Table of Contents
আমার দেশ কবিতার মূল বিষয়
মূলভাবঃ ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল স্বদেশের মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন। সূর্যের আলোয় মৌসুমী ফুল ফোটে, শরতের আকাশের ছায়া পড়ে মাঠভরা ধানের শীষে। এ দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে নব জীবনের সন্ধান মেলে। প্লাবনের সময় নুহের কিস্তি ভাসে এবং শান্তির কবুতর শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। নদীতে নতুন চর জাগে, আর সেই চরে মানুষ পাশাপাশি ঘর বাঁধে। প্রতিদিন সূর্যের আলোয় নতুন অঙ্কুর জাগে, অন্তর অনুরাগে ভরে ওঠে। কবির প্রাণের ঘ্রাণ মিশে আছে এ দেশের মাটির সঙ্গে। লক্ষ গাছের প্রাণস্পন্দন এ দেশের জীবনপ্রবাহকে সঞ্চারিত করে। নদীগুলো মিলে ধায় সাগরের পানে, আর মানুষে মানুষে মিলে যায় প্রাণে প্রাণে।সূর্য ও চন্দ্র মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি ভরে। এ দেশের মানুষ মুক্ত ও উদার মনে পাশাপাশি বাস করে, পরস্পরের সঙ্গে সেবা, সাম্য ও প্রীতি বিনিময় করে। সূর্যের আলোয় এ দেশ নিতি নবরূপে হাসে, আর মানুষের মন আশ্বাসে ভরে ওঠে। এভাবেই কবি বর্ণনা করেছেন বাংলার চিরায়ত রূপ ও সম্প্রীতির বাণী।
আমার দেশ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সূর্য-ঝলকে → সূর্যের উজ্জ্বল আলো / রোদের ঝলক
মৌসুমী ফুল → নির্দিষ্ট ঋতুতে ফোটে এমন ফুল / মওসুমি ফুল
স্নিগ্ধ শরৎ → শরৎকালের কোমল আকাশ / মিষ্টি শান্ত সন্ধ্যা
ছায়া লুটে → ছায়া নিয়ে / আচ্ছন্ন করে
পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে → ধানের শীষের ওপর মাঠ ভর্তি হয়
নিতি লভে → প্রতিদিন পায় / নিত্য পায়
নুহের কিস্তি → হজরত নুহের নৌকা (প্লাবনের সময় যেটি ভেসেছিল)
শান্তি-কপোত → শান্তির কবুতর (যাকে শান্তির প্রতীক মনে করা হয়)
বারতা → বার্তা / সংবাদ
নব অঙ্কুর → নতুন কুঁড়ি / নতুন পাতা
অন্তর অনুরাগে → মনে ভালোবাসায় / হৃদয়ের টানে
ঘ্রাণ → গন্ধ / বাস
গৌরবময় → গর্বের / সম্মানের
প্রাণ-স্পন্দনে → প্রাণের স্পন্দনে / হৃদ্স্পন্দনে
লক্ষ তরুর → লক্ষ লক্ষ গাছের
সঞ্চারি → ছড়িয়ে / সংক্রামিত করে / প্রসারিত করে
মর্মরে → মর্মরে (সুর) / মধুর স্বরে
বক্ষে জাগায়ে → বুকে জাগিয়ে / বুকের মধ্যে সৃষ্টি করে
আগামী দিনের আশা → ভবিষ্যতের প্রত্যাশা / আসন্ন দিনের স্বপ্ন
হেথা → এখানে / এইখানে
অঞ্জলি ভরে → দুই হাত ভরে / শুভকামনা জানিয়ে
প্রান্তর → বিশাল মাঠ / প্রান্তভূমি
আর্ত-ব্যথিত → দুঃখী এবং ব্যথিত / পীড়িত
সুধী গুণীজন → বিদ্বান ও গুণী মানুষ
সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময় → সেবা, সমতা এবং ভালোবাসার আদান-প্রদান
নিতি নবরূপে → প্রতিদিন নতুন রূপে / নিত্যনতুন আঙ্গিকে
আশ্বাসে → প্রতিশ্রুতি দিয়ে / সান্ত্বনা দিয়ে / সুরক্ষায়
উদাত্ত পৃথিবী → উচ্চ মহাকাশ বিস্ফোরিত বা নাটকীয় পৃথিবী (কবি সুফিয়া কামালের একটি কাব্যের নাম)
জীবনবাণী → জীবনের দর্শন ও আদর্শ
চিরায়ত → চিরকালীন / প্রাচীন কিন্তু প্রাসঙ্গিক
আমার দেশ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘আমার দেশ’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: সুফিয়া কামাল।
প্রশ্ন ২: ‘আমার দেশ’ কবিতাটি কী চেতনার কথা বলেছে?
উত্তর: স্বদেশপ্রেম ও সম্প্রীতির চেতনা।
প্রশ্ন ৩: সূর্য-ঝলকে কী ফুটে?
উত্তর: মৌসুমী ফুল।
প্রশ্ন ৪: কোন আকাশের ছায়া লুটে পড়ে?
উত্তর: স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া।
প্রশ্ন ৫: কোথায় পড়ে ধান্য শীর্ষ?
উত্তর: মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে।
প্রশ্ন ৬: দেশের মাটিতে মানুষের কোথায় কোথায় সন্ধান?
উত্তর: ঘরে ঘরে।
প্রশ্ন ৭: কবির প্রাণ কী লভে?
