ঋতু বর্ণন কবিতা: মূল বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

ঋতু বর্ণন কবিতার মূল বিষয়

মূলভাবঃ আলাওলের “ঋতু বর্ণন” কবিতায় আমাদের দেশের ছয়টি ঋতুর বিভিন্ন রূপ খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কবি প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য এবং মানুষের অনুভূতির মধ্যে সম্পর্ক দেখিয়েছেন। বসন্তে নতুন পাতা আর ফুল ফোটে, বাতাসে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে, ভ্রমরের গুঞ্জন আর কোকিলের গান মানুষের মনকে প্রেমময় করে তোলে। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদে প্রকৃতি শুকিয়ে যায়, মানুষ ছায়ায় আশ্রয় খোঁজে, তবে চন্দন আর দখিনা বাতাসে কিছুটা শান্তি মেলে। বর্ষায় মেঘ গর্জন করে, বৃষ্টি ঝরে সবকিছু ভিজিয়ে দেয়, আর মল্লারের সুর আর দাদুরী শিখীনি রব মানুষের মনে আনন্দ এবং প্রেমের অনুভূতি জাগায়। শরতে আকাশ পরিষ্কার হয়, ফুলেরা রঙিন হয়ে উঠে, আর খঞ্জন পাখির নাচে প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পায়। হেমন্তে শীতের শুরু, পুষ্পতুল্য তাম্বুল চিবিয়ে মানুষ আনন্দ পায়। শীতের ত্রাসে সূর্য দ্রুত অস্ত যায়, রাত দীর্ঘ হয়ে যায়, আর দম্পতিদের জন্য এই সময়টা একেবারে সুখের হয়। কাফুর, কস্তুরী আর আলতার গন্ধে প্রেম এবং আবেগের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কবি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মানুষের মনের অনুভূতির সাথে এমনভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন যে, পুরো কবিতাটি যেন প্রকৃতির রূপ এবং মানুষের আবেগের এক সুন্দর সমাহার।

