প্রতিদান কবিতা: মূল কথা, গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রতিদান কবিতার মূল কথা

মূলভাবঃ জসীমউদ্দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি প্রতিশোধের পরিবর্তে ভালোবাসার মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়ার কথা বলেছেন। যিনি তাঁর ঘর ভেঙেছেন, তিনি নিজে সেই ঘর বাঁধতে চান। যিনি তাঁকে পর করে দিয়েছেন, তাকে আপন করার জন্য তিনি কাঁদছেন। যিনি তাঁকে পথের বিরাগী করেছেন, সেই বিরাগীর জন্যই তিনি পথে পথে ঘুরছেন। দীর্ঘ রাত জেগে তিনি সেই ব্যক্তির জন্যই জেগে থাকেন, যে তাঁর ঘুম হরণ করেছে। যিনি তাঁর কূল ভেঙেছেন, কবি সেই ব্যক্তির কূল বাঁধতে চান। যে বুকেতে আঘাত হেনেছে, তার জন্যই কবি কাঁদছেন। যে তাঁকে বিষে ভরা বাণ দিয়েছে, কবি তাকে বুকভরা গান দিতে চান। যার কাছ থেকে কাঁটা পেয়েছেন, তাকে তিনি ফুল দান করতে চান। যিনি তাঁর বুকে কবর বেঁধেছেন, কবি সেই ব্যক্তির বুক রঙিন ফুলের মালঞ্চে ভরতে চান। যে মুখে নিঠুর বাণী বলে, কবি সেই মুখখানি লালন করতে চান। কবি সারা জীবন অনিষ্টকারীর জন্য সুন্দর সামগ্রী সংগ্রহ করে সাজাতে চান। কবি বিশ্বাস করেন, ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ করা যায়। এই কবিতায় প্রতিহিংসার পরিবর্তে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। পরার্থপরতার মধ্যেই মানুষের প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত বলে কবি মনে করেন।

প্রতিদান কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

প্রতিদান → বিনিময় / কারও উপকারের বিপরীতে উপকার করা / ভালোর বদলে ভালো দেওয়া

বাঁধি → তৈরি করি / গড়ে তুলি

আপন করিতে → নিজের করে নিতে / আপন করতে

বিরাগী → বিরক্ত / উচ্ছন্ন / যে পছন্দ করে না

দীঘল রজনী → দীর্ঘ রাত / লম্বা রাত

হরেছে → কেড়ে নিয়েছে / নষ্ট করেছে

কূল → তীর / পাড় / আশ্রয় / ঠাঁই

আঘাত হানিয়া → আঘাত করে / মেরে

বাণ → তীর / কথা / বচন

নিঠুরিয়া বাণী → নিষ্ঠুর কথা / কঠোর বচন

বুক ভরি → বুক ভরতি / মনের ভেতর

সোহাগ-জড়ান → আদর মেশানো / স্নেহমাখা

মালঞ্চ → ফুলের বাগান / ফুলের ছাউনি

নিঠুরিয়া → নিষ্ঠুর / নির্দয়

বিপরীতে → উল্টো দিকে / বদলে

সার্থকতা → সফলতা / অর্থপূর্ণতা

নিহিত → লুকিয়ে আছে / অবস্থিত

প্রতিহিংসা → শোধ নেওয়া / বদলা নেওয়া

প্রীতিময় → ভালোবাসাপূর্ণ / প্রেমময়

পরার্থপরতা → অন্যের উপকার করাই যার কাজ / পরোপকার

আকাঙ্ক্ষা → ইচ্ছা / আশা / কামনা

অনিষ্টকারী → যার থেকে ক্ষতি হয় / যে খারাপ করে

উপকার → ভালো করা / সাহায্য করা

বাসযোগ্য → থাকার উপযোগী / বসবাসের যোগ্য

প্রতিদান কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘প্রতিদান’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: জসীমউদ্দীন।

প্রশ্ন ২: যিনি কবির ঘর ভেঙেছেন, কবি তার কী করবেন?
উত্তর: কবি তার ঘর বাঁধবেন।

প্রশ্ন ৩: যিনি কবিকে পর করেছেন, তাকে কবি কী করতে চান?
উত্তর: আপন করতে চান।

প্রশ্ন ৪: যিনি কবিকে পথের বিরাগী করেছেন, কবি কোথায় ঘুরছেন?
উত্তর: পথে পথে ঘুরছেন।

প্রশ্ন ৫: কবি কার জন্য দীর্ঘ রাত জেগে থাকেন?
উত্তর: তার জন্য যিনি তাঁর ঘুম হরণ করেছেন।

প্রশ্ন ৬: যিনি কবির কূল ভাঙিয়েছেন, কবি কী করবেন?
উত্তর: কবি তার কূল বাঁধবেন।

প্রশ্ন ৭: যিনি বুকেতে আঘাত হেনেছেন, তার জন্য কবি কী করেন?
উত্তর: কাঁদেন।

প্রশ্ন ৮: যিনি কবিকে বিষে ভরা বাণ দিয়েছেন, কবি তাকে কী দেন?
উত্তর: বুকভরা গান দেন।

প্রশ্ন ৯: কাঁটা পেয়ে কবি কী দান করেন?
উত্তর: ফুল দান করেন।

প্রশ্ন ১০: ‘বিষে-ভরা বাণ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কষ্টদায়ক ও বিদ্বেষপূর্ণ কথা।

প্রশ্ন ১১: যিনি কবির বুকে কবর বেঁধেছেন, কবি তার বুক কী দিয়ে ভরতে চান?
উত্তর: রঙিন ফুলের মালঞ্চ দিয়ে।

প্রশ্ন ১২: ‘সোহাগ-জড়ান ফুল মালঞ্চ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আদর ও স্নেহমাখা ফুলের বাগান।

প্রশ্ন ১৩: যে মুখ নিঠুরিয়া বাণী বলে, কবি সেই মুখখানি কী করেন?
উত্তর: লালন করেন / সাজান।

প্রশ্ন ১৪: কবি কাদের জন্য নানা জিনিস সংগ্রহ করে সাজান?
উত্তর: অনিষ্টকারীদের জন্য।

প্রশ্ন ১৫: ‘সারাটি জনম-ভর’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সারা জীবন ধরে।

প্রশ্ন ১৬: কবি কাকে ‘আপন করিতে’ কাঁদেন?
উত্তর: যিনি তাঁকে পর করেছেন, তাকে।

প্রশ্ন ১৭: ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।

প্রশ্ন ১৮: এই কবিতায় কবি কীসের বিপরীতে ভালোবাসার কথা বলেছেন?
উত্তর: প্রতিহিংসার বিপরীতে।

প্রশ্ন ১৯: কবি অনিষ্টকারীকে কী দিতে চান?
উত্তর: ভালোবাসা ও ফুল।

প্রশ্ন ২০: কবি কার লাগি পথে পথে ফিরেন?
উত্তর: যিনি পথের বিরাগী করেছেন, তার লাগি।

প্রশ্ন ২১: অনিষ্টকারীর বুকে কবি কী ধরি বলেছেন?
উত্তর: ফুল মালঞ্চ ধরি।

প্রশ্ন ২২: কবি কোন কাজটিকে ‘প্রতিদান’ হিসেবে দেখিয়েছেন?
উত্তর: অনিষ্টকারীর উপকার করাকে।

প্রশ্ন ২৩: ‘প্রতিদান’ কবিতায় কোন মনোভাবের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: পরার্থপরতার।

প্রশ্ন ২৪: কবি কীভাবে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে চান?
উত্তর: ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে।

প্রশ্ন ২৫: কাদের হাতে ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী গড়ে ওঠে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: ভালোবাসাপূর্ণ মানুষদের হাতে।

