উমর ফারুক কবিতা: মূল বিষয়, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

উমর ফারুক কবিতার মূল বিষয়

মূলভাবঃ ‘উমর ফারুক’ কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর মহান আদর্শ, ন্যায়নিষ্ঠতা, মানবিকতা ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সুন্দর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। গভীর রাতে মসজিদের আজান শুনলে কবির মনে উমরের স্মৃতি জাগে, কেননা তার ইসলাম গ্রহণের পরই প্রকাশ্যে আজান দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। অর্ধেক পৃথিবীর শাসক হয়েও তিনি খেজুর পাতার সাধারণ ঘরে বাস করতেন, বিলাসিতা থেকে দূরে থাকতেন। জেরুজালেম দুর্গের শত্রুরা জানিয়ে দিয়েছিল, উমর এসে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করলেই তারা দুর্গ খুলে দেবে। সেই খবর পেয়ে পৃথিবীর অর্ধেকের মালিক উমর একাকী উটে চড়ে সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়েছিলেন, ঝুলিতে ছিল মাত্র শুকনো রুটি আর পানির মশক। পথে ভৃত্য ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি নিজে উটের রশি ধরেন আর ভৃত্যকে উটে বসতে বলেন। ক্ষুধার্ত মা ও তার শিশুদের কান্না দেখে তিনি রাতের অন্ধকারে নিজেই বায়তুল মাল থেকে খাবার এনে তাদের ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ন্যায়ের পথে তিনি নিজ পুত্র আবু শাহমাকে মদ্যপানের অপরাধে কঠোর শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। দরবারের ভিড়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যেত না, কারণ তিনি ছেঁড়া জামা মেরামত করে বসে থাকতেন রোদে। তিনি মানুষকে বন্ধু ও ভাই বলতেন, আর কখনো নিজেকে বড় করে দেখাননি। নজরুলের এই কবিতায় উমর ফারুক চিরকালের আদর্শ মানব ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসকের রূপে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

উমর ফারুক কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

তিমির রাত্রি → অন্ধকার রাত / ঘন কালো রাত

এশার আজান → রাতের প্রথম আজান / এশার নামাজের ডাক

প্রিয়-হারা → যার প্রিয়জন হারিয়ে গেছে / বিয়োগ ব্যথায় কাতর

বিধে → বিদ্ধ হয়েছে / সেঁধিয়েছে / বাজল

আমির-উল-মুমেনিন → মুসলমানদের নেতা / বিশ্বাসীদের প্রধান (হজরত উমরের উপাধি)

মুয়াজ্জিন → যে আজান দেয় / নামাজের ডাকদানকারী

তকবির → আল্লাহু আকবার ধ্বনি / আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা

চকিতে → হঠাৎ করে / তক্ষুনি

বাতায়নে → জানালায় / জানালার কাছে

মরুর শশী → মরুভূমির চাঁদ

পাপিয়ার ডাক → কোকিলের ডাক

চকোরী → চকোর পাখি (যে চাঁদের আলো পান করে)

আখেরী নবি → শেষ নবি / হজরত মুহাম্মদ (স.)

দক্ষিণ-বাহু → ডান হাত / শক্তিশালী সহায়ক

গ্রাসে অন্ধতা রাহু → গ্রহণ করে অন্ধকার

ইসলাম-রবি → ইসলামরূপ সূর্য

বিমলিন → মলিন / নিষ্প্রভ / উজ্জ্বল নয়

জোনাকির আলো → জোনাকি পোকা

শমশের → তলোয়ার / তরবারি

ফিরদৌস → জান্নাত / বেহেশত

লোহিত-সাগরে → লোহিত সাগরে

পরশ-মানিক → স্পর্শমণি / যে পাথর ছোঁয়ায় লোহাও সোনা হয়

শেষ পয়গম্বর → শেষ নবি / হজরত মুহাম্মদ (স.)

