প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা: পাঠ পরিচিতি, গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার পাঠ পরিচিতি

মূলভাবঃ আল মাহমুদের ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে না পারার হতাশার কথা বলেছেন। তিনি দৌড়ে স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেন ছেড়ে যায়। যাদের সাথে শহরে যাওয়ার কথা ছিল, তারা জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন। তখন তার মনে পড়ে বাবার তাগিদ ও মায়ের সান্ত্বনার কথা। বাড়ি ফিরে তিনি নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আচ্ছন্ন হন। তিনি নিজের ভাইবোনদের সচেতন প্রস্তুতির কথা মনে করেন যারা কখনো ট্রেন মিস করে না, আর তিনি তাদের ভাই হয়েও শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে কুয়াশায় কাঁপছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভোরবেলা লাল সূর্য উঠলে তিনি পরিচিত নদী, গ্রাম ও নিজেদের আটচালা ঘর দেখতে পান। বাড়ি পৌঁছালে আব্বা কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং আম্মা তাকে দেখে হেসে বলেন, তুই না থাকলে ঘরবাড়ি শূন্য হয়ে যায়। কবি মাকে জড়িয়ে ধরে তার ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ ঘষে ঘষে তুলে ফেলতে চান। শহরের জটিলতা ছেড়ে গ্রামীণ মাতৃতুল্য সহজ জীবনেই তিনি পরম স্বস্তি খুঁজে পান।

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

প্রত্যাবর্তন → ফিরে আসা / ঘরে ফেরা

লজ্জা → শরম / অপমানবোধ / লজ্জাবোধ

নীলবর্ণ আলোর সংকেত → নীল রঙের আলো দিয়ে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার ইশারা

হতাশা → নিরাশা / আশা না থাকা

হুইসেল → ট্রেনের বাঁশি / শিস

উৎকণ্ঠিত → চিন্তিত / উদ্বিগ্ন / দুশ্চিন্তায় থাকা

জানালায় উবুড় হয়ে → জানালায় হেলান দিয়ে বা নিচু হয়ে

সান্ত্বনা → প্রবোধ / সান্ত্বনা / ভরসা দেওয়া

আব্বা → বাবা

তাড়া দেওয়া → দ্রুত যেতে বলা / তাড়াতাড়ি করতে বলা

নিঃস্বপ্ন নিদ্রা → স্বপ্নহীন ঘুম / কোনো স্বপ্ন না দেখা ঘুম

নিহত → মৃত / শেষ / নিঃশেষ (এখানে গাঢ় ঘুমে আচ্ছন্ন)

জাহানারা, ফরহাদ, লাইলী, নাহার → কবির ভাইবোনদের নাম

ট্রেন ফেল করে → ট্রেন মিস করে / না পেয়ে

মালপত্র → জিনিসপত্র / লাগেজ

চাকর → ভৃত্য / কাজের লোক

অখ্যাত স্টেশন → ছোট অচেনা রেলস্টেশন / নাম না জানা স্টেশন

কুয়াশা → শীতকালের সাদা বাষ্প / কুজ্ঝটিকা

শিশির → ভোরের জলকণা / শিশির বিন্দু

পাজামা → ঘুমের পোশাক

নির্লজ্জ → নির্লজ্জ / লজ্জাহীন

পরাজিত → হেরে যাওয়া / হার মানা

ছড়ানো ছিটানো → এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা

জলা → জলাভূমি / পানি জমে থাকা জায়গা

বকের ঝাঁক → বগলি পাখির দল

আটচালা → বাংলার ঐতিহ্যবাহি এক ধরনের ঘর / আটটি চাল বিশিষ্ট ঘর

বৈঠকখানা → বসার ঘর / অতিথি কক্ষ

ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান… → সূরা আর-রহমানের একটি আয়াত

