Table of Contents
পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার সারমর্ম
মূলভাবঃ ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি কামিনী রায় মানুষের ভয়, দ্বিধা ও লোকলজ্জার কথা বলেছেন। তিনি দেখান, অন্য মানুষ কী বলবে এই ভয়ে অনেকে কাজ করতে পারে না। সব সময় ভয় ও লজ্জা কাজকে আটকে দেয়। সন্দেহ ও দ্বিধায় দৃঢ় ইচ্ছাও নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে ভালো ও উজ্জ্বল চিন্তা করেও তা বাস্তবায়নের সাহস পায় না, কারণ লোকে কিছু বলতে পারে। যখন মন কাঁদে, তখনও অনেকে চোখের পানি আটকে রাখে। একটু স্নেহের কথাও বড় ব্যথা প্রশমিত করতে পারে, কিন্তু অনেকে উপেক্ষার ছলে তা এড়িয়ে যায়। মহৎ উদ্দেশ্যে সবাই যখন একত্রিত হয়, তখন অনেকে এই ভয়ে সে দলে যোগ দেয় না যে লোকে কী বলবে। ফলে তারা সব সময় নিজেদের কাতর ও মৃতপ্রায় মনে করে। ভয় তাদের শক্তি কেড়ে নেয় এবং নিষ্ক্রিয় করে রাখে। কবি এ কবিতার মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন, মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয় উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিধা ও ভয়কে জয় করেই সার্থক হওয়া যায়।
পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
পাছে → হয়তো / এই ভয়ে
সদা → সবসময়
সংশয় → সন্দেহ / দ্বিধা
সংকল্প → মনের দৃঢ় ইচ্ছা
টলে → নড়ে যায় / দুর্বল হয়
আড়ালে আড়ালে → লুকিয়ে / গোপনে
নীরবে → চুপ করে / কথা না বলে
আপনা ঢাকি → নিজেকে লুকিয়ে রাখি
চরণ → পা
বুদবুদ → বুদবুদ / ফেনা
শুভ্র → সাদা / উজ্জ্বল / অমলিন
মিশে যায় → হারিয়ে যায় / বিলীন হয়
যবে → যখন
প্রশমিতে → দূর করতে / উপশম করতে
উপেক্ষার ছলে → অবহেলা করে / না-মানার অজুহাতে
ছল → ছুতা / ওজর / অজুহাত
মহৎ → বড় / উচ্চ
বিধাতা → ঈশ্বর / সৃষ্টিকর্তা
ম্রিয়মাণ → কাতর / মৃতপ্রায় / দুর্বল
কবলে → দখলে / বশে / আয়ত্তে
লোকলজ্জা → মানুষের সামনে লজ্জা পাওয়া
দৃঢ় মনোবল → পাকা মন / শক্ত মানসিকতা
উপেক্ষা করা → গ্রাহ্য না করা / পাত্তা না দেওয়া
সংকোচ → দ্বিধা / লজ্জাবোধ
পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: কামিনী রায়।
প্রশ্ন ২: কবি কী করতে পারেন না?
উত্তর: কাজ করতে পারেন না।
প্রশ্ন ৩: কবি সবসময় কী অনুভব করেন?
উত্তর: ভয় ও লাজ।
প্রশ্ন ৪: ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে’– কেন?
উত্তর: লোকে কিছু বলবে এই ভয়ে।
প্রশ্ন ৫: কবি কীভাবে থাকতে চান?
উত্তর: আড়ালে আড়ালে থাকতে চান।
প্রশ্ন ৬: তিনি কীভাবে নিজেকে ঢাকেন?
উত্তর: নীরবে ঢাকেন।
প্রশ্ন ৭: ‘সম্মুখে চরণ নাহি চলে’– কেন?
উত্তর: ভয়ে সামনে এগোতে পারেন না।
প্রশ্ন ৮: হৃদয়ে কীসের মতো চিন্তা ওঠে?
উত্তর: বুদবুদের মতো।
প্রশ্ন ৯: ‘শুভ্র চিন্তা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ভালো ও উজ্জ্বল চিন্তা।
প্রশ্ন ১০: সেই ভালো চিন্তাগুলো কোথায় মিশে যায়?
উত্তর: হৃদয়ের তলে মিশে যায়।
প্রশ্ন ১১: প্রাণ কাঁদলে কবি কী করেন?
উত্তর: আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখেন।
প্রশ্ন ১২: ‘নির্মল নয়নের জলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চোখের অশ্রুজলে।
প্রশ্ন ১৩: একটি স্নেহের কথা কী করতে পারে?
উত্তর: ব্যথা প্রশমিত করতে পারে।
প্রশ্ন ১৪: স্নেহের কথা পাওয়া সত্ত্বেও কবি কী করেন?
