Table of Contents
বৃষ্টি কবিতার মূল বিষয়
মূলভাবঃ ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কবি ফররুখ আহমদ বহুদিন পর আসা বৃষ্টির অপূর্ব রূপ বর্ণনা করেছেন। বৃষ্টি এসেছে পদ্মা-মেঘনার দুইপাড়ের গ্রামে, পুবের হাওয়ায়। আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে কাজল ছায়ায়, আর বিদ্যুৎ রূপসী পরী হয়ে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে। দিগন্তজোড়া অপরূপ আভার মায়ায় প্রকৃতি মুখরিত। অরণ্যের কেয়া ফুল শিহরায়, রৌদ্রদগ্ধ ধানক্ষেত বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায়, নদীর ফাটলে বন্যা এনে দেয় প্রাণের জোয়ার। রুক্ষ মাঠ ও আকাশ বর্ষণের সুর শোনে এবং তৃষিত বনের সাথে তৃষাতপ্ত মন জেগে ওঠে। মন পার করতে চায় অনেক পথ ও বন্ধুর প্রান্তর, যেখানে বিস্মৃত দিন পড়ে আছে নিঃসঙ্গ ও নির্জন স্মৃতি। সেখানে বর্ষার মেঘ তৈরি করে বিষণ্ণ আবেশ। কবি দেখিয়েছেন, বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির পালাবদল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের হৃদয়ের তৃষ্ণা, স্মৃতি ও একাকিত্ব। বৃষ্টির রসে প্রাণ জুড়ায় আবার কখনো মন হয়ে ওঠে বিষণ্ণ ও স্মৃতিকাতর।
বৃষ্টি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
প্রতীক্ষিত → অপেক্ষা করা / যা আসবে বলে আশা করা হয়েছিল
আবাদি → চাষের জমি / আবাদযোগ্য
বিদগ্ধ আকাশ → জ্ঞানী আকাশ (এখানে বর্ষার আগে বিশেষ ধরনের আকাশ বুঝিয়েছেন। সহজ অর্থ: মেঘদগ্ধ বা মেঘ সজ্জিত আকাশ)
কাজল ছায়ায় → কালো মেঘের ছায়ায় (চোখের কাজলের মতো কালো)
বিদ্যুৎ-রূপসী পরী → বিদ্যুৎ চমকানোকে সুন্দরী পরীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে
সওয়ার → আরোহী / চড়া / উপরে অবস্থান করা
দিকদিগন্ত → চারদিক / চারদিকের দূর সীমানা
অপরূপ আভা → অতুলনীয় আলো / অদ্ভুত সুন্দর দীপ্তি
বর্ষণ-মুখর দিনে → বৃষ্টির আওয়াজে মুখরিত দিনে
শিহরায় → কাঁপে / রোমাঞ্চিত হয়
রৌদ্র-দখ ধানক্ষেত → রোদে পুড়ে যাওয়া ধানক্ষেত
নদীর ফাটলে → নদীর ফাটা জায়গায় / নদীর চৌমাথায়?
(আসলে: নদীর ফাটলে = ভাঙনে নয়, বর্ষার পানিতে স্ফীত নদী, যার ঢেউয়েতে ফাটলের সৃষ্টি হয়)
জোয়ার → স্ফীতি / উথালপাতাল / পানির তীব্র বেগ
রুগ্ন → রোগা / অসুস্থ / দুর্বল
ভিখারি → ফকির / যে ভিক্ষা করে
রগ-ওঠা হাত → শিরা-উঁঠা হাত / রোগা হাতের বোঁজা শিরা
রুক্ষ মাঠ → শুষ্ক মাঠ / রসহীন মাঠ / কর্কশ মাঠ
আসমান → আকাশ
তৃষিত বন → পিপাসিত বন / যেখানে দীর্ঘদিন বৃষ্টি হয়নি
তৃষাতপ্ত মন → পিপাসায় কাতর মন
পাড়ি দিয়ে → পেরিয়ে / অতিক্রম করে
প্রান্তর বন্ধুর → উঁচু-নিচু মাঠ / অসম ভূমি
বিস্মৃত দিন → ভুলে যাওয়া দিন / বিস্মৃতপ্রায় অতীত
নিঃসঙ্গ নির্জন → নিঃসঙ্গ ও একাকী
বিষণ্ণ মেদুর → বিষাদময় আবেশ / মেঘাচ্ছন্ন বিষন্নতা
দূরীভূত → দূর হয়ে যাওয়া
প্রাণোচ্ছল → প্রাণচঞ্চল / আনন্দে উত্ফুল্ল
কৃষিপ্রধান → যেখানে কৃষি বা চাষাবাদ প্রধান
পলিমাটির গৌরব → পলি মাটির উর্বরতা ও গৌরব
রসসিক্ত → রসে সিক্ত / সজল / আনন্দিত
আলপনা → রঙিন নকশা / মনের মাঝে সৃষ্টি
নিয়ামক → চালিকা শক্তি / পরিচালক
সংবেদনশীল → অনুভূতিপ্রবণ / সহজে আবেগ অনুভব করে এমন
নস্টালজিক → স্মৃতিকাতরতা / পুরনো দিনের স্মৃতিতে মন ভারী হওয়া
বৃষ্টি কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘বৃষ্টি’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: ফররুখ আহমদ।
প্রশ্ন ২: প্রকৃতিতে বৃষ্টি আসে কী সঙ্গে?
