যাব আমি তোমার দেশে কবিতা: মূল বিষয়, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার মূল বিষয়

মূলভাবঃ ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি-দুলাল নামে এক বন্ধুর পল্লিগ্রামের দেশে যেতে চান। সেই দেশের আকাশ বনের মাথায় স্পর্শ করে, মাঠ দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত। মেঘেরা যেন জলের কলসি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, বিদ্যুতের আঁচল নাড়ে নদীর কোল ঘেঁষে। কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়। সেখানে যাওয়ার পথটি দীর্ঘ ও বাঁকা, ধানের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো চলে গেছে। নাম-না-জানা ফুলের সুবাস বাতাসে ভেসে আসে। কবি পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের সাথে দল বেঁধে খেলতে চান, বড় দীঘিতে সাঁতরে রক্ত কমল ফুল তুলতে চান, শাপলা লতায় পা জড়িয়ে ঢেউয়ের দোল খেতে চান। খোকা পাখির ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সাথে ভাব করবেন, অজানা ফুলের রূপ দেখে তাকে বিয়ের কনে বলে মানবেন। পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস হয়ে ঘুরবেন, গাছের ডাল দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল পাড়বেন। গাঁয়ের মেয়েরা যেই ঘাটে পানি নেয়, সেখানে ফুলের মালা রেখে দেবেন। শেষে চারদিকে রাতের আঁধার ঘিরে এলে দু’জনে দীঘির কূলে বসে ঢেউ গণনা করবেন। এভাবেই কবি পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

পল্লি-দুলাল → পল্লি মায়ের আদরের ছেলে / গ্রামের অতি প্রিয় মানুষ

শীষে → শীর্ষে / আগায় / উপরের দিকে

দিক-হারা মাঠ → উদার বিস্তৃত মাঠ / যার দিগন্ত নেই বললেই চলে

চরণ ঘেঁষে → পায়ের কাছে / পদতলে

দূর দেশীয় মেঘ-কনেরা → দূরদেশি মেঘের কন্যারা (রূপক)

জলের ঝারি → জলের কলসি

বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়ি → বিদ্যুতের মতো চঞ্চল আঁচল নাড়া / বিজলী খেলানো আঁচল

বেতস কেয়ার বন → বেত ও কেয়া গাছের বন

ডাহুক মেয়ে → ডাহুক পাখির কল্পিত মেয়েরূপ

আসর মাতায় → আমেজ জমায় / রং জমায়

দীঘল → দীর্ঘ / লম্বা

পন্থখানি → পথটি

ধান কাউন → ধানের খেত / ক্ষেত বিধান্ন

সরু সুতোর আঁচড় → সরু সুতার মতো দাগ

হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথি → পাগলী মেয়ের এলোমেলো চুলের রেখা

সিঁধে → সোজা হয়ে / সিধাচলে

গরুর গায়ের রেখায় ক্ষত → গরুর গায়ে চিহ্নের মতো

গাজন-তলির মাঠ → গাজনের মাঠ / গাজন উৎসবের মাঠ

শিমুলডাঙা বনের বায়ে → শিমুল বনের ধার দিয়ে

গাঁয়ের রোদ মাখিয়া ঘুম-ঘুমায়ে → গাঁয়ের রোদে মেখে ঢুলুঢুলু অবস্থায়

কদম-কলি → কদম ফুলের কুঁড়ি

দস্যি → দুষ্টু / দুরন্ত

ধল-দীঘি → বড় দীঘি / প্রশস্ত জলাশয়

রক্ত-কমল → লাল পদ্ম

শাপলা লতায় জড়িয়ে চরণ → শাপলা লতায় পায়ে পেঁচিয়ে

হিজল-ঝরা জলের ছিটা → হিজল গাছ থেকে ঝরে পড়া জলের ফোঁটা

বরণ → গায়ের রঙ / বর্ণ

কালোৎসবে → কালো উৎসবে / আনন্দে

মাটি-মার → মাটির চিহ্ন / ধুলো মাখা পায়ের প্রান্ত

ভাব করিব পাখির সনে → পাখির সঙ্গে ভাব করব (বন্ধুত্ব করব)

অজান ফুল → অচেনা ফুল

মানবো তারে বিয়ের কনে → তাকে বিয়ে করার মতো কনে জ্ঞান করব

ময়না কাঁটা → কাঁটাজাতীয় ময়না গাছ

উত্তরীয় → চাদর বা গায়ের কাপড়

ইটেল মাটি → ধসা মাটি / কাদামাটি

উদাস বেশে → মায়াবী বেশে / পরান মন ভোলা

সাঁজ-বাগানে → সাজানো বাগানে / আবির বাগানে

মেঘ-তুলিকা → মেঘের তুলির মতো / নরম তুলা

নিখুঁত টান → বাঁশির টান / সুরের টান

উত্তরীয় ছড়িয়ে → চাদর পাতা দিয়ে / চাদর পেতে

বিভোল → বিভোর / আকুল / মায়া-মুগ্ধ

পল্লিবালা → গ্রামের তরুণী

ঘট বুড়াতে → কলসি ডুবাতে / কলসিতে জল তুলতে

পথে-পাওয়া মাল্যখানি → পথে পাওয়া সেই মালাটি

কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে → কুড়িয়ে নিয়ে ভেবে পাবে না

