্রেষ্ঠ শক্তিশালী (মেঘনাদ)
ধর্মপথগামী – ধর্মের পথে চলে যে
রাক্ষসরাজানুজ – রাক্ষস রাজার ছোট ভাই / বিভীষণ
জ্ঞাতিত্ব – জ্ঞাতি হওয়া সম্পর্ক / আত্মীয়তা
ভ্রাতৃত্ব – ভাইয়ের সম্পর্ক
জাতি – বংশ / কুল
জলাঞ্জলি – বিদায় জানানো / সম্পূর্ণ ত্যাগ
গুণবান্ – গুণী
পরজন – পরের লোক / অপরিচিতজন
গুণহীন স্বজন → গুণ না থাকলেও আত্মীয়
শ্রেয়ঃ – উত্তম / ভালো
পরঃ পরঃ সদা – পর লোক সর্বদা পরই থাকে
রক্ষোবর – রাক্ষসদের মধ্যে সেরা / বিভীষণ
সহবাসে – একসাথে থাকলে / সাহচর্যে
বর্বরতা – অসভ্যতা / নীচতা
নীচসহ – নীচের সাথ / নিচু লোকের সঙ্গ
নীচ সে দুর্মতি – সে নীচই, তার বুদ্ধিও নীচ
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি কার রচনা?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
প্রশ্ন ২: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি কোন কাব্যের অংশ?
উত্তর: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এর।
প্রশ্ন ৩: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর কততম সর্গ থেকে এটি সংকলিত?
উত্তর: ষষ্ঠ সর্গ (বধো) থেকে।
প্রশ্ন ৪: ‘অরিন্দম’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: মেঘনাদকে।
প্রশ্ন ৫: মেঘনাদ কী বুঝতে পেরেছিলেন?
উত্তর: কীভাবে লক্ষ্মণ রক্ষঃপুরে প্রবেশ করলেন।
প্রশ্ন ৬: মেঘনাদ বিভীষণকে কী প্রশ্ন করেছিলেন?
উত্তর: এ কাজ তাঁর উচিত হয়েছিল কি না।
প্রশ্ন ৭: নিকষা সতী কে?
উত্তর: রাবণের মা।
প্রশ্ন ৮: ‘রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’ কে?
উত্তর: রাবণ।
প্রশ্ন ৯: ‘কুম্ভকর্ণ’ কে ছিলেন?
উত্তর: রাবণের মধ্যম সহোদর।
প্রশ্ন ১০: ‘বাসববিজয়ী’ কে?
উত্তর: মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ)।
প্রশ্ন ১১: মেঘনাদ বিভীষণকে কী দেখানোর অভিযোগ করেন?
উত্তর: নিজ গৃহপথ চোরকে দেখানোর।
প্রশ্ন ১২: ‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: নীচ ব্যক্তিকে রাজার সিংহাসনে বসানো।
প্রশ্ন ১৩: মেঘনাদ কেন বিভীষণকে গঞ্জনা করেন না?
উত্তর: কারণ তিনি গুরুজন ও পিতৃতুল্য।
প্রশ্ন ১৪: মেঘনাদ কোথায় যেতে চান?
উত্তর: অস্ত্রাগারে।
প্রশ্ন ১৫: মেঘনাদ কাকে শমন-ভবনে পাঠাতে চান?
উত্তর: রামানুজ (লক্ষ্মণ)-কে।
প্রশ্ন ১৬: বিভীষণ নিজেকে কী বলেছেন?
উত্তর: রাঘবদাস (রামের দাস)।
প্রশ্ন ১৭: বিভীষণ কেন রামের বিপক্ষে কাজ করতে পারেন না?
উত্তর: কারণ তিনি রামের দাস।
প্রশ্ন ১৮: ‘রাবণি’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: মেঘনাদকে।
প্রশ্ন ১৯: মেঘনাদ বিভীষণের কথায় কী করতে ইচ্ছুক?
উত্তর: মরিতে ইচ্ছুক।
প্রশ্ন ২০: ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিধাতা চাঁদকে নিশ্চল আকাশে স্থাপন করেছেন।
প্রশ্ন ২১: ‘রাজহংস’ কোথায় কেলি করে?
উত্তর: স্বচ্ছ সরোবর ও পঙ্কজ-কাননে।
প্রশ্ন ২২: সিংহ কখনো কার সঙ্গে মিত্রভাবে কথা বলে?
উত্তর: শৃগালের সঙ্গে।
প্রশ্ন ২৩: মেঘনাদ লক্ষ্মণকে কী বলেছেন?
উত্তর: ক্ষুদ্রমতি নর ও শুর।
প্রশ্ন ২৪: লক্ষ্মণ কীভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হন বলে মেঘনাদ অভিযোগ করেন?
উত্তর: অস্ত্রহীন যোদ্ধার সঙ্গে।
প্রশ্ন ২৫: ‘মহারথী-প্রথা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শ্রেষ্ঠ বীরদের আচরণ।
প্রশ্ন ২৬: মেঘনাদ কাকে ডরাবেন না বলে দাবি করেন?
উত্তর: দুর্বল মানব লক্ষ্মণকে।
প্রশ্ন ২৭: ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার’ কী?
উত্তর: লঙ্কাপুরীতে মেঘনাদের যজ্ঞস্থান।
প্রশ্ন ২৮: ‘নীচসহ’ ব্যক্তি কীরকম হয়?
উত্তর: নীচ ও দুর্মতি।
প্রশ্ন ২৯: মেঘনাদ কাকে শাস্তি দিতে চান?
উত্তর: নরাধম (লক্ষ্মণ)-কে।
প্রশ্ন ৩০: ‘বনবাসী’ কার পদার্পণ করেছিল লঙ্কায়?
উত্তর: রামের।
প্রশ্ন ৩১: মেঘনাদ অপমান সহ্য করতে পারেন না কেন?
উত্তর: কারণ তিনি ভ্রাতৃ-পুত্র।
প্রশ্ন ৩২: বিভীষণ নিজেকে দোষী মনে করেন কেন?
উত্তর: তিনি নিজ কর্মদোষে লঙ্কা মজিয়াছেন।
প্রশ্ন ৩৩: বিভীষণ কেন রামের আশ্রয় নিয়েছেন?
উত্তর: রক্ষার্থে (বাঁচার জন্য)।
প্রশ্ন ৩৪: ‘বাসবত্রাস’ কে?
উত্তর: মেঘনাদ।
প্রশ্ন ৩৫: মেঘনাদ কোন্ শাস্ত্রীয় কথার উল্লেখ করেন?
উত্তর: গুণহীন স্বজন শ্রেয়, কারণ পরঃ পরঃ সদা।
প্রশ্ন ৩৬: ‘পরঃ পরঃ সদা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পর লোক সর্বদা পরই থাকে।
প্রশ্ন ৩৭: মেঘনাদ বিভীষণের সহবাসে কী আশঙ্কা করেন?
উত্তর: বর্বরতা শিখিবে।
প্রশ্ন ৩৮: বিভীষণ কে?
উত্তর: রাবণের কনিষ্ঠ সহোদর ও রামের ভক্ত।
প্রশ্ন ৩৯: ‘অরিন্দম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অরি বা শত্রুকে দমন করে যে।
প্রশ্ন ৪০: ‘পশিল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রবেশ করল।
প্রশ্ন ৪১: ‘রক্ষঃশ্রেষ্ঠ’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: রাবণকে।
প্রশ্ন ৪২: ‘তাত’ শব্দটি এখানে কার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: পিতৃব্য বা চাচা বিভীষণের জন্য।
প্রশ্ন ৪৩: ‘শূলীশম্ভুনিভ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শূলপাণি মহাদেবের মতো।
প্রশ্ন ৪৪: কুম্ভকর্ণ কে?
উত্তর: রাবণের মধ্যম সহোদর।
প্রশ্ন ৪৫: ‘বাসববিজয়ী’ কাকে বলা হয় এবং কেন?
উত্তর: মেঘনাদকে, কারণ তিনি ইন্দ্রকে জয় করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪৬: ‘তস্কর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চোর।
প্রশ্ন ৪৭: ‘গঞ্জি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তিরস্কার করা।
প্রশ্ন ৪৮: ‘রামানুজ’ কে?
উত্তর: রামের অনুজ লক্ষ্মণ।
প্রশ্ন ৪৯: ‘শমন-ভবনে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যমালয়ে।
প্রশ্ন ৫০: ‘ভঞ্জিব আহবে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যুদ্ধদ্বারা বিনষ্ট করব।
প্রশ্ন ৫১: ‘ধীমান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ধীসম্পন্ন বা জ্ঞানী।
প্রশ্ন ৫২: ‘রাঘব’ কে?
