অন্ধবধূ কবিতা: মূল বিষয়বস্তু, শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

অন্ধবধূ কবিতার মূল বিষয়বস্তু

মূলভাবঃ ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় একজন অন্ধবধূ নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধির কথা বলছেন। তিনি পায়ের তলায় নরম কিছু ঠেকায় বুঝতে পারেন এটি ঝরা বকুল ফুল। তিনি জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে আর কতদিন দেরি আছে জানতে চান এবং আমের গায়ে বরণ দেখা যায় কি না সে সম্পর্কে আগ্রহী। কোকিলের ডাক শুনেছেন তিনি, কিন্তু দখিন হাওয়া কখন বন্ধ হবে তার কিছুই জানেন না। দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জেগে উঠলে শ্যাওলার জন্য পিছল হয়ে যায়, আর তিনি ভয় পান পা-পিছলে জলে ডুবে যেতে পারেন। তবে মনে করেন, ডুবে গেলে অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচে যেত। তিনি ‘চোখ গেল’ পাখির ডাক শুনে বলেন, অন্ধ হলেও পাখির মতো তার কান্নার ভরসা আছে এবং কাঁদার সুখ থেকেও তিনি বঞ্চিত হতে চান না। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চান না তিনি। বরং জলের ধারে বসে প্রকৃতির স্নিগ্ধ স্পর্শ উপভোগ করতে চান, যার অনুভূতি তাঁর কাছে মায়ের স্নেহের মতো প্রশান্তি এনে দেয়। এভাবেই অন্ধবধূ নিজের অন্ধত্বের কষ্টকে মেনে নিয়ে জীবনের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও সৌন্দর্যবোধ ব্যক্ত করেছেন।

অন্ধবধূ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

অন্ধবধূ → দৃষ্টি নেই এমন বউ / যে নারী দেখতে পায় না

পায়ের তলায় → পায়ের নিচে

নরম ঠেকল কী → নরম কিছু লাগল

ঠাকুরঝি → ননদ / স্বামীর বোন / শ্বশুরবাড়ির মেয়ে

ঝরা-বকুল → গাছ থেকে ঝরে পড়া বকুল ফুল

রাত্তিরে কাল → গতকাল রাতে / কাল রাতে

মধুমদির বাসে → মিষ্টি গন্ধের মোহে / সুগন্ধে আচ্ছন্ন

আকাশ-পাতাল → নানান রকমের / নানা বিষয়

জ্যৈষ্ঠ আসতে → জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে / গ্রীষ্মের শেষ মাস আসতে

দেরি ভাই → দেরি হয়েছে বন্ধু / বিলম্ব হয়েছে

বরণ দেখা যায় → রং ধরা পড়ে / আভা দেখা যায়

কোকিল-ডাকা → কোকিলের ডাক

দখিন হাওয়া → দক্ষিণের বাতাস

বন্ধকবে → কখন বন্ধ হবে / থামবে

দীঘির ঘাটে → বড় পুকুরের নামা-ওঠার জায়গায়

নতুন সিড়ি জাগে → নতুন সিঁড়ি তৈরি হয় / ধাপ জেগে ওঠে

শ্যাওলা-পিছল → শেওলার জন্য পিচ্ছিল / কাদামাখা পিছল

পা-পিছলিয়ে → পা পিছলে গিয়ে / পা হড়কে

তলিয়ে যদি যাই → ডুবে যদি মরি / জলে তলিয়ে যাই

মন্দ নেহাত → মোটেই খারাপ নয় / খারাপ কিছু নয়

অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব → অন্ধত্বের কষ্ট / না দেখতে পাবার যন্ত্রণা

চুকে যায় → শেষ হয়ে যায় / দূর হয়ে যায়

নাইকো → নেই

অন্ধ গেলে → অন্ধ হলে / চোখ গেলে

বাঁচবি তোরা → তোরা বাঁচবি / তোমরা বাঁচবে

আষাঢ়েই → আষাঢ় মাসেই / বর্ষার শুরুতেই

প্রবাস → বিদেশ / দূর দেশ / নিজের জায়গা ছাড়া কোথাও থাকা

চেঁচিয়ে হলো সারা → চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দিল / সবার কাছে ঘোষণা করল

জন্ম লাগি → জন্ম থেকে / জন্মাবধি

গিয়েছে যার চোখ → যার চোখ কেড়ে নিয়েছে / যার চোখ নষ্ট

কাঁদার সুখ → কান্নার আনন্দ / কেঁদে মনের দুঃখ ঢেলে দেওয়া

বারণ তাহার ছাই → তার জন্য বারণ কেন / নিষেধ কেন

অন্ধবধূ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘অন্ধবধূ’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

প্রশ্ন ২: বধূর পায়ের তলায় কী ঠেকল?
উত্তর: ঝরা বকুল ফুল।

প্রশ্ন ৩: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূ কার সঙ্গে কথা বলছেন?
উত্তর: ঠাকুরঝি’র (ননদের) সঙ্গে।

প্রশ্ন ৪: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূ কোথায় বসে ছিলেন?
উত্তর: দোরের পাশে।