উত্তর: প্রাণস্পন্দন ও জোয়ার নিয়ে।
প্রশ্ন ৩: ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কবি কী ধরনের বৃষ্টির কথা বলেছেন?
উত্তর: বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি।
প্রশ্ন ৪: বৃষ্টি কোথায় কোথায় এলো?
উত্তর: পদ্মা-মেঘনার দুপাশের আবাদি গ্রামে।
প্রশ্ন ৫: ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বৃষ্টি কোন হাওয়ায় এলো?
উত্তর: পূবের হাওয়ায়।
প্রশ্ন ৬: ‘বিদগ্ধ আকাশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মেঘে আচ্ছন্ন আকাশ।
প্রশ্ন ৭: মাঠ কীসে ঢেকে গেল?
উত্তর: কাজল ছায়ায়।
প্রশ্ন ৮: ‘বর্ষা এসে পুরনো স্মৃতিকে কী করে?’
উত্তর: জাগিয়ে তোলে।
প্রশ্ন ৯: বিদ্যুৎ-রূপসী পরী কোথায় সওয়ার হয়েছে?
উত্তর: মেঘে মেঘে।
প্রশ্ন ১০: দিকদিগন্তের পথে কী দেখা যায়?
উত্তর: অপরূপ আভা।
প্রশ্ন ১১: বর্ষণ-মুখর দিনে কী শিহরায়?
উত্তর: অরণ্যের কেয়া।
প্রশ্ন ১২: রৌদ্র-দখ ধানক্ষেত কী চায়?
উত্তর: বৃষ্টির স্পর্শ।
প্রশ্ন ১৩: নদীর ফাটলে কী আনে?
উত্তর: বন্যা ও পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।
প্রশ্ন ১৪: রুগ্ন বৃদ্ধ ভিখারির হাতের সঙ্গে কী তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: রুক্ষ মাঠের।
প্রশ্ন ১৫: রুক্ষ মাঠ ও আসমান কী শোনে?
উত্তর: সেই বর্ষণের সুর।
প্রশ্ন ১৬: বৃষ্টির দিনে অরণ্যের কোন ফুল শিহরায়?
উত্তর: কেয়া ফুল।
প্রশ্ন ১৭: তৃষাতপ্ত মন কী করতে চায়?
উত্তর: পাড়ি দিয়ে যেতে চায় বহু পথ।
প্রশ্ন ১৮: ‘প্রান্তর বন্ধুর’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: উঁচু-নিচু বা কঠিন পথ।
প্রশ্ন ১৯: বিস্মৃত দিন কোথায় পড়ে আছে?
উত্তর: নিঃসঙ্গ নির্জন প্রান্তরে।
প্রশ্ন ২০: নিঃসঙ্গ নির্জন প্রান্তরে কী জাগে আজ?
উত্তর: বর্ষার মেঘ বিষণ্ণ মেদুর হয়ে।
প্রশ্ন ২১: ‘প্রতীক্ষিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর প্রাপ্ত।
প্রশ্ন ২২: ‘আবাদি গ্রাম’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেখানে চাষাবাদ হয়।
প্রশ্ন ২৩: ‘ক্ষণস্থায়ী বন্যা নয়, কী আনে বর্ষা?’ – কবির মতে?
উত্তর: পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে।
প্রশ্ন ২৪: ‘তৃষাতপ্ত মন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পিপাসায় কাতর মন।
প্রশ্ন ২৫: বৃষ্টির সুর কারা শোনে?
উত্তর: রুক্ষ মাঠ ও আসমান।
প্রশ্ন ২৬: কবিতার শেষ পংক্তিতে বর্ষার মেঘ কেমন?
উত্তর: বিষণ্ণ মেদুর।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৭: ‘বিদ্যুৎ-রূপসী পরী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিদ্যুৎ চমকানোকে সুন্দরী পরীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ২৮: ‘সওয়ার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আরোহী।
প্রশ্ন ২৯: ‘রুগ্ন বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের’ সঙ্গে কী তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: রুক্ষ মাঠের সঙ্গে।
প্রশ্ন ৩০: ‘তৃষাতপ্ত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পিপাসায় কাতর।
প্রশ্ন ৩১: ‘বিষণ্ণ মেদুর’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বৃষ্টি আসায় প্রকৃতি স্নিগ্ধ ও প্রাণোচ্ছল হয়েছে।
প্রশ্ন ৩২: ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘মুহূর্তের কবিতা’ কাব্য থেকে।
প্রশ্ন ৩৩: কৃষিপ্রধান বাংলার কী বহুপ্রতীক্ষিত?
উত্তর: বৃষ্টি।
প্রশ্ন ৩৪: বর্ষা প্রকৃতিতে কী নিয়ে আসে?
উত্তর: প্রাণস্পন্দন।
প্রশ্ন ৩৫: বর্ষাকালে নদীর দুই ধারে কী দেখা দেয়?
উত্তর: প্লাবন।
প্রশ্ন ৩৬: প্লাবনের ফলে কী ভালো হয়?
উত্তর: ফসল।
প্রশ্ন ৩৭: বৃষ্টির সময় আকাশে কী দেখা যায়?
উত্তর: মেঘের খেলা।
প্রশ্ন ৩৮: রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে কী পায়?
উত্তর: প্রাণ।
প্রশ্ন ৩৯: বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষ কেমন হয়?
উত্তর: রসসিক্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৪০: বৃষ্টির দিনে মানুষের মনে কী পড়ে?
উত্তর: সুখময় অতীত ও পুরনো স্মৃতি।
প্রশ্ন ৪১: একাকী জীবনে বৃষ্টি কী বাড়ায়?
উত্তর: বিরহ।
প্রশ্ন ৪২: বর্ষা প্রকৃতির কী পরিবর্তন আনে?
উত্তর: রুক্ষতা দূর করে প্রাণোচ্ছলতা আনে।
প্রশ্ন ৪৩: বৃষ্টির দিনে কে ভালোলাগার আলপনা আঁকে?
উত্তর: সংবেদনশীল মানুষ।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪৪: ফররুখ আহমদের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯১৮ সালের ১০ই জুন।
প্রশ্ন ৪৫: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে।
প্রশ্ন ৪৬: তিনি কোন কলেজ থেকে আই.এ. পাশ করেন?
উত্তর: কলকাতা রিপন কলেজ থেকে।
প্রশ্ন ৪৭: তিনি কোন কলেজে দর্শন ও ইংরেজিতে অনার্সের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে।
প্রশ্ন ৪৮: কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার ছিলেন?
উত্তর: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত।
প্রশ্ন ৪৯: ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য তাঁকে কী করতে প্রেরণা জুগিয়েছে?
উত্তর: কাব্যসৃষ্টিতে।
প্রশ্ন ৫০: ‘সিরাজাম মুনীরা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫১: ‘নৌফেল ও হাতেম’ কার রচনা?
উত্তর: ফররুখ আহমদের।
প্রশ্ন ৫২: ‘মুহূর্তের কবিতা’ ও ‘পাখির বাসা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫৩: ‘হাতেমতায়ী’ কার লেখা?
উত্তর: ফররুখ আহমদের।
প্রশ্ন ৫৪: ‘নতুন লেখা’ ও ‘হরফের ছড়া’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫৫: ‘ছড়ার আসর’ কার রচনা?
উত্তর: ফররুখ আহমদের।
প্রশ্ন ৫৬: ফররুখ আহমদ কখন পরলোকগমন করেন?
উত্তর: ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর।
প্রশ্ন ৫৭: ফররুখ আহমদে কর্মজীবনে কোথায় স্টাফ রাইটার ছিলেন?
উত্তর: ঢাকা বেতারে।
প্রশ্ন ৫৮: ফররুখ আহমদকে কাব্যসৃষ্টিতে প্রেরণা জুগিয়েছে কী?
উত্তর: ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য।
প্রশ্ন ৫৯: ‘সাত সাগরের মাঝি’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।