তখতে বসি → সিংহাসনে বসে

সাইমুম-ঝড়ে → মরুভূমির প্রচণ্ড ঝড়ে

কনুয়ে → মাথা নিচু করে / হাঁটু গেড়ে

প্রলোভন → লোভ দেখানো / টান

বিলাস বাসনা → আরামের আশা / বিলাসের ইচ্ছা

ঐশ্বর্যের মদ → ধনের মদ / গর্বের নেশা

হেরি পশ্চাতে চাহি → পেছনে তাকিয়ে দেখি

রোদ্রদগ্ধ → রোদে পুড়ে যাওয়া

মরুপথ বাহি → মরুপথ বেয়ে / মরুভূমি পেরিয়ে

কিল্লা → দুর্গ / গড়

অবরোধ → ঘেরাও / চারদিক থেকে বন্ধ করে দেওয়া

সন্ধিপত্র → চুক্তিপত্র / শান্তিচুক্তির কাগজ

স্বাক্ষর → সই / নাম স্বাক্ষর

উষ্ট্রে → উটের ওপর

বিরামহীন → থামাহীন / অবিরাম

সাহারা পারায়ে → সাহারা মরুভূমি পেরিয়ে

খবুজ → শুকনো রুটি

মশক → পানির চামড়ার থলে / চামড়ার পানির বোতল

খোর্মা → খেজুর

প্রহরীবিহীন → পাহারাদার ছাড়া / একা

ভৃত্য → চাকর / দাস

পেরেশান → ক্লান্ত / বিপর্যস্ত / খুব কষ্টে

জিতিয়ে যাওয়া → এগিয়ে যাওয়া / আগে থাকা

রোজ-কিয়ামতে → শেষ বিচারের দিনে

জাঁহা → পৃথিবী / দুনিয়া

জওয়াব → উত্তর / জবাব

রসুল → নবি / রাসুল

প্রতিনিধি → প্রতিনিধি / হয়ে কথা বলা

পৃষ্ঠে → পিঠে / ওপরে

বন্দি’ বিশ্ববীণা → বাজছে সাজানো বিশ্ববীণা / সুর বেজে উঠছে

অনাগত কাল → আসবে যুগ / ভবিষ্যৎ সময়

সত্যব্রত → সত্যের পথে যার ব্রত / যিনি সত্য কথা বলেন

উদ্ধত → বেয়াদব / উদ্ধত সুরে

সিপাহ-সালারে → সেনাপতি / বাহিনীর প্রধান

ইঙ্গিতে → ইশারায় / সংকেতে

মামুলি সেনা → সাধারণ সেনা / ছোট সেনা

বিশ্ব-বিজয়ী বীর → যিনি বিশ্ব জয় করেছেন

মহত্ত্ব → বড়ত্ব / মহানতা

বিভাবরী → রাত / রজনি

উনানে → চুলার ওপর

অকূলে চায় → চারদিকে বিভ্রান্ত হয়ে তাকায়

বায়তুল-মাল → রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার / সঞ্চয়ের ঘর

ঘৃত → ঘি / খাবার তৈল

আটা → ময়দা / গমের গুঁড়া

পৃষ্ঠে → পিঠে / পেছনের দিকে

সোজা → সহজভাবে / সরাসরি

প্রায়শ্চিত্ত → পাপের প্রায়শ্চিত্ত / সংশোধন

নিশীথ রাতে → গভীর রাতে

আঙিনাতে → বাড়ির উঠানে / আঙ্গিনায়

কোমল প্রাণ → নরম হৃদয় / দয়ালু স্বভাব

করুণার বশে → দয়া করে / করুণা বশে

ন্যায় → ন্যায়বিচার / ঠিক

দোরা → বেত / চাবুক / বেত্রাঘাত

পাষাণে বক্ষ বাঁধি → পাষাণের মতো বুক বেঁধে / কঠোর হৃদয় নিয়ে

আবু শাহমা → হজরত উমরের পুত্রের নাম

গোরে → কবরে / মাজারে

খাস দরবার → বিশেষ দরবার / সভা

উৎসুক চোখে → আগ্রহী চোখে / কৌতূহল ভরা দৃষ্টিতে

পিরান কাচিয়া → জামা গেঁথে / ছেঁড়া জামা মেরামত করে

চীরধারী সম্রাট → ছেঁড়া কাপড় পরা সম্রাট / সাধারণ পোশাকধারী বাদশা

নান্দী পাঠ → প্রশংসাপাঠ / শুরুতে ছোট মঙ্গলগান

উমর ফারুক কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘উমর ফারুক’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।

প্রশ্ন ২: তিমির রাত্রিতে কবি কী শুনেন?
উত্তর: এশার আজান।

প্রশ্ন ৩: আজানের ধ্বনি কার কান্নার মতো?
উত্তর: প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো।

প্রশ্ন ৪: ‘আমির-উল-মুমেনিন’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: হজরত উমর (রা.)-কে।

প্রশ্ন ৫: কার স্মৃতি আজানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন?
উত্তর: উমরের স্মৃতি।

প্রশ্ন ৬: ‘তকবির’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আল্লাহু আকবার ধ্বনি।

প্রশ্ন ৭: তকবির শুনে কবি কী করেন?
উত্তর: শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসেন।

প্রশ্ন ৮: কবি বাতায়নে কী দেখতে চান?
উত্তর: গগনে মরুর শশী (উঠিয়াছে কি)।

প্রশ্ন ৯: ‘আখেরী নবি’ কে?
উত্তর: হজরত মুহাম্মদ (স.)।

প্রশ্ন ১০: নবিজির দক্ষিণ-বাহু কে ছিলেন?
উত্তর: উমর ফারুক।

প্রশ্ন ১১: ইসলাম-রবির জ্যোতি কীরকম হয়েছে?
উত্তর: দিনে দিনে বিমলিন।

প্রশ্ন ১২: উমর মুহম্মদের চরণে কী ফেলেছিলেন?
উত্তর: শমশের (তলোয়ার)।

প্রশ্ন ১৩: ‘পরশ-মানিক’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ইসলামকে।

প্রশ্ন ১৪: উমর কতটুকু পৃথিবী শাসন করেছিলেন?
উত্তর: অর্ধ পৃথিবী।

প্রশ্ন ১৫: উমরের প্রাসাদ কী দিয়ে তৈরি ছিল?
উত্তর: খেজুর পাতা দিয়ে।

প্রশ্ন ১৬: কোন ঝড়ে প্রাসাদ খসে পড়েছিল?
উত্তর: সাইমুম-ঝড়ে।

প্রশ্ন ১৭: রোদ্রদগ্ধ দূর মরুপথে উমর কোথায় যাচ্ছিলেন?
উত্তর: জেরুজালেমের কিল্লায়।

প্রশ্ন ১৮: দুর্গের দ্বার খোলার শর্ত কী ছিল?
উত্তর: উমর সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে।

প্রশ্ন ১৯: মরুপথে জেরুজালেমে যাওয়ার সময় তাঁর সাথে কয়জন ভৃত্য ছিল?
উত্তর: একজন মাত্র ভৃত্য।

প্রশ্ন ২০: মরুর সূর্য কী বর্ষণ করে?
উত্তর: আগুন বর্ষণ করে।

প্রশ্ন ২১: ভৃত্যকে ক্লান্ত দেখে উমর কী করলেন?
উত্তর: ভৃত্যকে উটে বসিয়ে নিজে রশি ধরলেন।

প্রশ্ন ২২: ভৃত্য উটের পৃষ্ঠে চড়লে উমর কী ধরলেন?
উত্তর: রশি।

প্রশ্ন ২৩: ‘মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া’ কে ধুলায় নামল?
উত্তর: শশী (উমরস্বভাব)।

