আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার ব্যাখ্যা ও MCQ প্রশ্ন উত্তর

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার ব্যাখ্যা

কবিতার লাইনব্যাখ্যা
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।”
কবি শুরু করছেন আমাদের পূর্বপুরুষের গল্প দিয়ে। আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন কিংবদন্তি মানুষ, যারা সংগ্রামী জীবনযাপন করেছেন এবং তাদের জীবনের গল্প পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। কবি বলছেন, তিনি শুধু একজন মানুষের কথা বলছেন না, বরং একটি পুরো জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা বলছেন।
“তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।”
আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন মাটির মানুষ। তার হাতের তালুতে মাটির গন্ধ ছিল, যা তার কঠোর পরিশ্রম ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের প্রতীক। কিন্তু তার পিঠে ছিল রক্তজবার মতো ক্ষত, যা তার জীবনের যন্ত্রণা, শোষণ এবং সংগ্রামের চিহ্ন। এই ক্ষতগুলো তার অতীতের বেদনাদায়ক ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
“তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন।”
আমাদের পূর্বপুরুষ পাহাড়, জঙ্গল এবং হিংস্র প্রাণীদের কথা বলতেন। এই সবকিছু তার জীবনের সংগ্রামের প্রতীক। পাহাড় অতিক্রম করা, জঙ্গলে বেঁচে থাকা এবং হিংস্র প্রাণীদের মোকাবিলা করা—এগুলো তার সাহসিকতা ও অধ্যবসায়ের পরিচয়।
“পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।”
তিনি অনাবাদি জমি চাষ করে সফল হয়েছিলেন, যা তার পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তিনি কবি এবং কবিতার কথাও বলতেন, কারণ কবিতাই তার কাছে সত্য ও সুন্দরের প্রকাশ ছিল।
“জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।”
কবি বলছেন, সত্য কথা বলাই হলো কবিতা। আর মাটি চাষ করে যে শস্য ফলানো হয়, তা-ও কবিতার মতোই সুন্দর। অর্থাৎ, সত্য এবং সৃজনশীল কাজ—দুই-ই কবিতার সমান মূল্যবান।
“যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।”
যারা কবিতা বুঝতে পারে না, তারা জীবনের গভীর সত্য থেকে বঞ্চিত। তারা শুধু ঝড়ের শব্দ শুনতে পায়, কিন্তু তার অর্থ বুঝে না। অর্থাৎ, তারা জীবনের সংগ্রাম ও যন্ত্রণা দেখে, কিন্তু তার পেছনের সত্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে না।
“যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।”
যারা কবিতা বুঝে না, তারা মুক্ত জীবনের স্বাদ পায় না। তারা দিগন্তের মতো বিশাল ও মুক্ত জীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের জীবন সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে।
 “যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।”
যারা কবিতা বুঝে না, তারা আজীবন দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধা থাকে। তারা মুক্ত হতে পারে না, কারণ তারা সত্য ও সুন্দরকে চিনতে পারে না।
“আমি উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথা বলছি।”কবি বলছেন, তিনি শুধু সত্যের কথা বলছেন না, বরং স্বপ্নের কথাও বলছেন। তার স্বপ্ন হলো একটি মুক্ত ও সুন্দর জীবন, যেখানে সবাই সত্য ও কবিতার মূল্য বুঝতে পারবে।
“উনোনের আগুনে আলোকিত
একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি।”
আগুন সবকিছু শুদ্ধ করে। কবি বলছেন, আগুনের মাধ্যমে শুদ্ধ হয়ে একটি উজ্জ্বল জানালা খুলে যায়, যা আলো ও মুক্তির প্রতীক। 
“আমি আমার মায়ের কথা বলছি,
তিনি বলতেন প্রবহমান নদী
যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে।”
কবি তার মায়ের কথা বলছেন, যিনি বলতেন, নদী সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, এমনকি যারা সাঁতার জানে না তাদেরও। কিন্তু যারা কবিতা বুঝে না, তারা নদীর স্রোতে ভাসতে পারে না। অর্থাৎ, তারা জীবনের প্রবাহে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না।
“যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না।”
যারা কবিতা বুঝে না, তারা মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পারে না। তারা জীবনের সহজ ও সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারে না।
“আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি
গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি।”
কবি পরিবারের কথা বলছেন। বোনের মৃত্যু এবং মায়ের স্নেহ আমাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। এই সবকিছু আমাদের জীবনের বেদনা ও ভালোবাসার প্রতীক।
“ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে।”
কবি বলছেন, দেশের জন্য ভালোবাসা দিলে মাকে ছাড়তে হয়। যুদ্ধে যেতে হয়, পরিবারকে ছাড়তে হয়। কিন্তু এই ভালোবাসাই মানুষকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।
“যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না।”
যারা কবিতা বুঝে না, তারা সূর্যের মতো আলো ও শক্তিকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারে না।
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।”
কবি আবারও আমাদের পূর্বপুরুষের কথা বলছেন। আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন কিংবদন্তি মানুষ, যিনি সংগ্রামী জীবনযাপন করেছেন এবং তার গল্প পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
“তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল
কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন।”
পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন ক্রীতদাস। তার পিঠের ক্ষত তার শোষণ ও সংগ্রামের ইতিহাস বলে। এই ক্ষতগুলো তার অতীতের বেদনাদায়ক ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
“যে কর্ষণ করে
শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।”
যে মাটি চাষ করে, সে শস্য পায় এবং সমৃদ্ধ হয়। এখানে কবি বলছেন, পরিশ্রম ও সংগ্রামের মাধ্যমেই মানুষ সাফল্য পায়।
“যে মৎস্য লালন করে
প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।”
যে মাছ লালন-পালন করে, নদী তাকে পুরস্কৃত করবে। অর্থাৎ, প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখলে প্রকৃতি মানুষকে পুরস্কৃত করে।
“যে গাভীর পরিচর্যা করে
জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে।”
যে গরুর যত্ন নেয়, মা যেমন সন্তানের যত্ন নেন, তেমনি প্রকৃতিও তার যত্ন নেয় এবং তাকে দীর্ঘায়ু করে।
“যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে
ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে।”
যে লোহাকে আগুনে পুড়িয়ে তরবারি বানায়, সে শক্তিশালী হয়। এখানে কবি বলছেন, সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ শক্তিশালী হয়।
“দীর্ঘদেহ পুত্রগণ
আমি তোমাদের বলছি।”
কবি আমাদের ছেলেদের বলছেন, তারা যেন তাদের পূর্বপুরুষের সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথা মনে রাখে।
“আমি আমার মায়ের কথা বলছি
বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
ভাইয়ের যুদ্ধের কথা বলছি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি।”
কবি আমাদের পরিবারের কথা বলছেন—মা, বোন, ভাই এবং ভালোবাসার কথা। তিনি বলছেন, ভালোবাসা দিলে মা মারা যায়, কারণ দেশের জন্য যুদ্ধে যেতে হয়, পরিবারকে ছাড়তে হয়।
“আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি।”কবি বলছেন, তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলছেন। কবিতাই তার কাছে সত্য, শক্তি এবং মুক্তির পথ।
“সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা
সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা।”
কবি বলছেন, কবিতা হলো সশস্ত্র সুন্দরের অভ্যুত্থান এবং ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত। অর্থাৎ, কবিতার মাধ্যমে মানুষ সত্য ও সুন্দরকে প্রকাশ করতে পারে।
“জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা
রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।”
কবি বলছেন, মুক্ত শব্দ এবং প্রতিরোধের উচ্চারণই হলো কবিতা। অর্থাৎ, কবিতার মাধ্যমে মানুষ তার মুক্তি ও সংগ্রামের কথা বলতে পারে।
“আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো
আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো।”
কবি শেষ করছেন একটি প্রশ্ন দিয়ে। তিনি প্রশ্ন করছেন, আমরা কি তার পূর্বপুরুষের মতো কবিতার কথা বলতে পারব? আমরা কি তার মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারব?