ঋতু বর্ণন কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

  • সুমাধব → উত্তম বসন্তকাল / ভালো বসন্ত ঋতু
  • মলয়া সমীর → দক্ষিণের মিষ্টি বাতাস
  • কামের পদাতি → প্রেমের দূত / কামদেবের সৈনিক
  • বনস্পতি → যে গাছে শুধু ফল হয় (ফুল হয় না), যেমন: বট, অশ্বত্থ
  • কিংশুক → পলাশ ফুল
  • সুরঙ্গ → সুন্দর রং
  • মল্লি → বেলি ফুল
  • লবঙ্গ → এক ধরনের ফুল ও মশলা
  • গুলাল → ফাগ / আবির (হোলির রং)
  • ঝঙ্কার → ভোমরার গুঞ্জন / বাজনার শব্দ
  • নিদাঘ → গরমকাল / গ্রীষ্ম
  • সরণ → আশ্রয় / ঠাঁই
  • বরিষে → বৃষ্টি পড়ে
  • পূরিত → ভরা / পূর্ণ
  • কৈলাস → শিবের বাড়ি / হিমালয়ের এক অংশ
  • মল্লার → মালহার রাগ (গানের সুর)
  • দাদুরী → মাদি ব্যাঙ
  • শিখিনী → ময়ূরী
  • চামর → চামর গরুর লেজের পাখা
  • খঞ্জন → দোয়েল জাতীয় একটি চঞ্চল পাখি
  • উপজিত → জন্ম নেওয়া / সৃষ্টি হওয়া
  • তাম্বুল → পান (সুপারি, চুন, খয়ের সহিত)
  • কাফুর → কর্পূর (সাদা সুগন্ধি দ্রব্য)
  • কম্ভরী → কস্তুরী / মৃগনাভি
  • চুয়া → এক ধরনের সুগন্ধি নির্যাস
  • যাবক → আলতা (পায়ে দেওয়ার রঙ)
  • নবীন পল্লব → নতুন পাতা / কচি পাতা
  • মুকুলিত → কুঁড়িতে ভরা / মুকুলিত হওয়া
  • সঘন → ঘন হয়ে আছে / অনেক বেশি
  • বাঙ্কার → বাঁকা ডাক / মিষ্টি কুজন
  • কলরব → মিষ্টি আওয়াজ / কাকলি
  • অনুভব → অনুভূতি / মনের ভাব
  • বিচিত্র বসন → নানা রঙের পোশাক
  • চন্দন চৰ্চিত → চন্দন লেপা / চন্দন গায়ে মেখে
  • প্রচণ্ড তপন → প্রখর রোদ / তীব্র গরম
  • রৌদ্র ত্রাসে → রোদের ভয়ে
  • পাবন সময় → বর্ষাকাল / সাবান মাস (শ্রাবণ)
  • ঘন গরজিত → মেঘের গর্জন
  • নির্ভয়ে বরিষে → নির্ভয়ে বৃষ্টি পড়ে
  • ঘোর শব্দে → গম্ভীর আওয়াজে
  • রাগ গাত্র → রাগ গাওয়া / সুর তোলা
  • অতি মন ভাএ → খুব মনের ভাব জাগে
  • কীটকুল → পোকামাকড়ের দল
  • ঝঙ্কারে ঝঙ্কারে → গুঞ্জনে গুঞ্জনে / ডেকে ডেকে
  • হরষিত → আনন্দিত
  • ডরে → ভয়ে (এখানে রোমাঞ্চ বোঝাতে পারে)
  • শারদ ঋতু → শরৎকাল
  • নির্মল আকাশে → পরিষ্কার আকাশে
  • দোলায় চামর → চামর পাখা দোলানো
  • কেশ → চুল
  • কুসুম বিকাশে → ফুল ফোটে
  • নবীন খঞ্জন → নতুন খঞ্জন পাখি
  • বড়ই কৌতুক → খুব মজা
  • উপজিত যামিনী → রাত উপস্থিত হয়েছে
  • দম্পতি → স্বামী-স্ত্রী
  • প্রবেশে হেমন্ত ঋতু → হেমন্তকাল আসে
  • শীত অতি যায় → খুব শীত পড়ে
  • পুষ্প তুল্য তাম্বুল → ফুলের মতো পান
  • অধিক সুখ হয় → খুব ভালো লাগে
  • শীতের তরাসে → শীতের ভয়ে
  • রবি → সূর্য
  • তুরিতে লুকায় → তাড়াতাড়ি লুকায়
  • অতি দীর্ঘ সুখ নিশি → খুব লম্বা রাত
  • পলকে পোহায় → এক পলকেই শেষ হয়
  • পুষ্প শয্যা ভেদ ভুলি → ফুলের বিছানার পার্থক্য ভুলে গিয়ে
  • বিচিত্র বসন → নানা রঙের পোশাক
  • উরে উরে এক হৈলে → বুকে বুকে মিলিত হয়ে
  • শীত নিবারণ → শীত দূর হয়
  • সৌরভ → সুগন্ধ
  • চিত্তেত চেতন অনুভব → মনে গভীর অনুভূতি জাগে

ঋতু বর্ণন কবিতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (জ্ঞানমূলক)

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: বসন্ত ঋতুকে কবি কী বিশেষণে ভূষিত করেছেন?
উত্তর: বসন্ত ঋতুকে কবি ‘নবীন পল্লব’ বিশেষণে ভূষিত করেছেন।

প্রশ্ন ২: ‘সুমাধব’ শব্দটির অর্থ লেখ।
উত্তর: ‘সুমাধব’ শব্দের অর্থ উত্তম বসন্তকাল।

প্রশ্ন ৩: মলয়া সমীর কার পদাতি হয়েছিল?
উত্তর: মলয়া সমীর কামদেবের পদাতি (সংবাদবাহক) হয়েছিল।

