Table of Contents
বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব
মূলভাবঃ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে চিরকাল মাথা উঁচু করে থাকা এক সাহসী বীর হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মাথার দিকে তাকালে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত হিমালয়ও যেন মাথা নত করে। তিনি কখনো কারও কাছে মাথা নত করেন না, কোনো বাধা মানেন না এবং তিনি খুবই শক্তিশালী ও নির্ভীক। কবি নিজেকে ধ্বংসের দেবতা শিব ও ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, সব ধরনের বন্ধন, নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলকে তিনি পায়ের নিচে পিষে ফেলেন। কোনো অন্যায় আইন তিনি মানতে চান না এবং প্রয়োজনে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন। তাঁর এক হাতে মধুর বাঁশি, আর অন্য হাতে যুদ্ধের তূর্য। তিনি আরবের সাহসী বেদুঈন ও মোঙ্গল বীর চেঙ্গিস খানের মতো, নিজের শক্তি ছাড়া আর কারও কাছে মাথা নত করেন না। তিনি শিব, বিষ্ণু ও ধর্মরাজের নানা অস্ত্র ও শক্তির অধিকারী। তিনি সমাজের বঞ্চিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বলেন। তিনি চান না কোনো অত্যাচারী শাসক নিরীহ মানুষের ওপর আর জুলুম করুক। কবি বলেন, পৃথিবী থেকে অত্যাচারীদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলে এবং মানুষের কষ্টের কান্না থেমে গেলে তবেই তিনি শান্ত হবেন। কিন্তু সেই সময় না আসা পর্যন্ত তিনি চিরকাল বিদ্রোহী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবেন। এভাবেই কবি অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে নিজের বিদ্রোহী চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বিদ্রোহী কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বিদ্রোহী – যে বাধা মানে না / যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়
উন্নত – উঁচু / মাথা উঁচু করা
শির – মাথা
নেহারি – দেখে / তাকিয়ে
নতশির – মাথা নত করা / নিচু মাথা
শিখর হিমাদ্রির – হিমালয়ের চূড়া
চিরদুর্দম – চিরকাল দমন করা যায় না যে / যাকে কেউ দাবাতে পারে না
দুর্বিনীত – যা শাসনে থাকে না / বেয়াদব / উচ্ছৃঙ্খল
নৃশংস – নিষ্ঠুর / নির্দয়
মহাপ্রলয় – সৃষ্টির শেষ ধ্বংসের সময়
নটরাজ – শিব / মহাদেব
সাইক্লোন – ঘূর্ণিঝড়
ধ্বংস – নষ্ট করা
মহাভয় – বড় ভয় / ভয়ঙ্কর
অভিশাপ – অভিশাপ / গালি / অমঙ্গলের বাণী
দুর্বার – যাকে ঠেকানো যায় না / অদম্য
চুরমার – গুঁড়িয়ে দেওয়া / টুকরো টুকরো
অনিয়ম – নিয়ম না মানা / বিশৃঙ্খলা
উচ্ছৃঙ্খল – বেপরোয়া / যা নিয়মে বাঁধে না
শৃঙ্খল – বেড়ি / শিকল / বাধা
টর্পেডো – ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া এক ধরনের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র
ভীম – ভয়ানক / প্রকান্ড
ভাসমান মাইন – জলে ভাসতে থাকা বোমা
ধূর্জটি – শিব / জটাধারী শিব
