Table of Contents
প্রতিদান কবিতার ব্যাখ্যা
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| “আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর” | কবি বলছেন, যে ব্যক্তি তার ঘর ভেঙে দিয়েছে, তিনি সেই ব্যক্তির জন্য নতুন ঘর বানিয়ে দেবেন। এখানে ঘর ভাঙা মানে শুধু ঘর নয়, এটি জীবনের সুখ-শান্তি নষ্ট করার প্রতীক। কবি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমা ও ভালোবাসা দেখানোর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির উপকার করতে চান। |
| “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর” | কবি বলছেন, যে তাকে পর (অন্য) করে দিয়েছে, অর্থাৎ তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে বা তুচ্ছ করেছে, তিনি সেই ব্যক্তিকে আপন করে নেওয়ার জন্য কাঁদেন। তিনি তার জন্য দুঃখ বোধ করেন এবং তাকে কাছে টানতে চান। |
| “যে মোরে করিল পথের বিরাগী—পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি” | যে তাকে পথ থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তির জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়ান। তিনি তার সুখ ও শান্তির জন্য চেষ্টা করেন এবং তাকে ফিরে পেতে চান। |
| “দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর” | কবি সেই ব্যক্তির জন্য দীর্ঘ রাত জেগে কাটান। তার জন্য তিনি এতটাই চিন্তিত যে, তার ঘুম হারিয়ে গেছে। এটি কবির গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধের প্রকাশ। |
| “আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি” | যে ব্যক্তি তার জীবনের কূল (সীমা বা সুরক্ষা) ভেঙে দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তির জন্য নতুন কূল বানিয়ে দেন। এখানে কূল ভাঙা মানে নিরাপত্তাহীনতা বা বিপদ সৃষ্টি করা। কবি সেই ব্যক্তির বিপদ দূর করে তাকে সুরক্ষা দিতে চান। |
| “যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি” | যে ব্যক্তি তার বুকে আঘাত করেছে, অর্থাৎ তাকে মানসিক বা শারীরিকভাবে কষ্ট দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তির জন্য কাঁদেন। তিনি তার কষ্টকে ভালোবাসায় পরিণত করতে চান। |
| “যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ, আমি দেই তারে বুকভরা গান” | যে ব্যক্তি তাকে বিষে ভরা বাণ (কটু কথা বা আঘাত) দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তিকে বুকভরা গান (ভালোবাসা ও স্নেহ) দেন। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে ভালোবাসা দিয়ে তার হৃদয় জয় করতে চান। |
| “কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর” | যে ব্যক্তি তাকে কাঁটা (কষ্ট) দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তিকে ফুল (ভালোবাসা ও সুখ) দান করেন। তিনি সারাজীবন ধরে এই ভালোবাসা ও ক্ষমার পথে চলতে চান। |
| “মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি” | যে ব্যক্তি তার বুকে কবর বেঁধেছে, অর্থাৎ তাকে গভীর কষ্ট দিয়েছে, কবি সেই ব্যক্তির বুক রঙিন ফুলে ভরে দেন। তিনি তার হৃদয়কে ভালোবাসা ও স্নেহে ভরিয়ে দিতে চান। |
| “যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী, আমি লয়ে করে তারি মুখখানি” | যে ব্যক্তি নিষ্ঠুর কথা বলেছে, কবি সেই ব্যক্তির মুখটি হাত দিয়ে ধরে নরম করে দেন। তিনি তার কঠোরতাকে ভালোবাসায় পরিণত করতে চান। |
| “কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি সাজাই নিরন্তর” | কবি বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা রকম সুন্দর জিনিস এনে সেই ব্যক্তিকে সাজাতে চান। তিনি তার জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করে তুলতে চান। |
| “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর” | কবি আবারও বলছেন, যে তাকে পর (অন্য) করে দিয়েছে, তিনি সেই ব্যক্তিকে আপন করে নেওয়ার জন্য কাঁদেন। তিনি তার জন্য গভীর মমত্ববোধ অনুভব করেন। |
প্রতিদান কবিতার গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘প্রতিদান’ কবিতাটি জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
ক) নকসী কাঁথার মাঠ
খ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
গ) বালুচর
ঘ) ধানখেত
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এই কাব্যগ্রন্থে পল্লিজীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ২: ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি কীসের উপর আলোকপাত করেছেন?
