Table of Contents
আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার মূলভাব
মূলভাবঃ ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি আহসান হাবীব জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও মনের টানের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আকাশের তারা, মাটির ফুল, বাঁশবাগান, জোনাকি, পুকুর এবং ডুমুরগাছের ডালে বসা মাছরাঙা সবাই তাঁকে চেনে। তিনি এই দেশের কোনো নতুন মানুষ বা বাইরের পথিক নন। তিনি এই মাটিতেই ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তীব্র রোদ, জলভরা বাতাস, মেঘ এবং বিকেলের পাখিরাও তাঁকে চেনে। কার্তিক মাসের ধানের শিষ, ধানের পাতার শিশির, জ্যোৎস্নায় ঢাকা নিশিন্দা গাছের ছায়া, ক্লান্ত কদম আলী এবং জমিলা মায়ের খালি রান্নাঘর সবই তাঁর খুব পরিচিত। তাই তিনি নিজেকে তাদের আপনজন ও চিরচেনা স্বজন বলে মনে করেন। লাঙলের সঙ্গে তাঁর হাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, মাটির সঙ্গে তাঁর গন্ধ মিশে আছে এবং তাঁর শরীরেও লেগে আছে স্নিগ্ধ মাটির পরিচিত গন্ধ। ধানের খেতের সরু পথ এবং নদীর পাড় তাঁর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি সেই উদাস নদীর মুগ্ধ বালক, যার সঙ্গে এই মাটির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তাই কবি বারবার বলেছেন, তিনি কোনো আগন্তুক নন। এই দেশ, এই মাটি এবং এখানকার মানুষ তাঁর খুব আপন। এভাবেই কবি নিজের জন্মভূমি ও তার প্রতিটি পরিচিত জিনিসের সঙ্গে তাঁর গভীর ও চিরদিনের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন।
আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
আসমান – আকাশ
সাক্ষী – যে দেখেছে / প্রমাণ দিতে পারে / চেনে
জমিন – জমি / মাটি / ভূমি
নিশিরাইত – গভীর রাতের (নিশীথ রাতের কথ্য রূপ)
বিস্তর – অনেক / প্রচুর
জারুল – এক প্রকার গাছ ও তার ফুল
জামরুল – এক প্রকার ফল ও গাছ
ঝাকড়া – ঘন / এলোমেলো / ঝাড়ালো
স্থির দৃষ্টি – এখন দৃষ্টি / একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা
মাছরাঙা – এক প্রকার পাখি যা মাছ ধরে খায়
অভ্যাগত – বাড়িতে এসেছে এমন অতিথি / আগন্তুক
ভিনদেশি পথিক – অন্য দেশের পথিক / বিদেশি পথিক
আগন্তুক – নতুন এসেছে যে / সদাগত
স্বাপ্নিক নিয়মে – স্বপ্নের মতো করে / এক স্বপ্নিল নিয়মে
খর রৌদ্র – প্রচণ্ড রোদ / তীব্র গরম
জলজ বাতাস – জলের ভেতর থেকে আসা বাতাস / স্যাঁতসেঁতে হাওয়া
ক্লান্ত বিকেল – ক্লান্তিকর বিকেল / শেষ বিকেল
অনাত্মীয় – আপনজন নয় / আত্মীয় নয়
কার্তিকের ধানের মঞ্জরী – কার্তিক মাসের ধানের শীষ বা মুকুল
চিরোল পাতা – চিরল নামের গাছের পাতা
টলমল – টলমল করছে / দুলছে / কাঁপছে
জ্যোৎস্নার চাদর – জোছনার আচ্ছাদন / চাঁদের আলোর চাদর
নিশিন্দা – এক প্রকার গ্রামীণ গাছ / নিশিন্দা গাছ
অকাল বার্ধক্যে – সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাওয়া / অকালে বৃদ্ধ হওয়া
নত কদম আলী – অবনত / দুর্বল হয়ে পড়া কদম আলী (স্থানীয় ব্যক্তি)
শূন্য খাঁ খাঁ – একদম ফাঁকা / নির্জন
বৈঠায় লাঙল – লাঙলের হাতল / লাঙ্গলের মুঠি
স্পর্শ – ছোঁয়া
স্নিগ্ধ – মিষ্টি / কোমল / শীতল
উধাও নদী – অদৃশ্য নদী / হারিয়ে যাওয়া নদী
মুগ্ধ – মোহিত / বিমুগ্ধ
অবোধ বালক – নিষ্পাপ ছেলে / যে কিছু বোঝে না
অস্তিত্বে গাঁথা – শরীর ও মনের ভেতরে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যেন ছাড়ানো দায়
ঘ্রাণ – গন্ধ / সুবাস
অস্থি-মজ্জায় – হাড়ের ভেতরেও / খুব গভীরভাবে
গ্রথিত – গাঁথা / বাঁধা / জড়িত
তুলনাহীন – অদ্বিতীয় / যার জুড়ি নেই
আপন সত্তায় – নিজের অস্তিত্বের ভেতরে
মমতা – স্নেহ / মায়া / দরদ
উচ্চারণ – মুখে বলা / ঘোষণা
আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: আহসান হাবীব।
প্রশ্ন ২: আসমানের কে সাক্ষী?
উত্তর: তারা।
প্রশ্ন ৩: জমিনের কী সাক্ষী?
উত্তর: ফুল।
প্রশ্ন ৪: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কোন বাঁশবাগান সাক্ষী?
উত্তর: নিশিরাইত বাঁশবাগান।
প্রশ্ন ৫: পুবের পুকুরের ঝাকড়া ডুমুরের ডালে কার স্থির দৃষ্টি?
উত্তর: মাছরাঙার।
প্রশ্ন ৬: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় মাছরাঙা কাকে চেনে?
উত্তর: কবিকে।
প্রশ্ন ৭: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি কী নন বলে বারবার বলেছেন?
উত্তর: কোনো অভ্যাগত (আগন্তুক) নন।
প্রশ্ন ৮: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় খোদার কসম কবি কী নন?
উত্তর: ভিনদেশি পথিক নন।
প্রশ্ন ৯: কবি কী নিয়মে এখানে থাকেন?
উত্তর: স্বাপ্নিক নিয়মে।
প্রশ্ন ১০: কবির এখানে থাকার নাম কী?
উত্তর: সর্বত্রই থাকা।
প্রশ্ন ১১: কোন পাখিরা কবিকে চেনে?
উত্তর: ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা।
প্রশ্ন ১২: কার্তিকের ধানের কী সাক্ষী?
উত্তর: মঞ্জরী (শীষ)।
প্রশ্ন ১৩: চিরোল পাতার কী টলমল করে?
উত্তর: শিশির।
প্রশ্ন ১৪: জ্যোৎস্নার চাদরে কী ঢাকা?
উত্তর: নিশিন্দার ছায়া।
প্রশ্ন ১৫: অকাল বার্ধক্যে নত কে?
উত্তর: কদম আলী।
প্রশ্ন ১৬: কদম আলীর চোখে কী আছে?
উত্তর: ক্লান্ত আঁধার।
প্রশ্ন ১৭: কবি কদম আলীর কে?
উত্তর: চিরচেনা স্বজন।
প্রশ্ন ১৮: জমিলার মায়ের রান্নাঘর কেমন?
উত্তর: শূন্য খাঁ খাঁ।
প্রশ্ন ১৯: জমিলার মায়ের থালা কেমন?
উত্তর: শুকনো।
প্রশ্ন ২০: লাঙলের বৈঠায় কার স্পর্শ লেগে আছে?
উত্তর: কবির হাতের স্পর্শ।
প্রশ্ন ২১: মাটিতে কার গন্ধ আছে?
উত্তর: কবির গন্ধ।
প্রশ্ন ২২: কবির শরীরে কী লেগে আছে?
উত্তর: স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।
প্রশ্ন ২৩: ধানের খেতের মাঝে কী আছে?
উত্তর: সরু পথ।
প্রশ্ন ২৪: ধানের খেতের সামনে কী আছে?
উত্তর: ধু ধু নদীর কিনার।
প্রশ্ন ২৫: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি উধাও নদীর কী?
উত্তর: মুগ্ধ এক অবোধ বালক।
প্রশ্ন ২৬: ‘নিশিরাইত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গভীর রাত (নিশীথ রাত্রি)।
প্রশ্ন ২৭: ‘অভ্যাগত’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: গৃহে এসেছে এমন আগন্তুক।
প্রশ্ন ২৮: ‘ধানের মঞ্জরী’ কী?
উত্তর: ধানের শীষ।
প্রশ্ন ২৯: ‘নিশিন্দা’ কী?
উত্তর: গ্রামীণ এক প্রকার গাছ।
প্রশ্ন ৩০: খোদার কসম কবি কী নন?
