Table of Contents
জীবন বিনিময় কবিতার মূলভাব
মূলভাবঃ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবর খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছেলের জন্য তিনি দিনরাত কাঁদতে থাকেন, তাঁর চোখে ঘুম নেই। চারপাশে যেন মৃত্যুর অন্ধকার নেমে আসে। রাজ্যের সব চিকিৎসক, কবিরাজ ও দরবেশ এসে হুমায়ুনকে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও কোনো ফল হয় না। সবার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা নীরবে মাথা নিচু করে বসে থাকেন। তখন এক দরবেশ জানান, সম্রাট যদি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস দান করেন, তাহলে হুমায়ুনের জীবন রক্ষা পেতে পারে। বাবর বুঝতে পারেন, নিজের জীবনের চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে আর কিছু নেই। তাই তিনি কোনো দ্বিধা না করে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হন। তিনি নির্জনে প্রার্থনা করে আল্লাহর কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন চেয়ে নেন। দয়াময় আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন। ধীরে ধীরে হুমায়ুন সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন, আর বাবর নিজেই অসুস্থ হয়ে রোগশয্যায় পড়ে যান। শেষ পর্যন্ত বাবর পুত্রের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে মৃত্যুবরণ করেন। তবে পুত্রের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও ত্যাগ তাঁকে মৃত্যুর পরও মানুষের মনে অমর করে রেখেছে। কবিতাটিতে পিতার সীমাহীন ভালোবাসা, ত্যাগ ও সন্তানের জন্য নিজের জীবন দেওয়ার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
জীবন বিনিময় কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বাদশা – সম্রাট / বড় রাজা
নিদ – ঘুম
ঘনায়ে আসিছে – ঘনিয়ে আসছে / ভয়াবহ হয়ে উঠছে
বিজ্ঞ হেকিম – জ্ঞানী ডাক্তার / experienced physician
দরবেশ – ফকির / সাধু ব্যক্তি
সবিশেষ – বিশেষভাবে / বিশদভাবে
বিধিবিধান – নিয়ম-কানুন / ব্যবস্থাপত্র
লেশ – সামান্য / অল্প
দুরন্ত রোগ – দুর্দমনীয় ব্যাধি / কঠিন ও দুরারোগ্য অসুখ
হটিতেছে – সরে যাচ্ছে / দূর হচ্ছে
অন্তরবির প্রায় – অস্তগামী সূর্যের মতো প্রায় / প্রায় শেষ হয়ে আসছে
ব্যগ্রকণ্ঠে – অধীর গলায় / উদ্বিগ্ন কণ্ঠে
ভিষকবৃন্দ – চিকিৎসকদের দল / ডাক্তারগণ
ফাঁকি – মিথ্যা কথা / ঠকানো
বাদশাজাদা – সম্রাটের পুত্র / এখানে হুমায়ুন
নতমস্তকে – মাথা নিচু করে
মুখর – শব্দ করা / উচ্চকণ্ঠ
শেলসম – তীরের মতো / বাণের মতো / তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো
বিধিল – বসাল / লাগালো
হেনকালে – এমন সময়ে
কোরবানি – উৎসর্গ / বলি দেওয়া
শঙ্কা নাহিক মানি – ভয় করি না / ভয় মানি না
এতেক বলিয়া – এই বলে
নিরিবিলি – একান্ত / জনশূন্য
অচঞ্চল – স্থির / নিশ্চল
রহিম রহমান – দয়ালু ও করুণাময় (আল্লাহর গুণবাচক নাম)
প্রতিদান – বিনিময় / বদলা
স্তব্ধ – নীরব / চুপ
সুপ্তি-মগন – ঘুমে ডুবে আছে / নিদ্রামগ্ন
নিখিল বিশ্বরাণী – সমস্ত বিশ্বের রাণী / রাত (কাব্যিক ভাষায়)
গোপন কানাকানি – গোপন কথা / ফিসফিসানি
সহসা – হঠাৎ
ফুকারি – চিৎকার করে
কবুল – স্বীকার করে নেওয়া / মঞ্জুর
পুলকে – আনন্দে / আবেগে
দৃপ্ত জয়োল্লাস – উদ্দীপ্ত জয়ের আনন্দ
তিমির রাত – অন্ধকার রাত
তোরণে তোরণে – দরজায় দরজায় / প্রতিটি প্রবেশপথে
পূর্বাভাস – আগাম আভাস / ইঙ্গিত
হৃষ্টচিত্তে – প্রসন্ন মনে / আনন্দিত মনে
নতুন জীবনে – পুনরায় জীবিত হয়ে
ধীরে – আস্তে আস্তে / ক্রমে
পিতৃস্নেহ – বাবার ভালোবাসা / পিতৃ-স্নেহ
পরাজয় – হার / defeat
ব্যাগ্র – অধীর / ব্যস্ত
মুমূর্ষু – মরণাপন্ন / প্রায় মৃতপ্রায়
উৎসর্গ – দেওয়া / বলি দেওয়া
মুতি – মৃত্যু
ভিক্ষা চাওয়া – চেয়ে নেওয়া
প্রার্থনা মঞ্জুর – প্রার্থনা কবুল হওয়া
অপরিসীম ভালোবাসা – সীমাহীন মমতা
উজ্জ্বল – স্পষ্ট / পরিষ্কার
জীবন বিনিময় কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: গোলাম মোস্তফা।
প্রশ্ন ২: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবরের চোখে কী নেই?
