Table of Contents
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার মূল কথা
মূলভাবঃ সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় একজন নীরব উদাসীন কবির সাথে কবিভক্তের সংলাপের মাধ্যমে বেদনা ও বিষণ্ণতার চিত্র ফুটে উঠেছে। কবিভক্ত কবিকে জিজ্ঞাসা করেন, ফাগুন এসে গেলেও তিনি কেন নীরব আছেন এবং বসন্ত বন্দনা করে তাকে বরণ করে নিচ্ছেন না। তিনি জানতে চান, দক্ষিণের দরজা খুলে গেছে কি না, বাতাবি নেবুর ফুল ও আমের মুকুল ফুটেছে কি না। কবি উদাসীন কণ্ঠে বলেন, তিনি কিছুই দেখেননি। কবিভক্ত আবার জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর নব পুষ্পসাজ কোথায়। কবি দূরে তাকিয়ে বলেন, অলখ সমুদ্র পেরিয়ে কোনো তরী এসেছে কি না, আগমনী গান বেজেছে কি না? তিনি কাউকে ডাকতে শুনলেও সন্ধান রাখেননি। কবিভক্তের অনুরোধে কবি মৃদুকণ্ঠে বলেন, এবার না হলেই হলো। কবিভক্ত অভিমান করে বসন্তকে বৃথা করা হয়েছে বলে অনুযোগ করেন। কিন্তু কবি হেলায় বলেন, গাছে ফুল ফুটেছে, ঋতুরাজ পুষ্পারতি পেয়েছেন, মাধবী কুঁড়িতে গন্ধ আছে, কাজেই বসন্ত বৃথা যায়নি। তবে কেন বসন্তের প্রতি কবির এত বিমুখতা? শেষে কবি বলেন, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঘের সন্ন্যাসী ফুলশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হাতে চলে গেছেন; সেই শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা তিনি ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত এলেও তাঁর মন উদাসীন ও নীরব। কবির ব্যক্তিজীবনে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর শোক এই বেদনার পেছনে কাজ করছে।
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার শব্দার্থ
নীরব → চুপ / কথা না বলা / নিঃশব্দ
ফাগুন → বাংলা মাস ফাল্গুন / বসন্তকাল
ধরায় → পৃথিবীতে / ভূতলে
বন্দনায় → প্রশংসাগানে / স্তুতিগানে
স্নিগ্ধ আঁখি → মায়াবী চোখ / সজল চোখ
দক্ষিণ দুয়ার → দক্ষিণের দরজা / দক্ষিণ দিকের পথ
বাতাবি নেবু → একটি লেবুজাতীয় ফল / জামিরজাতীয় ফল
মুকুল → কুঁড়ি
দখিনা সমীর → দক্ষিণের বাতাস
অধীর আকুল → ব্যাকুল / খুব উৎসুক / অস্থির
উন্মনা → অস্থিরচিত্ত / মন অস্থির হয়েছে এমন / উদাসীন
নব পুষ্পসাজ → নতুন ফুলের সাজ / নতুন ফুলের অলংকার
সুদূরে চাহিয়া → অনেক দূরে তাকিয়ে
অলখ → অলক্ষ / যা চোখে দেখা যায় না
পাথার → সমুদ্র / সাগর
তরী → নৌকা / জাহাজ
আগমনী গান → আগমনের সংগীত / স্বাগত গান
সন্ধান → খোঁজ / সংবাদ
মিনতি → অনুরোধ / বিনয়ী আবেদন
মৃদু মধু-স্বরে → মিষ্টি কণ্ঠে / আস্তে ও মধুর গলায়
বরিয়া → বরণ করে / ডেকে এনে
স্মরিয়া → স্মরণ করে / মনে করে
অভিমান → মান / রাগ / ঔদ্ধত্য
হেলায় → অনায়াসে / খুব সহজে / তাচ্ছিল্য করে
পুষ্পারতি → ফুলের বন্দনা / ফুল নিবেদন
লভেনি → পায়নি / লাভ করেনি
ঋতুর রাজন → ঋতুরাজ বসন্ত
মাধবী → বাসন্তী লতা / এক ধরনের ফুল
অর্ঘ্য বিরচন → উপহার রচনা / অঞ্জলি দেওয়া
তীব্র বিমুখতা → তীব্র বিরক্তি / খুব উল্টো মনোভাব
উপেক্ষায় → না-মানি / অবহেলা করে
বিমুখতা → মুখ ফিরিয়ে নেওয়া / অনিহা
কুহেলি → কুয়াশা
উত্তরী → চাদর / উত্তরীয়
সন্ন্যাসী → সাধু / যে সংসার ত্যাগ করেছে
পুষ্পশূন্য → ফুলহীন
দিগন্তের পথে → দিগন্তের দিকে / দূরের পথে
রিক্ত হস্তে → শূন্য হাতে
কোনো মতে → যেকোনো উপায়ে / কিছুতেই
নীরব কেন → চুপ করে আছ কেন
সুদূরে → অনেক দূরে
বৃথাই → মিথ্যা / ব্যর্থ
বিমুখতা → মুখ ফিরিয়ে থাকা
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: সুফিয়া কামাল।
প্রশ্ন ২: কবি কোন ঋতু এসেছে বলে জানিয়েছেন?