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কোন কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা?
ক) সাতনরী হার
খ) কমলের চোখ
গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
ঘ) আমার সময়
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কাব্যের নাম কবিতা। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।


প্রশ্ন ২: ‘কিংবদন্তি’ শব্দের অর্থ কী?
ক) রাজার গল্প
খ) জনশ্রুতি ও ঐতিহ্য
গ) পুরাণ
ঘ) কল্পকাহিনি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘কিংবদন্তি’ অর্থ জনশ্রুতি, লোকপরম্পরায় শ্রুত ও কথিত বিষয় যা একটি জাতির ঐতিহ্যের পরিচয়বাহী। কবি ঐতিহ্যের কথা বলছেন।


প্রশ্ন ৩: কবি কার কথা বলছেন?
ক) নগরের
খ) পূর্বপুরুষের ও কিংবদন্তির
গ) সমুদ্রের
ঘ) পাহাড়ের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি’। এটি কবির ঐতিহ্যসচেতনতার প্রকাশ।


প্রশ্ন ৪: পূর্বপুরুষের করতলে কী ছিল?
ক) রক্ত
খ) পলিমাটির সৌরভ
গ) অস্ত্র
ঘ) ফুল
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল’। পূর্বপুরুষ ছিলেন কৃষিজীবী, তাঁর হাতে মাটির গন্ধ ছিল।


প্রশ্ন ৫: পূর্বপুরুষের পিঠে কী ছিল?
ক) স্বর্ণ
খ) রক্তজবার মতো ক্ষত
গ) পাখা
ঘ) বর্ম
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’। টীকা অনুযায়ী, এটি মানুষের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরে।


প্রশ্ন ৬: ‘পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) অত্যাচারের তাজা আঘাত
খ) ফুলের সৌন্দর্য
গ) গহনা
ঘ) চিহ্ন
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, সেই অত্যাচারের আঘাত যে এখনও তাজা রয়েছে তা বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বেদনার প্রতীক।


প্রশ্ন ৭: পূর্বপুরুষ কী সম্পর্কে কথা বলতেন?
ক) নগর ও রাজা
খ) পাহাড়, অরণ্য, শ্বাপদ ও আবাদের কথা
গ) সমুদ্র ও জাহাজ
ঘ) স্বর্গ ও দেবতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন / অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন / পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন’।


প্রশ্ন ৮: ‘শ্বাপদ’ শব্দের অর্থ কী?
ক) পোষা প্রাণী
খ) হিংস্র মাংসাশী শিকারি জন্তু
গ) জলজ প্রাণী
ঘ) কীটপতঙ্গ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘শ্বাপদ’ অর্থ হিংস্র মাংসাশী শিকারি জন্তু। পূর্বপুরুষ অরণ্যের এই শ্বাপদের কথাও বলতেন।


প্রশ্ন ৯: পূর্বপুরুষ কার কথা বলতেন?
ক) কবি ও কবিতার
খ) রাজার
গ) ধনীর
ঘ) বিদেশির
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন’। পূর্বপুরুষ শুধু আবাদের কথা নয়, কবিতা নিয়েও আলোচনা করতেন।


প্রশ্ন ১০: ‘জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মিথ্যা কথাও কবিতা
খ) সত্য কথাই কবিতা
গ) কেবল গান কবিতা
ঘ) ছন্দই কবিতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি বলেছেন, সত্য কথা কবিতা। অর্থাৎ কবিতা শুধু ছন্দে আবদ্ধ নয়, সত্যের উচ্চারণও কবিতা।


প্রশ্ন ১১: ‘কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) চাষাবাদ কবিতা
খ) শস্য খাদ্য
গ) কৃষকের কাজ অকৃত্রিম কবিতা
ঘ) ফসল ফলানো কঠিন
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, নিবিড় পরিশ্রমে কৃষকের ফলানো শস্যকে কবিতার সঙ্গে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। কৃষকের শ্রমও সৃজনশীলতা।


প্রশ্ন ১২: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে’—কেন?
ক) কবিতা না শুনলে সুখ নেই
খ) কবিতা শোনা মুক্তির পূর্বশর্ত
গ) ঝড় ভালো লাগে
ঘ) কবিতা শুনতে সময় নেই
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি মনে করেন কবিতা শোনা মানে সত্য ও মুক্তির কথা শোনা। যে তা জানে না, সে শুধু ধ্বংসের আর্তনাদই পাবে।


প্রশ্ন ১৩: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) দিগন্ত দেখা যাবে না
খ) মুক্তি ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হবে
গ) দেশ ছাড়তে হবে
ঘ) পথ হারাবে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: দিগন্ত মানে সীমাহীন স্বাধীনতার প্রতীক। কবিতা না শুনলে সেই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।


প্রশ্ন ১৪: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) আজীবন দাসত্বে থাকবে
খ) চাকরি পাবে না
গ) অর্থ উপার্জন করবে না
ঘ) পড়তে পারবে না
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবিতা হলো মুক্তির বাণী। যে কবিতা শোনে না, সে সেই বাণী থেকে বঞ্চিত হয় এবং আজীবন দাসত্বে আবদ্ধ থাকে।


প্রশ্ন ১৫: ‘আমি উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথা বলছি’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) স্বপ্ন মিথ্যা
খ) স্বপ্নও সত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ
গ) স্বপ্ন দেখা নিষিদ্ধ
ঘ) সত্য স্বপ্ন নয়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি স্বপ্নকে সত্যের মতো উচ্চারণ করছেন। স্বপ্নও মুক্তির পথের মতো বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ।


প্রশ্ন ১৬: ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) রান্নাঘর
খ) আগুনে পরিশুদ্ধ হয়ে মুক্তজীবনের প্রত্যাশা
গ) বিপদ
ঘ) অন্ধকার
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, আগুনের উত্তাপে পরিশুদ্ধ হয়ে সকল গ্লানি মুছে ফেলে আলোয় ভরা মুক্তজীবনের প্রত্যাশা জানাতে উজ্জ্বল জানালার অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে।


প্রশ্ন ১৭: কবি কার কথা বলছেন?
ক) পিতার
খ) মায়ের
গ) ভাইয়ের
ঘ) পুত্রের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আমি আমার মায়ের কথা বলছি’। মা প্রবহমান নদীর মতো, যিনি সবাইকে ভাসিয়ে রাখেন।


প্রশ্ন ১৮: মা কী বলতেন?
ক) পরিশ্রমের কথা
খ) প্রবহমান নদী যে সাঁতার না জানাকেও ভাসিয়ে রাখে
গ) স্বপ্নের কথা
ঘ) যুদ্ধের কথা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘তিনি বলতেন প্রবহমান নদী / যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে’। মা সবাইকে আগলে রাখার কথা বলতেন।


প্রশ্ন ১৯: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে নদীতে ভাসতে পারে না’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সাঁতার কাটতে পারে না
খ) জীবনের স্রোতে টিকে থাকতে পারে না
গ) নদী পেরোতে পারে না
ঘ) মাছ ধরতে পারে না
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: নদী প্রবহমান জীবনের প্রতীক। কবিতা না শুনলে জীবনের স্রোতে ভেসে থাকার ক্ষমতা থাকে না, অর্থাৎ টিকে থাকা কঠিন।


প্রশ্ন ২০: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মাছ ধরা যায় না
খ) প্রকৃতির সঙ্গে মেলামেশা হয় না
গ) জলজীবন উপভোগ করতে পারে না
ঘ) মাছ খেতে পারে না
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: মাছের সঙ্গে খেলা মানে প্রকৃতি ও জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া। কবিতা না জানলে জীবনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় না।


প্রশ্ন ২১: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না’—কেন?
ক) মা গল্প বলেন না
খ) কবিতা ছাড়া মায়ের কথা বোঝা যায় না
গ) মা দূরে থাকেন
ঘ) সময় নেই
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: মায়ের কোলে গল্প শোনা ঘনিষ্ঠতা ও স্নেহের প্রতীক। কবিতা না জানলে সেই আবেগ অনুভব করা যায় না।


প্রশ্ন ২২: ‘আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি’—‘বিচলিত স্নেহ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) উদাসীনতা
খ) আপনজনের উৎকণ্ঠা ও ভালোবাসা
গ) ঘৃণা
দ) ক্ষোভ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘বিচলিত স্নেহ’ অর্থ আপনজনের উৎকণ্ঠা। মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হন।


প্রশ্ন ২৩: কবি কার মৃত্যুর কথা বলছেন?
ক) পিতার
খ) গর্ভবতী বোনের
গ) মায়ের
ঘ) ভাইয়ের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি’। এটি যুদ্ধ ও সংগ্রামের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।


প্রশ্ন ২৪: ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মাকে ভালোবাসা দেওয়া নিষিদ্ধ
খ) স্বাধীনতার জন্য মা-পরিবারকে ছেড়ে যেতে হয়
গ) মা ভালোবাসা চান না
ঘ) ভালোবাসা কষ্ট দেয়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, মুক্তি বা স্বাধীনতার প্রয়োজনে কখনো আত্মোৎসর্গ অনিবার্য। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য ছেড়ে যেতে হয় মাকে।


প্রশ্ন ২৫: কবি কার কথা বলছেন যিনি যুদ্ধে চলে যান?
ক) পিতার
খ) ভাইয়ের
গ) স্বামীর
ঘ) পুত্রের
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি’। যুদ্ধে মায়ের ছেলেরা চলে যায়, কবি ভাইয়ের প্রসঙ্গ এনেছেন।


প্রশ্ন ২৬: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সন্তান ভালোবাসে না
খ) আত্মোৎসর্গের ক্ষমতা থাকে না
গ) সন্তান মরে যায়
ঘ) সন্তানকে ছেড়ে পালায়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতা শোনা মানে সত্য ও স্বাধীনতার বোধ। তা না থাকলে অন্যের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার ক্ষমতা আসে না।


প্রশ্ন ২৭: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) যুদ্ধ পছন্দ করে না
খ) ভালোবাসা না থাকলে যুদ্ধ অর্থহীন
গ) দেশের জন্য লড়াই করতে পারে না
ঘ) অস্ত্র চালাতে জানে না
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবিতা থেকে দেশপ্রেম ও মানবতার শিক্ষা আসে। তা না জানলে দেশের জন্য ভালোবেসে যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়।


প্রশ্ন ২৮: ‘যে কবিতা শুনতে জানে না সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না’—‘সূর্য’ এখানে কী প্রতীক?
ক) আলো
খ) সকল শক্তির উৎস
গ) দিন
ঘ) তাপ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, সূর্য সকল শক্তির উৎস। এই শক্তিকে হৃদয়ে ধারণ করার সামর্থ্য অর্জনের উপায় হলো কবিতা শোনা।


প্রশ্ন ২৯: পূর্বপুরুষ ক্রীতদাস ছিলেন কেন?
ক) জন্মগতভাবে
খ) অত্যাচার ও পরাধীনতার কারণে
গ) নিজের ইচ্ছায়
ঘ) দারিদ্র্যের জন্য
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন’। এটি বাঙালি জাতির পরাধীনতার ইতিহাস ও অত্যাচারের দিকে ইঙ্গিত করে।


প্রশ্ন ৩০: ‘যে কর্ষণ করে শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে’—‘কর্ষণ’ শব্দের অর্থ কী?
ক) লিখা
খ) চাষাবাদ
গ) গান
ঘ) যুদ্ধ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘কর্ষণ’ অর্থ চাষাবাদ বা জমি কর্ষণ করা। পরিশ্রমী কৃষক শস্যের সম্ভার দিয়ে সমৃদ্ধ হবে—এটি ন্যায়ের প্রতিদান।


প্রশ্ন ৩১: ‘যে মৎস্য লালন করে প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মাছ ধরা
খ) প্রকৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা
গ) নদী দূষণ করা
ঘ) মাছ খাওয়া
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে যে কাজ করে, প্রকৃতি তাকে পুরস্কৃত করে। এটি পরিবেশ ও জীবনবোধের শিক্ষা।


প্রশ্ন ৩২: ‘যে গাভীর পরিচর্যা করে জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) গাভী পালন লাভজনক
খ) জননী ও প্রকৃতির প্রতি যত্নশীলতা
গ) গাভীর দুধ পান করলে বাঁচে
ঘ) গাভী দেবী
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: গাভী জননীর প্রতীক। তার পরিচর্যা মানে জননী-প্রকৃতির প্রতি যত্নশীলতা, যা দীর্ঘায়ু ও আশীর্বাদ ডেকে আনে।


প্রশ্ন ৩৩: ‘যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) অস্ত্র তৈরি
খ) পরিশ্রম ও দক্ষতাই শক্তি
গ) লোহা গলানো
ঘ) তরবারি ব্যবহার
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: লোহাকে প্রজ্বলিত করে তরবারি বানানো মানে পরিশ্রম ও দক্ষতা। যে কাজ করে, সে তার কাজের ফল পায়—সশস্ত্র হয়, শক্তিশালী হয়।


প্রশ্ন ৩৪: ‘দীর্ঘদেহ পুত্রগণ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
ক) লম্বা মানুষ
খ) ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
গ) শাসক
ঘ) বিদেশি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘দীর্ঘদেহ পুত্রগণ’ বলতে কবি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও তরুণদের বোঝাতে চেয়েছেন। তাদের উদ্দেশেই তাঁর সমস্ত বক্তব্য।


প্রশ্ন ৩৫: ‘সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সৌন্দর্যের উত্থান
খ) কবিতা হলো সুন্দর ও সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যম
গ) যুদ্ধের প্রশংসা
ঘ) অস্ত্রের শোভা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতা শুধু সৌন্দর্য নয়, তা সশস্ত্র প্রতিরোধেরও মাধ্যম। এটি মুক্তি ও স্বাধীনতার অনিবার্য পথ।


প্রশ্ন ৩৬: ‘সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) পুরুষের গান
খ) ভালোবাসা ও কবিতা একই সত্তা
গ) সুপুরুষের কণ্ঠ মিষ্টি
ঘ) সংগীতই কবিতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: সুপুরুষের ভালোবাসার সংগীতই কবিতা। ভালোবাসা ও কবিতা অভিন্ন, একে অপরের পরিপূরক।


প্রশ্ন ৩৭: ‘জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সব কথাই কবিতা
খ) মুক্তির উচ্চারণই কবিতা
গ) ছন্দহীন কথা কবিতা নয়
ঘ) কেবল গান কবিতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: মুক্ত শব্দ মানে স্বাধীনভাবে উচ্চারিত সত্য ও ন্যায়ের বাণী। এই মুক্ত উচ্চারণই কবিতার রূপ।


প্রশ্ন ৩৮: ‘রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) রক্তের রঙ
খ) প্রতিরোধও কবিতার মতো সুন্দর ও তাজা
গ) রক্তজবা ফুল
ঘ) যুদ্ধের ডাক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: রক্তজবার মতো প্রতিরোধও তাজা, উজ্জ্বল ও সুন্দর। সেই প্রতিরোধের উচ্চারণকেই কবিতা বলা হয়েছে।


প্রশ্ন ৩৯: ‘আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো’—এখানে ‘তাঁর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
ক) কবিকে
খ) পূর্বপুরুষকে
গ) ভাইকে
ঘ) মাকে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী অংশে কবি পূর্বপুরুষের কথা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—আমরা কি পূর্বপুরুষের মতো এত শুদ্ধভাবে কবিতার কথা বলতে পারব?


প্রশ্ন ৪০: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জন্ম কোথায়?
ক) ফরিদপুরে
খ) বরিশালের বাবুগঞ্জের বহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি
গ) মাগুরায়
ঘ) যশোরে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।


প্রশ্ন ৪১: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জন্ম সাল কত?
ক) ১৯২৪
খ) ১৯৩৪
গ) ১৯৪৪
ঘ) ১৯৫৪
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ শতকের একজন প্রখ্যাত কবি।


প্রশ্ন ৪২: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন?
ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করে কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।


প্রশ্ন ৪৩: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
ক) শিক্ষা
খ) স্বরাষ্ট্র
গ) কৃষি ও পানিসম্পদ
ঘ) অর্থ
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


প্রশ্ন ৪৪: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কোথায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন?
ক) যুক্তরাজ্য
খ) যুক্তরাষ্ট্র
গ) ভারত
ঘ) সৌদি আরব
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


প্রশ্ন ৪৫: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতায় কী প্রাধান্য পেয়েছে?
ক) প্রেম
খ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
গ) প্রকৃতি
ঘ) ধর্ম
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর কবিতায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। তিনি এসব বিষয়ে অমূল্য সাহিত্য রচনা করেছেন।


প্রশ্ন ৪৬: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কোন পুরস্কার লাভ করেন?
ক) একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার
খ) নোবেল পুরস্কার
গ) স্বাধীনতা পুরস্কার
ঘ) সাহিত্য অকাদেমি
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক এবং বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।


প্রশ্ন ৪৭: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) সাতনরী হার
খ) সোনার তরী
গ) নকসী কাঁথার মাঠ
ঘ) রূপসী বাংলা
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- ‘সাতনরী হার’, ‘কখনো রং কখনো সুর’, ‘কমলের চোখ’, ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ প্রভৃতি।


প্রশ্ন ৪৮: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
ক) ১৯৯৮
খ) ২০০১
গ) ২০০৫
ঘ) ২০১০
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি।


প্রশ্ন ৪৯: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবিতার সঙ্গে কীসের অভেদ কল্পনা করা হয়েছে?
ক) ধনসম্পদ
খ) সত্য ও মুক্তি
গ) রাজনীতি
ঘ) খেলাধুলা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘কবিতা’ ও সত্যের অভেদকল্পনার মধ্য দিয়ে কবি মুক্তির কথা বলেছেন। কবিতাই মুক্তির পথ।


প্রশ্ন ৫০: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাটি কী ছন্দে রচিত?
ক) মাত্রাবৃত্ত
খ) অমিত্রাক্ষর
গ) পয়ার
ঘ) গদ্যছন্দ
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতির শেষে বলা আছে, কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত। এটি ছন্দের কাঠিন্য এড়িয়ে স্বতন্ত্র আঙ্গিকে উপস্থাপিত।


Leave a Comment