চেনে-না তার হাতের মালা → চিনতে পারে না সেই মালা

গলে → গলায় / পরিয়ে নেয়

ঢেউ দোলা সেই দীঘির কোলে → ঢেউ দোলে এমন দীঘির পাড়ে

কুন্তল-ভার → চুলের বোঝা (এখানে ডালপালার আড়ম্বর)

পদ্ম-পাতার → পদ্মপাতা

পিদীম → সন্ধ্যা

ফুলের বাসে → ফুলের গন্ধে / বসে

কুহেলীর কালো কারা → কুয়াশার কালো ঘের

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: জসীমউদ্দীন।

প্রশ্ন ২: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবি কী করতে চেয়েছেন?
উত্তর: পল্লি দুলালের সাথে পল্লিসৌন্দর্য উপভোগ করতে।

প্রশ্ন ৩: কবি কার দেশে যেতে চান?
উত্তর: পল্লি-দুলালের দেশে।

প্রশ্ন ৪: ‘পল্লি-দুলাল’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পল্লি মায়ের আদরের ছেলে।

প্রশ্ন ৫: আকাশ কোথায় স্পর্শ করে?
উত্তর: বনের শীষে।

প্রশ্ন ৬: মাথায় কী নিয়ে মেঘ-কনেরা দাঁড়ায়?
উত্তর: জলের ঝারি নিয়ে।

প্রশ্ন ৭: বিজলী কোনটি নাড়ে?
উত্তর: আঁচল।

প্রশ্ন ৮: কোন বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়?
উত্তর: বেতস কেয়ার বনে।

প্রশ্ন ৯: ‘বেতস কেয়া’ কী?
উত্তর: এক ধরনের বেত ও কেয়া বন।

প্রশ্ন ১০: ‘দীঘল বাঁকা পন্থখানি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: লম্বা বাঁকা পথটি।

প্রশ্ন ১১: ধানের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে গেছে কী?
উত্তর: সরু সুতোর আঁচড় টানা পথ।

প্রশ্ন ১২: পথটি কখনো সোজা আর কখনো বাঁকা কীসের মতো?
উত্তর: গরুর গায়ের রেখায় ক্ষতের মতো।

প্রশ্ন ১৩: গাজন-তলির মাঠ পেরিয়ে কোন বনে যেতে হয়?
উত্তর: শিমুলডাঙা বনের বায়ে।

প্রশ্ন ১৪: কোথাও গাঁয়ের রোদ মাখিয়া কী করে?
উত্তর: ঘুম-ঘুমায়ে গাছের ছায়ে।

প্রশ্ন ১৫: গ্রাম্য মেয়ে কী ছড়িয়ে হেঁটে যায়?
উত্তর: কদম-কলি।

প্রশ্ন ১৬: কবির গন্তব্যের পথে কী ভেসে আসবে?
উত্তর: নাম-না-জানা ফুলের সুবাস।

প্রশ্ন ১৭: কবি কাদের সাথে দল বাঁধবেন?
উত্তর: পাড়ার দস্যি ছেলেদের।

প্রশ্ন ১৮: ‘দস্যি ছেলে’ বলতে কাদের বোঝায়?
উত্তর: দুষ্টু বা দুরন্ত ছেলে।

প্রশ্ন ১৯: ধল-দীঘিতে সাঁতরে কী আনবেন?
উত্তর: রক্ত-কমল।

প্রশ্ন ২০: শাপলা লতায় কী জড়িয়ে দোল খাবেন?
উত্তর: চরণ।

প্রশ্ন ২১: ‘হিজল-ঝরা জলের ছিটায়’ কী হবে?
উত্তর: গায়ের বরণ রঙিন হবে।

প্রশ্ন ২২: ‘কোথাও সিঁধে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোথাও সোজা।

প্রশ্ন ২৩: কবি পাখির ডাকে কী করবেন?
উত্তর: ভাব করবেন পাখির সাথে।

প্রশ্ন ২৪: অজানা ফুলের রূপ দেখে কী করবেন?
উত্তর: তাকে বিয়ের কনে মানবেন।

প্রশ্ন ২৫: ‘উত্তরীয়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চাদর বা গায়ের কাপড়।

প্রশ্ন ২৬: ইটেল মাটির হোঁচট লেগে কী ছড়াবে?
উত্তর: আঁচল হতে ফুল।

প্রশ্ন ২৭: পল্লি-দুলালের কাঁধে কী রেখে ঘুরবেন?
উত্তর: হাত।

প্রশ্ন ২৮: ‘উদাস বেশে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অনাসক্ত বা কাতর ভঙ্গিতে।