উত্তর: ফাগুন (বসন্ত)।
প্রশ্ন ৩: কবিভক্ত কবিকে কী করতে বলেছেন?
উত্তর: বসন্তকে বরণ করে নিতে।
প্রশ্ন ৪: কবিভক্ত জানতে চেয়েছেন, কোন দরজা খুলে গেছে কি না?
উত্তর: দক্ষিণের দরজা।
প্রশ্ন ৫: বাতাবি নেবুর কী ফুটেছে বলে জানতে চাওয়া হয়েছে?
উত্তর: ফুল।
প্রশ্ন ৬: কোন ফলের মুকুল ফুটেছে জানতে চাওয়া হয়েছে?
উত্তর: আমের মুকুল।
প্রশ্ন ৭: দখিনা সমীর কীসে অধীর আকুল হয়েছে?
উত্তর: গন্ধে গন্ধে।
প্রশ্ন ৮: কবি আজ কেমন আছেন বলে কবিভক্ত বলেছেন?
উত্তর: উন্মনা।
প্রশ্ন ৯: কবিভক্ত কবির ‘নব পুষ্পসাজ’ কোথায় বলে প্রশ্ন করেছেন?
উত্তর: কোথায়।
প্রশ্ন ১০: কবি কোনদিকে চেয়ে উত্তর দেন?
উত্তর: সুদূরে চেয়ে।
প্রশ্ন ১১: ‘অলখের পাথার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অলক্ষ সমুদ্র।
প্রশ্ন ১২: কবি কী বেজেছে কি না জানতে চেয়েছেন?
উত্তর: আগমনী গান।
প্রশ্ন ১৩: কবি কার ডাক শুনেননি বলে বলেছেন?
উত্তর: বসন্তের ডাক।
প্রশ্ন ১৪: কবিভক্ত কবির কাছে কী শুনতে চান?
উত্তর: বসন্ত-বন্দনা গান।
প্রশ্ন ১৫: কবি কোন স্বরে উত্তর দেন?
উত্তর: মৃদু মধু-স্বরে।
প্রশ্ন ১৬: কবি ‘নাই হলো, না হোক এবারে’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বসন্তবন্দনা গান লেখার জন্য।
প্রশ্ন ১৭: কবি বলেন, যে তাঁকে গান গাইতে বলেছে সে কী করেছে?
উত্তর: ভুলেনি, ফাগুনে স্মরণ করেছে।
প্রশ্ন ১৮: কবিভক্ত কবির কী হয়েছে বলে মনে করেন?
উত্তর: অভিমান হয়েছে।
প্রশ্ন ১৯: কবি বলেন, ফাগুন বেলায় শাখায় কী ফোটেনি?
উত্তর: ফুল।
প্রশ্ন ২০: ‘পুষ্পারতি’ কার কাছে পৌঁছেছে বলে কবি জানান?
উত্তর: ঋতুরাজের কাছে।
প্রশ্ন ২১: মাধবী কুঁড়ির বুকে কী আছে?
উত্তর: গন্ধ।
প্রশ্ন ২২: কবিভক্ত কবির কোন মনোভাবের কথা জানতে চান?
উত্তর: বসন্তের প্রতি তীব্র বিমুখতা।
প্রশ্ন ২৩: ‘কুহেলি উত্তরী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কুয়াশার চাদর।
প্রশ্ন ২৪: মাঘের সন্ন্যাসী কোথায় চলে গেছে?
উত্তর: পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে।
প্রশ্ন ২৫: মাঘের সন্ন্যাসী কী হাতে চলে গেছে?
উত্তর: রিক্ত হস্তে (শূন্য হাতে)।
প্রশ্ন ২৬: কবি কার কথা ভুলতে পারেন না?