প্রশ্ন ২৬: ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভাব কী?
উত্তর: অনিষ্টকারীকেও ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদান দেওয়া।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২৭: ‘যেবা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যে বা যিনি।

প্রশ্ন ২৮: ‘বিরাগী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নিস্পৃহ বা উদাসীন।

প্রশ্ন ২৯: ‘দীঘল রজনী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দীর্ঘ রাত।

প্রশ্ন ৩০: ‘ঘুম যে হরেছে’ কথাটি দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

প্রশ্ন ৩১: ‘বিষে-ভরা বাণ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কটু কথা বা হিংসাত্মক ভাষা।

প্রশ্ন ৩২: ‘সোহাগ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আদর বা ভালোবাসা।

প্রশ্ন ৩৩: ‘মালঞ্চ’ কী?
উত্তর: ফুলের বাগান।

প্রশ্ন ৩৪: ‘নিঠুরিয়া’ শব্দটির অর্থ লেখ।
উত্তর: নিষ্ঠুর বা নির্দয়।

প্রশ্ন ৩৫: ‘কূল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তীর বা আশ্রয়।

প্রশ্ন ৩৬: ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩৭: জসীমউদ্দীনের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি।

প্রশ্ন ৩৮: জসীমউদ্দীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে (মাতুলালয়ে)।

প্রশ্ন ৩৯: জসীমউদ্দীনের পিতার নাম কী?
উত্তর: আনসারউদ্দীন মোল্লা।

প্রশ্ন ৪০: জসীমউদ্দীনের মায়ের নাম কী?
উত্তর: আমিনা খাতুন।

প্রশ্ন ৪১: জসীমউদ্দীনের পৈত্রিক নিবাস কোথায়?
উত্তর: ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে।

প্রশ্ন ৪২: ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে তিনি কী কী পাস করেন?
উত্তর: আইএ ও বিএ পাস করেন।

প্রশ্ন ৪৩: জসীমউদ্দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

প্রশ্ন ৪৪: কোন কবিতা রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন?
উত্তর: ‘কবর’ কবিতা রচনা করে।

প্রশ্ন ৪৫: ‘কবর’ কবিতাটি কোন অবস্থায় পাঠ্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তর: ছাত্রাবস্থায়।

প্রশ্ন ৪৬: জসীমউদ্দীন কী হিসেবে সমধিক পরিচিত?
উত্তর: ‘পল্লি-কবি’ হিসেবে।

প্রশ্ন ৪৭: কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কোথায় অধ্যাপনা করেন?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রশ্ন ৪৮: জসীমউদ্দীনের কবিতার প্রধান উপজীব্য কী?
উত্তর: পল্লিজীবন।

প্রশ্ন ৪৯: জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?
উত্তর: নকসী কাঁথার মাঠ।

প্রশ্ন ৫০: ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কার রচনা?
উত্তর: জসীমউদ্দীনের।

প্রশ্ন ৫১: ‘ধানখেত’ কার কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর: জসীমউদ্দীনের।

প্রশ্ন ৫২: জসীমউদ্দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি পান?
উত্তর: কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

প্রশ্ন ৫৩: জসীমউদ্দীনের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ।

প্রশ্ন ৫৪: জসীমউদ্দীন কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঢাকায়।

প্রশ্ন ৫৫: জসীমউদ্দীন কোন কলেজে অধ্যয়নকালে ‘কবর’ কবিতা রচনা করেন?
উত্তর: ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে।

প্রশ্ন ৫৬: জসীমউদ্দীনের কবিতায় কোন জীবনের আবহ ফুটে উঠেছে?
উত্তর: বাংলার গ্রামীণ জীবনের আবহ।

প্রশ্ন ৫৭: ‘পল্লি-কবি’ উপাধিতে কে ভূষিত?
উত্তর: জসীমউদ্দীন।

Leave a Comment