সেই দিন এই মাঠ কবিতার মূলভাব, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

সেই দিন এই মাঠ কবিতার মূলভাব

মূলভাবঃ ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের কথা বলেছেন। সহজ ভাষায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেও পৃথিবীর কোনো কিছু থেমে থাকবে না। সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে। এই মাঠ কখনো নীরব হয়ে যাবে না, নদী নক্ষত্রের নিচে চিরকাল স্বপ্ন দেখবে এবং পৃথিবীতে সুন্দর স্বপ্ন দেখার আকাঙ্ক্ষাও কখনো শেষ হবে না। কবি চলে গেলেও চালতাফুল শিশিরের পানিতে ভিজবে, তার মিষ্টি গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং লক্ষ্মীপেঁচা তার সঙ্গীর জন্য গান গাইবে। চারপাশে শান্ত আলো ও মৃদু শব্দ থাকবে, খেয়ানৌকাগুলো চরের কাছে এসে ভিড়বে। পৃথিবীর সব গল্পও মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। মানুষ একদিন চলে যায়, কিন্তু প্রকৃতি তার রূপ, গন্ধ ও সৌন্দর্য হারায় না। এশিরিয়া ও বেবিলনের মতো বড় সভ্যতাও একদিন ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন সেগুলো শুধু ধুলো ও ছাই। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না। তাই কবি বলতে চেয়েছেন, মানুষ চলে গেলেও পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও স্বপ্ন চিরকাল টিকে থাকবে।

সেই দিন এই মাঠ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

স্তব্ধ – নীরব / চুপ / শান্ত

নক্ষত্রের তলে – তারার নিচে

স্বপ্ন – স্বপ্ন / মনের ভাবী কথা

সোনার স্বপ্নের সাধ – সুন্দর স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা

ঝরে – শেষ হয়ে যায় / নষ্ট হয় / পড়ে যায়

চালতাফুল – চালতা গাছের ফুল / এক ধরনের বুনো ফুল

শিশিরের জলে – ভোরের শিশিরের পানিতে

নরম গন্ধের ঢেউ – কোমল সুগন্ধের তরঙ্গ / হালকা সুবাসের ধারা

লক্ষ্মীপেঁচা – এক ধরনের ছোট পেঁচা / পেঁচা জাতীয় পাখি

মৃদু কলরব – নরম আওয়াজ / মিষ্টি গুঞ্জন

খেয়ানৌকো – নদী পার করার ছোট নৌকা

চরের খুব কাছে – চরের (বালি জমে তৈরি জায়গা) খুব কাছে

এশিরিয়া – এশিয়া (প্রাচীন সভ্যতার অঞ্চল: Assyria)

বেবিলন – ব্যাবিলন / প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বিখ্যাত নগরী