এলোকেশে – এলোমেলো চুল / অবিন্যস্ত কেশ
অকাল-বৈশাখী – অসময়ের প্রচণ্ড ঝড়
বিদ্রোহী-সুত – বিদ্রোহী পুত্র / যে পুত্র বাধা মানে না
বিশ্ব-বিধাতা – সৃষ্টির নিয়ন্তা / ঈশ্বর
লোকালয় – মানুষের বসতি / গ্রাম-শহর
শ্মশান – মরার ঘাট / মৃতদেহ পোড়ানোর জায়গা
অবসান – শেষ / সমাপ্তি
নিশাবসান – রাতের শেষ
ইন্দ্রাণী-সুত – ইন্দ্রাণীর পুত্র / জয়ন্ত
রণ-তূর্য – যুদ্ধের বাদ্যযন্ত্র / রণভেরী
বেদুঈন – আরবের এক যাযাবর জাতি / ঘুরে বেড়ানো সম্প্রদায়
চেঙ্গিস – চেঙ্গিস খান / মোঙ্গল বীর যোদ্ধা
কুর্নিশ – সম্ভ্রমের সালাম / প্রণাম
বজ্র – বিদ্যুৎ / আকাশের বাজ
ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার – ঈশান কোণ থেকে শিঙায় ওঁ ধ্বনি
ইস্রাফিলের শিঙ্গা – ফেরেশতা ইস্রাফিলের শিঙা / কিয়ামতের শিঙা
হুঙ্কার – গর্জন / চিৎকার
পিণাক-পাণি – পিণাক নামক ধনুক হাতে যিনি (শিব)
ডমরু – শিবের হাতে থাকা বাদ্যযন্ত্র / এক ধরনের ঢোল
ত্রিশূল – তিন ফলা অস্ত্র
ধর্মরাজের দণ্ড – যমের শাস্তি
চক্র – বিষ্ণুর চাকা / সুদর্শন চক্র
মহাশঙ্খ – বিষ্ণুর বিশাল শঙ্খ / পাঁচজন
প্রণব-নাদ – ওঁ ধ্বনি
ক্ষ্যাপা – পাগলাটে / উন্মাদ
দুর্বাসা – ক্রোধী মুনি / রাগী ঋষি
বিশ্বামিত্র – এক বিশিষ্ট ঋষি
দাবানল – আগুনের লেলিহান শিখা / অগ্নিকাণ্ড
দাহ – পোড়ানো / জ্বালিয়ে দেওয়া
উন্মন – অস্থির মন / অশান্ত মনে
উদাসীর – উদাসীন / দুনিয়া থেকে বিরক্ত
ক্রন্দন-শ্বাস – কান্নার নিশ্বাস
হা-হুতাশ – আগুনের শব্দ / প্রখর দহন
হুতাশী – যে হা হুতাশ করে / অগ্নির মতো জ্বলে
বঞ্চিত – বঞ্চিত / পাওয়া না পাওয়া
মরম বেদনা – মনের যন্ত্রণা / গভীর কষ্ট
প্রিয়-লাঞ্ছিত – প্রিয় মানুষদের দ্বারা অপমানিত
উত্তর-বায়ু – উত্তরের বাতাস
মলয়-অনিল – দক্ষিণের মিষ্টি বাতাস
পূরবী হাওয়া – প্রাচ্যের বাতাস / সুরের নাম
রাগিণী – সুর / গানের সুর
নিদাঘ-তিয়াসা – গরমের পিপাসা / প্রচণ্ড তৃষ্ণা
রৌদ্র-রুদ্র রবি – প্রচণ্ড রোদ / রুদ্ররূপী সূর্য
মরু-নির্ঝর – মরুভূমির ঝরনা
শ্যামলিমা – সবুজ আভা / সতেজতা
অর্ফিয়াস – গ্রিক পৌরাণিক একজন গুণী গায়ক
নিখিল – সকল / সব জায়গা
নিঝুম – একদম চুপ / নীরব
পাশরি – ভুলে যাওয়া / বিস্মৃত হওয়া
হাবিয়া দোজখ – জাহান্নামের একটি ভয়ানক স্তর
পরশুরাম – বিষ্ণুর এক অবতার যার অস্ত্র ছিল কুঠার
কুঠার – কুঠার / কাঠ কাটার অস্ত্র
নিঃক্ষত্রিয় – ক্ষত্রিয়শূন্য / যোদ্ধাশূন্য
হল – লাঙ্গল
বলরাম – শ্রীকৃষ্ণের বড় ভাই
উপাড়ি ফেলা – তুলে ফেলা / উৎখাত করা
অধীন – পরাধীন / কারও দাস
মহানন্দে – বড় আনন্দে
উৎপীড়িত – নিপীড়িত / যাদের ওপর অত্যাচার করা হয়
ক্রন্দন-রোল – কান্নার রোল / আর্তনাদ
খড়গ – একধরনের অস্ত্র / তরবারি
কৃপাণ – তলোয়ার / ছুরি
রণ-ভূমে – যুদ্ধের ময়দানে
অভ্রভেদী – আকাশ ভেদ করে ওঠে এমন / অনেক উঁচুতে
বিদ্রোহী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন ২: কবি নিজের শিরকে কী বলেছেন?
উত্তর: উন্নত মম শির।
প্রশ্ন ৩: কবির শির দেখে কোন শিখর নত হয়েছে?
উত্তর: হিমালয়ের শিখর।
প্রশ্ন ৪: কবি নিজেকে কী কী বিশেষণ দিয়েছেন?
উত্তর: চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস।
প্রশ্ন ৫: মহাপ্রলয়ের নটরাজ কে?
উত্তর: কবি নিজে।
প্রশ্ন ৬: কবি নিজেকে আর কী কী বলেছেন?
উত্তর: সাইক্লোন ও ধ্বংস।
প্রশ্ন ৭: ‘আমি দুর্বার’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যাকে ঠেকানো যায় না / অদম্য।
প্রশ্ন ৮: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কী মানেন না?
উত্তর: কোনো আইন মানেন না।
প্রশ্ন ৯: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি ভরা তরী কী করেন?
উত্তর: ভরা ডুবি করেন।
প্রশ্ন ১০: ‘টর্পেডো’ ও ‘ভীম ভাসমান মাইন’ কী?
উত্তর: ধ্বংসাত্মক অস্ত্র।
প্রশ্ন ১১: ‘ধূর্জটি’ ও ‘অকাল-বৈশাখীর ঝড়’ কে?
উত্তর: কবি নিজে।
প্রশ্ন ১২: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে কার বিদ্রোহী সুত বলেছেন?
উত্তর: বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী সুত।
প্রশ্ন ১৩: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির এক হাতে কী ও অন্য হাতে কী?
উত্তর: এক হাতে বাঁশরী, অন্য হাতে রণ-তূর্য।
প্রশ্ন ১৪: কবি কাদের মতো নিজে ছাড়া কাউকে কুর্নিশ করেন না?
উত্তর: বেদুঈন ও চেঙ্গিসের মতো।
প্রশ্ন ১৫: ‘কুর্নিশ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রণাম বা সম্ভ্রমের সালাম।
প্রশ্ন ১৬: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার হুঙ্কারের মতো?
উত্তর: ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কারের মতো।
প্রশ্ন ১৭: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি পিণাক-পাণির কী কী ধারণ করেন?
উত্তর: ডমরু ও ত্রিশূল।
প্রশ্ন ১৮: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় চক্র ও মহাশঙ্খ কার অস্ত্র?
উত্তর: বিষ্ণুর অস্ত্র।
প্রশ্ন ১৯: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি দাবানলে কী করবেন?
উত্তর: দাহন করবেন বিশ্ব।
প্রশ্ন ২০: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কীভাবে নিখিল বিশ্বে নিঝুম করেন?
উত্তর: বাঁশরির তানে।
প্রশ্ন ২১: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি পরশুরামের কী ধারণ করেন?
উত্তর: কঠোর কুঠার।
প্রশ্ন ২২: কবি কখন শান্ত হবেন?
উত্তর: যখন উৎপীড়িতের ক্রন্দন বন্ধ হবে ও অত্যাচারীর অস্ত্র রণিবে না।
প্রশ্ন ২৩: ‘উৎপীড়িত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নিপীড়িত / যাদের ওপর অত্যাচার করা হয়।
প্রশ্ন ২৪: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কোন অস্ত্রগুলো ভীম রণ-ভূমে রণিবে না?
