মানবধর্ম কবিতা: মূল কথা, গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

মানবধর্ম কবিতার মূল কথা

মূলভাবঃ ‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন শাহ মানুষের জাত বা ধর্ম নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করে সংসারে তাঁর কী জাত। লালন উত্তরে বলেন, তিনি জাতের চেহারা কখনো নিজের চোখে দেখেননি। কেউ গলায় মালা পরে, কেউ তসবি ঝুলায়, কিন্তু শুধু এসব বাহ্যিক চিহ্নে কি জাত ভিন্ন হয়? জন্ম বা মৃত্যুর সময় কারও গলায় মালা বা তসবি থাকে না, তখন জাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। লালন আরও বলেন, কুয়ার পানিকে কূপজল বলে, গঙ্গার পানিকে গঙ্গাজল বলে, কিন্তু মূল উপাদান একই পানি। পাত্রের কারণে শুধু নাম ভিন্ন হয়। তিনি মনে করেন, জগতে মানুষ নানা জাতের গৌরব করে, কিন্তু লালন সেই জাতের পরিচয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষে মানুষে আসলে কোনো ভেদ নেই। সবার ধর্ম একই মানবধর্ম। লালন ফকির তাই মনুষ্যত্বকেই সবচেয়ে বড় ধর্ম বলে মনে করেন।

মানবধর্ম কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

মানবধর্ম → মানুষের ধর্ম / মনুষ্যত্ব / মানুষের হওয়ার কর্তব্য

লোকে কয় → মানুষ বলে / সবাই বলে

কী জাত সংসারে → পৃথিবীতে কী জাতি / কী ধর্ম

জেতের → জাতের / ধর্মের

নজরে → চোখে দেখা / দৃষ্টিতে

মালা → ফুল বা তিলকের গাঁথা দড়ি যা হিন্দুরা গলায় পরে

তসবি → মুসলমানদের জপমালা / জিকিরের পুঁতি

যাওয়া কিংবা আসার বেলায় → মৃত্যুর সময় বা জন্মের সময়

রয় কার রে → কারো থাকে কি / দেখা যায়?

গর্তে গেলে → কুয়ায় নামলে / কূপের কাছে গেলে

কূপজল → কুয়ার পানি

গঙ্গায় গেলে → গঙ্গা নদীতে গেলে

গঙ্গাজল → গঙ্গার পানি (যা হিন্দুদের কাছে পবিত্র)

মূলে → আসলে / মূলত

পাত্র-অনুসারে → ধারক (পাত্র) অনুযায়ী / যে পাত্রে জল থাকে তার কারণে

জগৎ বেড়ে → পৃথিবী ঘুরে দেখে / সারা জগতে

গৌরব করে → গর্ব করে / বড়াই করে

যথা তথা → যেখানে সেখানে / এদিকে ওদিকে

জেতের ফাতা → জাত বা ধর্মের পরিচয় / বৈশিষ্ট্য

বিকিয়েছে সাধ বাজারে → সাধনার বিনিময়ে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে

মনুষ্যধর্ম → মানুষের ধর্ম / মানবতার ধর্ম

মানবধর্ম কবিতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (জ্ঞানমূলক)

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘মানবধর্ম’ গানটির গীতিকার কে?
উত্তর: লালন শাহ।

প্রশ্ন ২: সব লোকে লালনকে কী প্রশ্ন করে?
উত্তর: পৃথিবীতে তাঁর কী জাত।

প্রশ্ন ৩: লালন কী দেখেননি বলে জানান?
উত্তর: জাতের রূপ তিনি দেখেননি।

প্রশ্ন ৪: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় মানুষ ধর্ম নিয়ে কী করে?
উত্তর: মানুষ ধর্ম নিয়ে গৌরব করে ও বিভেদ তৈরি করে।

প্রশ্ন ৫: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় কেউ গলায় কী পরে?
উত্তর: কেউ গলায় মালা পরে।

প্রশ্ন ৬: কেউ গলায় কী ধারণ করে?
উত্তর: কেউ গলায় তসবি ধারণ করে।

প্রশ্ন ৭: মালা বা তসবিতে কী হয় না বলে লালন মনে করেন?
উত্তর: এতে জাত ভিন্ন হয় না।

প্রশ্ন ৮: যাওয়া বা আসার বেলায় জাতের কী থাকে না?
উত্তর: জাতের কোনো চিহ্ন থাকে না।

প্রশ্ন ৯: ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মৃত্যুর সময় বা জন্মের সময়।

প্রশ্ন ১০: গর্তে গেলে কী পানি হয়?
উত্তর: গর্তে গেলে কূপের পানি হয়।

প্রশ্ন ১১: গঙ্গায় গেলে কী পানি হয়?
উত্তর: গঙ্গায় গেলে গঙ্গার পানি হয়।

প্রশ্ন ১২: মূল উপাদানের দিক থেকে কোনটি ভিন্ন নয়?
উত্তর: কূপের পানি আর গঙ্গার পানি একই।

প্রশ্ন ১৩: একই পানি কীসের কারণে ভিন্ন জানায়?
উত্তর: পাত্রের কারণে ভিন্ন জানায়।

প্রশ্ন ১৪: ‘পাত্র-অনুসারে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে পাত্রে পানি থাকে, তার কারণে নাম ভিন্ন হয়।

প্রশ্ন ১৫: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন জগৎ বেড়ে কী শুনেছেন?
উত্তর: তিনি জগত ঘুরে জাতের কথা শুনেছেন।

প্রশ্ন ১৬: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় লোকে যথা তথা কী করে?
উত্তর: লোকে যেখানে সেখানে গৌরব করে।

প্রশ্ন ১৭: ‘যথা তথা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যেখানে সেখানে।

প্রশ্ন ১৮: লালন কী বিক্রি করে দিয়েছেন?
উত্তর: তিনি জাতের পরিচয় বিক্রি করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন ১৯: ‘মানবধর্ম’ কবিতা অনুসারে মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয় কীসের কারণে?
উত্তর: বাহ্যিক আচার ও চিহ্নের কারণে।

প্রশ্ন ২০: ‘জেতের ফাতা’ লালন কোথায় বিক্রি করেছেন?
উত্তর: সাধ বাজারে বিক্রি করেছেন।

প্রশ্ন ২১: ‘গঙ্গাজল’ কার কাছে পবিত্র?
উত্তর: গঙ্গাজল হিন্দুদের কাছে পবিত্র।

প্রশ্ন ২২: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন কীসে বিশ্বাস করেন না?
উত্তর: তিনি জাত ও ধর্মভেদে ভিন্নতা বিশ্বাস করেন না।

প্রশ্ন ২৩: ‘মানবধর্ম’ গানে লালন কোন ধর্মের কথা বলেছেন?
উত্তর: তিনি মানবধর্মের কথা বলেছেন।

প্রশ্ন ২৪: ‘সাধ বাজার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সাধনার বাজার বা লোকেদের মধ্যে।

প্রশ্ন ২৫: লালনের মতে আসল সত্য কী?
উত্তর: সবার মূল ধর্ম এক।

প্রশ্ন ২৬: ‘কূপজল’ ও ‘গঙ্গাজল’ কী প্রমাণ করে?
উত্তর: বাহ্যিক নাম ভিন্ন হলেও মূল উপাদান এক।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২৭: ‘কয়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বলে।

প্রশ্ন ২৮: ‘জেতের’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: জাতের বা ধর্মের।

প্রশ্ন ২৯: ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: জন্ম বা মৃত্যুর সময়।

প্রশ্ন ৩০: ‘কূপজল’ কী?
উত্তর: কুয়োর পানি।

প্রশ্ন ৩১: ‘গঙ্গাজল’ কোন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতার প্রতীক?
উত্তর: হিন্দুদের কাছে।

প্রশ্ন ৩২: ‘জেতের ফাতা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জাত বা ধর্মের বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ৩৩: ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানটি কোন নামে এ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে?
উত্তর: ‘মানবধর্ম’ কবিতা নামে।

প্রশ্ন ৩৪: এ কবিতায় লালন ফকির কী নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন?
উত্তর: মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে।

প্রশ্ন ৩৫: লালন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন ছিলেন?
উত্তর: তিনি নিজে কোন ধর্মের বা জাতের।

প্রশ্ন ৩৬: লালন জাতকে কেমন মনে করেন?
উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না।

প্রশ্ন ৩৭: লালনের মতে মূলকথা কী?
উত্তর: মনুষ্যধর্ম।

প্রশ্ন ৩৮: কারো গলায় মালা থাকে, কারো হাতে কী থাকে?
উত্তর: তসবি থাকে।

প্রশ্ন ৩৯: মালা ও তসবি কী বহন করে?
উত্তর: ভিন্ন ভিন্ন জাতের পরিচয়।

প্রশ্ন ৪০: জন্ম বা মৃত্যুর সময় মানুষের কী থাকে না?
উত্তর: জাতের কোনো চিহ্ন থাকে না।

প্রশ্ন ৪১: মানুষ জাত ও ধর্মভেদে যে ভিন্নতার কথা বলে লালন তা কী করেন?
উত্তর: বিশ্বাস করেন না।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৪২: লালন শাহ কীরকম কবি ছিলেন?
উত্তর: মানবতাবাদী মরমি কবি।

প্রশ্ন ৪৩: কার শিষ্যত্ব গ্রহণের পর তিনি লালন শাহ নামে পরিচিত হন?
উত্তর: সাধক সিরাজ সাঁই বা সিরাজ শাহের।

প্রশ্ন ৪৪: গানে লালন শাহ নিজেকে কী নামে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: ফকির লালন।

প্রশ্ন ৪৫: প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করেও তিনি কোন ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন?
উত্তর: হিন্দু ও মুসলমান ধর্মের।

প্রশ্ন ৪৬: লালন শাহ নতুন কী প্রচার করেন?
উত্তর: নতুন এক দর্শন।

প্রশ্ন ৪৭: লালন শাহ তাঁর দর্শন কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: গানের মধ্য দিয়ে।

প্রশ্ন ৪৮: লালন শাহের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: অধ্যাত্মভাব ও মরমি রসব্যঞ্জনা।

প্রশ্ন ৪৯: লালন শাহ প্রায় কতটি গান রচনা করেন?
উত্তর: সহস্রাধিক গান।

প্রশ্ন ৫০: লালন শাহ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৫১: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ঝিনাইদহ বা কুষ্টিয়ায়।

প্রশ্ন ৫২: তার মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে হয়?
উত্তর: ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৫৩: তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: কুষ্টিয়ার ছেউরিয়ায়।

প্রশ্ন ৫৪: লালন শাহের গানে কী ধরনের রসব্যঞ্জনা আছে?
উত্তর: মরমি রসব্যঞ্জনা।

Leave a Comment