ছাই – পোড়া ছাই / ধ্বংসাবশেষ

বিচিত্র বিবর্তন – নানারকম পরিবর্তন / পরিবর্তনের ধারা

অফুরন্ত ঐশ্বর্য – শেষ নেই এমন সম্পদ / সীমাহীন সৌন্দর্য

তৃপ্তি – সন্তুষ্টি / পূর্ণতা

মমত্ব – মায়া / স্নেহ / ভালোবাসা

মাহাত্ম্য – মহত্ব / বড়ত্ব / গুরুত্ব

রহস্যময় – গুপ্ত / অজানা / জটিল

শাশ্বতরূপ – চিরন্তন রূপ / চিরস্থায়ী রূপ

অনুভাবনা – অনুভব করা / মনে প্রভাব ফেলা

তাৎপর্য – গভীর অর্থ / গুরুত্ব

বিনির্মাণ – নতুন করে গড়া / পুনর্গঠন

মরণশীল – যে মরবে / মরণশীল

চঞ্চলতা – অস্থিরতা / দ্রুত পরিবর্তনশীলতা

মঙ্গলবার্তা – ভালো খবর / শুভ সংবাদ

বহমানতা – প্রবাহমান / চলমান অবস্থা

রহিত করা – বাতিল করা / শেষ করে দেওয়া

গভীর জীবনতৃষ্ণা – জীবনের প্রতি প্রবল ইচ্ছা / বাঁচার গভীর আকাঙ্ক্ষা

সেই দিন এই মাঠ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ।

প্রশ্ন ২: সেইদিন মাঠ কীরকম হবে না বলে কবি জানেন?
উত্তর: স্তব্ধ হবে না।

প্রশ্ন ৩: নদী নক্ষত্রের তলে কী দেখবে?
উত্তর: স্বপ্ন।

প্রশ্ন ৪: কবি চলে গেলে কী হবে না বলে প্রশ্ন করছেন?
উত্তর: চালতাফুল ভিজিবে না।

প্রশ্ন ৫: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় চালতাফুল কীসের জলে ভিজবে?
উত্তর: শিশিরের জলে।

প্রশ্ন ৬: চালতাফুলের গন্ধ কেমন হবে?
উত্তর: নরম গন্ধের ঢেউ।

প্রশ্ন ৭: লক্ষ্মীপেঁচা কার জন্য গান গাইবে?
উত্তর: তার লক্ষ্মীটির তরে।

প্রশ্ন ৮: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় চারিদিকে কী আছে?
উত্তর: শান্ত বাতি, ভিজে গন্ধ, মৃদু কলরব।

প্রশ্ন ৯: খেয়ানৌকোগুলো কোথায় লেগেছে?
উত্তর: চরের খুব কাছে।

প্রশ্ন ১০: পৃথিবীর ‘এইসব গল্প’ কতদিন বাঁচবে?
উত্তর: চিরকাল।

প্রশ্ন ১১: এশিরিয়া আজ কী হয়েছে?
উত্তর: ধুলো।

প্রশ্ন ১২: বেবিলন আজ কেমন হয়েছে?
উত্তর: ছাই হয়ে আছে।

প্রশ্ন ১৩: ‘স্তব্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নীরব বা চুপ।

প্রশ্ন ১৪: ‘নক্ষত্রের তলে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: তারার নিচে।

প্রশ্ন ১৫: ‘সোনার স্বপ্নের সাধ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সুন্দর স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা।

প্রশ্ন ১৬: কবি চলে গেলে চালতাফুল কী হারাবে বলে মনে করেন না?
উত্তর: তার সৌন্দর্য ও গন্ধ।

প্রশ্ন ১৭: ‘মৃদু কলরব’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নরম আওয়াজ।

প্রশ্ন ১৮: কোন সভ্যতা দুটো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: এশিরিয়া ও বেবিলন।

প্রশ্ন ১৯: সভ্যতা ধ্বংস হলেও কী চিরকাল বেঁচে থাকে?
উত্তর: প্রকৃতির সৌন্দর্য।

প্রশ্ন ২০: ‘শান্ত বাতি’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: মৃদু আলো।

প্রশ্ন ২১: ‘ভিজে গন্ধ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শিশির ভেজা গন্ধ।

প্রশ্ন ২২: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবি কোন সত্যটি ব্যক্ত করতে চেয়েছেন?
উত্তর: সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই।

প্রশ্ন ২৩: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার মূলবক্তব্য কী?
উত্তর: প্রকৃতি ও স্বপ্ন চিরস্থায়ী।

প্রশ্ন ২৪: জীবনানন্দ দাশ কোন ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: প্রকৃতির কবি।

প্রশ্ন ২৫: জীবনানন্দ দাশের কবিতার মৌলিক প্রেরণা কী?
উত্তর: প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্য।

প্রশ্ন ২৬: বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি কী হারিয়ে ফেলে না?
উত্তর: তাঁর রূপ-রস-গন্ধ।

প্রশ্ন ২৭: কবি যখন থাকবেন না তখনও প্রকৃতি কী দিয়ে মানুষের স্বপ্নকে তৃপ্ত করবে?
উত্তর: তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য দিয়ে।