উত্তর: ভিনদেশি পথিক নন।
প্রশ্ন ৩১: ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় এই দেশের মাটি গন্ধে কীরকম?
উত্তর: স্নিগ্ধ মিষ্টি গন্ধ।
প্রশ্ন ৩২: কবির কাছে কদম আলী কে?
উত্তর: একজন গ্রামীণ চেনা মানুষ।
প্রশ্ন ৩৩: জমিলার মায়ের শুকনো থালা কেন?
উত্তর: খাদ্য না থাকায় রান্না হয়নি বলে।
প্রশ্ন ৩৪: ‘আসমান’ ও ‘জমিন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আসমান অর্থ আকাশ, জমিন অর্থ ভূমি।
প্রশ্ন ৩৫: ‘সাক্ষী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো কিছু নিজ চোখে দেখেছেন এমন ব্যক্তি।
প্রশ্ন ৩৬: ‘নিশিরাইত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নিশীথ রাত্রি (গভীর রাত)।
প্রশ্ন ৩৭: ‘অভ্যাগত’ কাকে বলে?
উত্তর: গৃহে এসেছে এমন আগন্তুক বা নিমন্ত্রিত অতিথি।
প্রশ্ন ৩৮: ‘ধানের মঞ্জরী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ধানের শীষ বা মুকুল।
প্রশ্ন ৩৯: ‘নিশিন্দা’ কী?
উত্তর: গ্রামীণ এক ধরনের গাছ।
প্রশ্ন ৪০: ‘জমিলার মা’র রান্নাঘর’ সম্পর্কে কবি কী জানেন?
উত্তর: তাঁর রান্নাঘর শূন্য ও থালা শুকনো থাকে।
প্রশ্ন ৪১: জমিলার মায়ের থালা কেন শুকনো থাকে?
উত্তর: রান্নার খাদ্য নেই বলে রান্না হয় না।
প্রশ্ন ৪২: ‘স্নিগ্ধ মাটির সুবাস’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মাটির মিষ্টি ও আকর্ষণীয় গন্ধ।
প্রশ্ন ৪৩: ধানের ক্ষেতের সরু পথ ও নদীর কিনার কবির কোথায় গাঁথা আছে?
উত্তর: তাঁর অস্তিত্বে ও অস্থি-মজ্জায়।
প্রশ্ন ৪৪: জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের কী ধরনের সম্পর্ক?
উত্তর: আজীবনের গভীর ও চিরন্তন সম্পর্ক।
প্রশ্ন ৪৫: জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে মানুষ কী পায়?
উত্তর: সমগ্র দেশকে আপন করে পাওয়া।
প্রশ্ন ৪৬: দেশকে অনুভব করলে কী হবে?
উত্তর: দেশের মানুষও আপন মনে হবে।
প্রশ্ন ৪৭: কবি কদম আলীর কে?
উত্তর: চিরচেনা স্বজন।
প্রশ্ন ৪৮: লাঙলের সঙ্গে কবির কী সম্পর্ক?
উত্তর: তাঁর হাতের স্পর্শ লাঙলে লেগে আছে।
প্রশ্ন ৪৯: কবির শরীরে ও মাটিতে কী লেগে আছে?
উত্তর: মাটির সুবাস ও কবির গন্ধ।
প্রশ্ন ৫০: গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই কার জীবন বাঁধা?
উত্তর: কবির জীবন বাঁধা।
প্রশ্ন ৫১: আহসান হাবীবের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯১৭ সালের ২রা জানুয়ারি।
প্রশ্ন ৫২: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে।
প্রশ্ন ৫৩: আহসান হাবীব কোন কলেজে আইএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন?
উত্তর: বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে।
প্রশ্ন ৫৪: আহসান হাবীব কী পেশা গ্রহণ করেন?
উত্তর: সাংবাদিকতা।
প্রশ্ন ৫৫: আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: ‘রাত্রিশেষ’।
প্রশ্ন ৫৬: ‘ছায়াহরিণ’ ও ‘সারা দুপুর’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫৭: ‘আশায় বসতি’ কার রচনা?
উত্তর: আহসান হাবীবের।
প্রশ্ন ৫৮: ‘রানী খালের সাঁকো’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কিশোরপাঠ্য উপন্যাস।
প্রশ্ন ৫৯: আহসান হাবীব কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার।
প্রশ্ন ৬০: আহসান হাবীবের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৮৫ সালের ১০ই জুলাই।