বাসি বাসন → খাওয়ার পর না ধোয়া থালা-বাসন

নাস্তা পাঠাই → সকালের খাবার খেতে দিই

জড়িয়ে ধরা → আলিঙ্গন করা

ঘষে ঘষে তুলে ফেলা → মুছে ফেলা / দূর করে দেওয়া

গ্লানি → লজ্জা / অপমান / ক্লেশ

শহরমুখী → শহরে যেতে চায় এমন / শহরের দিকে ঝোঁক

খাপ খাওয়াতে না পারা → মানিয়ে নিতে না পারা

পরম স্বস্তি → চূড়ান্ত প্রশান্তি / বড় শান্তি

প্রতিমূর্তি → মূর্ত প্রতীক / রূপ / চেহারা

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

কবিতা থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবি কে?
উত্তর: আল মাহমুদ।

প্রশ্ন ২: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ট্রেন মিস করে বাড়ি ফিরে আসার লজ্জা।

প্রশ্ন ৩: স্টেশনে পৌঁছে তিনি কী দেখতে পেলেন?
উত্তর: নীলবর্ণ আলোর সংকেত।

প্রশ্ন ৪: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় ট্রেনটি কী করে ছেড়ে গেল?
উত্তর: দারুণ হুইসেল দিয়ে।

প্রশ্ন ৫: যাদের সাথে শহরে যাবার কথা ছিল তারা কী করছিল?
উত্তর: জানালায় উবুড় হয়ে হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছিল।

প্রশ্ন ৬: আসার সময় আব্বা কী বলেছিলেন?
উত্তর: গোছাতে গোছাতে সময় বয়ে যাবে, আবার গাড়ি পাবি।

প্রশ্ন ৭: কবির আম্মা কী করতে বলেছিলেন?
উত্তর: বই নিয়ে বসে থাকতে।

প্রশ্ন ৮: ট্রেন মিস করার পর বাড়ি ফিরে কবি কেমন ঘুম দিলেন?
উত্তর: এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রা।

প্রশ্ন ৯: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় জাহানারা কী করে না?
উত্তর: ট্রেন ফেল করে না।

প্রশ্ন ১০: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় ফরহাদ কখন স্টেশনে পৌঁছে যায়?
উত্তর: আধ ঘণ্টা আগেই।

প্রশ্ন ১১: লাইলী আগেই কাকে টিকিট কিনতে পাঠায়?
উত্তর: চাকরকে।

প্রশ্ন ১২: নাহার কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে কী করতে পারে না?
উত্তর: আনন্দে ভাত খেতে পারে না।

প্রশ্ন ১৩: শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে কবি কোথায় কাঁপছেন?
উত্তর: এক অখ্যাত স্টেশনে।

প্রশ্ন ১৪: তিনি কীসের শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে ঘরে ফিরবেন?
উত্তর: কুয়াশার।

প্রশ্ন ১৫: কবির পাজামা কীসে ভিজে যাবে?
উত্তর: শিশিরে।

প্রশ্ন ১৬: হঠাৎ কী উঠে আসবে বলে কবি কল্পনা করেন?
উত্তর: লাল সূর্য।

প্রশ্ন ১৭: পরাজিতের মতো কার উপর রোদ নামবে?
উত্তর: কবির মুখের উপর।

প্রশ্ন ১৮: রোদ নামলে সামনে তিনি কী দেখবেন?
উত্তর: পরিচিত নদী, ঘরবাড়ি, গ্রাম।

প্রশ্ন ১৯: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় জলার দিকে কী উড়ে যাচ্ছে?
উত্তর: বকের ঝাঁক।

প্রশ্ন ২০: দারুণ ভয়ের মতো কী ভেসে উঠবে?
উত্তর: আমাদের আটচালা ও কলার বাগান।

প্রশ্ন ২১: বৈঠকখানা থেকে আব্বা কী করবেন?
উত্তর: মুখ নিচু করে কোরআন তেলাওয়াত করবেন।

প্রশ্ন ২২: ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান কী?
উত্তর: সূরা আর-রহমানের একটি আয়াত।