প্রশ্ন ২৪: ‘সত্যব্রত’ বলে কে পরিচিত?
উত্তর: উমর।

প্রশ্ন ২৫: ‘মানুষ হইয়া মানুষের পূজা’ কীসের অপমান?
উত্তর: মানুষেরি অপমান।

প্রশ্ন ২৬: উমর কাকে ফরমান পাঠিয়েছিলেন?
উত্তর: মহাবীর খালেদকে।

প্রশ্ন ২৭: রাতের ভ্রমণে উমর কাদের দেখলেন?
উত্তর: ক্ষুধাতুর মা ও দুই শিশু।

প্রশ্ন ২৮: দুঃখিনী মাতা কী করছিল?
উত্তর: উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদছিল।

প্রশ্ন ২৯: উমর মদিনায় ছুটে গিয়ে কী আনলেন?
উত্তর: ঘৃত ও আটা।

প্রশ্ন ৩০: মদ্যপানের অপরাধে উমর কাকে শাস্তি দেন?
উত্তর: তাঁর পুত্র আবু শাহমাকে।

প্রশ্ন ৩১: ‘চীরধারী সম্রাট’ উপাধি কার?
উত্তর: হজরত উমরের।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩২: ‘তাপ’ ও ‘হস্ত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাপ অর্থ উত্তাপ ও হস্ত অর্থ হাত।

প্রশ্ন ৩৩: ‘পেরেশান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিপর্যস্ত বা ক্লান্ত।

প্রশ্ন ৩৪: ‘আমির-উল-মুমেনিন’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: বিশ্বাসীদের নেতা, হজরত উমর (রা.)-কে।

প্রশ্ন ৩৫: ‘মুয়াজ্জিন’ ও ‘তকবির’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুয়াজ্জিন অর্থ যিনি আজান দেন ও তকবির অর্থ ‘আল্লাহ’ ধ্বনি।

প্রশ্ন ৩৬: ‘আখেরি’ ও ‘পরশমণি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখেরি অর্থ শেষ ও পরশমণি অর্থ স্পর্শমণি।

প্রশ্ন ৩৭: ‘তখত’ ও ‘সাইমুম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তখত অর্থ সিংহাসন ও সাইমুম অর্থ মরুভূমির উত্তপ্ত ঝড়।

প্রশ্ন ৩৮: ‘মশক’ ও ‘দোরী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মশক অর্থ পানির চামড়ার থলে ও দোরী অর্থ চাবুক।

প্রশ্ন ৩৯: ‘চীর’ ও ‘পিরান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চীর অর্থ ছিন্ন বস্ত্র ও পিরান অর্থ জামা।

প্রশ্ন ৪০: ‘নান্দী’ ও ‘শমশের’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নান্দী অর্থ স্তুতি ও শমশের অর্থ তরবারি।

প্রশ্ন ৪১: উমর ফারুক ইসলামের কততম খলিফা?
উত্তর: দ্বিতীয় খলিফা।

প্রশ্ন ৪২: তাঁর খেলাফতের সময়কাল কত বছর?
উত্তর: দশ বছর (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ)।

প্রশ্ন ৪৩: ‘ফারুক’ উপাধির অর্থ কী?
উত্তর: যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন।

প্রশ্ন ৪৪: উমর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুসলমানরা কেন উচ্চৈঃস্বরে আজান দিতে সাহস পেত না?
উত্তর: কোরেশদের ভয়ে।

প্রশ্ন ৪৫: উমর কোন বংশের শ্রেষ্ঠ বীর ছিলেন?
উত্তর: কোরেশ বংশের।

প্রশ্ন ৪৬: উমর ইসলাম গ্রহণের পর কী সম্ভব হয়?
উত্তর: প্রকাশ্যে আজান দেওয়া।

প্রশ্ন ৪৭: জেরুজালেম কোন দেশের প্রাচীন শহর?
উত্তর: ফিলিস্তিনের।

প্রশ্ন ৪৮: আবু শাহমা কে?
উত্তর: হজরত উমরের পুত্র।

প্রশ্ন ৪৯: আবু শাহমার কী অপরাধ ছিল?
উত্তর: মদ্যপান।

প্রশ্ন ৫০: উমর পুত্রকে কতগুলি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন?
উত্তর: ৮০টি।