ক) প্রতিশোধ
খ) পরার্থপরতা
গ) ধনসম্পদ
ঘ) রাজনীতি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
প্রশ্ন ৩: সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবি কীসের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন?
ক) প্রতিশোধ
খ) প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি
গ) বিচ্ছিন্নতা
ঘ) যুদ্ধ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা।
প্রশ্ন ৪: কবি অনিষ্টকারীকে কী করতে চেয়েছেন?
ক) শাস্তি দিতে
খ) ক্ষমা করে উপকার করতে
গ) এড়িয়ে চলতে
ঘ) ঘৃণা করতে
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর, বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন ৫: ‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) প্রতিশোধ
খ) ক্ষমা ও পরহিতব্রত
গ) ঘর নির্মাণ
ঘ) সম্পদ বৃদ্ধি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: যার কারণে ঘর ভেঙেছে, কবি তাঁর ঘর বাঁধেন। এটি পরার্থপরতার চরম দৃষ্টান্ত, যেখানে অনিষ্টকারীর প্রতি প্রতিদান হিসেবে উপকার করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৬: ‘আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর’—এ পঙ্ক্তিতে ‘পর’ শব্দের অর্থ কী?
ক) আত্মীয়
খ) পরকীয়া
গ) পরশ্রীকাতর
ঘ) অন্য বা বিদেশি
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: ‘পর’ শব্দের অর্থ অন্য বা বিদেশি। যে ব্যক্তি কবিকে পর করে দিয়েছে, অর্থাৎ দূরবর্তী করেছে, তাকেই কবি আপন করতে কাঁদিয়া বেড়ান।
প্রশ্ন ৭: ‘পথের বিরাগী’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
ক) পথিক
খ) নিস্পৃহ ও উদাসীন
গ) পথভ্রষ্ট
ঘ) পথের দাবি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘বিরাগী’ অর্থ নিস্পৃহ, উদাসীন। ‘পথের বিরাগী’ বলতে কবি সেই ব্যক্তিকে বোঝান যে তাঁকে পথে পথে ঘুরিয়েছে কিন্তু নিজে উদাসীন ছিল।
প্রশ্ন ৮: ‘দীঘল রজনী তার তরে জাগি’—এখানে ‘রজনী’ শব্দের অর্থ কী?
ক) দিন
খ) রাত
গ) সকাল
ঘ) সন্ধ্যা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘দীঘল রজনী’ অর্থ দীর্ঘ রাত। কবি সেই অনিষ্টকারীর জন্য দীর্ঘ রাত জেগে কাটান।
প্রশ্ন ৯: ‘ঘুম যে হরেছে মোর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) নির্ঘুম রাত কাটানো
খ) গভীর ঘুম
গ) স্বপ্ন দেখা
ঘ) বিশ্রাম নেওয়া
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘ঘুম যে হরেছে’ দ্বারা নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা বলা হয়েছে। কবি অনিষ্টকারীর জন্য ঘুম হারিয়েছেন।
প্রশ্ন ১০: ‘আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি’—এখানে ‘কূল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) নদীর তীর
খ) আশ্রয় বা নিরাপত্তা
গ) বাড়ি
ঘ) মাঠ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘কূল’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নদীর তীর হলেও এখানে রূপক অর্থে আশ্রয় বা নিরাপত্তা বোঝানো হয়েছে। যে কবির নিরাপত্তা নষ্ট করেছে, কবি তার নিরাপত্তা গড়ে দেন।
প্রশ্ন ১১: ‘যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) প্রতিশোধ
খ) ভালোবাসায় প্রতিদান
গ) ঘৃণা
দ) অবজ্ঞা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: যিনি বুকের মধ্যে আঘাত দিয়েছেন, তাঁর জন্যই কবি কাঁদেন। আঘাতের প্রতিদান হিসেবে তিনি ভালোবাসা ও কান্না দেন।