প্রশ্ন ২৯: সাঁজ-বাগানে কী দেখবেন?
উত্তর: হাজার রঙের ফুল।

প্রশ্ন ৩০: রাতের আঁধার কার মতো বেড়া বাঁধবে?
উত্তর: কুহেলীর কালো কারার মতো।

প্রশ্ন ৩১: বনের পাশে কে দাঁড়িয়ে থাকবেন?
উত্তর: পল্লি-দুলাল।

প্রশ্ন ৩২: ‘পল্লিবালা’ কারা?
উত্তর: গাঁয়ের মেয়েরা।

প্রশ্ন ৩৩: কবি কোন ঘাটে ফুলের মালা রেখে আসবেন?
উত্তর: যে ঘাটে কলস ভরবে পল্লিবালা।

প্রশ্ন ৩৪: ‘ঘট বুড়াতে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কলস ভরতে।

প্রশ্ন ৩৫: চার পাশেতে কীসের সারি রয়েছে?
উত্তর: বনের সারি।

প্রশ্ন ৩৬: দীঘির জলে ঢেউ গণিবে ও কী শুঁকিবে?
উত্তর: পদ্ম-পাতা শুঁকিবে।

প্রশ্ন ৩৭: বনের মাঝে ডাকবে কে?
উত্তর: ডাহুক ও ঘুঘু।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩৮: ‘পল্লি-দুলাল’ বলতে কবি কাকে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: পল্লি মায়ের আদরের ছেলে, পল্লির অকৃত্রিম পরিবেশে বেড়ে ওঠা ছেলেকে।

প্রশ্ন ৩৯: ‘শীর্ষে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শীর্ষে, মাথার উপরে।

প্রশ্ন ৪০: ‘ধীঘল’ ও ‘পন্থ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ধীঘল অর্থ দীর্ঘ ও পন্থ অর্থ পথ।

প্রশ্ন ৪১: ‘দস্যি’ ও ‘ধল-দীঘি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দস্যি অর্থ দুষ্ট বা দুরন্ত ও ধল-দীঘি অর্থ মস্ত বড় দীঘি।

প্রশ্ন ৪২: ‘শাখী’ ও ‘উত্তরীয়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শাখী অর্থ বনের বৃক্ষ ও উত্তরীয় অর্থ চাদর বা গায়ের কাপড়।

প্রশ্ন ৪৩: ‘বুড়াতে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ভরতে।

প্রশ্ন ৪৪: ‘কুন্তল’ ও ‘বাসে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কুন্তল অর্থ চুল ও বাসে অর্থ গন্ধে।

প্রশ্ন ৪৫: ‘ফুলের বাসে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ফুলের সুগন্ধে।

প্রশ্ন ৪৬: ‘কুহেলী’ ও ‘অন্বেষণ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কুহেলী অর্থ কুয়াশা ও অন্বেষণ অর্থ অনুসন্ধান করা।

প্রশ্ন ৪৭: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘ধানক্ষেত’ কাব্য থেকে।

প্রশ্ন ৪৮: কবি কার দেশে যেতে চান?
উত্তর: পল্লি-দুলালের দেশে (পল্লিগ্রামে)।

প্রশ্ন ৪৯: পল্লিগ্রামের বনের শীর্ষে কী আছে?
উত্তর: আকাশ।

প্রশ্ন ৫০: ধান-কাউনের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে কী গেছে?
উত্তর: সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ।

প্রশ্ন ৫১: রাতের আঁধার ঘনিয়ে এলে কবি কী অন্বেষণ করবেন?
উত্তর: পল্লি মায়ের অপরূপ সৌন্দর্য।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৫২: জসীমউদ্দীনের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৫৩: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে।

প্রশ্ন ৫৪: জসীমউদ্দীন কোন নামে অধিক পরিচিত?
উত্তর: ‘পল্লিকবি’ নামে।

প্রশ্ন ৫৫: কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কোথায় অধ্যাপনা করেন?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রশ্ন ৫৬: পরে তিনি কোন বিভাগে উচ্চপদে যোগদান করেন?
উত্তর: সরকারি তথ্য ও প্রচার বিভাগে।

প্রশ্ন ৫৭: ছাত্রজীবনেই জসীমউদ্দীনের কোন কবিতা প্রবেশিকা বাংলা সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তর: ‘কবর’ কবিতাটি।

প্রশ্ন ৫৮: ‘সোজনবাদিয়ার ঘাট’ কার রচনা?
উত্তর: জসীমউদ্দীনের।

প্রশ্ন ৫৯: ‘রাখালী’ ও ‘বালুচর’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৬০: ‘হাসু’ ও ‘এক পয়সার বাঁশি’ কার কাব্য?
উত্তর: জসীমউদ্দীনের।

প্রশ্ন ৬১: ‘মাটির কান্না’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৬২: ‘চলে মুসাফির’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: ভ্রমণকাহিনী।

প্রশ্ন ৬৩: কোন বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে?
উত্তর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রশ্ন ৬৪: কোন কাব্যের জন্য জসীমউদ্দীন বিশেষভাবে সমাদৃত?
উত্তর: ‘নক্সী-কাঁথার মাঠ’ কাব্যের জন্য।

প্রশ্ন ৬৫: ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে কে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: জসীমউদ্দীন।

প্রশ্ন ৬৬: জসীমউদ্দীনের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭৬ সালের ১৩ই মার্চ।

প্রশ্ন ৬৭: তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঢাকায়।

Leave a Comment