প্রশ্ন ৫১: বেত্রাঘাতের ফলে আবু শাহমার কী হয়?
উত্তর: মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন ৫২: ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘জিঞ্জীর’ কাব্য থেকে।

প্রশ্ন ৫৩: কবিতায় হজরত উমরের কোন দিকগুলো ফুটে উঠেছে?
উত্তর: জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা ও সাম্যবাদ।

প্রশ্ন ৫৪: উমরের চরিত্রে কীসের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল?
উত্তর: বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদ।

প্রশ্ন ৫৫: বিশাল রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি কীরকম জীবনযাপন করেছেন?
উত্তর: সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর।

প্রশ্ন ৫৬: তিনি নিজ ভৃত্যকে কীরকম মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: সমান মর্যাদা।

প্রশ্ন ৫৭: ন্যায়ের আদর্শ সমুন্নত রাখতে তিনি কী করতে দ্বিধাবোধ করেননি?
উত্তর: নিজ সন্তানকে কঠোর শাস্তি দিতে।

প্রশ্ন ৫৮: রাসুলুল্লাহ (স.) উমর সম্পর্কে কী বলেছিলেন?
উত্তর: ‘মোর পরে যদি নবি হত কেউ, হত সে এক উমর।’

প্রশ্ন ৫৯: কবি উমর ফারুককে কীসের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন?
উত্তর: মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্রের।

প্রশ্ন ৬০: ‘উমর ফারুক’ কবিতার মূল বিষয় কী?
উত্তর: হজরত উমরের আদর্শ ও মানবিকতাময় চরিত্র।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৬১: কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত তারিখে?
উত্তর: ২৪শে মে ১৮৯৯ (১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬)।

প্রশ্ন ৬২: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।

প্রশ্ন ৬৩: ছেলেবেলায় তিনি কোন দলে যোগ দেন?
উত্তর: লেটো গানের দলে।

প্রশ্ন ৬৪: কাজী নজরুল ইসলাম কোন স্কুলে লেখাপড়া করেন?
উত্তর: দরিরামপুর হাই স্কুলে।

প্রশ্ন ৬৫: তিনি কত খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন?
উত্তর: ১৯১৭ সালে।

প্রশ্ন ৬৬: তিনি কোন পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান?
উত্তর: বাঙালি পল্টনে।

প্রশ্ন ৬৭: কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-জীবনের সূচনা কোথায় হয়?
উত্তর: করাচিতে।

প্রশ্ন ৬৮: কাজী নজরুল ইসলাম কত বছর বয়সে বাকশক্তি হারান?
উত্তর: তেতাল্লিশ বছর।

প্রশ্ন ৬৯: তিনি কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?
উত্তর: দুরারোগ্য রোগে।

প্রশ্ন ৭০: বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে কোথায় আনা হয়?
উত্তর: ঢাকায়।

প্রশ্ন ৭১: তাঁকে কী মর্যাদায় ভূষিত করা হয়?
উত্তর: স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায়।

প্রশ্ন ৭২: ‘বিষের বাঁশি’ ও ‘ছায়ানট’ কার রচনা?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের।

প্রশ্ন ৭৩: ‘প্রলয়শিখা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৭৪: ‘চক্রবাক’ ও ‘সিন্ধুহিন্দোল’ কার কাব্য?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের।

প্রশ্ন ৭৫: ‘রিক্তের বেদন’ ও ‘শিউলিমালা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: গল্প ও উপন্যাস।

প্রশ্ন ৭৬: ‘মৃত্যুক্ষুধা’ ও ‘কুহেলিকা’ কার রচনা?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের।

প্রশ্ন ৭৭: ‘দুর্দিনের যাত্রী’ ও ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: প্রবন্ধগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৭৮: নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট।

প্রশ্ন ৭৯: কাজী নজরুল ইসলামে কোথায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন?
উত্তর: ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়)।

প্রশ্ন ৮০: তাঁকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে।

Leave a Comment