Table of Contents
প্রার্থনা কবিতার মূল বক্তব্য
মূলভাবঃ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানেন না কীভাবে ভক্তি বা স্তুতি করতে হয়, তাই তিনি স্রষ্টার দুয়ারে সম্পূর্ণ শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে কেবল চোখের জল নিবেদন করেন। দারিদ্র্য, বিপদ বা সুখ সব অবস্থায়ই তিনি স্রষ্টাকে স্মরণ করেন। তাঁর বিশ্বাস, জীবন ও মরণ, শয়ন ও স্বপ্ন সব সময় স্রষ্টাই তাঁর একমাত্র পথের সম্বল। পাখিরা স্রষ্টার গুণগানে আত্মহারা, গাছপালা তাঁর অনুগ্রহেই ফুল ও ফলে ভরে ওঠে। বসন্তের বাতাস যেন স্রষ্টার নিঃশ্বাস, আর স্রষ্টার নামেই নিহিত আছে অশেষ মঙ্গল। গভীর বিষাদে তাঁকে স্মরণ করলে শোকের আগুন নিভে যায়। কবি মনে করেন, স্রষ্টার দয়া ছাড়া মানুষ এক মুহূর্তও চলতে পারে না। তাই তিনি বারবার স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানান, যেন তাঁর হৃদয় ও দেহে বল ও শক্তি সঞ্চারিত হয়।
প্রার্থনা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
প্রার্থনা → আবেদন / মুনাজাত / চাওয়া
বিভো → স্রষ্টা / ঈশ্বর / প্রভু (সম্বোধন)
হৃদে → হৃদয়ে / মনে
ভকতি → ভক্তি / শ্রদ্ধা / নিষ্ঠা
স্তুতি → প্রশংসা / গুণগান
আরতি → প্রার্থনা / পূজার প্রদীপ
নিঃসম্বল → শূন্য হাতে / কোনো সম্বল নেই এমন
রিক্ত করে → খালি হয়ে / শূন্য অবস্থায়
সঁপিতে → অর্পণ করতে / সমর্পণ করতে
আঁখি → চোখ
দারিদ্র্য পেষণে → দারিদ্র্যের নিপীড়নে
ক্রোড়ে → কোলে
পল → মুহূর্ত / নিমেষ
শয়নে স্বপনে → ঘুমে আর জাগরণে
সম্বল → ভরসা / পাথেয় / সাহায্য
নিকুঞ্জ বিতানে → বাগানের মাঝে / কুঞ্জ বনের মধ্যে
আত্মহারা → নিজেকে ভুলে যাওয়া / একনিষ্ঠ
বিহ্বল → আহ্লাদে আত্মহারা / আবেগে ভরপুর
অবসাদ → ক্লান্তি / দুঃখ / হতাশা
তরুলতা → গাছপালা ও লতাপাতা
প্রসাদ → অনুগ্রহ / দয়া
চারু → সুন্দর / মনোহর
নিঃশ্বাস → শ্বাস / নিশ্বাস
স্নেহ কণা → ভালোবাসার কণা / স্নেহের দানা
অশেষ মঙ্গল → অন্তহীন কল্যাণ
বিষাদ → দুঃখ / বিষণ্ণতা
একাগ্র হৃদয়ে → মন এক করে / ধ্যানমগ্ন চিত্তে
স্মরিলে → স্মরণ করলে / মনে করলে
নিভে শোকানল → শোকের আগুন নিভে যায় / দুঃখ দূর হয়
অপার মহিমা → অসীম গৌরব / বড়ত্ব
নিবেদন → সমর্পণ / সঁপে দেওয়া
অফুরন্ত দয়া → শেষ নেই এমন দয়া
কামনা → ইচ্ছা / প্রার্থনা
আরাধনা → পূজা / উপাসনা
ভরসা → আশা / নির্ভরতা
প্রার্থনা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: কায়কোবাদ।
প্রশ্ন ২: কবি স্রষ্টাকে কী সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: বিভো বলে সম্বোধন করেছেন।
প্রশ্ন ৩: কবি স্রষ্টার কাছে কী প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: হৃদয়ে বল দেওয়ার প্রার্থনা করেছেন।
প্রশ্ন ৪: কবি স্রষ্টার কাছে কী কী জানেন না বলে স্বীকার করেন?
উত্তর: ভক্তি ও স্তুতি জানেন না।
প্রশ্ন ৫: কবি নিজেকে কী বলেছেন?
উত্তর: নিঃসম্বল (শূন্য হাত)।
প্রশ্ন ৬: কবি স্রষ্টার দুয়ারে কী কিভাবে দাঁড়িয়েছেন?
উত্তর: রিক্ত করে (শূন্য হাতে)।
প্রশ্ন ৭: কবি স্রষ্টাকে কী সঁপতে চান?
উত্তর: শুধু আঁখি জল (চোখের পানি)।
প্রশ্ন ৮: দারিদ্র্য পেষণে কবি কাকে ভোলেননি?
উত্তর: স্রষ্টাকে ভোলেননি।
প্রশ্ন ৯: বিপদের কোলে বা সুখের সাগরেও কবি কী করেন?
উত্তর: তিনি স্রষ্টাকে স্মরণ করেন।
প্রশ্ন ১০: ‘জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে’ কে কবির পথের সম্বল?
উত্তর: স্রষ্টা।
প্রশ্ন ১১: নিকুঞ্জ বিতানে কারা সদা আত্মহারা?
উত্তর: কত জাতি পাখি।
প্রশ্ন ১২: নিকুঞ্জ বিতানে পাখিরা কী করে আত্মহারা?
উত্তর: স্রষ্টার গুণগানে।
প্রশ্ন ১৩: ‘প্রাণে অবসাদ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রাণে ক্লান্তি বা দুঃখ।
প্রশ্ন ১৪: গাছ ও লতাগুলির শিরে কী ফলে?
উত্তর: চারু ফুল ফল।
প্রশ্ন ১৫: গাছ ও লতাগুলির ফুল, ফল কী থেকে জন্মায়?
উত্তর: স্রষ্টার প্রসাদ থেকে।
প্রশ্ন ১৬: বসন্তের বায়ু কার নিঃশ্বাস বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: স্রষ্টার নিঃশ্বাস।
প্রশ্ন ১৭: জগতের আয়ু কীসের কণা?
উত্তর: স্রষ্টার স্নেহ কণা।
প্রশ্ন ১৮: কার নামে অশেষ মঙ্গল বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: স্রষ্টার নামে।
প্রশ্ন ১৯: গভীর বিষাদে কাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়?
উত্তর: স্রষ্টাকে স্মরণ করলে।
প্রশ্ন ২০: ‘শোকানল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শোকরূপ আগুন।
প্রশ্ন ২১: কবি প্রার্থনার মাধ্যমে কী পেতে চান?
উত্তর: হৃদয়ে বল ও শক্তি।
প্রশ্ন ২২: ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল ও শক্তি প্রার্থনা।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৩: ‘প্রার্থনা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুনাজাত বা আবেদন।
প্রশ্ন ২৪: ‘বিভো’ বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: স্রষ্টাকে।
প্রশ্ন ২৫: ‘রিক্ত করে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শূন্য হাতে।
প্রশ্ন ২৬: ‘পেষণে’ ও ‘ক্রোড়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পেষণে অর্থ অত্যাচারে ও ক্রোড় অর্থ কোল।
প্রশ্ন ৩৭: ‘পল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুহূর্তকাল বা নিমেষ।
প্রশ্ন ২৮: ‘অশেষ’ ও ‘বিষাদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অশেষ অর্থ যার শেষ নেই ও বিষাদ অর্থ দুঃখবোধ।
প্রশ্ন ২৯: ‘স্মরিলে’ ও ‘প্রসাদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: স্মরিলে অর্থ স্মরণ করলে ও প্রসাদ অর্থ অনুগ্রহ।
প্রশ্ন ৩০: ‘হৃদে’ ও ‘বল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হৃদে অর্থ মনে ও বল অর্থ শক্তি।
প্রশ্ন ৩১: ‘স্তুতি’ ও ‘আরতি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: স্তুতি অর্থ প্রশংসা ও আরতি অর্থ প্রার্থনা।
প্রশ্ন ৩২: ‘চারু’ ও ‘নিকুঞ্জ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চারু অর্থ সুন্দর ও নিকুঞ্জ অর্থ বাগান।
প্রশ্ন ৩৩: ‘শোকানল’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শোকরূপ আগুন যা হৃদয়কে দগ্ধ করে।
প্রশ্ন ৩৪: ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
প্রশ্ন ৩৫: কবি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কী বর্ণনা করেছেন?
উত্তর: স্রষ্টার অপার মহিমার কথা।
প্রশ্ন ৩৬: কবি কী করতে না জেনেও চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন?
উত্তর: ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও।
প্রশ্ন ৩৭: বিপদে ও সুখে কবি কার কাছে শক্তি কামনা করেন?
উত্তর: বিধাতার কাছে।
প্রশ্ন ৩৮: গাছে গাছে পাখি ও বনে বনে ফুল কী করে?
উত্তর: বিধাতাকে স্মরণ করে।
প্রশ্ন ৩৯: জগতের সব কিছু কী দিয়ে চলছে?
উত্তর: স্রষ্টার অফুরন্ত দয়ায়।
প্রশ্ন ৪০: কার করুণা লাভ করে জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে?
উত্তর: স্রষ্টার করুণা লাভ করে।
প্রশ্ন ৪১: সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপ্নে কে আমাদের একমাত্র ভরসা?
উত্তর: স্রষ্টা।
প্রশ্ন ৪২: কবি স্রষ্টার কাছে কী প্রার্থনা জানিয়েছেন?
উত্তর: আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪৩: কায়কোবাদের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৪৪: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে।
প্রশ্ন ৪৫: কায়কোবাদের আসল নাম কী?
উত্তর: মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী।
প্রশ্ন ৪৬: তিনি কোন স্তর পর্যন্ত লেখাপড়া করেন?
উত্তর: প্রবেশিকা পর্যন্ত।
প্রশ্ন ৪৭: লেখাপড়া শেষ করে কায়কোবাদ কোথায় চাকরি নেন?
উত্তর: ডাকবিভাগে।
প্রশ্ন ৪৮: কায়কোবাদ কোন গ্রামে দীর্ঘদিন পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন?
উত্তর: নিজগ্রাম আগলাতে।
প্রশ্ন ৪৯: কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত মহাকাব্যটির নাম কী?
উত্তর: ‘মহাশ্মশান’।
প্রশ্ন ৫০: ‘অশ্রুমালা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫১: ‘শিবমন্দির’ ও ‘অমিয়ধারা’ কার রচনা?
উত্তর: কায়কোবাদের।
প্রশ্ন ৫২: ‘মহররম শরীফ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫৩: কায়কোবাদের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৫৪: তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঢাকায়।