উত্তর: নিদ (ঘুম) নেই।
প্রশ্ন ৩: বাবরের পুত্রের নাম কী?
উত্তর: হুমায়ূন।
প্রশ্ন ৪: পুত্রের চারধারে কী ঘনায়ে আসিছে?
উত্তর: মরণ-অন্ধকার।
প্রশ্ন ৫: যত দিন যায় দুর্ভোগ কেমন হয়?
উত্তর: বাড়িয়া যায়।
প্রশ্ন ৬: ‘জীবন-প্রদীপ’ কীসের মতো নিভিয়া আসিছে?
উত্তর: অন্তরবির প্রায়।
প্রশ্ন ৭: বাবর কাদের ডেকে প্রশ্ন করেন?
উত্তর: ভিষকবৃন্দ (চিকিৎসক)।
প্রশ্ন ৮: বাবর চিকিৎসকদের কী দিতে নিষেধ করেন?
উত্তর: ফাঁকি দিতে।
প্রশ্ন ৯: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় চিকিৎসকেরা কীভাবে রহিল?
উত্তর: নতমস্তকে।
প্রশ্ন ১০: চিকিৎসকদের নীরবতা কেমন ছিল?
উত্তর: নিষ্ঠুর।
প্রশ্ন ১১: বাবরের বুকে কিসের ব্যথা বিধিল?
উত্তর: শেলসম ব্যথা।
প্রশ্ন ১২: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় এক দরবেশ কী দিতে বললেন?
উত্তর: সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দিতে।
প্রশ্ন ১৩: দান করলে কে বাঁচাবে বাদশাজাদার প্রাণ?
উত্তর: আল্লাহ।
প্রশ্ন ১৪: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর কোথায় আসন পাতিলেন?
উত্তর: নিরিবিলি গৃহতলে।
প্রশ্ন ১৫: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় ধ্যানে বাবর কীভাবে বসিলেন?
উত্তর: গভীর ধেয়ানে শান্ত অচঞ্চল।
প্রশ্ন ১৬: প্রার্থনারত অবস্থায় বাবরের নয়নে কী ছিল?
উত্তর: অশ্রুজল।
প্রশ্ন ১৭: বাবর নিজের সবচেয়ে প্রিয় ধন কী বলে মনে করেন?
উত্তর: আপন প্রাণ।
প্রশ্ন ১৮: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর খোদার কাছে কী চান?
উত্তর: পুত্রের প্রাণের প্রতিদান।
প্রশ্ন ১৯: বাবরের প্রার্থনা কে কবুল করেছেন?
উত্তর: দয়াময় আল্লাহ।
প্রশ্ন ২০: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর কী বলে ফুকারি উঠিলেন?
উত্তর: নাহি ভয়, নাহি ভয়।
প্রশ্ন ২১: প্রার্থনা কবুল হলে পুত্র কী করবে?
উত্তর: বাঁচিয়া উঠিবে।
প্রশ্ন ২২: বাবর পুত্রের চারিপাশে কী করিতে লাগিলেন?
উত্তর: ঘুরিতে লাগিলেন।
প্রশ্ন ২৩: ‘উষার পূর্বাভাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ।
প্রশ্ন ২৪: সেইদিন হতে কার রোগ-লক্ষণ দেখা দিল?
উত্তর: বাবরের।
প্রশ্ন ২৫: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর কী গ্রহণ করিলেন?
উত্তর: মরণের শয্যা।
প্রশ্ন ২৬: কার কাছে মরণের পরাজয় হইয়াছে?
উত্তর: পিতৃস্নেহের কাছে।
প্রশ্ন ২৭: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূল বিষয় কী?
উত্তর: পিতৃস্নেহের কাছে মৃত্যুর পরাজয়।
প্রশ্ন ২৮: দরবেশ বাবরকে কী জানিয়েছিলেন?
উত্তর: সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করতে হবে।
প্রশ্ন ২৯: বাবর নিজেকে কী দিতে প্রস্তুত রেখেছিলেন?
উত্তর: কোরবানি দিতে।
প্রশ্ন ৩০: ‘বিনিময়’ ও ‘নিদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিনিময় অর্থ বদল ও নিদ অর্থ ঘুম।
প্রশ্ন ৩১: ‘ভিষকবৃন্দ’ ও ‘বাদশাজাদা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ভিষকবৃন্দ অর্থ চিকিৎসকগণ ও বাদশাজাদা অর্থ সম্রাটের পুত্র (হুমায়ুন)।
প্রশ্ন ৩২: ‘শেলসম’ ও ‘শঙ্কা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শেলসম অর্থ তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো ও শঙ্কা অর্থ ভয়।
প্রশ্ন ৩৩: ‘অন্তরবি’ ও ‘দৃপ্ত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অন্তরবি অর্থ অস্তগামী সূর্য ও দৃপ্ত অর্থ উদ্ধত (এখানে উদ্দীপিত)।
প্রশ্ন ৩৪: মানুষের কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন কী?
উত্তর: নিজের জীবন।
প্রশ্ন ৩৫: ‘ধেয়ানে’ ও ‘সুপ্তিমগ্ন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ধেয়ানে অর্থ ধ্যানে ও সুপ্তিমগ্ন অর্থ ঘুমে অচেতন।
প্রশ্ন ৩৬: ‘ফুকারি’ ও ‘কবুল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ফুকারি অর্থ চিৎকার করে ও কবুল অর্থ স্বীকার বা গৃহীত।
প্রশ্ন ৩৭: ‘তিমির রাতের তোরণে উষার পূর্বাভাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ভোরের আগমন আঁধার রাতের অবসান ঘোষণা করে। এখানে হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ।
প্রশ্ন ৩৮: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘বুলবুলিস্তান’ কাব্য থেকে।
প্রশ্ন ৩৯: হুমায়ুন কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিল?
উত্তর: কঠিন রোগে।
প্রশ্ন ৪০: দরবেশ সম্রাট বাবরকে কী জানালেন?
উত্তর: সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করতে হবে।
প্রশ্ন ৪১: সম্রাট বাবর বিধাতার কাছে কী চাইলেন?
উত্তর: পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইলেন।
প্রশ্ন ৪২: ‘বুলবুলিস্তান’ কাব্যটি কার লেখা?
উত্তর: গোলাম মোস্তফার।
প্রশ্ন ৪৩: গোলাম মোস্তফার জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৯৭ সালে।
প্রশ্ন ৪৪: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: যশোর জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে।
প্রশ্ন ৪৫: গোলাম মোস্তফা কোন কলেজ থেকে বি.এ. পাস করেন?
উত্তর: কলকাতার রিপন কলেজ থেকে।
প্রশ্ন ৪৬: কর্মজীবনে তিনি কী দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন?
উত্তর: বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে।
প্রশ্ন ৪৭: কাব্যচর্চায় গোলাম মোস্তফা কোথা থেকে প্রেরণা লাভ করেছিলেন?
উত্তর: ইসলামি ঐতিহ্য থেকে।
প্রশ্ন ৪৮: ‘খোশরোজ’ ও ‘বুলবুলিস্তান’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৯: ‘বিশ্বনবী’ ও ‘মরুদুলাল’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: জীবনীগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫০: গোলাম মোস্তফা কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৯৬৪ সালে।