প্রশ্ন ১২: ‘যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ’—‘বিষে-ভরা বাণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) তীর
খ) কটু কথা বা হিংসাত্মক ভাষা
গ) অস্ত্র
ঘ) গান
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘বিষে-ভরা বাণ’ অর্থ কটু কথা ও হিংসাত্মক ভাষা। কটু কথা তীরের মতোই কষ্ট দেয়।
প্রশ্ন ১৩: ‘আমি দেই তারে বুকভরা গান’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) প্রতিশোধ
খ) ভালোবাসার প্রতিদান
গ) ঘৃণার গান
ঘ) ব্যঙ্গ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কটু কথা পাওয়া সত্ত্বেও কবি বুকভরা গান দেন। এটি অনিষ্টকারীর প্রতি কবির ভালোবাসা ও উদারতার প্রতীক।
প্রশ্ন ১৪: ‘কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) প্রতিশোধ
খ) কষ্ট পেয়েও আনন্দ দান
গ) ফুল চাষ
ঘ) কাঁটা সংগ্রহ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘কাঁটা’ হলো কষ্টের প্রতীক। কষ্ট পেয়েও কবি অনিষ্টকারীকে ফুল দান করেন, যা তার পরার্থপরতার চরম দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ১৫: ‘আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর’—পঙ্ক্তিটি কতবার এসেছে?
ক) একবার
খ) দুইবার
গ) তিনবার
ঘ) চারবার
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় এই পঙ্ক্তিটি দুবার ব্যবহৃত হয়েছে—প্রথম স্তবকের শেষে ও দ্বিতীয় স্তবকের শেষে। এটি কবিতার মূলভাবকে জোরালো করে।
প্রশ্ন ১৬: ‘মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি’—‘কবর বেঁধেছে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মৃত্যুদণ্ড
খ) গভীর কষ্ট বা হত্যার চেষ্টা
গ) সমাধি নির্মাণ
ঘ) কবর খোঁড়া
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘কবর বেঁধেছে’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে অনিষ্টকারী কবির বুকে মৃত্যুর মতো গভীর কষ্ট বা আঘাত দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৭: ‘রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ফুলের বাগান
খ) ভালোবাসা ও আদরের প্রতিদান
গ) ফুলের ব্যবসা
ঘ) বাগান করা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি তাঁর বুকে কবর বাঁধা ব্যক্তির বুক ভরে ফুল ও সোহাগ (আদর) দেন। টীকায় ‘মালঞ্চ’ অর্থ ফুলের বাগান, যা ভালোবাসার প্রতীক।
প্রশ্ন ১৮: ‘যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী’—‘নিঠুরিয়া’ শব্দের অর্থ কী?
ক) মিষ্টভাষী
খ) নিষ্ঠুর ও নির্দয়
গ) কোমল
ঘ) ভীত
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘নিঠুরিয়া’ অর্থ নিষ্ঠুর ও নির্দয়। যে মুখ থেকে নিষ্ঠুর ও কঠোর কথা বের হয়, কবি সেই মুখকেই সাজাতে চান।
প্রশ্ন ১৯: ‘আমি লয়ে করে তারি মুখখানি’—কী বোঝানো হয়েছে?
ক) মুখ ঘৃণা করা
খ) মুখকে ভালোবেসে সাজানো
গ) মুখ এড়িয়ে চলা
ঘ) মুখ আঁকা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: যিনি নিষ্ঠুর কথা বলেন, তাঁর মুখকেই কবি হাতে নিয়ে সাজাতে চান। এটি ভালোবাসার মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়ার প্রকাশ।
প্রশ্ন ২০: ‘কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি সাজাই নিরন্তর’—‘ঠাঁই’ শব্দের অর্থ কী?
ক) বাড়ি
খ) স্থান বা আশ্রয়
গ) সময়
ঘ) পথ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: টীকায় বলা আছে, ‘ঠাঁই’ অর্থ স্থান বা আশ্রয়। কবি নানা স্থান থেকে নানা উপাদান এনে সাজিয়ে যান।
প্রশ্ন ২১: ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল ভাব কী?
ক) প্রতিশোধ গ্রহণ
খ) ভালোবাসার মাধ্যমে অনিষ্টকারীর উপকার করা
গ) ঘৃণা করা
ঘ) এড়িয়ে চলা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি অনিষ্টকারীকে প্রতিদান হিসেবে ভালোবাসা ও উপকার দিতে চান। এটি পরার্থপরতা ও মানবিকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
প্রশ্ন ২২: ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি কীসের প্রতীক?
ক) বিদ্বেষ
খ) পরার্থপরতা ও মহানুভবতা
গ) ধনসম্পদ
ঘ) রাজনীতি
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি অনিষ্টকারীকে ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদান দিতে চান। এটি তাঁর পরার্থপরতা ও মহানুভবতার প্রতীক।
প্রশ্ন ২৩: জসীমউদ্দীনের জন্ম কোথায়?
ক) গোবিন্দপুর
খ) তাম্বুলখানা গ্রামে (ফরিদপুর)
গ) সাগরদাঁড়ি
ঘ) কোটালিপাড়া
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ২৪: জসীমউদ্দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
ক) ফরিদপুরের গোবিন্দপুর
খ) তাম্বুলখানা
গ) সাগরদাঁড়ি
ঘ) কোটালিপাড়া
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে। তাম্বুলখানায় তাঁর জন্ম হলেও পৈত্রিক নিবাস গোবিন্দপুরে।
প্রশ্ন ২৫: জসীমউদ্দীনের জন্ম সাল কত?
ক) ১৯০১
খ) ১৯০৩
গ) ১৯০৫
ঘ) ১৯০৭
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, জসীমউদ্দীন ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পল্লিকবি।
প্রশ্ন ২৬: জসীমউদ্দীনের পিতার নাম কী?
ক) আনসারউদ্দীন মোল্লা
খ) নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য
গ) রাজনারায়ণ দত্ত
ঘ) সৈয়দ হাতেম আলী
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর বাবার নাম আনসারউদ্দীন মোল্লা এবং মায়ের নাম আমিনা খাতুন।
প্রশ্ন ২৭: জসীমউদ্দীনের মায়ের নাম কী?
ক) সুনীতি দেবী
খ) জাহ্নবী দেবী
গ) আমিনা খাতুন
ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর মায়ের নাম আমিনা খাতুন। তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন।
প্রশ্ন ২৮: ‘কবর’ কবিতা রচনা করে জসীমউদ্দীন কত বয়সে খ্যাতি অর্জন করেন?
ক) ছাত্রাবস্থায়
খ) চাকরিজীবনে
গ) বৃদ্ধ বয়সে
ঘ) মৃত্যুর পর
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, কলেজে অধ্যয়নকালে “কবর” কবিতা রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন এবং ছাত্রাবস্থায়ই কবিতাটি স্কুল পাঠ্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশ্ন ২৯: জসীমউদ্দীন কোন নামে সমধিক পরিচিত?
ক) পল্লি-কবি
খ) বিদ্রোহী কবি
গ) বিশ্বকবি
ঘ) নির্জনতম কবি
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, জসীমউদ্দীন ‘পল্লি-কবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতি ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৩০: জসীমউদ্দীনের কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কোথায় অধ্যাপনা করেন?
ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
খ) ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ
গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন। পরে সরকারের প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগে উচ্চপদে আসীন হন।
প্রশ্ন ৩১: জসীমউদ্দীনের কবিতার প্রধান উপজীব্য কী?