উত্তর: রামচন্দ্র।
প্রশ্ন ৫৩: ‘রাঘবদাস’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রামচন্দ্রের আজ্ঞাবহ।
প্রশ্ন ৫৪: ‘রাবণি’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: রাবণের পুত্র মেঘনাদকে।
প্রশ্ন ৫৫: ‘বিধু’ ও ‘স্থাণু’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিধু অর্থ চাঁদ ও স্থাণু অর্থ নিশ্চল।
প্রশ্ন ৫৬: ‘রক্ষোরথি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রক্ষকুলের বীর।
প্রশ্ন ৫৭: ‘রথী’ কে?
উত্তর: রথচালক বা যোদ্ধা।
প্রশ্ন ৫৮: ‘শৈবাল’ কী?
উত্তর: শেওলা।
প্রশ্ন ৫৯: ‘মৃগেন্দ্র কেশরী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কেশরযুক্ত পশুরাজ সিংহ।
প্রশ্ন ৬০: ‘মহারথী’ কাকে বলে?
উত্তর: মহাবীর বা শ্রেষ্ঠ বীর।
প্রশ্ন ৬১: ‘সৌমিত্রি’ কে?
উত্তর: সুমিত্রার পুত্র লক্ষ্মণ।
প্রশ্ন ৬২: ‘প্রগলভে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দাম্ভিক চিত্তে।
প্রশ্ন ৬৩: ‘নন্দন কানন’ কী?
উত্তর: স্বর্গের উদ্যান।
প্রশ্ন ৬৪: ‘মহামন্ত্র-বলে নম্রশিরঃ ফণী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মন্ত্রপূত সাপ যেমন মাথা নত করে।
প্রশ্ন ৬৫: ‘লক্ষি’ ও ‘ভর্ৎস’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: লক্ষি অর্থ লক্ষ করা ও ভর্ৎস অর্থ তিরস্কার করা।
প্রশ্ন ৬৬: ‘মজাইলা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিপদগ্রস্ত করা।
প্রশ্ন ৬৭: ‘বসুধা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পৃথিবী।
প্রশ্ন ৬৮: ‘বাসবত্রাস’ কে?
উত্তর: মেঘনাদ।
প্রশ্ন ৬৯: ‘জীমূতেন্দ্র’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মেঘের গর্জন।
প্রশ্ন ৭০: শাস্ত্রমতে গুণবান পরজন ও গুণহীন স্বজনের মধ্যে কে শ্রেয়?
উত্তর: নির্গুণ স্বজন শ্রেয়।
প্রশ্ন ৭১: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’-র কোন সর্গ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ষষ্ঠ সর্গ (বধো) থেকে।
প্রশ্ন ৭২: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটির ছন্দের নাম কী?
উত্তর: অমিত্রাক্ষর ছন্দ।
প্রশ্ন ৭৩: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি।
প্রশ্ন ৭৪: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
প্রশ্ন ৭৫: তাঁর পিতার নাম কী?
উত্তর: রাজনারায়ণ দত্ত।
প্রশ্ন ৭৬: তাঁর মাতার নাম কী?
উত্তর: জাহ্নবী দেবী।
প্রশ্ন ৭৭: তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা কোথায় সম্পন্ন হয়?
উত্তর: মায়ের তত্ত্বাবধানে গ্রামে।
প্রশ্ন ৭৮: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হন?
উত্তর: ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৭৯: তিনি কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৮০: খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি পিতৃপ্রদত্ত নামের শুরুতে কী শব্দ যোগ করেন?
উত্তর: ‘মাইকেল’ শব্দ।
প্রশ্ন ৮১: ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাকে কোথায় ভর্তি হতে হয়?
উত্তর: শিবপুরের বিশপস কলেজে।
প্রশ্ন ৮২: হিন্দু কলেজে ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাহিত্যচর্চার মাধ্যম কী ছিল?
উত্তর: ইংরেজি।
প্রশ্ন ৮৩: মধুসূদন বাংলা কবিতায় কোন ছন্দ প্রবর্তন করেন?
উত্তর: অমিত্রাক্ষর ছন্দ।
প্রশ্ন ৮৪: বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
প্রশ্ন ৮৫: ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: নাটক।
প্রশ্ন ৮৬: ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: প্রহসন।
প্রশ্ন ৮৭: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৮৮: ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ কার রচনা?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের।
প্রশ্ন ৮৯: ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৯০: ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ কার সংকলন?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের।
প্রশ্ন ৯১: বাংলা নাটকের উদ্ভবযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
প্রশ্ন ৯২: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন।
প্রশ্ন ৯৩: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: কলকাতায়।
প্রশ্ন ৯৪: আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ কাকে বলা হয়?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তকে।