উত্তর: মাঘের সন্ন্যাসীর কথা।
প্রশ্ন ২৭: কবি কোন ঋতুর বিদায়ের বেদনা ভুলতে পারছেন না?
উত্তর: শীতের।
প্রশ্ন ২৮: কবির মন বসন্তে সাড়া দেয় না কেন?
উত্তর: শীতের করুণ বিদায়ের বেদনায়।
শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ২৯: ‘হে কবি’ সম্বোধনটি কে করেছেন?
উত্তর: কবিভক্ত।
প্রশ্ন ৩০: ‘ফাগুন যে এসেছে ধরায়’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পৃথিবীতে বসন্তের আবির্ভাব ঘটেছে।।
প্রশ্ন ৩১: ‘দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?’ অর্থ কি?
উত্তর: বসন্তের দখিনা বাতাস বইতে শুরু করেছে কি না জানতে চাওয়া।
প্রশ্ন ৩২: বসন্তের আগমনে দখিনা বাতাস কীরকম হয়?
উত্তর: বাতাবি লেবুর ফুল ও আমের মুকুলের গন্ধে অধীর আকুল হয়।
প্রশ্ন ৩৩: ‘অলখ’ ও ‘পাথার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অলখ অর্থ অলক্ষ (দৃষ্টির অগোচরে) এবং পাথার অর্থ সমুদ্র।
প্রশ্ন ৩৪: ‘করিলে বৃথাই’ কথাটি কে, কাকে বলেছেন?
উত্তর: কবিভক্ত কবিকে বলেছেন।
প্রশ্ন ৩৫: ‘পুষ্পারতি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ফুলেল বন্দনা বা নিবেদন।
প্রশ্ন ৩৬: ‘মাধবী’ ও ‘অর্ঘ্য বিরচন’ শব্দদুটির অর্থ কী?
উত্তর: মাধবী অর্থ বাসন্তী লতা ও অর্ঘ্য বিরচন অর্থ অঞ্জলি বা উপহার রচনা।
প্রশ্ন ৩৭: ‘কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন, যে কুয়াশার চাদর পরে আছে।
প্রশ্ন ৩৮: ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম কবে ও কোথায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায়।
প্রশ্ন ৩৯: কবির ব্যক্তিজীবনের কোন ঘটনা এই কবিতাকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু (১৯৩২)।
প্রশ্ন ৪০: গঠনরীতির দিক থেকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এটি সংলাপনির্ভর রচনা (নাটকীয়তা)।
কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন ৪১: সুফিয়া কামাল কোন ক্ষেত্রের অন্যতম পথিকৃৎ?
উত্তর: নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
প্রশ্ন ৪২: সুফিয়া কামালের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে জুন।
প্রশ্ন ৪৩: সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বরিশালে।
প্রশ্ন ৪৪: সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
উত্তর: কুমিল্লায়।
প্রশ্ন ৪৫: সুফিয়া কামালের পিতার নাম কী?
উত্তর: সৈয়দ আবদুল বারী।
প্রশ্ন ৪৬: সুফিয়া কামালের মায়ের নাম কী?
উত্তর: সাবেরা বেগম।
প্রশ্ন ৪৭: সুফিয়া কামালের জন্মকালে বাঙালি মুসলমান নারীদের কীভাবে কাটাতে হতো?
উত্তর: গৃহবন্দি জীবন।
প্রশ্ন ৪৮: সুফিয়া কামাল কে কী সম্ভাষণে ভূষিত করা হয়?
উত্তর: জননী সম্ভাষণে।
প্রশ্ন ৪৯: ‘মায়া কাজল’ কার রচনা?
উত্তর: সুফিয়া কামালের।
প্রশ্ন ৫০: ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন ৫১: সুফিয়া কামাল কোন কোন পুরস্কার পেয়েছেন?
উত্তর: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, উদ্দীন স্বর্ণপদক।
প্রশ্ন ৫২: সুফিয়া কামাল কোন পদক পেয়েছিলেন?
উত্তর: উদ্দীন স্বর্ণপদক।
প্রশ্ন ৫৩: সুফিয়া কামালের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে নভেম্বর।
প্রশ্ন ৫৪: সুফিয়া কামাল কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঢাকায়।
প্রশ্ন ৫৫: কোন প্রতিকূল পরিবেশে তিনি শিক্ষিত হয়েছিলেন?
উত্তর: নারীদের গৃহবন্দি থাকার পরিবেশে।
প্রশ্ন ৫৬: সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের কী হিসেবে বিশেষ পরিচিত?
উত্তর: বিশিষ্ট মহিলা কবি ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ।