প্রাণ কবিতা: সারমর্ম, গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রাণ কবিতার সারমর্ম

মূলভাবঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি বলেন, তিনি এই সুন্দর পৃথিবীতে মরতে চান না, বরং মানুষের মাঝে বাঁচতে চান। সূর্যের আলো আর ফুলে ভরা এই বাগানে তিনি জীবন্ত হৃদয়ের মাঝে স্থান পেতে চান। পৃথিবীতে প্রাণের খেলা চিরকাল তরঙ্গিত; মানুষের জীবনে বিরহ-মিলন, হাসি-অশ্রু সবকিছুই আছে। কবি চান, মানুষের সুখ-দুঃখকে সংগীতে গেঁথে তিনি অমর সৃষ্টি রচনা করতে পারলে ভালো হয়। যদি তা না পারেন, তবু তিনি মানুষের মাঝে থাকতে চান এবং চান মানুষ যেন তাঁর তৈরি নব নব সংগীতের কুসুম হাসিমুখে তুলে নেয়। যদি ফুল শুকিয়ে যায়, মানুষ যেন তাকে ফেলে দিতে পারে। এতে তার কোনো আপত্তি নেই। কবির মূল আকাঙ্ক্ষা হলো মানুষের মাঝে বেঁচে থাকা, তাদের সুখ-দুঃখের গান গাওয়া এবং মানুষের মন জয় করাই সৃষ্টিকে অমর করে তোলে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রাণ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

ভুবনে → পৃথিবীতে

মানবের মাঝে → মানুষের মধ্যে

বাঁচিবারে চাই → বাঁচতে চাই / থাকতে চাই

সূর্যকরে → সূর্যের কিরণে / রোদে

পুষ্পিত কাননে → ফুলে ভরা বাগানে

জীবন্ত হৃদয় মাঝে → জীবন্ত প্রাণের মধ্যে / সজীব মানুষের হৃদয়ে

স্থান পাই → জায়গা পাই

ধরায় → পৃথিবীতে

চিরতরঙ্গিত → সবসময় তরঙ্গায়িত / সর্বদা কল্লোলিত / সদা উচ্ছল

বিরহ → বিচ্ছেদ / দূরে থাকা / না দেখা

মিলন → দেখা / মিলিত হওয়া

অশ্রুময় → অশ্রুতে ভরা / কান্নায় পূর্ণ

গাঁথিয়া সংগীত → গান বেঁধে / গানের সাথে জুড়ে দিয়ে

অমর আলয় → অমর ঘর / চিরস্থায়ী সৃষ্টির জায়গা

বাঁচি যত কাল → বাঁচি যতদিন / যতদিন বেঁচে থাকি

লভি ঠাঁই → জায়গা পাই / স্থান লাভ করি

সকাল বিকাল → সকাল আর বিকেল / দিনরাত

নব নব → নতুন নতুন / একের পর এক নতুন

সঙ্গীতের কুসুম → গানের ফুল / সৃষ্টির ফুল

ফুটাই → ফুটিয়ে তুলি / তৈরি করি

হাসি মুখে নিও → হাসিমুখে নাও / আনন্দের সাথে গ্রহণ করো

ফেলে দিয়ো → ফেলে দিও / ছেড়ে দিও

শুকায় → শুকিয়ে যায় / মলিন হয়ে যায়

আকর্ষণীয় → আকর্ষণ করে এমন / টানে যায়

পরিপূর্ণ → সম্পূর্ণ ভরা / একেবারে পূর্ণ

মায়া → টান / আসক্তি / মোহ

প্রলুব্ধ → প্রলোভিত / বুঝে না

অভিলাষ → ইচ্ছা / বাসনা

আদৃত → মান্যপ্রাপ্ত / সম্মানিত

নরনারীর → পুরুষ ও নারীর

সৎ ও শুভকর্ম → ভালো ও মঙ্গলের কাজ

দীর্ঘদিন → অনেক দিন / বেশ কিছুদিন

দৃঢ় সংকল্প → পাকা মনোবল / শক্ত সিদ্ধান্ত

প্রত্যয় → বিশ্বাস / আস্থা

নেতিবাচকতা → খারাপ দিক / মন্দ ভাব

পদচিহ্ন → পায়ের চিহ্ন / অনুসরণীয় পথ

জীবনপাঠ → জীবনের শিক্ষা

দীক্ষা → শিক্ষা / মূলমন্ত্র

উচ্চকিত → জোরালোভাবে বলা হয়েছে / ফুটে উঠেছে

প্রাণ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘প্রাণ’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ২: কবি কোথায় মরতে চান না?
উত্তর: সুন্দর ভুবনে (পৃথিবীতে)।

প্রশ্ন ৩: তিনি কোথায় বাঁচতে চান?
উত্তর: মানবের মাঝে।

প্রশ্ন ৪: ‘সূর্যকরে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সূর্যের কিরণে।

প্রশ্ন ৫: ‘পুষ্পিত কাননে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ফুলে ভরা বাগানে।

প্রশ্ন ৬: ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি কোথায় স্থান পেতে চান?
উত্তর: জীবন্ত হৃদয়ের মাঝে।

প্রশ্ন ৭: ‘ধরায়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পৃথিবীতে।

প্রশ্ন ৮: পৃথিবীর প্রাণের খেলা কী ধরনের?
উত্তর: চিরতরঙ্গিত (সর্বদা কল্লোলিত)।

প্রশ্ন ৯:  ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি কী রচনা করতে চান?
উত্তর: অমর আলয় (অমর সৃষ্টি)।

প্রশ্ন ১০: অমর আলয় কীসে গেঁথে রচনা করতে চান?
উত্তর: মানবের সুখ-দুঃখে গেঁথে।

প্রশ্ন ১১: অমর সৃষ্টি রচনা করতে না পারলে তিনি কী করতে চান?
উত্তর: মানুষের মাঝখানে ঠাঁই লাভ করতে চান।

প্রশ্ন ১২: ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি কাদের মাঝখানে ঠাঁই চান?
উত্তর: তোমাদেরি (মানুষের) মাঝখানে।

প্রশ্ন ১৩: ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি কিসের কুসুম ফুটাতে চান?
উত্তর: নব নব সংগীতের কুসুম।

প্রশ্ন ১৪: তিনি কখন সংগীতের কুসুম ফুটান?
উত্তর: সকাল-বিকাল।

প্রশ্ন ১৫: কারা সেই ফুল তুলবে বলে কবি আশা করেন?
উত্তর: তোমরা (মানুষ)।

প্রশ্ন ১৬: ‘প্রাণ’ কবিতায় কবি ফুল কিভাবে দিতে চান?
উত্তর: হাসি মুখে।

প্রশ্ন ১৭: ফুল শুকিয়ে গেলে মানুষ কী করবে?
উত্তর: ফেলে দেবে।

প্রশ্ন ১৮: কবি মানুষের সুখ-দুঃখকে কীভাবে প্রকাশ করতে চান?
উত্তর: সংগীতের মাধ্যমে অমর সৃষ্টি রচনা করে।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১৯: ‘সূর্য করে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সূর্যের কিরণে।

প্রশ্ন ২০: ‘চিরতরঙ্গিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সর্বদা কল্লোলিত, বহমান।

প্রশ্ন ২১: ‘লভি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: লাভ করি।

প্রশ্ন ২২: ‘জীবন্ত হৃদয় মাঝে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

প্রশ্ন ২৩: ‘অমর আলয়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অমর সৃষ্টি।

প্রশ্ন ২৪: ‘নব নব সঙ্গীতের কুসুম ফুটাই’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত রূপ-রস-গন্ধ ফুটিয়ে তোলা।

প্রশ্ন ২৫: ‘প্রাণ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।

প্রশ্ন ২৬: কবি কীভাবে সবার কাছে আদৃত হতে চান?
উত্তর: মানুষের মনজয়ী রচনা সৃজনের মাধ্যমে।

প্রশ্ন ২৭: কবির সৃষ্টি কখন অমর হবে?
উত্তর: যখন পৃথিবীর নরনারীর সুখ-দুঃখ-বিরহ তাঁর সৃষ্টিতে ঠাঁই পায়।

প্রশ্ন ২৮: ‘প্রাণ’ কবিতায় কবির রচনা কখন অনাদৃত হবে?
উত্তর: শুকনো ফুলের মতো হলে।

প্রশ্ন ২৯: জগতে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য কী প্রয়োজন?
উত্তর: দৃঢ় সংকল্প ও সৎ ও শুভকর্ম।

প্রশ্ন ৩০: ‘প্রাণ’ কবিতাটিতে কী প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর: সৎ ও শুভকর্ম করে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রত্যয়।

প্রশ্ন ৩১: ‘জীবনপাঠের দীক্ষা’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: নেতিবাচকতা পরিহার করে মহামানবের পদচিহ্ন অনুসরণের শিক্ষা।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কত তারিখে?
উত্তর: ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ (৭ই মে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ)।

প্রশ্ন ৩৩: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে।

প্রশ্ন ৩৪: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী?
উত্তর: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ৩৫: তাঁর পিতামহের নাম কী?
উত্তর: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ৩৬: বাল্যকালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কীসের উন্মেষ ঘটে?
উত্তর: কবিপ্রতিভার।

প্রশ্ন ৩৭: মাত্র কত বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়?
উত্তর: পনেরো বছর বয়সে।

প্রশ্ন ৩৮: তিনি কত খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর: ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৩৯: কোন গ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর: ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings) সংকলনের জন্য।

প্রশ্ন ৪০: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম কী অর্জন করেন?
উত্তর: নোবেল পুরস্কার।

প্রশ্ন ৪১: তাঁর সাধনায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: বিশ্বদরবারে গৌরবের আসনে।

প্রশ্ন ৪২: ‘সোনার তরী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৪৩: ‘ক্ষণিকা’ ও ‘বলাকা’ কার রচনা?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

প্রশ্ন ৪৪: ‘চোখের বালি’ কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: উপন্যাস।

প্রশ্ন ৪৫: ‘গোরা’ ও ‘ঘরে বাইরে’ কার লেখা?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

প্রশ্ন ৪৬: ‘যোগাযোগ’ ও ‘শেষের কবিতা’ কী ধরণের গ্রন্থ?
উত্তর: উপন্যাস।

প্রশ্ন ৪৭: ‘বিসর্জন’ ও ‘ডাকঘর’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: নাটক।

প্রশ্ন ৪৮: ‘রক্তকরবী’ কার নাটক?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

প্রশ্ন ৪৯: ‘গল্পগুচ্ছ’ কী ধরণের গ্রন্থ?
উত্তর: ছোটোগল্প সংকলন।

প্রশ্ন ৫০: ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: প্রবন্ধগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৫১: রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু কত বঙ্গাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ (৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ)।

প্রশ্ন ৫২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোথায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
উত্তর: কলকাতায়।

প্রশ্ন ৫৩: রবীন্দ্রনাথকে কী উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
উত্তর: বিশ্বকবি।

Leave a Comment