কপোতাক্ষ নদ কবিতা: মূল বিষয়, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূল বিষয়

মূলভাবঃ ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি তাঁর শৈশবের নদী কপোতাক্ষকে স্মরণ করেছেন এবং বলেন, এই নদী সর্বদা তাঁর মনে পড়ে। একান্ত নিভৃত পরিবেশে তিনি নদীর কথাই ভাবেন। মানুষের যেমন রাতের ঘুমের মধ্যে মন্ত্রধ্বনি শোনার ভ্রম হয়, তেমনি তিনি কপোতাক্ষের কলকল শব্দ শুনতে পান। দেশ-বিদেশের বহু নদী তিনি দেখেছেন, কিন্তু কোনো নদীর জলই তাঁর স্নেহের তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। কপোতাক্ষ নদ তাঁর কাছে মায়ের বুকের দুধের স্রোতের মতো, এই নদীই তাঁকে জন্মভূমির মায়ের মতো স্নেহ দিয়েছে। কবি প্রশ্ন করেন, আর কি এই নদীর দেখা পাবেন? তিনি নদীর কাছে মিনতি জানান, প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, তেমনি তুমি সাগরকে জলরূপ কর দিচ্ছো। তিনি চান, কপোতাক্ষ নদের নাম বঙ্গের মানুষ যেন সখা-সখীর মতো প্রেমের সঙ্গে গায় এবং বঙ্গের সংগীতে যেন এই নদের নাম চিরদিন বেঁচে থাকে। বিদেশে বসেও কবি জন্মভূমির নদী ও মাটিকে ভোলেন না। স্মৃতিকাতরতার মধ্যদিয়ে কবির দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা এ কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

কপোতাক্ষ নদ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

সতত → সর্বদা / সব সময়

বিরলে → একান্ত নিরিবিলিতে / নিভৃতে / একা জায়গায়

যেমতি → যেমন

নিশা → রাত

মায়া-মন্ত্রধ্বনি → জাদুর শব্দ/ভ্রমের মন্ত্রের শব্দ / বিভ্রমের আওয়াজ

তব কলকলে → তোমার কলকল শব্দে

জুড়াই → সান্ত্বনা পাই / প্রশান্তি পাই

ভ্রান্তির ছলনে → ভ্রমের ছলে / বিভ্রমের কৌশলে

বহু দেশে → অনেক দেশে

বহু নদ-দলে → অনেক নদের দলে

স্নেহের তৃষ্ণা → স্নেহের পিপাসা / ভালোবাসার তৃষ্ণা

মিটে কার জলে → কোন জলে মেটে

দুগ্ধ-স্রোতোরূপী → দুধের স্রোতের মতো

জন্মভূমি-স্তনে → জন্মভূমির বুকে / মাতৃভূমির মায়ের বুকের মতো

আর কি হে হবে দেখা → আর কি তোমার দেখা পাব

প্রজারূপে → প্রজার মতো করে

রাজরূপ সাগরেরে → যে সাগর রাজার মতো, সেই সাগরকে

বারি-রূপ কর → জলরূপী কর / পানি হিসেবে রাজস্ব দেওয়া

মিনতি → অনুরোধ / নিবেদন / আবদার

গাবে বঙ্গজ জনের কানে → গাইবে বাঙালি মানুষের কানে / বঙ্গবাসী যেন গায়

সখে, সখা-রীতে → বন্ধুর মতো প্রেমের সঙ্গে

প্রবাসে → বিদেশে / নিজ দেশ ছাড়া জায়গায়

মজি প্রেম-ভাবে → প্রেমের ভাবে মগ্ন হয়ে / ভালোবাসায় ডুবে

লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে → তোমার নাম বঙ্গের সংগীতে ধারণ করেছে