প্রশ্ন ২৮: পৃথিবীতে কেউ কী নয়?
উত্তর: চিরস্থায়ী নয়।

প্রশ্ন ২৯: শিশিরের জলে চালতা ফুল ভিজে যে সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, তার কী নেই?
উত্তর: কোনো শেষ নেই।

প্রশ্ন ৩০: কবির বোধের মধ্যে প্রকৃতির কী মূর্ত হয়ে উঠেছে?
উত্তর: এক শাশ্বতরূপ।

প্রশ্ন ৩১: কোন পাখির মমত্বের অনুভাবনা কবিতায় ধরা দিয়েছে?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচাটির।

প্রশ্ন ৩২: মানুষের গড়া পৃথিবীর কোন সভ্যতাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে?
উত্তর: এশিরিয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।

প্রশ্ন ৩৩: ধ্বংসস্তূপ সত্ত্বেও প্রকৃতি কীরকম থাকে?
উত্তর: প্রাণময় ও সৌন্দর্যময়।

প্রশ্ন ৩৪: ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘রূপসী বাংলা’ কাব্য থেকে।

প্রশ্ন ৩৫: সভ্যতার একদিক ক্ষয়িষ্ণু, অন্যদিকে কী চলে?
উত্তর: তার বিনির্মাণ।

প্রশ্ন ৩৬: মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও কী চিরকাল থাকে?
উত্তর: প্রকৃতির চঞ্চলতা ও সৌন্দর্য।

প্রশ্ন ৩৭: পৃথিবীর বহমানতা মানুষের কী রহিত করতে পারে না?
উত্তর: সাধারণ মৃত্যু।

প্রশ্ন ৩৮: এ জগতে কীসের মৃত্যু নেই বলে কবি বিশ্বাস করেন?
উত্তর: সৌন্দর্যের ও মানুষের স্বপ্নের।

প্রশ্ন ৩৯: জীবনানন্দ দাশের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর: ১৮৯৯ সালে।

প্রশ্ন ৪০: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বরিশাল শহরে।

প্রশ্ন ৪১: জীবনানন্দ দাশের পিতার নাম কী?
উত্তর: সত্যানন্দ দাশ।

প্রশ্ন ৪২: তাঁর মাতার নাম কী?
উত্তর: কুসুমকুমারী দাশ।

প্রশ্ন ৪৩: কুসুমকুমারী দাশ কেমন কবি ছিলেন?
উত্তর: স্বভাবকবি।

প্রশ্ন ৪৪: জীবনানন্দ দাশ কোন স্কুলে পড়াশোনা করেন?
উত্তর: বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলে।

প্রশ্ন ৪৫: তিনি কোন কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেন?
উত্তর: ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ।

প্রশ্ন ৪৬: জীবনানন্দ দাশ কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

প্রশ্ন ৪৭: দীর্ঘকাল জীবনানন্দ দাশে কী কাজে নিযুক্ত ছিলেন?
উত্তর: অধ্যাপনার কাজে।

প্রশ্ন ৪৮: জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কী কবি হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: আধুনিক জীবনচেতনার কবি হিসেবে।

প্রশ্ন ৪৯: জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কীরকম?
উত্তর: এক অনন্য রূপসী।

প্রশ্ন ৫০: ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ ও ‘বনলতা সেন’ কার রচনা?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের।

প্রশ্ন ৫১: ‘কবিতার কথা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: প্রবন্ধগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৫২: ‘রূপসী বাংলা’ গ্রন্থটি কার লেখা?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের।

প্রশ্ন ৫৩: ‘মাল্যবান’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: উপন্যাস।

প্রশ্ন ৫৪: জীবনানন্দ দাশ কীভাবে আহত হন?
উত্তর: ১৯৫৪ সালের ১৪ই অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম-দুর্ঘটনায়।

প্রশ্ন ৫৫: জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু কত তারিখে?
উত্তর: ২২শে অক্টোবর।

Leave a Comment