উত্তর: খড়গ ও কৃপাণ।
প্রশ্ন ২৫: ‘নেহারি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দেখা বা প্রত্যক্ষ করা।
প্রশ্ন ২৬: ‘শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির’ – এ পংক্তিটির অর্থ কী?
উত্তর: আমার মাথা দেখে হিমালয়ের চূড়াও মাথা নত করে।
প্রশ্ন ২৭: ‘মহাপ্রলয়’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সৃষ্টির ধ্বংসকাল, যাতে ব্রহ্মার আয়ুও শেষ হয়।
প্রশ্ন ২৮: ‘নটরাজ’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: মহাদেব শিবকে।
প্রশ্ন ২৯: ‘কানুন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আইন।
প্রশ্ন ৩০: ‘টর্পেডো’ কী?
উত্তর: ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরনের অস্ত্র।
প্রশ্ন ৩১: ‘ভীম’ শব্দের দুইটি অর্থ লেখ।
উত্তর: ভয়ানক এবং পাণ্ডুপুত্র ভীম।
প্রশ্ন ৩২: ‘ধূর্জটি’ কে?
উত্তর: শিব বা মহাদেব।
প্রশ্ন ৩৩: ‘ধূর্জটি’ নামের অর্থ কী?
উত্তর: যার জট ধূম্রবর্ণ বা ধূসর।
প্রশ্ন ৩৪: ‘এলোকেশে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যার চুল এলানো।
প্রশ্ন ৩৫: ‘আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতার’ – এ পংক্তির অর্থ লেখ।
উত্তর: আমি বিশ্বের বিধাতার বিদ্রোহী পুত্র।
প্রশ্ন ৩৬: ‘নিশাবসান’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রাতের শেষ বা অবসান।
প্রশ্ন ৩৭: ‘ইন্দ্রাণী-সুত’ কে?
উত্তর: ইন্দ্রাণীর পুত্র জয়ন্ত।
প্রশ্ন ৩৮: ‘বেদুঈন’ কারা?
উত্তর: আরবদেশের এক যাযাবর জাতি।
প্রশ্ন ৩৯: ‘চেঙ্গিস’ কে?
উত্তর: মোঙ্গল জাতির বিখ্যাত যোদ্ধা চেঙ্গিস খান।
প্রশ্ন ৪০: ‘কুর্নিশ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কিছুটা পিছিয়ে সম্ভ্রমপূর্ণ সালাম বা অভিবাদন।
প্রশ্ন ৪১: ‘ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ঈশান কোণ থেকে শিঙায় ধ্বনিত ওঁ ধ্বনি।
প্রশ্ন ৪২: ‘ইস্রাফিলের শিঙ্গা’ কী?
উত্তর: ফেরেশতা ইস্রাফিলের শিঙা, যা কিয়ামতে বাজবে।
প্রশ্ন ৪৩: ‘পিণাক-পাণি’ কে?
উত্তর: শিব, যিনি পিণাক নামক ধনুক ধারণ করেন।
প্রশ্ন ৪৪: শিবের হাতে কী কী থাকে?
উত্তর: ডমরু ও ত্রিশূল।
প্রশ্ন ৪৫: ‘আমি চক্র ও মহাশঙ্খ’ – এখানে কার চক্র ও শঙ্খ বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিষ্ণুর।
প্রশ্ন ৪৬: ‘প্রণব-নাদ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ওঁকার ধ্বনি বা ওঙ্কার।
প্রশ্ন ৪৭: ‘দুর্বাসা’ কে ছিলেন?
উত্তর: ভারতীয় পুরাণের ক্রোধী (কোপনস্বভাব) মুনি।
প্রশ্ন ৪৮: ‘বিশ্বামিত্র’ কে?
উত্তর: এক বিশিষ্ট ব্রহ্মর্ষি, যিনি ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণত্ব লাভ করেন।
প্রশ্ন ৪৯: ‘হুতাশী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যে হা-হুতাশ করে।
প্রশ্ন ৫০: ‘নিদাঘ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকাল।
প্রশ্ন ৫১: ‘মরু-নির্ঝর’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মরুভূমির ঝরনা।
প্রশ্ন ৫২: ‘অর্ফিয়াস’ কে?
উত্তর: গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী, যিনি যন্ত্রসংগীতে পারদর্শী ছিলেন।
প্রশ্ন ৫৩: ‘তান’ ও ‘পাশরি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তান’ অর্থ সুরের বিস্তার এবং ‘পাশরি’ অর্থ ভুলে যাওয়া।
প্রশ্ন ৫৪: ‘হাবিয়া দোজখ’ কী?
উত্তর: সাত দোজখের একটি, যা সবচেয়ে ভয়ানক।
প্রশ্ন ৫৫: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘অগ্নি-বীণা’ (১৯২২) কাব্যগ্রন্থ থেকে।
প্রশ্ন ৫৬: ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা কোনটি?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’।
প্রশ্ন ৫৭: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কীসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশের ঘোষণা।
প্রশ্ন ৫৮: বিদ্রোহী কবি কখন শান্ত হবেন?
উত্তর: যখন উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত হবে।
প্রশ্ন ৫৯: কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে।
প্রশ্ন ৬০: কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
প্রশ্ন ৬১: কত বছর বয়সে তিনি পিতাকে হারান?
উত্তর: আট বছর বয়সে।
প্রশ্ন ৬২: পিতার মৃত্যুর পর কবির পরিবার কেমন হয়?
উত্তর: চরম দারিদ্র্যে পতিত হয়।
প্রশ্ন ৬৩: কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে নিম্ন প্রাইমারি পাস করেন?
উত্তর: ১৩১৬ বঙ্গাব্দে।
প্রশ্ন ৬৪: নিম্ন প্রাইমারি পাসের পর কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় শিক্ষকতা করেন?
উত্তর: গ্রামের মক্তবে শিক্ষকতা করেন।
প্রশ্ন ৬৫: বারো বছর বয়সে তিনি কোথায় যোগ দেন?
উত্তর: লেটোর দলে।
প্রশ্ন ৬৬: লেটোর দলের জন্য তিনি কী রচনা করেন?
উত্তর: পালাগান রচনা করেন।
প্রশ্ন ৬৭: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে।
প্রশ্ন ৬৮: কোন সালে তিনি ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হন?
উত্তর: ১৯১৭ সালে।
প্রশ্ন ৬৯: সৈনিক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় যান?
উত্তর: করাচিতে।
প্রশ্ন ৭০: কাজী নজরুল ইসলাম কোন পদে উন্নীত হন?
উত্তর: হাবিলদার পদে।
প্রশ্ন ৭১: বাঙালি পল্টন ভেঙে দিলে তিনি কোথায় আসেন?
উত্তর: কলকাতায়।
প্রশ্ন ৭২: সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তে কোন কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি খ্যাতি লাভ করেন?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা।
প্রশ্ন ৭৩: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পর তিনি কী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে।
প্রশ্ন ৭৪: ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন ৭৫: ‘প্রলয়-শিখা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৭৬: ভারত সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে কোন উপাধিতে ভূষিত করে?
উত্তর: ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৬০)।
প্রশ্ন ৭৭: কাজী নজরুল ইসলামকে কবে সপরিবার স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়?
উত্তর: ১৯৭২ সালে।
প্রশ্ন ৭৮: কাজী নজরুল ইসলামকে কী স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
উত্তর: জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি।
প্রশ্ন ৭৯: নজরুলের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট।
প্রশ্ন ৮০: কাজী নজরুল ইসলাম কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঢাকায়।