মানুষ জাতি কবিতা: মূলভাব, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

মানুষ জাতি কবিতার মূলভাব

‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন, জগৎ জুড়ে একটিমাত্র জাতি আছে—তার নাম মানুষ জাতি। সব মানুষ একই পৃথিবীর বুকে লালিত হয়, একই সূর্য ও চাঁদ সকলের সাথি। শীত-গরম, ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সবাই সমানভাবে অনুভব করে এবং বাঁচার জন্য সব মানুষ সমান সংগ্রাম করে। বাহিরে কালো বা ধলো যাই হোক না কেন, ভিতরে সবার রক্তের রং এক। বাইরের ছোপ মুছে গেলে ভিতরের এক রং প্রকাশ পায়। বামুন, শূদ্র, বড়, ছোট এসব কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। বংশে বংশে কোনো তফাৎ নেই; দুনিয়ার সঙ্গে সবার বুনিয়াদ গাঁথা, আর দুনিয়া সবারই জন্মস্থান। মানুষ আজ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের গণ্ডিবদ্ধ করেছে, কিন্তু আসলে জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে সব মানুষ মিলেই মানুষ জাতি গড়ে উঠেছে। এটাই কবির মূল বক্তব্য।

মানুষ জাতি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

জগৎ জুড়িয়া → সারা পৃথিবী জুড়ে

স্তন্যে লালিত → বুকে দুধ পান করে বেড়ে ওঠা

রবি শশী → সূর্য ও চাঁদ

শীতাতপ → শীত ও গরম / ঠাণ্ডা ও গরম

ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা → খিদে আর পিপাসার কষ্ট

কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি → ছোট ছোট শিশুদের শক্ত করে গড়ে তুলি

যুঝি → লড়াই করি / সংগ্রাম করি

দোসর → সাথী / বন্ধু / সঙ্গী

বাসর বাঁধি → মিলিত হই / সম্প্রীতি গড়ে তুলি

ডাঙা → স্থল / উঁচু জমি / চর

ধলো → সাদা / শুভ্র / ফরসা

ছোপ → দাগ / ছাপ / রঙের পোঁচ

আঁচড়ে সে লোপ → আঁচড় দিলেই দূর হয়ে যায় / ঘষে দিলে মুছে যায়

পলকে ফোটে → চোখের পলকে ফুটে ওঠে / মুহূর্তেই দেখা যায়

বামুন → ব্রাহ্মণ

শূদ্র → হিন্দু বর্ণপ্রথার চতুর্থ বর্ণ

বৃহৎ, ক্ষুদ্র → বড় এবং ছোট

কৃত্রিম ভেদ → কৃত্রিম (নকল/সৃষ্ট) পার্থক্য

ধুলায় লোটে → ধুলায় পড়ে যায় / তুচ্ছ হয়ে যায়

বংশে বংশে নাহিকো তফাত → এক বংশ থেকে অন্য বংশে কোনো ফারাক নেই

বনেদি → সম্ভ্রান্ত / প্রাচীন / পুরোনো অভিজাত বংশ

গর-বনেদি → অভিজাত নয় এমন

বুনিয়াদ → ভিত্তি

জনম-বেদি → জন্মস্থান / সূতিকাগৃহ

গণ্ডিবদ্ধ → সীমাবদ্ধ / ছোট ঘেরে বন্দি

ঊর্ধ্বে → উপরে

স্বাতন্ত্র্য → স্বকীয়তা / নিজস্ব বৈশিষ্ট্য

পরিচায়ক → পরিচয় দেয় এমন / চিহ্নিতকারী

মানুষ জাতি কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

প্রশ্ন ২: জগৎ জুড়িয়া এক জাতির নাম কী?
উত্তর: মানুষ জাতি।

প্রশ্ন ৩: সব মানুষ কীসে লালিত হয়?
উত্তর: এক পৃথিবীর স্তন্যে।

প্রশ্ন ৪: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সবার সাথি কারা?
উত্তর: একই রবি ও শশী (সূর্য ও চাঁদ)।

প্রশ্ন ৫: শীতাতপ ও ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা কারা সমান বুঝি?
উত্তর: সবাই।

প্রশ্ন ৬: ‘ডাঁটো করে তুলি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শক্ত ও পুষ্ট করে গড়ে তুলি।

প্রশ্ন ৭: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় বাঁচিবার তরে সবাই কী করে?
উত্তর: সমান যুঝি (লড়াই করি)।

প্রশ্ন ৮: ‘দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সঙ্গী খুঁজি ও সম্প্রীতি গড়ে তুলি।

প্রশ্ন ৯: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় জলে ডুবি আর কী করি?
উত্তর: ডাঙা পাইলে বাঁচি।

প্রশ্ন ১০: বাহিরে কালো বা ধলো হলেও ভিতরে সবার কী?
উত্তর: সমান রাঙা (লাল রক্ত)।

প্রশ্ন ১১: বাহিরের ছোপ কী করলে লোপ পায়?
উত্তর: আঁচড়ে দিলে।

প্রশ্ন ১২: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় ভিতরের রং কী করে ফোটে?
উত্তর: পলকে (চোখের পলকে)।

প্রশ্ন ১৩: বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র – এগুলো কী?
উত্তর: কৃত্রিম ভেদ।

প্রশ্ন ১৪: কৃত্রিম ভেদ কোথায় লোটে?
উত্তর: ধুলায়।

প্রশ্ন ১৫: ‘বংশে বংশে নাহিকো তফাত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বংশে বংশে কোনো ফারাক নেই।

প্রশ্ন ১৬: ‘বনেদি’ ও ‘গর-বনেদি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বনেদি অর্থ সম্ভ্রান্ত ও গর-বনেদি অর্থ অভিজাত নয়।

প্রশ্ন ১৭: দুনিয়ার সাথে কী গাঁথা?
উত্তর: বুনিয়াদ (ভিত্তি)।

প্রশ্ন ১৮: দুনিয়া সবার কী?
উত্তর: জনম-বেদি (জন্মস্থান)।

প্রশ্ন ১৯: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি কীসের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন?
উত্তর: কৃত্রিম জাতি ও বর্ণভেদের বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন ২০: সব মানুষের ভিতরের রং কী?
উত্তর: লাল।

প্রশ্ন ২১: ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এক ও সমান।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২২: ‘এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে।

প্রশ্ন ২৩: ‘রবি শশী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সূর্য ও চাঁদ।

প্রশ্ন ২৪: ‘শীতাতপ’ ও ‘ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শীত ও গরম এবং ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্ট।

প্রশ্ন ২৫: ‘কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ছোটদের পরিপুষ্ট করে তুলি।

প্রশ্ন ২৬: ‘যুঝি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যুঝি অর্থ লড়াই করি ।

প্রশ্ন ২৭: ‘ডাঁটো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পুষ্ট বা শক্ত।

প্রশ্ন ২৮: ‘বাসর বাঁধি গো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সম্প্রীতি গড়ে তুলি।

প্রশ্ন ২৯: ‘দোসর’ ও ‘ধলো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দোসর অর্থ সাথি ও ধলো অর্থ সাদা।

প্রশ্ন ৩০: ‘জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বিপদে পড়ি ও সংকট পেরিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি।

প্রশ্ন ৩১: ‘ডাঙা’ ও ‘জনমবেদি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ডাঙা অর্থ স্থল ও জনমবেদি অর্থ জন্মস্থান।

প্রশ্ন ৩২: ‘ছোপ’ ও ‘বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বাইরের রঙের পার্থক্য ঘষে দিলে মুছে যায়।

প্রশ্ন ৩৩: ‘শূদ্র’ ও ‘বনেদি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শূদ্র হিন্দুর একটি বর্ণ ও বনেদি অর্থ সম্ভ্রান্ত।

প্রশ্ন ৩৪: ‘দুনিয়া সবারি জনম-বেদি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।

প্রশ্ন ৩৫: ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পরমেশ্বর বা বিধাতা।

প্রশ্ন ৩৬: ‘মানুষ জাতি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘অভ্র আবীর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।

প্রশ্ন ৩৭: ‘মানুষ জাতি’ কবিতাটির মূল কবিতার নাম কী?
উত্তর: ‘জাতির পাঁতি’।

প্রশ্ন ৩৮: কবি মানুষকে কোন আসন দিয়েছেন?
উত্তর: জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে আসন।

প্রশ্ন ৩৯: সব মানুষের ভেতরে কী এক ও অভিন্ন?
উত্তর: রক্ত ও মানবিক অনুভূতি।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৪০: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৪১: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে।

প্রশ্ন ৪২: তাঁর মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৪৩: কত বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে।

প্রশ্ন ৪৪: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী নামে খ্যাতি লাভ করেন?
উত্তর: ‘ছন্দের জাদুকর’ নামে।

প্রশ্ন ৪৫: কর্মজীবন তিনি কী করে শুরু করেছিলেন?
উত্তর: ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে।

Leave a Comment