ক) নগরজীবন
খ) পল্লিজীবন ও গ্রামীণ আবহ
গ) রাজনীতি
ঘ) বিদেশভ্রমণ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, পল্লিজীবন তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। বাংলার গ্রামীণ জীবনের আবহ ও প্রাকৃতিক রূপ তাঁর কাব্যে অনন্য সাধারণ মাত্রায় মূর্ত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩২: জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত ‘নকসী কাঁথার মাঠ’ কাব্যটি কীরূপ সম্মান পেয়েছে?
ক) নোবেল পুরস্কার
খ) বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে
গ) বাংলা একাডেমি পুরস্কার
ঘ) একুশে পদক
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর বিখ্যাত ‘নকসী কাঁথার মাঠ’ কাব্যটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।
প্রশ্ন ৩৩: জসীমউদ্দীনের অন্যান্য জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট
খ) মানসী
গ) সোনার তরী
ঘ) চিত্রা
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তাঁর অন্যান্য জনপ্রিয় ও সমাদৃত গ্রন্থ হচ্ছে: ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘বালুচর’, ‘ধানখেত’, ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’।
প্রশ্ন ৩৪: কোন বিশ্ববিদ্যালয় জসীমউদ্দীনকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে?
ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
খ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ) জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতি হিসেবে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।
প্রশ্ন ৩৫: জসীমউদ্দীনের মৃত্যু কবে?
ক) ১৯৭০ সালের ১৪ই মার্চ
খ) ১৯৭৪ সালের ১৪ই মার্চ
গ) ১৯৭৬ সালের ১৪ই মার্চ
ঘ) ১৯৮০ সালের ১৪ই মার্চ
উত্তর: গ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন ৩৬: জসীমউদ্দীন কোন কলেজে অধ্যয়নকালে ‘কবর’ কবিতা রচনা করেন?
ক) ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ
খ) ঢাকা কলেজ
গ) কলকাতার হিন্দু কলেজ
ঘ) শিবপুরের বিশপস কলেজ
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করার সময় তিনি “কবর” কবিতা রচনা করেন।
প্রশ্ন ৩৭: ‘প্রতিদান’ কবিতায় ‘শত্রুকে ভালোবাসা’ কোন আদর্শের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক) মাইকেল মধুসূদন দত্তের
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবধর্ম
গ) ফররুখ আহমদের ইসলামি আদর্শ
ঘ) নজরুলের বিদ্রোহ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: ‘প্রতিদান’ কবিতা পরার্থপরতা ও শত্রুকেও ভালোবাসার কথা বলে। এটি রবীন্দ্রনাথের মানবধর্ম ও বিশ্বপ্রেমের আদর্শের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রশ্ন ৩৮: জসীমউদ্দীন কোন বিভাগে সরকারি চাকরি করেছেন?
ক) শিক্ষা বিভাগ
খ) প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগ
গ) স্বরাষ্ট্র বিভাগ
ঘ) অর্থ বিভাগ
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবি-পরিচিতিতে বলা আছে, তিনি সরকারের প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগে উচ্চপদে আসীন হন। সেখানে তিনি দীর্ঘকাল কাজ করেন।
প্রশ্ন ৩৯: ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থে কোন কবিতাটি সংকলিত?
ক) নকসী কাঁথার মাঠ
খ) প্রতিদান
গ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
ঘ) ধানখেত
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: পাঠ-পরিচিতিতে বলা আছে, ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এটি তাঁর অন্যতম প্রধান কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪০: ‘প্রতিদান’ কবিতায় ‘বিষে-ভরা বাণ’-এর প্রতিদান কী?
ক) বিষ
খ) বুকভরা গান
গ) যুদ্ধ
ঘ) নীরবতা
উত্তর: খ
ব্যাখ্যা: কবিতায় বলা হয়েছে, ‘যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ, / আমি দেই তারে বুকভরা গান’। কটু কথার প্রতিদান তিনি গান ও ভালোবাসা দিয়ে থাকেন।