প্রশ্ন ২৩: আম্মা কী হাতে নিয়ে কবিকে দেখে হাসলেন?
উত্তর: বাসি বাসন হাতে।

প্রশ্ন ২৪: কবি না থাকলে ঘরবাড়ি কেমন হয়ে যায় বলে আম্মা বললেন?
উত্তর: শূন্য হয়ে যায়।

প্রশ্ন ২৫: বাড়ি ফিরে আম্মা কবিকে প্রথমে কী করতে বললেন?
উত্তর: হাতমুখ ধুয়ে নিতে।

প্রশ্ন ২৬: মাকে জড়িয়ে ধরে কবি কী করতে চান?
উত্তর: প্রত্যাবর্তনের লজ্জা ঘষে ঘষে তুলে ফেলতে।

শব্দার্থ ও পাঠ পরিচিতি থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ২৭: ‘নীলবর্ণ আলোর সংকেত’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার সংকেত।

প্রশ্ন ২৮: ‘হতাশার মতো হঠাৎ গাড়ি ছেড়ে দেওয়া’ কী বোঝায়?
উত্তর: গাড়ি ধরতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত মনের অভিব্যক্তি।

প্রশ্ন ২৯: ‘উৎকণ্ঠিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘উৎকণ্ঠিত’ অর্থ উদ্বিগ্ন।

প্রশ্ন ৩০: ‘শীতের বিন্দু’ কী?
উত্তর: শীতের শিশির।

প্রশ্ন ৩১: ‘ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ কোন গ্রন্থের আয়াত?
উত্তর: কুরআনের আয়াত।

প্রশ্ন ৩২:  ‘ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ আয়াতটির অর্থ কী?
উত্তর: তোমরা উভয়ে (জিন ও ইনসান) তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?

প্রশ্ন ৩৩: ‘বাসি বাসন’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পূর্বরাতে বা পূর্বদিনে ব্যবহৃত অপরিষ্কার থালা।

প্রশ্ন ৩৪: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।

কবি পরিচিতি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ৩৫: আল মাহমুদের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই।

প্রশ্ন ৩৬: আল মাহমুদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে।

প্রশ্ন ৩৭: আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।

প্রশ্ন ৩৮: তাঁর পিতার নাম কী?
উত্তর: আবদুর রব মির।

প্রশ্ন ৩৯: তাঁর মাতার নাম কী?
উত্তর: রওশন আরা মির।

প্রশ্ন ৪০: আল মাহমুদ কোন স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন?
উত্তর: মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত।

প্রশ্ন ৪১: দীর্ঘদিন আল মাহমুদ কোন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন?
উত্তর: সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে।

প্রশ্ন ৪২: আল মাহমুদ কোন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার।

প্রশ্ন ৪৩: আল মাহমুদ কোন পদ থেকে অবসরে যান?
উত্তর: পরিচালকের পদ থেকে।

প্রশ্ন ৪৪: ‘কালের কলস’ কার রচনা?
উত্তর: আল মাহমুদের।

প্রশ্ন ৪৫: ‘সোনালী কাবিন’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন ৪৬: আল মাহমুদের একটি শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থের নাম লেখ।
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’।

প্রশ্ন ৪৭: ‘কবি ও কোলাহল’ কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: উপন্যাস।

প্রশ্ন ৪৮: ‘নিশিন্দা নারী’ কার উপন্যাস?
উত্তর: আল মাহমুদের।

প্রশ্ন ৪৯: ‘আগুনের মেয়ে’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: উপন্যাস।

প্রশ্ন ৫০: ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’ কার রচনা?
উত্তর: আল মাহমুদের।

প্রশ্ন ৫১: আল মাহমুদ কোন কোন পুরস্কারে ভূষিত হন?
উত্তর: বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক।

প্রশ্ন ৫২: আল মাহমুদের মৃত্যু কত খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে?
উত্তর: ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি।

প্রশ্ন ৫৩: আল মাহমুদের কবিতায় কোন জীবন বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতি।

প্রশ্ন ৫৪: আল মাহমুদ কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
উত্তর: ‘সোনালী কাবিন’।

Leave a Comment