উত্তর: নব জীবনের সন্ধান।
প্রশ্ন ৮: ‘আমার দেশ’ কবিতায় ‘নুহের কিস্তি’ কী করে?
উত্তর: প্লাবনে ভাসে।
প্রশ্ন ৯: শান্তি-কপোত কী লইয়া আসে?
উত্তর: বারতা (সংবাদ)।
প্রশ্ন ১০: ‘আমার দেশ’ কবিতা নতুন কী জেগেছে?
উত্তর: চর।
প্রশ্ন ১১: সেই চরে মানুষ কী বাঁধে?
উত্তর: পাশাপাশি ঘর।
প্রশ্ন ১২: প্রতিদিবসের সূর্য-আলোকে কী জাগে?
উত্তর: অন্তর অনুরাগে নব অঙ্কুর।
প্রশ্ন ১৩: কবির প্রাণের কী মেশানো আছে মাটিতে?
উত্তর: প্রাণের ঘ্রাণ।
প্রশ্ন ১৪: ‘আমার দেশ’ কবিতায় লক্ষ তরুর কী আছে?
উত্তর: প্রাণ-স্পন্দন।
প্রশ্ন ১৫: লক্ষ তরুর প্রাণস্পন্দন কী করে?
উত্তর: জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি করে।
প্রশ্ন ১৬: বক্ষে কী জাগায়ে দেওয়া হয়?
উত্তর: আগামী দিনের আশা।
প্রশ্ন ১৭: কবির দেশের মাটি কেমন?
উত্তর: মধুর।
প্রশ্ন ১৮: কোনটি মধুর কবির কাছে?
উত্তর: ভাষা।
প্রশ্ন ১৯: নদীতে নদী মিলে কোথায় যায়?
উত্তর: সাগরের পানে।
প্রশ্ন ২০: মৌসুমী ফুলে কী করে সূর্য চন্দ্র?
উত্তর: অঞ্জলি ভরে।
প্রশ্ন ২১: ‘আমার দেশ’ কবিতায় ‘জীবনের ডাক’ কে দেয়?
উত্তর: সূর্য-ঝলক (প্রকৃতি)।
প্রশ্ন ২২: জীবনের ডাকে কারা সাড়া দেয়?
উত্তর: নদী-প্রান্তর পার হয়ে আসে লক্ষ প্রাণের ধারা।
প্রশ্ন ২৩: এ দেশের মানুষের মন কেমন?
উত্তর: মুক্ত-উদার মনে।
প্রশ্ন ২৪: আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন কার পাশে থাকেন?
উত্তর: আমাদের পাশে।
প্রশ্ন ২৫: সেবা-সাম্য-প্রীতি কী আশায় বিনিময় হয়?
উত্তর: বিনিময় আশে।
প্রশ্ন ২৬: জীবনের কী মানুষের মন ভরে তোলে?
উত্তর: আশ্বাস।
প্রশ্ন ২৭: ‘নুহের কিস্তি’ কোন পুরাণের উল্লেখ?
উত্তর: সেমিটিক পুরাণের।
প্রশ্ন ২৮: ‘গৌরবময় জীবন’ বলতে কবি কি বোঝাতে চান?
উত্তর: দেশের মাটিতে স্বাধীন জীবন।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৯: ‘সূর্য-ঝলকে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত বা উদ্ভাসিত।
প্রশ্ন ৩০: ‘মৌসুমী ফুল’ কাকে বলে?
উত্তর: বিশেষ ঋতুতে উৎপন্ন ফুল।
প্রশ্ন ৩১: ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শরৎকালের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা।
প্রশ্ন ৩২: ‘ধান্য শীর্ষ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ধানের ওপরের ভাগ বা শীষ।
প্রশ্ন ৩৩: ‘নুহের কিস্তি’ কী?
উত্তর: সেমিটিক পুরাণে বর্ণিত নুহ নবির বড় নৌকা যা মহাপ্লাবনে সবাইকে রক্ষা করেছিল।
প্রশ্ন ৩৪: ‘বারতা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সংবাদ বা বার্তা।
প্রশ্ন ৩৫: ‘আমার দেশ’ কবিতাটি সুফিয়া কামালের কোন কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যের।
প্রশ্ন ৩৬: দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে মানুষ কী করে?
উত্তর: আবার পাশাপাশি ঘর বাঁধে।
প্রশ্ন ৩৭: ‘আমার দেশ’ কবিতায় কীসের ডাক আসে?
উত্তর: মিলনের ডাক।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৩৮: সুফিয়া কামালের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯১১ সালের ২০শে জুন।
প্রশ্ন ৩৯: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে।
প্রশ্ন ৪০: সুফিয়া কামাল কী ধরনের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছেন?
উত্তর: প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা।
প্রশ্ন ৪১: সুফিয়া কামাল কিছুকাল কোথায় শিক্ষকতা করেন?
উত্তর: কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে।
প্রশ্ন ৪২: বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে কী অভিধায় ভূষিত করে?
উত্তর: ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায়।
প্রশ্ন ৪৩: ‘মায়া কাজল’ ও ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৪: ‘একাত্তরের ডাইরী’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৫: ‘ইতল বিতল’ ও ‘নওল কিশোরের দরবারে’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: শিশুতোষ গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৬: সাহিত্যকর্মে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি কোন পুরস্কার পেয়েছেন?
উত্তর: বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
প্রশ্ন ৪৭: সুফিয়া কামাল কোন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর: Women’s Federation for World Peace Crest।
প্রশ্ন ৪৮: সুফিয়া কামালের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর।