Table of Contents
বন্দনা কবিতার সারমর্ম
মূলভাবঃ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি প্রথমে মা ও বাবার পায়ে প্রণাম করতে বলেছেন। তিনি বলেন, যার দয়া ও হাতে মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। মা পিঁপড়ার ভয়েও সন্তানকে মাটিতে রাখেননি, বুক ও কোল দিয়ে তাকে আগলে রেখেছেন। কবি নিজেকে অশক্ত ও দুর্বল ছেলে বলে জানিয়েছেন, যিনি মায়ের দয়া ও হাতে বড় হয়েছেন। বাবা নিজে না খেয়েও সন্তানকে খাওয়াতেন ও না পরে সাজিয়ে দিতেন, কত কষ্টে বছরগুলো অতিবাহিত করেছেন। কবি পিতার স্নেহে জীবিত থাকতে ও যৌবনে উপনীত হতে দেখা যায়। তিনি দ্বিতীয় জন্ম দেওয়ার কারণে শিক্ষককে পিতার মতোই সম্মান করেন এবং তাকে জ্ঞানদাতা পিতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কবি নগরবাসী, ইষ্টমিত্র ও সভাসদদের পদে প্রণাম জানিয়ে তাঁর ভক্তি প্রকাশ করেন। নিজেকে পাপের ভার বহনকারী হীন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এভাবে কবি মাতা-পিতা ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
বন্দনা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বন্দনা → প্রশংসা / স্তুতি / মহিমা গাওয়া
দ্বিতীয়ে → দ্বিতীয়ত / দ্বিতীয় কথা হল
প্রণাম → আদর / নমস্কার / সালাম
মাও → মা
বাপ → বাবা
পায়ে প্রণাম → পায়ের ধুলো নেওয়া / সম্মান জানানো
যান → যাঁর / যিনি
দয়া হস্তে → দয়া ও সাহায্যের হাতে
বসুধায় → পৃথিবীতে
থুইলা → রেখেছিলেন
পিপিড়া → পিঁপড়া
ভয়ে → ডরে / আশঙ্কায়
কোল দিয়া → কোলে করে
বুক দিয়া → বুকে জড়িয়ে
বিদিত → জানা / প্রসিদ্ধ
অশক্য → দুর্বল / অশক্ত / যার ক্ষমতা নেই
আছিলু → ছিলাম
মুই → আমি
ছাবাল → ছেলে / সন্তান
তান → তাঁর
ধড় → শরীর / দেহ
বিশাল → বড় / প্রকাণ্ড
না খাই খাওয়ায় → নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান
না পরি পরায় → নিজে না পরে সন্তানকে পরান
দুক্ষে → কষ্টে / দুঃখে
গোঞায় → কাটান / অতিবাহিত করেন
পিতাক → পিতাকে
নেহায় → স্নেহে / ভালোবেসে
জিউ → জীবিত থাকা / বেঁচে থাকা
কনে → কখনও
সুধিব → জিজ্ঞাসা করবে / জানতে চাইবে
ধারক → ধারের / ঋণের
কাহন → টাকা / মূল্য
ওস্তাদে → শিক্ষককে / গুরুজনকে
প্রণাম করোঁ → প্রণাম করি
বাড় → বেশি / অধিক
দোসর-জনম → দ্বিতীয় জন্ম
দিলা → দিয়েছে
তিহ → তিনিও
সে → সেই
আহ্মা / আহ্মার → আমাকে / আমার
পুরবাসী → নগরবাসী / শহরের মানুষ
জথ → যেখানে / যাঁরাই
পৌরজন → নগরের লোক / শহরবাসী
ইষ্ট → প্রিয় / পছন্দের
মিত্র → বন্ধু
আদি → প্রভৃতি / ইত্যাদি
সভাসদগণ → সভার সদস্য / দরবারের লোকজন
তান সভান পদে → তাঁদের সবার পদে / সকলের চরণে
মোহার → আমার
বহুল ভকতি → অনেক ভক্তি / গভীর শ্রদ্ধা
সপুটে → করজোড়ে / হাত জোড় করে
মনোরথ → ইচ্ছা / অভিলাষ / মানসিক কামনা
গতি → পথ / সিদ্ধি / পাওয়া
মুহম্মদ সগীর → কবির নাম
হীন → দীন / ছোট / নম্র
বহোঁ → বহন করি / বই
পাপ ভার → পাপের বোঝা
সভানক → সবার
দোয়া → প্রার্থনা / আশীর্বাদ
মাগোঁ → চাই / প্রার্থনা করি
বার বার → বারংবার / বারবার
গুরুজন → বড় মানুষ / শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি
জ্ঞানদাতা → জ্ঞান দেয় যে / শিক্ষক
পাথেয় → পথের খোরাক / উপায়
অশেষ → অসীম / শেষ নেই এমন
অফুরন্ত → ফুরায় না এমন / অনেক
মনুষ্যত্ব → মানবতা / মানুষ হওয়ার গুণ
কৃতজ্ঞতা → উপকার মনে রাখা / ধন্যবাদ জানানো
বন্দনা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘বন্দনা’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর।
প্রশ্ন ২: দ্বিতীয়ে কাকে প্রণাম করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: মা ও বাবাকে।
প্রশ্ন ৩: যাদের দয়া হাতে পৃথিবীতে জন্ম হয়, তারা কে?
উত্তর: মা-বাবা।
প্রশ্ন ৪: মা কীসের ভয়ে সন্তানকে মাটিতে রাখেননি?
উত্তর: পিঁপড়ার ভয়ে।
প্রশ্ন ৫: মা কী দিয়ে সন্তানকে জগতে বিদিত করেছেন?
উত্তর: কোল ও বুক দিয়ে।
প্রশ্ন ৬: ‘বন্দনা’ কবিতায় জন্মকালে কবি কেমন ছিলেন?
উত্তর: অশক্ত ও দুর্বল ছেলে।
প্রশ্ন ৭: কার দয়া হস্তে কবির ধড় বিশাল হয়েছে?
উত্তর: মায়ের দয়া হস্তে।
প্রশ্ন ৮: পিতা কীভাবে সন্তানকে খাওয়াতেন?
উত্তর: না খেয়ে খাওয়াতেন।
প্রশ্ন ৯: পিতা কীভাবে সন্তানকে পরাতেন?
উত্তর: না পরে পরাতেন।
প্রশ্ন ১০: মা ও বাবাকে কোথায় প্রণাম করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: পায়ে।
প্রশ্ন ১১: কার স্নেহে কবি জীবিত ও যৌবন পেয়েছেন?
উত্তর: পিতার স্নেহে।
প্রশ্ন ১২: ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’ – কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পিতার ঋণ কখনো শোধ করা যাবে না।
প্রশ্ন ১৩: ওস্তাদকে কিসের মতো প্রণাম করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: পিতার হাতের মতো (পিতার সমান)।
প্রশ্ন ১৪: ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষক কবিকে কী দিয়েছেন?
উত্তর: দোসর-জনম (দ্বিতীয় জন্ম)।
প্রশ্ন ১৫: ‘আহ্মা পুরবাসী আছ জথ পৌরজন’ – কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নগরবাসী ও পৌরজনদের।
প্রশ্ন ১৬: ‘ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ’ – কারা?
উত্তর: প্রিয় বন্ধু ও সভাসদগণ।
প্রশ্ন ১৭: কবি সবার পদে কী প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: বহুল ভক্তি।
প্রশ্ন ১৮: কবি কীরূপে প্রণাম জানিয়েছেন?
উত্তর: সপুটে (করজোড়ে)।
প্রশ্ন ১৯: ‘মনোরথ গতি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ইচ্ছা পূর্ণ হওয়া।
প্রশ্ন ২০: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি নিজেকে কী বলেছেন?
উত্তর: হীন পাপের ভার বহনকারী।
প্রশ্ন ২১: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সবার কাছে কী চায় বার বার?
উত্তর: দোয়া (প্রার্থনা)।
প্রশ্ন ২২: ‘বন্দনা’ কবিতায় দ্বিতীয় জন্মদাতা কে?
উত্তর: শিক্ষক (ওস্তাদ)।
প্রশ্ন ২৩: ‘বসুধায়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পৃথিবীতে।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৪: শিক্ষক কী করে মানুষকে গড়ে তোলেন?
উত্তর: জ্ঞানদান করে।
প্রশ্ন ২৫: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি তাঁর মূল কাব্যের প্রথমে কার প্রশংসা করেছেন?
উত্তর: সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর।
প্রশ্ন ২৬: ‘পুরবাসী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নগরবাসী।
প্রশ্ন ২৭: ‘বন্দনা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: স্তুতি বা প্রশংসা।
প্রশ্ন ২৮: ‘করোঁ’ ও ‘যান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: করোঁ অর্থ করি এবং যান অর্থ যার।
প্রশ্ন ২৯: ‘হস্তে’ ও ‘থুইলা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হস্তে অর্থ হতে বা থেকে এবং থুইলা অর্থ রাখল।
প্রশ্ন ৩০: ‘অশক্য’ ও ‘আছিলু’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অশক্য অর্থ অশক্ত বা দুর্বল এবং আছিলু অর্থ ছিলাম।
প্রশ্ন ৩১: ‘মুই’ ও ‘ছাবাল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুই অর্থ আমি এবং ছাবাল অর্থ ছেলে বা সন্তান।
প্রশ্ন ৩২: ‘গোঙাও’ ও ‘পিতাক’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গোঙাও অর্থ অতিবাহিত করা এবং পিতাক অর্থ পিতাকে।
প্রশ্ন ৩৩: ‘নেহায়’ ও ‘বিদিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নেহায় অর্থ স্নেহে এবং বিদিত অর্থ জানা।
প্রশ্ন ৩৪: ‘জিউ’ ও ‘কনে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: জিউ অর্থ জীবিত থাকা এবং কনে অর্থ কখনও।
প্রশ্ন ৩৫: ‘ধারক’ ও ‘কাহন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ধারক অর্থ ঋণের এবং কাহন অর্থ টাকা।
প্রশ্ন ৩৬: ‘বাড়’ ও ‘দোসর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বাড় অর্থ বেশি এবং দোসর অর্থ দ্বিতীয়।
প্রশ্ন ৩৭: ‘সপুটে’ ও ‘সভান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সপুটে অর্থ করজোড়ে এবং সভান অর্থ সবার।
প্রশ্ন ৩৮: ‘বসুধায়’ ও ‘তিহ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বসুধায় অর্থ পৃথিবীতে এবং তিহ অর্থ তিনিও।
প্রশ্ন ৩৯: ‘পিপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’ – এ টীকায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মায়ের স্নেহ-মমতা ও কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের পাথেয়।
প্রশ্ন ৪০: ‘অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল’ – পঙ্ক্তিটি দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: মানব শিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থা।
প্রশ্ন ৪১: ‘বন্দনা’ কবিতাংশটি কোন কাব্য থেকে গৃহীত?
উত্তর: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের বন্দনা পর্ব থেকে।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪২: শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি?
উত্তর: আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের।
প্রশ্ন ৪৩: মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম কে?
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর
প্রশ্ন ৪৪: তিনি কোন সুলতানের রাজত্বকালে ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেন?
উত্তর: গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৯৩-১৪০৯)।
প্রশ্ন ৪৫: ইউসুফ জোলেখা কাব্য কখন রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়?
উত্তর: পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে।
প্রশ্ন ৪৬: ‘মহামতি গ্যেছ’ বলে কাব্যে কাকে উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে।
প্রশ্ন ৪৭: শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে কোন অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়?
উত্তর: চট্টগ্রাম অঞ্চলের।
প্রশ্ন ৪৮: কে তাঁকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন?
উত্তর: মুহাম্মদ এনামুল হক।
প্রশ্ন ৪৯: শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর কাব্যে কী বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: দেশি ভাষায় ধর্মীয় উপাখ্যান।
প্রশ্ন ৫০: কাব্যে ধর্মীয় পটভূমি থাকলেও তা কী হয়ে উঠেছে?
উত্তর: মানবিক প্রেমোপাখ্যান।
প্রশ্ন ৫০: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কী ধরনের কাব্য?
উত্তর: প্রেমোপাখ্যান ভিত্তিক কাব্য।
প্রশ্ন ৫১: গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ কত খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন?
উত্তর: ১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
প্রশ্ন ৫২: শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যের ‘রাজবন্দনা’ অংশে কী আছে?
উত্তর: সুলতানের প্রশংসা।
প্রশ্ন ৫৩: ‘গ্যেছ’ শব্দটি কাকে নির্দেশ করে?
উত্তর: গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে।
প্রশ্ন ৫৪: শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যের ভাষা কেমন ছিল?
উত্তর: দেশি ভাষায়।
প্রশ্ন ৫৫: ধর্মীয় উপাখ্যান বর্ণনা করলেও কাব্যের মূল সুর কী হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: মানবিক প্রেম।
প্রশ্ন ৫৬: পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে রচিত কাব্যটির নাম কী?
উত্তর: ইউসুফ জোলেখা।
প্রশ্ন ৫৭: চট্টগ্রাম অঞ্চলের শব্দ ব্যবহারের ভিত্তিতে শাহ মুহম্মদ সগীরকে কী বিবেচনা করা হয়?
উত্তর: চট্টগ্রামের অধিবাসী।
প্রশ্ন ৫৮: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য কোন শতাব্দীতে রচিত হয় বলে অনুমিত?
উত্তর: পঞ্চদশ শতাব্দীতে।