উত্তর: উপেক্ষার ছলে চলে যান।
প্রশ্ন ১৫: ‘উপেক্ষার ছলে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অবহেলা ও অজুহাতে।
প্রশ্ন ১৬: মহৎ উদ্দেশ্যে সবাই মিলিত হলে কবি কী করতে পারেন না?
উত্তর: সেই দলে মিলিত হতে পারেন না।
প্রশ্ন ১৭: ‘পারি না মিলিতে সেই দলে’– কেন?
উত্তর: লোকে কিছু বলবে এই ভয়ে।
প্রশ্ন ১৮: বিধাতা কবিকে কী দিয়েছেন?
উত্তর: প্রাণ দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৯: কবি কীভাবে থাকেন?
উত্তর: সদা ম্রিয়মাণ (কাতর অবস্থায়)।
প্রশ্ন ২০: লোকলজ্জার কারণে মানুষের কী হয়?
উত্তর: কাজ করতে পারে না, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ২১: ভীতির কবলে কী মরে?
উত্তর: শক্তি।
প্রশ্ন ২২: ‘ভীতির কবলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ভয়ের দখলে।
প্রশ্ন ২৩: ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মূলভাব কি?
উত্তর: মহৎ কাজ করতে ভয়-লজ্জা উপেক্ষা করতে হবে।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৪: ‘সদা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সবসময়।
প্রশ্ন ২৫: ‘সংশয়’ ও ‘সংকল্প’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সংশয় অর্থ সন্দেহ বা দ্বিধা ও সংকল্প অর্থ মনের দৃঢ় ইচ্ছা।
প্রশ্ন ২৬: ‘সংশয়ে সংকল্প সদা টলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মনের দৃঢ় ইচ্ছা পূরণ করতে বাধা তৈরি হয়।
প্রশ্ন ২৭: ‘শুভ্র’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সাদা বা অমলিন (এখানে পরিষ্কার অর্থে)।
প্রশ্ন ২৮: ‘যবে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যখন।
প্রশ্ন ২৯: ‘প্রশমিতে’ ও ‘প্রশমিতে পারে ব্যথা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রশমিতে অর্থ উপশম ঘটাতে এবং যন্ত্রণার উপশম ঘটাতে পারে।
প্রশ্ন ৩০: ‘উপেক্ষা’ ও ‘ছল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উপেক্ষা অর্থ গুরুত্ব না দেওয়া ও ছল অর্থ ছুতা বা ওজর।
প্রশ্ন ৩১: ‘ম্রিয়মাণ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কাতর বা বিষাদগ্রস্ত।
প্রশ্ন ৩২: ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘আলো ও ছায়া’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
প্রশ্ন ৩৩: কোনো কাজ করতে গেলে অনেকে কেন দ্বিধাগ্রস্ত হয়?
উত্তর: কে কী মনে করবে বা কী সমালোচনা করবে এই ভেবে।
প্রশ্ন ৩৪: সমাজে অবদান রাখতে চাইলে কী করা উচিত?
উত্তর: দ্বিধা না করে দৃঢ় মনোবল নিয়ে লোকলজ্জা ও সমালোচনা উপেক্ষা করা উচিত।
প্রশ্ন ৩৫: মহৎ কাজ করতে হলে কী কী উপেক্ষা করতে হবে?
উত্তর: ভয়, ভীতি ও সংকোচ উপেক্ষা করতে হবে।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৩৬: কামিনী রায়ের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৩৭: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বরিশালের বাসন্ডা গ্রামে।
প্রশ্ন ৩৮: কত বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন?
উত্তর: মাত্র আট বছর বয়সে।
প্রশ্ন ৩৯: কামিনী রায় কোন কলেজ থেকে বি.এ. পাশ করেন?
উত্তর: কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে।
প্রশ্ন ৪০: তিনি কোন বিষয়ে অনার্সসহ বি.এ. পাশ করেন?
উত্তর: সংস্কৃতে অনার্সসহ।
প্রশ্ন ৪১: কামিনী রায়ে লেখা ছোটদের কবিতাসংগ্রহের নাম কী?
উত্তর: ‘গুঞ্জন’।
প্রশ্ন ৪২: ‘মাল্য ও নির্মাল্য’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৩: ‘দীপ ও ধূপ’ কার রচনা?
উত্তর: কামিনী রায়ের।
প্রশ্ন ৪৪: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে কী পদকে ভূষিত করে?
উত্তর: জগত্তারিণী স্বর্ণপদক।
প্রশ্ন ৪৫: কামিনী রায়ের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯৩৩ সালে।
প্রশ্ন ৪৬: তিনি কত বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন?
উত্তর: আট বছর বয়সে।