প্রশ্ন ৫: কোন মাস আসতে কতদিন দেরি বধূ জানতে চান?
উত্তর: জ্যৈষ্ঠ আসতে।

প্রশ্ন ৬: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূ কোন গায়ে বরণ দেখা যায় জানতে চান?
উত্তর: আমের গায়ে।

প্রশ্ন ৭: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় দীঘির ঘাটে কী জাগে?
উত্তর: নতুন সিড়ি।

প্রশ্ন ৮: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় শ্যাওলার জন্য কী হয়?
উত্তর: পা পিছল হয়।

প্রশ্ন ৯: পা পিছলে গেলে কী হতে পারে বলে ভয় পান?
উত্তর: তলিয়ে যেতে পারেন।

প্রশ্ন ১০: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় পানিতে তলিয়ে গেলে কী চুকে যেতে পারে?
উত্তর: অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব।

প্রশ্ন ১১: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কোন মাসে আবার বিয়ে হবে?
উত্তর: আষাঢ় মাসে।

প্রশ্ন ১২: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় ‘চোখ গেল’ কী?
উত্তর: এক পাখির ডাক।

প্রশ্ন ১৩: পাখির ডাক শুনে কে সারা হলো?
উত্তর: চেঁচিয়ে সারা হলো।

প্রশ্ন ১৪: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় ‘চোখ গেল’ পাখির কী আছে?
উত্তর: ভরসা আছে।

প্রশ্ন ১৫: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূ কোথায় থাকতে বেশি ভালোবাসেন?
উত্তর: স্নিগ্ধ শীতল জলে।

প্রশ্ন ১৬: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় জলের পরশ কেমন?
উত্তর: মায়ের স্নেহের মতো।

প্রশ্ন ১৭: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় জল কী ভুলায়?
উত্তর: খানিক মনের ব্যথা।

প্রশ্ন ১৮: বধূর মনের ব্যথা কীসে কমে?
উত্তর: জলে দরদ-ভরা আলাপনে।

প্রশ্ন ১৯: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর কী ক্ষমতা প্রখর?
উত্তর: অনুভূতি শক্তি।

প্রশ্ন ২০: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কী ফুটে উঠেছে?
উত্তর: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২১: ‘ঠাকুরঝি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ননদ, স্বামীর বোন বা শ্বশুরকন্যা।

প্রশ্ন ২২: ‘মধুমদির বাসে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মধুর গন্ধে মোহময় সুগন্ধে আচ্ছন্ন।

প্রশ্ন ২৩: ‘আকাশ-পাতাল’ কথাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: নানান ভাবনা-অনুভাবনা অর্থে।

প্রশ্ন ২৪: ‘জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই’ – এ পঙক্তিটি কী বোঝায়?
উত্তর: একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের ঋতুবিবর্তন জানার আগ্রহ।

প্রশ্ন ২৫: অন্ধবধূ কেমন জ্ঞানের অধিকারী?
উত্তর: প্রকৃতির বিচিত্র রঙের ধারণা ও অনুভবে সমৃদ্ধ।

প্রশ্ন ২৬: ‘অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায়’ – বধূ কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ডুবে মরলে অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত।

প্রশ্ন ২৭: ‘চোখ গেল’ কী?
উত্তর: এক বিশেষ পাখি যার ডাক ‘চোখ গেল’-এর মতো শোনায়।

প্রশ্ন ২৮: ‘কাঁদার সুখ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কান্নার মাধ্যমে দুঃখ-শোকের লাঘব হওয়া।

প্রশ্ন ২৯: সমাজ সাধারণত দৃষ্টিহীনদের প্রতি কেমন আচরণ করে?
উত্তর: অবজ্ঞা করে।

প্রশ্ন ৩০: দৃষ্টিহীনরা নিজেদের কীভাবে ভাবে?
উত্তর: অসহায় ভাবে।

প্রশ্ন ৩১: প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায় কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সচেতনতার মাধ্যমে।

প্রশ্ন ৩২: কোন কোন বিষয় দৃষ্টিহীন হয়েও সম্ভবপর?
উত্তর: কোকিলের ডাকে ঋতু বোঝা, শ্যাওলায় সিঁড়ি জাগা টের পাওয়া।

প্রশ্ন ৩৩: অন্ধবধূ কীভাবে জগতের রূপ-রস-গন্ধ জানেন?
উত্তর: অনুভবের মাধ্যমে।

প্রশ্ন ৩৪: কবিতাটিতে কী ধরনের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩৫: যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৮৭৮ সালের ২৭শে নভেম্বর।

প্রশ্ন ৩৬: তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রামে।

প্রশ্ন ৩৭: যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচনায় গ্রামবাংলার কী রূপ উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন?
উত্তর: শ্যামল স্নিগ্ধ রূপ।

প্রশ্ন ৩৮: ‘রেখা’ ও ‘অপরাজিতা’ কার রচনা?
উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচীর।

প্রশ্ন ৩৯: ‘নাগকেশর’ ও ‘বন্ধুর দান’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৪০: যতীন্দ্রমোহন বাগচীর মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৪৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি।

প্রশ্ন ৪১: কাকে ‘পল্লি-প্রীতি’ কবি বলা যায়?
উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচীকে।

Leave a Comment