প্রশ্ন ৪: ‘মুকুলিত কৈল’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘মুকুলিত কৈল’ বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে বৃক্ষ ও বনস্পতি কুড়িতে ভরে গিয়েছিল।

প্রশ্ন ৫: ‘বনস্পতি’ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে বৃক্ষে ফুল ধরে না, শুধু ফল হয়, তাকে বনস্পতি বলে; যেমন— বট, অশ্বত্থ।

প্রশ্ন ৬: কোন ফুল বনকে লাল করে তুলেছিল?
উত্তর: কিংশুক (পলাশ) ফুল বনকে লাল করে তুলেছিল।

প্রশ্ন ৭: কবিতায় উল্লিখিত সুগন্ধি ফুলগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: সুরঙ্গ মল্লি (বেলি), লবঙ্গ ও চম্পক।

প্রশ্ন ৮: ‘গুলাল’ কী?
উত্তর: গুলাল হলো আবির বা ফাগ, যা হোলির সময় ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন ৯: ভ্রমরের ‘ঝঙ্কার’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ঝঙ্কার বলতে ভ্রমরের গুঞ্জন শব্দকে বোঝায়, যা বীণার শব্দের মতো মধুর।

প্রশ্ন ১০: কোকিলের কলরব শুনে যুবকের মনে কী জাগে?
উত্তর: কোকিলের কলরব শুনে যুবকের মনে প্রেমসম্বন্ধীয় অনুভব জাগে।

প্রশ্ন ১১: যুবক গলে কী ধারণ করে?
উত্তর: যুবক গলে নানা পুষ্পের মালা ধারণ করে।

প্রশ্ন ১২: বসন্তে যুবকের অঙ্গে কী চর্চিত ছিল?
উত্তর: বসন্তে যুবকের অঙ্গে চন্দন চর্চিত ছিল।

প্রশ্ন ১৩: ‘নিদাঘ’ কোন ঋতুকে নির্দেশ করে?
উত্তর: ‘নিদাঘ’ শব্দটি গ্রীষ্ম ঋতুকে নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ১৪: গ্রীষ্মকালে তপন কেমন হয়?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে তপন (সূর্য) অতি প্রচণ্ড ও প্রখর হয়।

প্রশ্ন ১৫: রৌদ্রের ত্রাসে মানুষ কোথায় আশ্রয় নেয়?
উত্তর: রৌদ্রের ত্রাসে মানুষ ছায়ার চরণে (ছায়ার আশ্রয়ে) থাকে।

প্রশ্ন ১৬: ‘সতত দম্পতি সঙ্গে’ কী ব্যাপিত থাকে?
উত্তর: ‘সতত দম্পতি সঙ্গে’ মদন বা প্রেমের ভাব ব্যাপিত থাকে।

প্রশ্ন ১৭: ‘পাবন সময়’ বলতে কবি কোন ঋতুকে ইঙ্গিত করেছেন?
উত্তর: ‘পাবন সময়’ বলতে কবি বর্ষাকালকে ইঙ্গিত করেছেন।

প্রশ্ন ১৮: বর্ষায় মেঘ কী করে?
উত্তর: বর্ষায় মেঘ ঘন ঘন গর্জন করে (গরজিত)।

প্রশ্ন ১৯: বর্ষার বৃষ্টির ধারা কেমন?
উত্তর: বর্ষার বৃষ্টির ধারা নির্ভীক ও অজস্র, যা চারদিকে পূর্ণ করে দেয়।

প্রশ্ন ২০: ‘মল্লার রাগ’ কী এবং কোথায় গাওয়া হয়?
উত্তর: মল্লার রাগ সংগীতের একটি রাগ, যা কৈলাসে (শিবের বাসস্থানে) গাওয়া হয়।

প্রশ্ন ২১: ‘দাদুরী’ ও ‘শিখিনী’ কাদের নির্দেশ করে?
উত্তর: ‘দাদুরী’ মাদি ব্যাঙকে এবং ‘শিখিনী’ ময়ূরীকে নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ২২: দাদুরী-শিখিনীর রবে কী হয়?
উত্তর: দাদুরী-শিখিনীর রবে মনের খুব ভাব (অনুভব) জাগে।

প্রশ্ন ২৩: ‘ঝঙ্কারে ঝঙ্কারে’ কীটকুল কী করে?
উত্তর: ‘ঝঙ্কারে ঝঙ্কারে’ কীটকুল গুঞ্জন করতে করতে ডাকে।

প্রশ্ন ২৪: শারদ ঋতুর আকাশ কেমন হয়?
উত্তর: শারদ ঋতুর আকাশ নির্মল ও মেঘমুক্ত হয়।

প্রশ্ন ২৫: ‘দোলায় চামর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘দোলায় চামর’ বলতে চামর পাখা দোলানো বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন ২৬: ‘কেশ কুসুম বিকাশে’ পংক্তিটির অর্থ লেখ।
উত্তর: অর্থ হলো— চুলে ফুল ফোটে বা ফুল সাজানো হয়।

প্রশ্ন ২৭: নবীন খঞ্জন দেখে যুবকের কী হয়?
উত্তর: নবীন খঞ্জন দেখে যুবকের খুব মজা (কৌতুক) হয়।

প্রশ্ন ২৮: হেমন্ত ঋতু প্রবেশ করলে কী হয়?
উত্তর: হেমন্ত ঋতু প্রবেশ করলে খুব শীত পড়ে বা শীত বেড়ে যায়।

প্রশ্ন ২৯: ‘পুষ্প তুল্য তাম্বুল’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘পুষ্প তুল্য তাম্বুল’ বলতে ফুলের মতো সুগন্ধি ও সুন্দর পানকে বোঝায়।

প্রশ্ন ৩০: শীতের তরাসে সূর্য কী করে?
উত্তর: শীতের তরাসে সূর্য তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে (অস্ত যায়)।

প্রশ্ন ৩১: হেমন্তের রাত কেমন এবং কীভাবে কাটে?
উত্তর: হেমন্তের রাত অতি দীর্ঘ, কিন্তু সুখের কারণে এক পলকের মতো কেটে যায়।

প্রশ্ন ৩২: ‘পুষ্প শয্যা ভেদ ভুলি’ বলতে দম্পতি কী ভুলে যায়?
উত্তর: দম্পতি ফুলের বিছানার পার্থক্য ও ভিন্নতা ভুলে যায়।

প্রশ্ন ৩৩: দম্পতি কীভাবে শীত নিবারণ করে?
উত্তর: দম্পতি বুকে বুকে মিলিত হয়ে (আলিঙ্গন করে) শীত নিবারণ করে।

প্রশ্ন ৩৪: ‘কাফুর’ ও ‘কস্তুরী’ কী কী?
উত্তর: কাফুর হলো কর্পূর এবং কস্তুরী হলো মৃগনাভির সুগন্ধি।

প্রশ্ন ৩৫: ‘চুয়া’ ও ‘যাবক’ কোন কোন দ্রব্য?
উত্তর: চুয়া এক প্রকার সুগন্ধি নির্যাস এবং যাবক হলো আলতা।

প্রশ্ন ৩৬: কাফুর, কস্তুরী, চুয়া, যাবকের কী গুণ লেখা হয়েছে?
উত্তর: এদের সৌরভ বা সুগন্ধের কথা কবিতায় লেখা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩৭: শেষ পংক্তিতে দম্পতির চিত্তে কী অনুভব হয়?
উত্তর: দম্পতির চিত্তে চেতনা বা গভীর প্রেমানুভূতি (চেতন অনুভব) জাগে।

প্রশ্ন ৩৮: ‘চন্দন চম্পক মাল্য মলয়া পবন’ পংক্তিটি কোন ঋতুর?
উত্তর: পংক্তিটি বসন্ত ঋতুর অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন ৩৯: ‘দোলায় চামর’ কোন ঋতুর বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: ‘দোলায় চামর’ শরৎ ঋতুর বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ৪০: কবি আলাওল ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় মোট কয়টি ঋতুর বর্ণনা দিয়েছেন?
উত্তর: কবি আলাওল এ কবিতায় বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও হেমন্ত— এই পাঁচটি ঋতুর বর্ণনা দিয়েছেন।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৪১: ‘পদাতি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পদাতি অর্থ পদচারী সৈনিক বা সংবাদ বাহক।

প্রশ্ন ৪২: ‘কৈল’ শব্দটির আধুনিক রূপ কী?
উত্তর: ‘কৈল’ শব্দটির আধুনিক রূপ ‘করিল’।

প্রশ্ন ৪৩: ‘সুরঙ্গ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সুরঙ্গ অর্থ সুন্দর রঙ বা শোভন বর্ণ।

প্রশ্ন ৪৪: ‘মল্লি’ ও ‘লবঙ্গ’ কোন শ্রেণির দ্রব্য?
উত্তর: মল্লি ও লবঙ্গ উভয়ই সুগন্ধি ফুল।

প্রশ্ন ৪৫: ‘গুলাল’ কোন উৎসবের সাথে যুক্ত?
উত্তর: গুলাল হোলির উৎসবের সাথে যুক্ত।

প্রশ্ন ৪৬: ‘নিদাঘের সমএ’ মানে কী?
উত্তর: নিদাঘের সমএ মানে গ্রীষ্মকালে।

প্রশ্ন ৪৭: ‘পুষ্প শয্যা ভেদ’ কী?
উত্তর: পুষ্প শয্যা ভেদ অর্থ ফুলের বিছানার বিভিন্নতা বা পার্থক্য।

প্রশ্ন ৪৮: ‘বরিষে জল’ কোন ঋতুর বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: ‘বরিষে জল’ বর্ষা ঋতুর বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ৪৯: ‘চৌদিকে পূরিত’ কী হয়?
উত্তর: ‘চৌদিকে পূরিত’ হয় জল।

প্রশ্ন ৫০: ‘পুনি’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘পুনি’ শব্দের অর্থ পুনরায়।

প্রশ্ন ৫১: ‘বিচিত্র বসন’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বিচিত্র বসন অর্থ নানা রঙের পোশাক।

প্রশ্ন ৫২: ‘কাফুর’ ও ‘কম্ভরী’ কোন জাতীয় দ্রব্য?
উত্তর: কাফুর ও কম্ভরী উভয়ই সুগন্ধি দ্রব্য (কর্পূর ও মৃগনাভি)।

প্রশ্ন ৫৩: ‘চুয়া’ গন্ধদ্রব্যটি কোন জাতীয় পদার্থ?
উত্তর: চুয়া এক প্রকার সুগন্ধি নির্যাস।

প্রশ্ন ৫৪: ‘যাবক’ কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: যাবক (আলতা) পায়ে রাঙানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ৫৫: ‘উপজিত যামিনী’ কি?
উত্তর: ‘উপজিত যামিনী’ বলতে রাতকে বোঝায়।

প্রশ্ন ৫৬: কবিতায় ‘শীত নিবারণ’ কীভাবে হয়?
উত্তর: ‘শীত নিবারণ’ হয় উরে উরে এক হয়ে (আলিঙ্গনে)।

প্রশ্ন ৫৭: আলাওলের ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
উত্তর: ‘পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থের অংশ।

প্রশ্ন ৫৮: মধ্যযুগের কাব্যে ঋতু বর্ণনা কী ধরনের রীতি ছিল?
উত্তর: এটি একটি স্বাভাবিক রীতি।

প্রশ্ন ৫৯: কবি আলাওল ঋতু বর্ণনায় কীসের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন?
উত্তর: প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে।

প্রশ্ন ৬০: আলাওলের ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় মোট কয়টি ঋতুর বর্ণনা আছে?
উত্তর: ছয়টি ঋতুর (ষড়ঋতু) বর্ণনা আছে।

প্রশ্ন ৬১: বাংলার নিসর্গ-রূপকে কী সমৃদ্ধ করেছে?
উত্তর: ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৬২: আলাওল কোন শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি?
উত্তর: আলাওল সতেরো শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

প্রশ্ন ৬৩: আনুমানিক কত খ্রিষ্টাব্দে আলাওলের জন্ম হয়?
উত্তর: আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৬৪: আলাওল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ফতেহাবাদ পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর জেলা) জালালপুরে।

প্রশ্ন ৬৫: তরুণ বয়সে আলাওল কোথায় যাওয়ার পথে জলদস্যুদের কবলে পড়েন?
উত্তর: চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে।

প্রশ্ন ৬৬: জলদস্যুদের আক্রমণে আলাওলের কার মৃত্যু হয়?
উত্তর: তাঁর পিতার মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন ৬৭: জলদস্যুদের হাত থেকে বেঁচে আলাওল কোথায় উপস্থিত হন?
উত্তর: আরাকানে উপস্থিত হন।

প্রশ্ন ৬৮: আরাকানে প্রথমে আলাওল কী কাজ পান?
উত্তর: আরাকান রাজের সেনাদলে কাজ পান।

প্রশ্ন ৬৯: আলাওল কার কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন?
উত্তর: প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন।

প্রশ্ন ৭০: আলাওল কার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন?
উত্তর: মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায়।

প্রশ্ন ৭১: আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: কাব্য।

প্রশ্ন ৭২: আলাওলের রচনায় কোন চেতনার ছাপ সুস্পষ্ট?
উত্তর: নাগরিক চেতনার ছাপ সুস্পষ্ট।

প্রশ্ন ৭৩: আলাওল কোন কোন ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন?
উত্তর: সংস্কৃত, আরবি, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায়।

প্রশ্ন ৭৪: আলাওলের একটি কাব্যের নাম লেখ।
উত্তর: সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল।

প্রশ্ন ৭৫: ‘হপ্ত পয়করা’ কার রচনা?
উত্তর: আলাওলের রচনা।

প্রশ্ন ৭৬: আলাওলের রচিত নীতিকবিতার নাম কী?
উত্তর: তোফা।

প্রশ্ন ৭৭: সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য ‘রাগতালনামা’ কার?
উত্তর: আলাওলের।

প্রশ্ন ৭৮: আলাওলের আরেকটি কাব্যের নাম লেখ।
উত্তর: সিকান্দরনামা।

প্রশ্ন ৭৯: আলাওল কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৮০: আলাওলের পিতার মৃত্যু কীভাবে হয়?
উত্তর: পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণে।

প্রশ্ন ৮১: আলাওল কীভাবে আরাকানে পৌঁছান?
উত্তর: ভাগ্যক্রমে বেঁচে জলপথে।

প্রশ্ন ৮২: আলাওল রাজসভাসদভুক্ত হন কার কৃপায়?
উত্তর: মাগন ঠাকুরের কৃপায়।

প্রশ্ন ৮৩: আলাওলের রচনায় কোন রুচির ছাপ আছে?
উত্তর: নাগরিক রুচির ছাপ।

প্রশ্ন ৮৪: আলাওলকে কী কী গুণে গুণান্বিত বলা যায়?
উত্তর: অসামান্য পাণ্ডিত্য ও শিল্পকুশলতা।

প্রশ্ন ৮৫: আলাওল কোথাকার রাজসভার সভাসদ ছিলেন?
উত্তর: আরাকান রাজসভার সভাসদ ছিলেন।

প্রশ্ন ৮৬: তরুণ বয়সে আলাওল কোন পথে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন?
উত্তর: জলপথে।

Leave a Comment