অত্যুজ্জ্বল → খুব উজ্জ্বল / জ্বলজ্বলে

স্মৃতিকাতরতা → মনে পড়ার কষ্ট / স্মৃতির আবেগ

বিধুর স্মৃতি → কষ্টের স্মৃতি / বেদনাময় স্মৃতি

কাতরতা → অভিমান / ব্যাকুলতা / মিনতি

স্নেহডোরে → স্নেহের দড়িতে / ভালোবাসার বাঁধনে

সবিনয় মিনতি → নম্র অনুরোধ / বিনয়ের সঙ্গে আবদার

স্নেহাদরে → স্নেহ ও আদর দিয়ে

সস্নেহে → স্নেহসহকারে

অকুণ্ঠ প্রেম → সম্পূর্ণ ভালোবাসা / বিনা সংকোচে ভালোবাসা

সহজাত প্রবৃত্তি → জন্মগত স্বভাব / ভিতর থেকে আসা টান

কপোতাক্ষ নদ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন ২: কবি কোন নদীর কথা স্মরণ করেছেন?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের কথা।

প্রশ্ন ৩: কবি কাকে ‘হে নদ’ বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদকে।

প্রশ্ন ৪: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: দেশপ্রেম ও জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা।

প্রশ্ন ৫: কবি কপোতাক্ষ নদের কথা কোথায় ভাবেন?
উত্তর: বিরলে (একান্ত নিভৃতে)।

প্রশ্ন ৬: ‘নিশা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রাত্রি।

প্রশ্ন ৭: লোক নিশার স্বপ্ননে কী শোনে?
উত্তর: মায়া-মন্ত্রধ্বনি।

প্রশ্ন ৮: কবি নদের ‘কলকলে’ কী জুড়ান?
উত্তর: কান।

প্রশ্ন ৯: কবি কিসের ছলনে নদের কলকল শোনেন?
উত্তর: ভ্রান্তির ছলনে।

প্রশ্ন ১০: কবি কোথায় বহু নদ দেখেছেন?
উত্তর: বহু দেশে।

প্রশ্ন ১১: কবির মতে স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের জলেই মেটে।

প্রশ্ন ১২: কবি কপোতাক্ষ নদকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: দুগ্ধ-স্রোতোরূপী।

প্রশ্ন ১৩: ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মায়ের বুকের দুধের স্রোতের মতো।

প্রশ্ন ১৪: কপোতাক্ষ নদ কার স্তনের মতো?
উত্তর: জন্মভূমি-স্তনের।

প্রশ্ন ১৫: কবি নদীকে কী করতে বলেছেন?
উত্তর: প্রজারূপে রাজারূপ সাগরকে বারি-রূপ কর দিতে।

প্রশ্ন ১৬:‘প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে বারি-রূপ কর’ – এখানে ‘বারি’ কী?
উত্তর: জল/পানি।

প্রশ্ন ১৭: প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, তেমনি নদী সাগরকে কী দেয়?
উত্তর: বারি-রূপ কর।

প্রশ্ন ১৮: কবি কার কাছে মিনতি জানিয়েছেন?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের কাছে।

প্রশ্ন ১৯: ‘বঙ্গজ জন’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বঙ্গের মানুষ / বাঙালি।

প্রশ্ন ২০: কবি চান বাঙালিরা নদের নাম কীভাবে গাইবে?
উত্তর: সখে, সখা-রীতে (বন্ধুর মতো প্রেমের সঙ্গে)।

প্রশ্ন ২১: কবি প্রবাসে’ কোথায় অবস্থান করছেন?
উত্তর: বিদেশে (ফ্রান্সে)।

প্রশ্ন ২২: বঙ্গের সংগীতে কোন নামটি লইছে?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের নাম।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২৩: ‘বারি-রূপকর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, তেমনি কপোতাক্ষ নদ সাগরকে জলরূপ কর দিচ্ছে।

প্রশ্ন ২৪: ‘বিরলে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: একান্ত নিরিবিলিতে।

প্রশ্ন ২৫: ‘নিশা’ ও ‘ভ্রান্তি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নিশা অর্থ রাত্রি ও ভ্রান্তি অর্থ ভুল।

প্রশ্ন ২৬: চতুর্দশপদী কবিতার ইংরেজি নাম কী?
উত্তর: সনেট (Sonnet)।

প্রশ্ন ২৭: চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবকটিকে কী বলে?
উত্তর: অষ্টক (Octave)।

প্রশ্ন ২৮: চতুর্দশপদী কবিতার শেষ ছয় চরণের স্তবকটিকে কী বলে?
উত্তর: ষটক (Sestet)।

প্রশ্ন ২৯: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মিলবিন্যাস কী?
উত্তর: কখকখ কখখক গঘগ ঘগঘ।

প্রশ্ন ৩০: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কবির কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
উত্তর: চতুর্দশপদী কবিতাবলী থেকে।

প্রশ্ন ৩১: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কী প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: স্মৃতিকাতরতার আবরণে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম।

প্রশ্ন ৩২: কবি কপোতাক্ষ নদের তীরে কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: সাগরদাঁড়ি গ্রামে।

প্রশ্ন ৩৩: শৈশবে কবি কোন নদের তীরে বড় হয়েছেন?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের তীরে।

প্রশ্ন ৩৪: কবি কোন দেশে বসবাস করছিলেন তখন জন্মভূমির স্মৃতি জাগে?
উত্তর: ফ্রান্সে।

প্রশ্ন ৩৫: দূরে বসেও কবি যেন কী শুনতে পান?
উত্তর: কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি।

প্রশ্ন ৩৬: জন্মভূমির নদ কবিকে কী দিয়ে বেঁধেছে?
উত্তর: মায়ের স্নেহডোরে।

প্রশ্ন ৩৭: কবির মনে কী সন্দেহ জাগে?
উত্তর: আর কি তিনি এই নদের দেখা পাবেন।

প্রশ্ন ৩৮: কবি কপোতাক্ষ নদের কাছে কী জানিয়েছেন?
উত্তর: সবিনয় মিনতি।

প্রশ্ন ৩৯: কপোতাক্ষ নদ কীভাবে কবিকে স্মরণ করে বলে কবি কল্পনা করেন?
উত্তর: একই প্রেমভাবে সস্নেহে।

প্রশ্ন ৪০: কপোতাক্ষ নদ কী ব্যক্ত করে?
উত্তর: স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীদের নিকট।

প্রশ্ন ৪১: দেশমাতৃকার প্রতি অকুণ্ঠ প্রেম মানুষের কী?
উত্তর: সহজাত প্রবৃত্তি।

প্রশ্ন ৪২: ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন ধরনের কবিতা?
উত্তর: চতুর্দশপদী কবিতা (সনেট)।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৪৩: মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি।

প্রশ্ন ৪৪: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে।

প্রশ্ন ৪৫: স্কুলজীবনের শেষে তিনি কোন কলেজে ভর্তি হন?
উত্তর: কলকাতার হিন্দু কলেজে।

প্রশ্ন ৪৬: হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে কোন সাহিত্যের প্রতি তার তীব্র অনুরাগ জন্মে?
উত্তর: ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি।

প্রশ্ন ৪৭: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
উত্তর: ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৪৮: খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নামের প্রথমে কী শব্দ যোগ হয়?
উত্তর: ‘মাইকেল’।

প্রশ্ন ৪৯: হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে কোন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ জন্মে?
উত্তর: ইংরেজি সাহিত্যে।

প্রশ্ন ৫০: কোন ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে?
উত্তর: বাংলা ভাষায়।

প্রশ্ন ৫১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কোন কাব্য?
উত্তর: ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’।

প্রশ্ন ৫২: ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ কার রচনা?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের।

প্রশ্ন ৫৩: ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৫৪: ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ কার রচনা?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের।

প্রশ্ন ৫৫: ‘শর্মিষ্ঠা’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: নাটক।

প্রশ্ন ৫৬: ‘পদ্মাবতী’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: নাটক।

প্রশ্ন ৫৭: ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: প্রহসন।

প্রশ্ন ৫৮: বাংলা কাব্যে তিনি কী প্রবর্তন করেন?
উত্তর: অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট।

প্রশ্ন ৫৯: ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ কোন কবি বাংলা কাব্যে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন ৬০: বাংলা কাব্যে সনেটের প্রবর্তক কে?
উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

প্রশ্ন ৬১: পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাকে কী করতে উদ্বুদ্ধ করে?
উত্তর: ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনা।

প্রশ্ন ৬২: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন।

Leave a Comment